Tag: Indian Americans

Indian Americans

  • Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত হারিয়েছে (Indian Americans) দলটি। নয়া এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন আবারও বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকদের ৬২ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান (US Midterms Survey)। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন মাত্রই ১৯ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি করেছে কার্নেগি (Carnegie) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত ওই সমীক্ষার ফলে ফলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সমাজে ভারতীয়-আমেরিকানদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

    ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে (Indian Americans)

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক তাঁদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকি ভোটাররা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটদানে আগ্রহী নন।

    ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ছিল। সেই সময় ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ২২ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে দলটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক ভোটদানের প্রবণতা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অসন্তোষ

    ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ।

    সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ অভিবাসন নীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং এমনকি মার্কিন-ভারত সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একসময় এই সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শক্তিশালী দিকগুলির অন্যতম।”

    কার্নেগি ও ইউগভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। সমীক্ষার লেখকরা হলেন সুমিত্রা বদ্রিনাথন, দেবেশ কাপুর, অ্যানাবেল মিলার, অ্যান্ডি রবাইনা এবং মিলান বৈষ্ণব (US Midterms Survey)।

    তবে সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের আইএএএস (IAAS) সমীক্ষাগুলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দ পরিমাপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের সমীক্ষায় মূলত কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটদানের ইচ্ছা বা প্রবণতা যাচাই করা (Indian Americans) হয়েছে।

    রিপাবলিকান-বিরোধী মনোভাবও প্রভাব ফেলছে ভোটে

    ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়লেও এর পিছনে শুধু দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে না। রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ পার্টিজানশিপ’ বা বিরোধী দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে ভোটদান বলা হয়।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন না বলেই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিচ্ছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানো ভোটারদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাই তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ।

    সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “দলের প্রতি সমর্থন কিছুটা ফিরে আসায় ডেমোক্র্যাটরা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এই পুনরুদ্ধার দলের প্রতি ভোটারদের রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, তা কেন ভোটের বাক্সে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত হল না, সেই বিষয়টি দলটির বিবেচনা করা উচিত।”

    কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

    বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতেও ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয়-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বর্তমানে ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৪০ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলাদের মধ্যেও। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ভারতীয়-আমেরিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা। তাঁদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর, মাত্র ১২ শতাংশ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে (US Midterms Survey) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। ২০২৪ সালে রিপাবলিকানদের দিকে যে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই প্রত্যাবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি (Indian Americans) তাঁদের আস্থার উপর।

     

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

LinkedIn
Share