Tag: Indian culture

Indian culture

  • Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Swaminarayan Temple)।

    রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিসের এই নতুন মন্দির দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক (Swaminarayan Temple)

    তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে আমরা দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।”

    প্রযুক্তি, এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স নতুন গতি ও শক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালকে দুই দেশ উদ্ভাবনের ভারত-ফ্রান্স বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত (Swaminarayan Temple)। ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা দুই দেশের সমাজকে আরও কাছাকাছি এনেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা

    তিনি আরও বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা অসংখ্য ভারতীয় ও ফরাসি সাধক-অনুসন্ধানীকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীও ফ্রান্স সফর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মাধ্যমে তাঁর সেই সফর ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বলে জানান মোদি।

    যোগও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আইফেল টাওয়ারের সামনে যোগচর্চার ছবি ফ্রান্সে যোগের বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই মন্দির ভারতে নির্মিত এবং ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত। এর বহু পাথর ভারতে খোদাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রাচীন কারুশিল্পের সঙ্গে ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের বার্তা

    নবনির্মিত এই মন্দির থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, তা সমগ্র ইউরোপের মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ হলে তিনি নিজে মন্দিরটি পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান মোদি।

    তিনি বলেন, “এই মহিমান্বিত বিএপিএস মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল।”

    স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি বরাবরই ভক্তির পাশাপাশি সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্যারিসের মন্দিরটিও একইভাবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বিএপিএসের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধও সেখানে পৌঁছে যায় (Swaminarayan Temple)।

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আজ ফ্রান্সে একটি মহিমান্বিত মন্দির প্রস্তুত হয়েছে। এটি শুধু ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে না, ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন শক্তি দেবে।”

     

  • Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার (Universal Oneness), এই চিরন্তন ভারতীয় দর্শনের কথা তুলে ধরে বিশ্বকে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর বক্তব্য, দেশ শুধু ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ কোনও সত্তা নয়। প্রতিটি দেশেরই একটি বিশেষ দায়িত্ব, বার্তা ও লক্ষ্য রয়েছে। আর ভারতের দায়িত্ব হল বৈচিত্র্যের মধ্যেও নিহিত ঐক্যের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সেই বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।

    ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (Mohan Bhagwat)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে  ভাগবত বলেন, আমেরিকার ক্ষেত্রে ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। তাঁর কথায়, ভারতের চেতনার মধ্যেই ঐক্য এবং বৈচিত্র্য—দু’টিই রয়েছে। বৈচিত্র্যকে তাই শুধু মেনে নেওয়া নয়, তাকে সম্মান ও উদ্‌যাপন করাও প্রয়োজন। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে যে মৌলিক একাত্মবোধ রয়েছে, সেটিও মনে রাখতে হবে। ভাগবত বলেন, “জাতি কেবল ভৌগোলিক সত্তা নয়। জাতির একটি দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, প্রত্যেক জাতির একটি বার্তা রয়েছে, একটি লক্ষ্য পূরণ করার রয়েছে এবং একটি নিয়তি রয়েছে। ভারতের সেই নিয়তি কী? ভারতকে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকেও সেই ঐক্যের উপলব্ধি করাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এক, আর বৈচিত্র্যের কারণে সেই একত্ব আরও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। তাই বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করতে হবে, সম্মান করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের একত্বের অনুভূতিকেও মনে রাখতে হবে।”

    সঠিক চিন্তার গুরুত্ব

    মানবজীবনে সঠিক চিন্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর মতে, সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের উপর বর্তায়। সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, আর ভুল চিন্তা তাকে পশুসুলভ প্রবৃত্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভাগবতের কথায়, “মানুষকে পশুর থেকে আলাদা করে যে বিশেষ গুণ, তা হল চিন্তা করার ক্ষমতা। মানুষ যদি সঠিকভাবে চিন্তা করে, তাহলে সে সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে। সঠিক ও ভুল বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই বিশ্বের প্রতি তার দায়িত্বও রয়েছে।” তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন সত্তা রয়েছে। শরীর, পরিচয় কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আলাদা হলেও, মানুষের অন্তরে এমন কিছু রয়েছে যা সবাইকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই উপলব্ধিকেই তিনি ‘অস্তিত্বের ঐক্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের ঐক্যই আমাদের সত্য। বিশ্বকে এক হিসেবে দেখাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি (Mohan Bhagwat)।”

