Tag: Indian Railway

Indian Railway

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নয়া ৫ রেল লাইনের অনুমোদন মোদি সরকারের, কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে?

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নয়া ৫ রেল লাইনের অনুমোদন মোদি সরকারের, কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন ৫ রেললাইনের অনুমোদন কেন্দ্রের। এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘ দিন ধরে জন সাধারণের দাবি দাওয়ার মধ্যে ছিল। মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার মান্যতা দিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই এই ঘোষণার কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো একাধিক জায়গায় নতুন করে রেল লাইন পাতা হবে। এখানে বহু দিন ধরে রেল (Indian Railway) যোগাযোগ অপর্যাপ্ত ছিল। নতুন লাইনে যোগাযোগ এবং যাতায়েত অনেক মসৃণ হবে।”

    কোন ৫টি রুটে ব্যবসা-বাণিজ্য-যোগাযোগ বাড়বে (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যে নতুন করে রেলে লাইনের অনুমোদনে কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিনন্দন ব্যক্ত করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর একটি পোস্ট করা বার্তায় জানা গিয়েছে মোট পাঁচটি নতুন রেললাইন প্রকল্পের গ্রীন সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, কাঁথি থেকে এগরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন, নন্দকুমার থেকে বলাইপণ্ডা পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগ এবং নন্দীগ্রাম থেকে কেন্দামারি নয়াচর পর্যন্ত নতু্ন লাইন। একইসঙ্গে হুগলি জেলায় বোয়াইচণ্ডী থেকে আরামবাগ এবং বোয়াইচণ্ডী থেকে খানা পর্যন্ত দুটি পৃথক রেললাইন (Indian Railway) প্রকল্প অনুমোদনের কথাও জানানো হয়েছে। আবার বাঁকুড়া কলাবতী থেকে পুরুলিয়া হয়ে হুড়া পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যের একাধিক জায়গায় রেলপথ বিস্তারের অনুমোদন করেছেন। রাজ্যের একাধিক জায়গায় এই সুবিধার কারণে ব্যবসা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।”

    মোদির নেতৃত্বে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন

    নিজের পোস্টে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বহুদিনের প্রত্যশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”

    তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে যে সব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলের (Indian Railway) যোগাযোগ ছিল না সেখানে এখন যোগাযোগ বাড়বে। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ভাবে এই সিদ্ধান্ত একান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। মা সারদার জন্মভিটেয় পৌঁছল রেলের চাকা। জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু আজ, ১৯ জানুয়ারি থেকে বাঁকুড়া ও জয়রামবাটীর মধ্যে আপ ও ডাউন একবার করে চলবে। ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বাঁকুড়া পৌঁছনোর কথা।

    জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ

    মা সারদার পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতিক্ষিত রেলের চাকা। জীবদ্দশায় মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে ছিল রেলপথ নির্মাণের কাজ। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপরে জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরীর কাজ।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ট্রেন চলাচলের সূচনা

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে এসে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মা এর গাঁ হিসেবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে আপাতত একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেল লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও যথেষ্ট বিকাশ ঘটবে। জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরা। ছিলেন জয়রামবাটি-সহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ। বহু গুণীজন ও মা সারদার ভক্তরা স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরী সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে।

  • PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৭ তারিখ মালদহ ও ১৮ তারিখ হুগলির সিঙ্গুরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। কোটি কোটি টাকার রেল প্রকল্পের সূচনা করবেন মোদি। যা ভারত তথা বাংলার রেল মানচিত্রে নিয়ে আসবে বড় বদল। নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাংলায় আসা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়েছেন, কেবল মালদায় ৩,২৫০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস হবে। হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ সূচনা করা হবে।

    বঙ্গ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal) লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আগামীকালের অনুষ্ঠানে বালুরঘাট–হিলি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে অত্যাধুনিক মালবাহী ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, শিলিগুড়ির লোকো শেডের উন্নয়ন এবং জলপাইগুড়িতে বন্দে ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করা হবে।” পাশাপাশি, ৪টি নতুন অমৃত ভারত ট্রেনেরও শুভ সূচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মালদা স্টেশনে দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করবেন। এর পর পৌনে ২টো নাগাদ সাহাপুর মালদা বাইপাস সংলগ্ন মাঠে মোদির সভা রয়েছে। সেখানে ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। ধূপগুড়ি-ফালাকাটা (৩১ডি) জাতীয় সড়কের কিছু অংশের সংস্কার ও চার লেনের শিলান্যাস করবেন মোদি। যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে এই সংস্কার এবং নতুন চার লেনের রাস্তা।

