Tag: Indian Oil Corporation

  • LPG: চাপের মুখে এলপিজির সরবরাহ, বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

    LPG: চাপের মুখে এলপিজির সরবরাহ, বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী এলপিজির (LPG) সরবরাহ চাপের মুখে পড়েছে। এহেন আবহে ভারতের বিজ্ঞানীরা একটি সম্ভাব্য বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবন করেছেন। কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের অধীনে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি, পুনের গবেষকরা সফলভাবে ডাইমিথাইল ইথার (DME) গ্যাস উৎপাদন করেছেন। অদূর ভবিষ্যতে এলপিজির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এই গ্যাস।

    ডিএমই গ্যাসের অনুঘটক তৈরি (LPG)

    এই গবেষক দলটির নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞানী তিরুমালাইভামি রাজা। তাঁরা ডিএমই গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিশেষ অনুঘটক তৈরি করেছেন। প্রায় দু’ দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর মিলেছে সাফল্য। ১৫ মার্চ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই একটি পাইলট প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কেজি ডিএমই উৎপাদন শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রযুক্তি শিল্পক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত ডিএমই এলপিজির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা সম্ভব (DME Gas)। এর ফলে ভারত আমদানিকৃত এলপিজির ওপর নির্ভরতা অনেকখানি কমাতে পারবে। সরবরাহ সঙ্কটের সময় স্বস্তি পাবে। বিজ্ঞানীরা আরও জানান, ডিএমই এলপিজির তুলনায় বেশি পরিষ্কারভাবে জ্বলে এবং স্বচ্ছ শিখা তৈরি করে, যা একে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে উপযুক্ত করে তোলে। এটি এককভাবে অথবা এলপিজির সঙ্গে মিশিয়েও গৃহস্থালি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    এলপিজির তুলনায় সস্তা বিকল্প জ্বালানি

    গবেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন শুরু হলে এই জ্বালানি এলপিজির তুলনায় সস্তাও হতে পারে। তাই এটি ভোক্তাদের জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠবে। গবেষণার দীর্ঘ যাত্রা সম্পর্কে রাজা বলেন, “দু’দশক আগে আমরা এই ধরনের রসায়ন গবেষণা শুরু করি যাতে সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায়ে ডিএমই উৎপাদন করা যায়। এই ল্যাবের মাধ্যমে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি (LPG)।” তিনি জানান, গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে সিনগ্যাস (syngas) – যা কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন থেকে তৈরি, থেকে ডিএমই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে মিথানল থেকে ডিএমই উৎপাদনের পরোক্ষ পদ্ধতির ওপর কাজ করা হয়।

    কী বললেন বিজ্ঞানীরা?

    রাজা জানান, তাঁর দল এমন একটি বিশেষ অনুঘটক তৈরি করেছেন যা মিথানলকে ডিএমইতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “এই অনুঘটকের জন্য আমরা প্রায় পাঁচটি পেটেন্ট পেয়েছি।” এই প্রযুক্তি ২০১৭ সালে শুরু হওয়া “ক্যাটালিসিস ফর সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট” মিশনের অধীনে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এর প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি স্তর ৬–৭-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ এটি বড় পরিসরে প্রদর্শনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। রাজা জানান, ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন এবং অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনের মতো বড় সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি… আমাদের নির্মাতা খুব শিগগিরই সরবরাহ করতে প্রস্তুত। এখন ওএনজিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা (DME Gas) প্রতিদিন ২.৫ টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে আগ্রহী।”

    জানা গিয়েছে, একটি আধা-বাণিজ্যিক প্রদর্শনী প্ল্যান্ট সফলভাবে পরীক্ষা হয়ে গেলে, এই (LPG) প্রযুক্তিকে আরও বড় আকারে বিস্তৃত করা যাবে। রাজা বলেন, “যখন এটি যাচাই হয়ে যাবে, তখন যে কোনও আকারে সম্প্রসারণ করা সম্ভব। আমরা প্রস্তুত।”

