Tag: Indian Heritage

  • France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্সে প্রথম ঐতিহ্যবাহী বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রবাসী ভারতীয়দের মতে, এটিই হবে প্যারিসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির, যা প্রাচীন ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে।মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ বেলেপাথর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছে। সেই পাথর ভারতেই খোদাই করার পর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মন্দিরটি। এই প্রকল্প ভারতের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি ফ্রান্সের মানুষের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহেরও প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান (France)

    মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এই উৎসবে যোগ দেবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। উদ্বোধনের পর মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ভাভি পারেখ জানান, এই মন্দির ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, “মন্দিরটি ভারতে নির্মিত ও খোদাই করা হয়েছে, পরে ফ্রান্সে এনে বসানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে রয়েছি।” বিএপিএস সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা পাথর ব্যবহার করে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ভারতীয় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    মন্দির উদ্বোধনের খবরটি প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফরের সময়। জি-৭ সম্মেলন ও ভিভাটেক সামিটে যোগ দিতে তিনি প্যারিসে পৌঁছলে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অবদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন হিন্দু মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইউরোপে ভারতের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসার আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নিদর্শন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মিলল বিরাট সাফল্য (PM Modi)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ভারতকে ফিরিয়ে দিল একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন। এই ফলকগুলি ‘লেইডেন প্লেটস’ নামেও পরিচিত। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকা ঐতিহাসিক দলিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই পদক্ষেপটি নেয় সে দেশের সরকার।

    ২১টি তাম্রফলক (PM Modi)

    ভারত সরকার, ডাচ সরকার এবং লেইডেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে বহু বছরের পুনরুদ্ধার চেষ্টার ফলস্বরূপ মিলল এই সাফল্য। সব মিলিয়ে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে। ওজন প্রায় ৩০ কেজি। একটি ব্রোঞ্জের বৃত্তের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা, যাতে রাজেন্দ্র চোল একের রাজমোহরও লাগানো রয়েছে। এই তাম্রফলকের লিপিগুলি সম্রাট রাজারাজা চোল এক এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলের শাসন কালের। সংস্কৃত অংশে চোল বংশের বংশলতিকার উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষ্ণুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক বৈধতা দাবি করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়

    তামিল ভাষায় লেখা অংশে রাজরাজা চোলের পক্ষ থেকে নাগাপট্টিনমের চূড়ামণি বিহার নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে জমির রাজস্ব ও কর দেওয়ার নথি রয়েছে। এই বিহারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক শ্রী মারা বিজয়োতুঙ্গ বর্মণ নির্মাণ করেছিলেন। ভূমিদানের আদেশ প্রথমে রাজরাজা চোল জারি করলেও, পরে তাঁর পুত্র সম্রাট রাজেন্দ্র চোল সেই আদেশ তাম্রফলকে উৎকীর্ণ করান, যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। এই লিপিগুলি দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চোল যুগের শীর্ষ সময়ে বিদ্যমান সামুদ্রিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কে বিরল তথ্য দেয়। নথিগুলি থেকে জানা যায়, সেই সময়ের হিন্দু শাসকরা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য তুলে ধরে (PM Modi)।

    কীভাবে তাম্রফলকগুলি পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে তাম্রফলকগুলি লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল? প্রায় ১৭০০ সালের দিকে ডাচ মিশনারি ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার এই তাম্রফলকগুলি সংগ্রহ করেন। তখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুলিকট থেকে তাদের কোরোম্যান্ডেল সদর দফতর নাগাপট্টিনমে স্থানান্তর করার পর ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। পরে ১৮৬২ সালে অধ্যাপক হেনড্রিক আরেন্ট হামাকারের সম্পত্তির মাধ্যমে এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে ফলকগুলি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। খোলা ছিল কেবল গবেষক ও পণ্ডিতদের জন্যই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (Netherlands), আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share