    সিঙ্গুরে রবিবার

    রবিবার ১৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in Bengal) সরকারি সভা রয়েছে হুগলির সিঙ্গুরে। সেখান থেকে ৮৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বালাগড়ে বর্ধিত বন্দর গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রোড ওভার ব্রিজও। বিজেপি নেতৃত্বের কথায় ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন রাজ্য সফর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন। তাঁর এই সফর এই উন্নয়নের যাত্রায় আরও একটি সংযোজন। বাংলার জনগণের উপকারের জন্য তিনি ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছেন।”

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা

    শুধু প্রকল্প উদ্বোধনই আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতেও অংশ নেবেন বলে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে নিয়ে তিতিবিরক্ত। তাঁরা চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার। নিজের পোস্টে এই বিষয়টা স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল বিজেপির সমাবেশে আমি মালদা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় আছি। প্রতিদিনই তৃণমূলের অপশাসনের কোনও না কোনও নতুন উদাহরণ সামনে আসছে। তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তিতিবিরক্ত এবং এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করতে তাঁরা প্রস্তুত। মানুষ চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার।’

  • Indian Railway: বাঁধা হল ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এর সংখ্যা, জালিয়াতি রুখতে নয়া পদক্ষেপ রেলের, চালু ১ জুলাই থেকে

    Indian Railway: বাঁধা হল ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এর সংখ্যা, জালিয়াতি রুখতে নয়া পদক্ষেপ রেলের, চালু ১ জুলাই থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর লম্বা হবে না ট্রেনের (Indian Railway) ওয়েটিং লিস্ট। এবার ভারতীয় রেল বেঁধে দিল এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা। সাধারণত দূরপাল্লা বা মাঝারি দূরত্বে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা অনেক আগেই টিকিট কাটেন। রেলের (Railway) নিয়ম অনুযায়ী, দুই মাস আগে থেকেই সংরক্ষিত টিকিট কাটার সুযোগ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, বুকিং শুরুর কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই টিকিট একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়।

    কত টিকিট কাটা যাবে?

    এবার আর ইচ্ছেমতো টিকিট কাটা যাবে না (Indian Railway)। নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ভারতীয় রেল, ওয়েটিং লিস্টে কত টিকিট কাটা যাবে। ভারতীয় রেলের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, যে কোনও শ্রেণির কামরায়, সে স্লিপার হোক বা এসি মোট আসন সংখ্যার ২৫ শতাংশ টিকিট ওয়েটিং লিস্টে কাটা যাবে। তৎকাল টিকিটের (Indian Railway) ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম চালু হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। রেলসূত্রের খবর, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।

    দালাল চক্র রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত

    তবে কেন এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে? এ বিষয়ে ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ট্রেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক এজেন্ট মোটা টাকার বিনিময়ে যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কেটে দেন। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সেই টিকিট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাই প্রায় থাকে না। এই দালালচক্রের মোকাবিলা করতেই এবার ওয়েটিং লিস্ট সীমিত করা হচ্ছে। সাধারণত অতীতে ওয়েটিং লিস্টে কত টিকিট কাটা যেতে পারে, এই নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা ছিল না। কোথাও ৩০০, কোথাও আবার ৪০০ পর্যন্ত ওয়েটিং লিস্টে টিকিট কাটা যেত। তবে এবার তা আর সম্ভব হবে না। জালিয়াতি ঠেকাতে আরও কিছু পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railway)।

    তৎকাল টিকিটে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক

    তৎকাল টিকিট কাটার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। রেলের অধীনস্থ সংস্থা আইআরসিটিসির ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে তৎকাল টিকিট কাটতে হলে যাত্রীদের আধার কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ তৎকাল টিকিট (Railway) কাটতে গেলে এবার আধার কার্ড লাগবেই। আগামী ১ জুলাই থেকেই চালু হচ্ছে এই নতুন নিয়ম। শুধু অনলাইনের ক্ষেত্রেই নয়, স্টেশনের কাউন্টারে গিয়েও যাঁরা তৎকাল টিকিট কাটবেন, তাঁদেরও আধার কার্ড দেখাতে হবে।

  • SwaRail: রেল আনছে ‘স্বরেল’! টিকিট বুকিং থেকে ট্রেনের তালিকা এক অ্যাপেই মিলবে সব পরিষেবা

    SwaRail: রেল আনছে ‘স্বরেল’! টিকিট বুকিং থেকে ট্রেনের তালিকা এক অ্যাপেই মিলবে সব পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন রেলওয়ে (Indian Railways) অ্যাপ চালু করল ভারতীয় রেলওয়ে। যাত্রী পরিষেবাকে আধুনিক এবং সহজতর করে তুলতেই এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল। অ্যাপের নাম দেওয়া হয়েছে স্বরেল (SwaRail App)। ভারতীয় রেলওয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগে বেশ কিছু পরিষেবা আইআরসিটিসি রেল কানেক্ট, ইউটিএস ইত্যাদি অ্যাপে পাওয়া যেত। এবার থেকে স্বরেল অ্যাপে এই সমস্ত পরিষেবা একজায়গাতেই পাওয়া যাবে। খুব শীঘ্রই এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে বলে জানিয়েছে রেল।