     

  • LPG Production: জ্বালানি ঘাটতির আবহে জরুরি বৈঠক মোদির, দেশে বাড়ানো হল এলপিজি উৎপাদন

    LPG Production: জ্বালানি ঘাটতির আবহে জরুরি বৈঠক মোদির, দেশে বাড়ানো হল এলপিজি উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগেই দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে এলপিজি উৎপাদন (LPG Production) ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১০ মার্চ সরকারি এক সূত্রেই এ খবর মিলেছে। সূত্রটি জানায়, “প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ সিলিন্ডার এলপিজি বিতরণ করা হচ্ছে, যা আগের মতোই রয়েছে। দেশের কোনও এলপিজি পরিবেশকের কাছে সরবরাহের ঘাটতি নেই। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল, তা এখন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে (India)।”

    আরও বেশি এলপিজি কার্গো (LPG Production)

    সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে যেখানে তেল বিপণন সংস্থাগুলি রেস্তরাঁ ও বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। সূত্রটির বক্তব্য, “এটি মূলত সরবরাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়। কমিটি এখন বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করবে।” সরকারি সূত্র আরও জানায়, “আমরা এখন আরও বেশি এলপিজি কার্গো পাচ্ছি। অন্যান্য দেশ থেকেও এলপিজি এবং এলএনজি আসতে শুরু করেছে। আগে প্রায় ৪০টি ভিএলসিসি (Very Large Crude Carriers) জাহাজের ঘাটতি ছিল, তার প্রায় অর্ধেক এখন পৌঁছতে শুরু করেছে।” পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই ইউনিটগুলিকে সরবরাহ করা হবে, যেগুলি এলপিজি উৎপাদনে এটি ব্যবহার করে।

    গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার

    এতদিন পর্যন্ত কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) এবং পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস—এই দু’টি ক্ষেত্রকে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার দেওয়া হত। সোমবার গভীর রাতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে এলপিজিকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে (LPG Production)। এলপিজি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ থেকে উৎপন্ন হয় এবং এটি অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের একটি উপজাত। প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস পৃথক ও বিশুদ্ধ করে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল অবস্থায় রূপান্তর করা হয়, যাতে সহজে পরিবহণ ও সংরক্ষণ করা যায়। এই গ্যাস সাধারণত ইস্পাতের সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ঘরবাড়ি ও রেস্তরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। নতুন বণ্টন ব্যবস্থার অধীনে প্রথমে এলপিজি, সিএনজি এবং পাইপ গ্যাস উৎপাদকদের প্রয়োজন পূরণ করা হবে, তারপর অন্য খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে (India)।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে পর্যালোচনা করেন (LPG Production)। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার এসেনসিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট (EC Act) প্রয়োগ করে দেশীয় জ্বালানি বাজারকে সম্ভাব্য বিঘ্ন থেকে সুরক্ষিত করতে পদক্ষেপ করে। মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (HPCL) জানায়, মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো এবং গৃহস্থালি গ্রাহক ও গুরুত্বপূর্ণ অ-বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করেছে।

    অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালি গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অন্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য সরবরাহ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে তেল বিপণন সংস্থার তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে (LPG Production)। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, “অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নতির দিকে (India)।” তিনি আরও বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং পরিশোধিত তেল রফতানি বন্ধ করা হবে না। অন্যান্য দেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে আমদানি এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১০ দিন আগেও ছিল ৫৫ শতাংশ। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ভারতীয় রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে।”

    এলপিজি খরচ

    প্রসঙ্গত, ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ গৃহস্থালি খাতে, অর্থাৎ রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি অংশ হোটেল ও রেস্তরাঁ-সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয় (LPG Production)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পথ দিয়েই ভারত তার প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করত, মূলত সৌদি আরব-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে (India)।

LinkedIn
Share