    সভ্যতার দুই বিপরীত প্রবণতা

    সভ্যতার দু’টি বিপরীত প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একদিকে রয়েছে ‘বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও’-এর মানসিকতা। অন্যদিকে রয়েছে এমন প্রবণতা, যেখানে নিজের মত ও আদেশ মেনে চললেই অন্যকে বাঁচার অধিকার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা বলে, “তুমি আমাদের কথা মেনে চলো, আমরা তোমাকে রক্ষা করব”, তাদের তিনি রাক্ষসসুলভ প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। ভারতীয় সাধু-সন্তদের আদর্শের উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অন্যের প্রতি বিদ্বেষ দূর করার শিক্ষা দেয়। মানুষের মনে থাকা শত্রুতা ও ঘৃণা দূর করাই হওয়া উচিত প্রার্থনা ও সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রবাসীদের উদ্দেশে মোহন-বার্তা

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন ভাগবত। তিনি বলেন, যে দেশে তাঁরা কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন, সেই কর্মভূমির প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান থাকা উচিত। কর্মভূমির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে, তা ভারতের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধের ভিত্তিতে করতে হবে (Universal Oneness)। ভাগবতের (Mohan Bhagwat) বক্তব্য, “আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের তাঁদের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। সেই কর্তব্য পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থাকলে, ভারত যে মূল্যবোধ আপনাদের দিয়েছে, সেই মূল্যবোধ নিয়েই জীবনযাপন করুন।” ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, হিমালয় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ভারতের একটাই দায়িত্ব—এই জ্ঞান ও জীবনদর্শনকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে তা শুধু বক্তৃতা বা প্রচারের মাধ্যমে নয়, নিজেদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, “ভারতের একজন মানুষের দায়িত্ব হল অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া, শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়।”

    ধর্ম কি

    ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়মাত্র নয়। বিশ্বব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত ও টিকিয়ে রাখার যে নীতি, সেটিই ধর্ম। মানুষের জীবনযাত্রার গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ধর্ম একটি নিয়ামক শক্তি। তাঁর (Mohan Bhagwat) মতে, ধর্ম হল মধ্যপন্থা—যেখানে দায়িত্ব, সংযম এবং পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয় ঘটে। ভাগবত বলেন, “ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে বিশ্ব টিকে থাকে। ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে মানুষ জীবনের গুণমান বজায় রাখতে পারে। মধ্যপন্থাই ধর্ম। আমরা একত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং বৈচিত্র্যে সজ্জিত। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক, আর ঐক্যই সত্য।” অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, একজন মানুষ কত অর্থ উপার্জন করলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তিনি সমাজ ও বিশ্বকে কতটা ফিরিয়ে দিলেন। ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল শিক্ষা হল নিজের অর্জনের একটি অংশ অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া। আরএসএস কর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি। তাই বিশ্বকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা কত উপার্জন করি, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা কতটা বিতরণ করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এটাই আমাদের পরম্পরা (Universal Oneness)।”

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সূত্র

    বক্তব্যের একেবারে শেষে ভাগবত বলেন, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান, আত্মসংযম এবং নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে দেওয়ার মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই একটি টেকসই ও সম্প্রীতিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে নয়, বরং তার মধ্যেকার একত্বকে স্বীকার করেই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ভারতীয় জীবনদর্শন তাই শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি টেকসই জীবনপদ্ধতির ভিত্তি হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

     

  • France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্সে প্রথম ঐতিহ্যবাহী বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রবাসী ভারতীয়দের মতে, এটিই হবে প্যারিসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির, যা প্রাচীন ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে।মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ বেলেপাথর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছে। সেই পাথর ভারতেই খোদাই করার পর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মন্দিরটি। এই প্রকল্প ভারতের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি ফ্রান্সের মানুষের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহেরও প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান (France)

    মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এই উৎসবে যোগ দেবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। উদ্বোধনের পর মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ভাভি পারেখ জানান, এই মন্দির ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, “মন্দিরটি ভারতে নির্মিত ও খোদাই করা হয়েছে, পরে ফ্রান্সে এনে বসানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে রয়েছি।” বিএপিএস সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা পাথর ব্যবহার করে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ভারতীয় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    মন্দির উদ্বোধনের খবরটি প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফরের সময়। জি-৭ সম্মেলন ও ভিভাটেক সামিটে যোগ দিতে তিনি প্যারিসে পৌঁছলে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অবদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন হিন্দু মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইউরোপে ভারতের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসার আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • Ayodhya Deepotsav: ২৬ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত সরযূ! দীপাবলিতে গিনেস বুকে জোড়া রেকর্ড অযোধ্যার