    স্বরেল অ্যাপের (SwaRail App)-এর গুরুত্বপূর্ণ ফিচার্স

    ১. সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সেন্টার (CRIS) এই অ্যাপ ডেভেলপ করেছে। সমস্ত ধরনের রেল যাত্রীরাই এই অ্যাপের সহায়তা পাবেন।

    ২. ট্রেনের তালিকা, সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত টিকিট কাটা যাবে এই অ্যাপেই। SwaRail অ্যাপের My Bookings সেকশনে গিয়ে পূর্বের ভ্রমণের ইতিহাসও দেখা যাবে।

    ৩. অ্যাপে রয়েছে একটি সিঙ্গল-অন-সিস্টেম। একসঙ্গে অজস্র ফিচার্সের সুবিধে রয়েছে অ্যাপটিতে। আইআরসিটিসির লগ ইন তথ্য দিয়ে এই অ্যাপে লগ ইন করা যাবে।

    ৪. ট্রেনের সমস্ত তথ্যই এই অ্যাপে দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছে রেল। ট্রেন যদি দেরি করে তাহলে সেই তথ্যও মিলবে এখানে।

    ৫. ট্রেনে ওঠার সময় যাত্রীর কোচ কোনদিকে তাও দেখিয়ে দেবে এই অ্যাপ। এর ফলে যাত্রীদের অনেকটাই সুবিধে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ৬. এর পাশাপাশি ট্রেন (Indian Railways) সফরে থাকাকালীন নির্দিষ্ট ভেন্ডরের থেকে খাবার অর্ডার করা যাবে এই অ্যাপ থেকেই।

    ৭. অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিচার্স হিসেবে এই অ্যাপে রয়েছে রেল মদদ এর সাহায্যে রেল সফরকালীন যে কোনও অভিযোগ জানানো যাবে।

    ৮. অ্যাপে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল আর-ওয়ালেটের সুবিধাও। বাতিল যাত্রা, বাতিল টিকিটের রিফান্ড চাইলে এখান থেকেই মিলবে টাকা। এই ওয়ালেট দিয়ে টিকিটও বুক করা যাবে।

    ৯. জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় দেখা যাবে এই অ্যাপের ইন্টারফেস। ফলে ভাষাজনিত সমস্যাও দূর হবে।

  • North Frontier Railway: কাশ্মীর পরবর্তী অধ্যায়ে জোর! বাংলাদেশ সীমান্তে রেলের সম্পত্তি রক্ষায় যৌথ টহল শুরু

    North Frontier Railway: কাশ্মীর পরবর্তী অধ্যায়ে জোর! বাংলাদেশ সীমান্তে রেলের সম্পত্তি রক্ষায় যৌথ টহল শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সরকার বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল শুরু করেছে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং রেলওয়ে সম্পদ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (North Frontier Railway)। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF), রেল পুলিশ (GRP) এবং বিএসএফ-এর (BSF) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে যৌথ টহল কর্মসূচি চলছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হল নজরদারি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সীমানার কাছাকাছি রেললাইনের সামনে যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা।

    কেন এই পদক্ষেপ

    পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যার পর সতর্ক বিএসএফ। এরপরই উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রেল সম্পত্তির সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে। জাতীয় স্বার্থ এবং যাত্রী নিরাপত্তা রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (North Frontier Railway) রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে যৌথ টহল কার্যক্রম চালায়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অধীনস্থ বিভিন্ন ডিভিশনে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন সেক্টর গুলিতে এক বিশেষ যৌথ টহল পরিচালন করা হয়। এই যৌথ অভিযানগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী রেলপথে নজরদারি বৃদ্ধি ও কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিরোধ। এনএফআরের বিভিন্ন বিভাগে এই যৌথ টহল পরিচালিত হয়, বিশেষভাবে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং সতর্কতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

    রেল সুরক্ষায় জোর

    এনএফআর এর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রেলপথের অবকাঠামো তদারকি করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের চুরি, ভাঙচুর, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো ঝুঁকি এড়ানো যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রেল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতিরও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, সীমান্তবর্তী এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবৈধ যাতায়াতের রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি সরকারের। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের বেআইনি প্রবেশের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত এলাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের একাধিক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত ঘেঁষা রেলপথে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি হয়ে ওঠে।

