মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুব কংগ্রেসের (Youth Congress) জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিবকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে ধরা হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (AI Summit) প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া এবং শার্টবিহীন বিক্ষোভের ঘটনায় এটি অষ্টম গ্রেফতার।
কাকভোরে গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা (Youth Congress)
সূত্রের খবর, প্রায় ২০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর যুব কংগ্রেস প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, কর্তব্যরত সরকারি কর্মীকে স্বেচ্ছায় আঘাত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার অভিযোগ আনা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্টিলের দাবি, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ দিল্লি পুলিশ উদয় ভানুকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রায় ২০ ঘণ্টা হেফাজতে রাখে। সূত্রের খবর, উদয় ওই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন, এমন প্রমাণ মিলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা দরকার বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তাছাড়া পুলিশ একে সাধারণ বিক্ষোভ হিসেবে দেখছে না, বরং এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ((AI Summit)) বিশ্বনেতাদের (Youth Congress) সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তর
এই মামলাটি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্টার-স্টেট সেল (ISC) পরবর্তী তদন্ত করবে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া সাতজনেরই যুব কংগ্রেসের সঙ্গে যোগ রয়েছে। উদয় ভানুকে তাঁদের (AI Summit) সবার মুখোমুখি করা হবে বলে সূত্রের খবর। সূত্রের বক্তব্য, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা না করা পর্যন্ত পরিকল্পনা কোথায়, কখন এবং কীভাবে হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে না। দিল্লি পুলিশ সকাল ১০টায় পাটিয়ালা হাউস কোর্টে উদয় ভানুকে হাজির করে এবং তাঁকে মূলচক্রী আখ্যা দিয়ে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত চায়। পুলিশ আদালতে জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন এতে জড়িত এবং তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে একাধিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে (Youth Congress)।
এআই সামিট
পুলিশ আরও জানায়, এআই সামিটে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিল (AI Summit)। অন্যদিকে, উদয় ভানুর আইনজীবীর দাবি, তিনি ইন্ডিয়ান যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি হলেও বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিক্ষোভ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশও দেননি। আইনজীবী আদালতে বলেন, “তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, কোনও নির্দেশও দেননি।” তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ওই আইনজীবী বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, এটা বিশ্ববাসীও স্বীকার করে (Youth Congress)।” এর আগে দিল্লি পুলিশ বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে—যে আন্দোলন সম্প্রতি সেখানকার সরকার পতনে ভূমিকা রেখেছে (AI Summit)।
বড় ষড়যন্ত্র
পুলিশ আদালতে জানায়, “এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র। অভিযুক্তদের একে অপরের মুখোমুখি এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে জেরা করা জরুরি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” দিল্লি পুলিশের বিশেষ নজরে আসে সামিটে পরা টি-শার্টগুলির মুদ্রণ খরচ কে বহন করেছে। টি-শার্টে লেখা ছিল—“পিএম ইজ কম্প্রোমাইজড”, “ইন্ডিয়া ইউএস ট্রেড ডিল”, এবং “এপস্টেইন ফাইলস”। যুব কংগ্রেস প্রধানের গ্রেফতারের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রাহুল গান্ধীকে ‘মানসিকভাবে অস্থির’ বলে কটাক্ষ করেন। বলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হয়তো এবার অন্তর্বাস পরেই সংসদে আসবেন (Youth Congress)।” গ্রেফতারি নিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করায় যদি সমস্যা হয়, তা লজ্জাজনক (AI Summit)।”
এর আগে শার্টবিহীন বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নগ্ন’। রাহুল গান্ধী একে অহিংস, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি’ বলে বর্ণনা করেন।” মিরাটে এক জনসভায় মোদি বলেন, “ভারতের একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠানকে কংগ্রেস তাদের নোংরা ও নগ্ন রাজনীতির মঞ্চে পরিণত করেছে। বিদেশি অতিথিদের সামনে তারা নগ্ন হয়ে হাজির হয়েছিল। দেশ জানে (AI Summit) আপনারা নগ্ন, তাহলে পোশাক খোলার প্রয়োজন কী ছিল (Youth Congress)?”