    Ayodhya Deepotsav: ২৬ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত সরযূ! দীপাবলিতে গিনেস বুকে জোড়া রেকর্ড অযোধ্যার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আলোয় আলোকিত অযোধ্যা (Ayodhya Deepotsav)। উত্তরপ্রদেশের পবিত্র শহর ইতিহাস গড়ল বিশ্বমঞ্চে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে অযোধ্যার দীপোৎসবে তৈরি হল এক নয়, দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। সরযূ নদীর দুই তীর সেজে উঠল ২৬ লক্ষ প্রদীপে। একসঙ্গে ২ হাজারেও বেশি মানুষ আরতি করলেন। দীপাবলিতে আগেও রেকর্ড গড়েছে উত্তর প্রদেশ। অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে ধুমধাম করে পালিত হয় দীপোৎসব। জ্বালানো হয় লাখ লাখ প্রদীপ। গত বছরও গিনেস বুকে নাম তুলেছিল অযোধ্যা। এবার সেই রেকর্ড ভাঙল তারাই।

    গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ফের অযোধ্যা

    প্রতি বছরের মতো এবারও দেশ ও বিশ্বের নজর ছিল সরযূ নদীর তীরে। দীপ উৎসব (Deepotsav 2025) উপলক্ষে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রামকথা পার্কের মঞ্চে রামের প্রতীকী রাজ্যাভিষেক করেন। এরপর, রাম মন্দির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম তলায় রাম দরবারের সামনে মাথা নত করে আশীর্বাদ গ্রহণ ও রামলালার পুজোর পর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপোৎসবের উদ্বোধন করেন। দীপোৎসব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অযোধ্যার মানুষ ৫৬টি ঘাটে ২৬,১৭,২১৫টি প্রদীপ জ্বালিয়ে রেকর্ড গড়া হয়। প্রথম রেকর্ডটি ‘সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে প্রদীপ ঘোরানোর’ জন্য। দ্বিতীয়টি ‘সবচেয়ে বড় প্রদীপ প্রজ্বলন প্রদর্শনী’র জন্য। মাত্র ১৫ মিনিটে এতগুলি প্রদীপ জ্বালিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ওঠে রামভূমির। এই ঐতিহাসিক আয়োজনের দায়িত্বে ছিল উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতর, অযোধ্যা জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার।

    ভারতের আধ্যাত্মিক ঐক্যের প্রতীক

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর অফিসিয়াল প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই অসাধারণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন। তাঁরা রেকর্ডের প্রমাণ যাচাই করে উত্তরপ্রদেশ সরকারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি সার্টিফিকেট তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, “অযোধ্যা আজ শুধু আলোয় নয়, ভক্তিতে ও ঐতিহ্যে উজ্জ্বল। এটি ভারতের আধ্যাত্মিক ঐক্যের প্রতীক।” এদিন সরযূ ঘাটে দাঁড়িয়ে লাখো দর্শক দেখেছেন এক অনন্য দৃশ্য যতদূর চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত সারি সারি প্রদীপ। এই দীপোৎসবে অংশ নেয় হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় বাসিন্দা, ছাত্রছাত্রী এবং তীর্থযাত্রী।

    ড্রোন শো থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী, কড়া নিরাপত্তা

    সরযূ নদীর তীরে ২,১২৮ জন বেদাচার্যের উপস্থিতিতে মহাআরতির পরই মুখ্যমন্ত্রী যোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশ্বরেকর্ডের শংসাপত্র। তার আগে, অযোধ্যায় একটি ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১,১০০টি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশে রামের প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয়। রাম কি পৌড়িতে আয়োজিত লেজার এবং ড্রোন শো ছিল দেখার মতো। চলে আতশবাজির প্রদর্শনী। অসাধারণ সেই দৃশ্য উপভোগ করতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান রাস্তায়। রামায়ণ অভিনয় করে দেখানো হয়। রামলীলা অভিনয় করতে ৫টি দেশ থেকে শিল্পীরা এসেছিলেন। কোনওরকম দুর্ঘটনা এড়াতে ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অযোধ্যাকে ১৮টি জোন এবং ৪২টি সেক্টরে ভাগ করে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় ওই অঞ্চলে। পিএসি, আরএএফ, এটিএস, বিডিএস এবং স্থানীয় পুলিশ ছিল সর্বত্র। রাম কি পৌড়ি এবং রামপথের পাশের বাড়িগুলির ছাদে মোতায়েন করা হয় সশস্ত্র সেনা। অ্যান্টি-মাইন দল, ব্যাগেজ স্ক্যানার এবং ফায়ার ব্রিগেডও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

    বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রেও উজ্জ্বল অযোধ্যা

    উত্তরপ্রদেশ পর্যটন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অযোধ্যাকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা। তাদের মতে, দীপোৎসব আজ শুধুমাত্র এক ধর্মীয় আচার নয় এটি হয়ে উঠেছে এক বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অযোধ্যার দীপোৎসব এখন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-এর প্রতীক যা বিশ্বে ভারতের ঐতিহ্য, ঐক্য ও ভক্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, “রাম রাজ্যের আদর্শে আমরা এগিয়ে চলেছি। এই দীপোৎসব বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য একসঙ্গে থাকলে ইতিহাস তৈরি হয়।”

LinkedIn
Share