    কোথায় কোথায় টহল

    এনএফআরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন যে এই উদ্যোগের একটি প্রধান অংশ ছিল লামডিং বিভাগের বদরপুর (দক্ষিণ অসম) রেল স্টেশনে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরীক্ষা করা। নিরাপত্তা কর্মীরা স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং আশেপাশের এলাকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেছেন যাতে কোনও অননুমোদিত কার্যকলাপ শনাক্ত করা যায় এবং প্রতিরোধ করা যায়, যার ফলে ভ্রমণকারী জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মহড়ায়, লামডিং ডিভিশনের শিলচর এবং কাটাখাল বিভাগের মধ্যে একটি যৌথ মোটর ট্রলি পরিদর্শন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আলিপুরদুয়ার ডিভিশন নিউ ময়নাগুড়ি থেকে নিউ দোমোহনী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যৌথ পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছে যৌথবাহিনী। একইভাবে, কাটিহার ডিভিশনে, হলদিবাড়ি জিরো পয়েন্ট থেকে হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যৌথ পায়ে আগেই টহল দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই অঞ্চল। এর ফলে এখানে নিরাপত্তার উপর জোর দিতে হয়।

    জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী রেল

    সিপিআরও-এর মতে, এই সক্রিয় যৌথ উদ্যোগগুলি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অটল প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। যৌথ টহল কেবল রেল কর্মী এবং যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতিই বৃদ্ধি করেনি, বরং বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করেছে। শর্মা বলেন, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে অটল এবং এই অঞ্চল জুড়ে যাত্রী, সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার জন্য আরপিএফ, জিআরপি এবং বিএসএফের সাথে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে। এনএফআর উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা এবং উত্তর বিহারের পাঁচটি জেলায় কাজ করে।

  • Bangladesh: হিংসার বাংলাদেশে নেই শ্রমিক নিরাপত্তা! ৫ হাজার কোটির রেল প্রকল্প বন্ধ করল মোদি সরকার

    Bangladesh: হিংসার বাংলাদেশে নেই শ্রমিক নিরাপত্তা! ৫ হাজার কোটির রেল প্রকল্প বন্ধ করল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের অগাস্ট মাসেই বিএনপি ও জামাত অগণতান্ত্রিকভাবে দখল করে বাংলাদেশের (Bangladesh) গণভবন। দেশ ছাড়া হন শেখ হাসিনা। পতন হয় তাঁর সরকারের। এরপর থেকেই ভারত বিরোধী কার্যকলাপ বাড়াতে থাকে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার। দিল্লির সঙ্গে বাড়তে থাকে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। অবনতি হয় সম্পর্কের। এই আবহে নরেন্দ্র মোদি (Modi Govt) নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশ কয়েকটি রেল প্রকল্পের নির্মাণ এবং অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লির তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তিত ভারত। তাই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে বেশ কতকগুলি সংবাদমাধ্যম। জানা যাচ্ছে, অর্থ বরাদ্দ বন্ধের ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প— আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত রেল সংযোগ প্রকল্প, খুলনা-মোংলা বন্দর রেল লাইন এবং ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেল সম্প্রসারণ— স্থগিত করা হয়েছে।

    বন্ধ হওয়া প্রধান প্রকল্পগুলি (Bangladesh)

    ১. আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত রেল সংযোগ প্রকল্প 

    জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পটি ভারত সরকারের প্রায় ৪০০ কোটির অনুদানে বাস্তবায়িত হচ্ছিল। ১২.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রেলপথের মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৬.৭৮ কিলোমিটার ও ত্রিপুরার অংশ ৫.৪৬ কিলোমিটার। এতে ত্রিপুরা ও অসমসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ বাড়ার কথা ছিল।

    ২. খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্প (Bangladesh)

    এই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা ভারতের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারত। এই প্রকল্পের আওতায় মোংলা বন্দর ও খুলনার মধ্যে ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রড গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছিল।

    ৩. ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প

    এই প্রকল্পটি আর মাত্র ২ বছর পরে ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থ সহায়তায় চলছিল কাজ। জানা যাচ্ছে, এইগুলি ছাড়া আরও বেশ কতকগুলি প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

    ভারত সরকার কোনও বিবৃতি দেয়নি

    যদিও ভারত সরকার এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশে রেল সংযোগ একাধিক প্রকল্পে ভারতের অর্থ বরাদ্দ বন্ধের খবরটি নতুন করে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই বিষয়টি তুলে ধরেছে বলেও জানা যাচ্ছে। দিল্লির এমন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের রেলপথের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’কে যুক্ত করার পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের একাধিক কট্টরপন্থী নেতার মুখে ‘সেভেন সিস্টার্স’ ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি শোনা গিয়েছে।

    শ্রমিকদের নিরাপত্তাই উদ্বেগের কারণ

    যদিও সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন নামের একটি সংবাদপত্র। ওই প্রতিবেদন অনুসারে জানা যাচ্ছে, যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh), সেই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। ঠিক এই কারণেই রেল প্রকল্পগুলির তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খবর। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ও তাদের একের পর এক ভারত বিরোধী অবস্থানের ফলে প্রকল্পগুলি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হল।

    বিকল্প রুটের সন্ধান নয়াদিল্লির

    একাধিক রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার কারণে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত বিকল্প রাস্তার সন্ধানও পেয়েছে। ভুটান ও নেপালের মতো অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির মাধ্যমে বিকল্প একটি ট্রানজিট রুট কিভাবে নির্মাণ করা যায় সেই পরিকল্পনায় করছে ভারত। অর্থাৎ ভারত-বিরোধী ইউনূসের বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে কোনওভাবেই সম্পর্ক রাখতে চায় না মোদি সরকার।

    শিলিগুড়ি গুরুত্বপূর্ণ করিডর, উত্তরপূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার

    জানা যাচ্ছে এই আবহে ভারতীয় রেল বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে পরিকাঠামো সম্প্রসারণের দিকেই নজর দিয়েছে। এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল শিলিগুড়ি করিডর। প্রসঙ্গত, শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশ দ্বারও বলা হয়ে থাকে। শিলিগুড়ি করিডরকে পশ্চিমবঙ্গে চিকেন নেকও বলা হয়ে থাকে। শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করেই লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলবে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন রেলওয়ে আধিকারিকরা। এক উচ্চপদস্থ রেল আধিকারিকের মতে, রেল লাইনের সম্প্রসারণের জন্য সার্ভের কাজ চলছে। ভারতীয় রেল নেপাল ও ভুটানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে করিডর তৈরির পরিকল্পনা করছে।

    বাংলাদেশের সঙ্গে এমন তিক্ত সম্পর্ক আগে দেখা যায়নি

    এক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার প্রাক্তন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পরে এবং ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন থেকেই ক্ষমতায় এসেছে তখনই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে অবনতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এমন সম্পর্কের অবনতি কখনও দেখা যায়নি। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। ভারত কড়া বিবৃতি জারি করেছে একাধিকবার। সে দেশের হিন্দুদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে বলেছে ইউনূস সরকারকে। একইসঙ্গে নয়া দিল্লি অভিযোগ তুলেছে যে ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পদক্ষেপ না করার জন্যই এসে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর উগ্র মৌলবাদীদের হামলা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে এমন তিক্ত সম্পর্কই এবার প্রভাব ফেলল দিল্লির এমন সিদ্ধান্তে।

    চিন সফরে গিয়েও উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মন্তব্য করেন ইউনূস

    প্রসঙ্গত, মাস খানেক আগেই চিন সফরে গিয়েছিলেন ইউনূস। সেসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের কথাতেও সেভেন সিস্টার্স–এর উল্লেখ ছিল। সেখানে তিনি বাংলাদেশ হয়ে ভারতে চিনা বাণিজ্যের প্রসার সম্পর্কে বলতে গিয়ে দাবি করেছিলেন। তাঁর মতে, সেভেন সিস্টার্সকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশই হলো গার্ডিয়ান অফ দ্য ওশন। ভারতের বর্তমান সিদ্ধান্তে ইউনূসের এমন ভাবনা ধাক্কা খেল।

    চিকেন নেক এলাকায় চিনকে ঘাঁটি বানাতে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ!

    বাংলাদেশ নিজেকে বঙ্গোপসাগরের ‘গার্ডিয়ান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পরে জানা যায়, সেদেশের উত্তরে চিকেনস নেক এলাকার কাছে নাকি চিনকে ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দিয়েছেন ইউনূস। এহেন পরিস্থিতিতে এবার বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভারতের রেল প্রকল্পের সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদশের ওপর যে ভারত কোনওভাবেই নির্ভরশীল নয়, তা বোঝাতে ভারত এবার নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে দিয়ে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপায় খুঁজছে।

  • Indian Railway: বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে সস্তায় ট্রেনে চড়া যায় ভারতেই, লোকসভায় বললেন রেলমন্ত্রী

    Indian Railway: বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে সস্তায় ট্রেনে চড়া যায় ভারতেই, লোকসভায় বললেন রেলমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই সবচেয়ে কম খরচে করা যায় ট্রেন সফর। বিগত পাঁচ বছরে সিকে পয়সাও বাড়েনি ভাড়া। সংসদে তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে এমনটাই জানালেন রেলমন্ত্রী (Indian Railway) অশ্বিনী বৈষ্ণব। মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ভারতের লোকাল ট্রেনে চড়তে গড়ে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকার মধ্যে খরচ হয় একজন যাত্রীর। প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে সস্তায় ট্রেনে চড়া যায় এই ভারতেই।

    সবচেয়ে ভালো রেল পরিষেবা ভারতে (Indian Railway)

    মঙ্গলবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) বলেন, ‘‘২০২০ সাল থেকে ভারতীয় রেলমন্ত্রক টিকিটের দামে কোনও পরিবর্তন আনেনি। এক পয়সাও বাড়ানো হয়নি টিকিটের দর। এমনকি পড়শি দেশগুলির তুলনায় সবচেয়ে কম খরচেই একজন যাত্রীকে ভারতে রেল পরিষেবা (Indian Railway) নিয়ে থাকেন।’’

    প্রতিবেশী কোন দেশে টিকিটের দাম কত তাও বলেন রেলমন্ত্রী

    একইসঙ্গে সংসদে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গও টানেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব (Indian Railway) বলেন, ‘‘বর্তমানে ভারতীয় ট্রেনে চেপে ৩৫০ কিলোমিটার পথ যেতে খরচ হয় ১২১ টাকা। সেই একই দূরত্ব পার করে পাকিস্তান রেল যাত্রীদের থেকে নিয়ে থাকে ৪৩৬ টাকা ও বাংলাদেশ নিয়ে থাকে ৩২৩ টাকা। এমনকি, দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কাতেও একই দূরত্ব যেতে খরচ পড়ে ৪১৩ টাকা।’’

    বেড়েছে রেলের সময়ানুবর্তীতা

    উল্লেখ্য, দেশের ট্রেন পরিষেবা নিয়ে এদিন একাধিক বিষয়ে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী (Ashwini Vaishnaw)। তিনি বলেন, ‘‘আগের তুলনায় বেড়েছে রেলের সময়ানুবর্তীতা।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম, রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেই আগের তুলনায় ৯০ শতাংশ সময়ানুবর্তীতা বেড়েছে ভারতীয় রেলের।’’ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় রেল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিকে বড় বড় শহরের সঙ্গে জুড়তে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বেড়েছে ভারতের অর্থনীতি। তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। বিভিন্ন সামাজিক জনগোষ্ঠীর কাছে এর ফলে সহজ হয়েছে যাত্রা। সামাজিক একতাও গড়ে তুলতে পেরেছে ভারতীয় রেল।

  • Railway Minister: ট্রেনে খাবারের মেনু ও মূল্য তালিকা দেখানো হবে যাত্রীদের, জানালেন রেলমন্ত্রী

    Railway Minister: ট্রেনে খাবারের মেনু ও মূল্য তালিকা দেখানো হবে যাত্রীদের, জানালেন রেলমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলযাত্রীদের স্বচ্ছ ও মানসম্মত পরিষেবা অনেক ক্ষেত্রেই বহু ক্ষেত্রে প্রশংসিত। আবার কিছুক্ষেত্রে যাত্রীরা সমালোচনাও করেন। রেলের খাবার এবং তার নির্দিষ্ট দাম থাকে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। তবে এবার থেকে আর তেমনটা হবে। উদ্যোগ নিল রেল। ট্রেনে পরিবেশিত খাবারের মেনু ও মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়ছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Railway Minister)। লোকসভায় দেওয়া এক লিখিত উত্তরে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে আইআরসিটিসি ওয়েবসাইট ও এসএমএস-এর মাধ্যমে মেনু ও মূল্য তালিকা জানানো হচ্ছে। এছাড়াও, ট্রেনের ওয়েটারদের কাছে প্রিন্টেড মেনু কার্ড থাকবে। যাত্রীরা চাইলে তা দেখতে পারবেন। ট্রেনের প্যান্ট্রি কারেও এই মূল্য তালিকা দেখানো থাকবে।

    খাবারের মান হবে উন্নত (Railway Minister)

    পাশাপাশি, খাবারের মান নিশ্চিত করতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রেলমন্ত্রী (Railway Minister) বলেন, ‘‘নির্ধারিত বেস কিচেন থেকে খাবার সরবরাহ করা, আধুনিক বেস কিচেন চালু করা ও রান্নার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।’’ খাবারের মানোন্নয়নে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের কাঁচামাল ব্যবহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যেমন- নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের তেল, চাল, আটা, ডাল, মশলা, দুধ ও পনির ইত্যাদি। এ ছাড়াও, প্রতিটি বেস কিচেনে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি করতে ফুড সেফটি সুপারভাইজারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। যাঁরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ করবেন।

    বেস কিচেন ও প্যান্ট্রি কারগুলো নিয়মিত পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে

    রেলমন্ত্রী (Railway Minister) আরও জানিয়েছেন, ট্রেনে আইআরসিটিসি সুপারভাইজাররা দায়িত্ব পালন করবেন। খাবারের প্যাকেটে দেওয়া হবে কিউআর কোড। এটা স্ক্যান করে যাত্রীরা জানতে পারবেন খাবার কোথায় প্রস্তুত হয়েছে ও কখন প্যাকেজিং করা হয়েছে। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। বেস কিচেন ও প্যান্ট্রি কারগুলোতে নিয়মিত গভীর পরিচ্ছন্নতা ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে খবর। একইসঙ্গে প্রতিটি ক্যাটারিং ইউনিটের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (FSSAI) সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভালো মানের খাবার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে খবর। একইসঙ্গে যাত্রীদের মতামতও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

  • Bharat Bhutan Rail: ট্রেনে চেপে মাত্র এক ঘণ্টায় ভুটানে! প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্যোগে পর্যটনে জোয়ার

    Bharat Bhutan Rail: ট্রেনে চেপে মাত্র এক ঘণ্টায় ভুটানে! প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্যোগে পর্যটনে জোয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ভারতীয় রেল (Bharat Bhutan Rail)। বাংলাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পর এবার ভুটানের সঙ্গে রেল সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসমের কোকড়াঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু পর্যন্ত রেলপথ বসানোর যাবতীয় প্রকল্প রিপোর্ট উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল তুলে দিয়েছে ভারতীয় রেলবোর্ডের কাছে।

    প্রস্তাবিত প্রকল্প কাঠামো

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের কথা গুয়াহাটিতে ঘোষণা করেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। গুয়াহাটিতে আয়োজিত বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো শীর্ষ সম্মেলন অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০-তে প্রস্তাবিত ৬৯.০৪ কিলোমিটার রেললাইনটির কথা ঘোষণা করেছিলেন রেলমন্ত্রী। প্রস্তাবিত ৬৯.০৪ কিলোমিটার রেললাইনটি অসমের কোকড়াঝাড় স্টেশনকে ভুটানের গেলেফুর সঙ্গে যুক্ত করবে। লাইন বসানোর জন্য আনুমানিক ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে ৬টি নতুন স্টেশন নির্মাণ হবে। স্টেশনগুলি হল বালাজান, গারুভাসা, রুনিখাতা, শান্তিপুর, দাদাগিরি ও গেলেফু। সেইসঙ্গে পরিকাঠামো পরিকল্পনায় থাকছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, ২৯টি বড় সেতু, ৬৫টি ছোট সেতু, ১টি রোড ওভার ব্রিজ ও ৩৯টি রোড আন্ডার ব্রিজ ও ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের ০২টি ভায়াডাক্ট। ফাইনাল লোকেশন সমীক্ষা রিপোর্ট রেলবোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র দিকে এগোচ্ছে রেল

    প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য বেশ কিছু নতুন রেলওয়ে (Bharat Bhutan Rail) প্রকল্প গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ও ‘নেবারহুড ফার্স্ট পলিসি’-র দিকে সক্রিয় ভাবে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় রেল। প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের সঙ্গে সংগতি রেখে কোকরাঝাড় থেকে গেলেফু পর্যন্ত নতুন রেললাইন বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই লাইনই অসম ও ভুটানকে যুক্ত করবে। দুই দেশের মধ্যে সংযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এই লাইন বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ ও উন্নয়নের পথ

    প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের ফাইনাল লোকেশন সার্ভে (এফএলএস) সফল ভাবে সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই রেললাইনটি উল্লেখযোগ্য ভাবে ভারত-ভুটান সম্পর্ককে মজবুত করবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে বৃদ্ধি করবে। সেই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থাকেও উন্নত করবে, এবং এর মাধ্যমে ভুটানকে সর্বপ্রথম বার রেলওয়ে সংযোগ ব্যবস্থা প্রদান করা হবে, যা বাধাহীন পরিবহণে সহায়ক হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে, এই রেললাইন বড়োল্যান্ডের জন্য একটি বাণিজ্য ও ট্রানজিট হাব হিসাবে গড়ে উঠবে। যার ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও জনসাধারণের সুবিধা হবে। সামগ্রিক ভাবে, এই অসম-ভুটান রেললাইন বড়োল্যান্ডের অর্থনীতিতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় রূপান্তর সাধন করবে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’

    দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও বঞ্চিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের গতি আনাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিশন ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’। বাংলাদেশ ও মায়ানমার এই দুই প্রতিবেশী দেশ ভারতের অ্য়াক্ট ইস্ট পলিসির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ৷ কারণ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে এই দুই দেশের মধ্যে দিয়ে যুক্ত করা যায়। যেহেতু এই দুই দেশে ঝামেলা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে ৷ তাই নয়াদিল্লির জন্য ভুটান, নেপাল, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন ৷ সেক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত রেলপথ ভারত-ভুটান সম্পর্ককেঅন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, বলে অনুমান কূটনৈতিক মহলের।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্যোগ

    ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Initiatives) ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক-এর সঙ্গে বৈঠকে এই রেললাইন নিয়ে আলোচনা হয়। এই রেললাইনের ৭০ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ভুটানের ভেতরে ৫৮ কিলোমিটার রেলপথ বিছানোর পরিকল্পনা রয়েছে । উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের সারপাং-এর গেলেফু পর্যন্ত এই রেলপথ পাতা হবে। পরে, ২০২৪ সালে মার্চ মাসে ভুটান সফরে গিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সেসময় মোদি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের মধ্যে এই রেলপথ নিয়ে আলোচনা হয় ৷ তারপর দু’দেশের মধ্যে এই রেললাইন নিয়ে মৌ স্বাক্ষরও হয়েছিল।

    কোথা থেকে কোথায় রেলপথ

    ভুটানের (Bharat Bhutan Rail) সারপাং জেলার গেলেফুকে ভুটানের বৃহত্তম ইকোনমিক জোন হিসেবে ধরা হয় । এই রেলপথ তৈরি হলে ভুটানের আর্থ সামাজিক মান আরও উন্নত হবে ৷ ভারত ও ভুটানের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বাড়বে । পর্যটন মানচিত্রে বিরাট জায়গা করে নেবে এই রেলপথ । শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় রেললাইন হিসেবে ভুটানের সামসি জেলা থেকে ভারতের সীমান্ত চা বাগানের মধ্যে দিয়ে কোকরাঝাড় রেলপথ বানারহাট রেললাইনে মিশবে।

    ভারতের রেল নেটওয়ার্ক

    ভারতের রেল (Bharat Bhutan Rail) নেটওয়ার্ক হার মানিয়ে দেয় অনেক দেশকেই। শুধু দেশের অন্দরে নয়, আন্তর্জাতিক রেল নেটওয়ার্কও রয়েছে ভারতের। বর্তমানে ভারতের বাইরে ট্রেনে চেপে আরও দুটি দেশে যাওয়া যায়- বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তবে এবার ভারতের গা ঘেঁষে থাকা ভুটানেও পৌঁছে যাওয়া যাবে ট্রেনে চেপেই। ভারত-ভুটান সরাসরি রেলপথ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কারণ, তাতে আমজনতা, পর্যটকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও সহজ ও সম্প্রসারিত হবে। ভুটানের সঙ্গে আরও পোক্ত হবে ভারতের সম্পর্ক।

    প্রাথমিক পরিকল্পনা

    ভারতের সঙ্গে ভুটানের সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি সম্ভাব্য রুটের কথা ভাবা হয়েছিল। এগুলির মধ্য়ে অসম থেকে ভুটান পর্যন্ত তিনটি রুটে ট্রেন চালানোর সম্ভাবনা উঠে আসে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে একটি করে সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অন্যদিকে, অসম থেকে ভুটান পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলরুটগুলির মধ্য়ে অন্যতম ছিল কোকড়াঝাড়-গেলেফু। শেষ পর্যন্ত সেই রুটটিকেই বেছে নেয় রেল মন্ত্রক। এরপর, ভারত ও ভুটান – দুই দেশের সম্মতিক্রমে ২০২২ সাল থেকে এই রুটে সমীক্ষার কাজ শুরু করে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। প্রায় দুই বছর ধরে ধাপে ধাপে সেই সমীক্ষার কাজ চলে। অবশেষে, ফাইনাল লোকেশন সার্ভের কাজ শেষ হয় গত নভেম্বর মাসে। এবার তৈরি হল প্রকল্প রিপোর্ট।

    ভারত-ভুটান এক ঘণ্টায়

    তথ্যাভিজ্ঞ মহলের হিসাব বলছে, সরাসরি রেলরুট চালু হলে অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু পৌঁছতে ঘণ্টা খানেক সময় লাগবে। তাছাড়া, এই রুটে দুই দেশের মধ্য়ে পণ্য পরিবহণও শুরু করা যাবে। তাতে পরিবহণ খরচ কমবে এবং সময় বাঁচবে। যার জেরে লাভবান হবে দুই পক্ষই।

    পর্যটনে জোয়ার

    ভুটান (Bharat Bhutan Rail) ভারতের ঠিক পাশেই অবস্থিত। ভারতীয়দের ছুটি কাটানোর অন্যতম ঠিকানা এই দেশ। হিমালয়ের কোলে থাকা সেই ভুটানে এবার যাওয়া যাবে ট্রেনে। সেই পরিকল্পনা করছে রেল। অসমের কোকরাঝাড় জেলাকে ভুটানের গেলফু শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে রেল লাইন। একবার এই রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়ে গেলে, ভারত থেকে ভুটানে যাতায়াত করা মানুষের পক্ষে সহজ হয়ে যাবে। এই রেল যোগাযোগ ভারত ও ভুটানের মধ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতীয়দের ভুটান ভ্রমণের জন্য ভিসার প্রয়োজন হয় না, তবে রেলপথ নির্মাণের পরে, ভারতীয়দের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ হয়ে উঠবে।

LinkedIn
Share