Tag: Indo Pacific

  • India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে গত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে চিন এবং ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একদিকে চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে, অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত- ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা (India Indonesia Relationship) নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

    সাবাং বন্দর (Sabang Port)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাবাং বন্দর (Sabang Port) শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ভারতের কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী এই ‘মুক্তোর মালা’ কৌশল?

    আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে ‘মুক্তোর মালা’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে। এই ধারণা অনুযায়ী, চিন ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ, আফ্রিকার জিবুতিতে নৌ-সুবিধা, সব মিলিয়ে চিন তার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এগুলি মূলত বাণিজ্যিক প্রকল্প। তবে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধাও দিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর?

    সাবাং বন্দর (Sabang Port) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ওয়েহ দ্বীপে অবস্থিত। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল, এটি মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের খুব কাছাকাছি। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। এই কারণেই সাবাং বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সাবাং বন্দর (Sabang Port) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়। এরপর থেকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় বন্দর উন্নয়ন, জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে (India Indonesia Relationship) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ভারতের কী লাভ?

    সাবাং বন্দরের (Sabang Port) অবস্থান ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে। ভারতীয় জাহাজ প্রয়োজনে সেখানে পরিষেবা পেতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্রপথে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে এমন সহযোগিতা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।

    ভারতের অবস্থান

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধু স্থল সীমান্ত নয়, সমুদ্র নিরাপত্তার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে ভারত ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

    চিনের সরাসরি জবাব?

    এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাবাং বন্দরকে (Sabang Port) ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সাবাং কোনও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই।

    কেন বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাবাং বন্দর সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও ভারত সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

    পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

    সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার (India Indonesia Relationship) সহযোগিতা শুধু একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। এটি ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখাই তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন।

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের (China) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক (Global Diplomacy) কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আক্ষরিক অর্থেই দিনরাত এক করে এশিয়া, ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট ১৩টি দেশ সফর করে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করেছেন, তখন ওই একই সময়ে জিনপিং গিয়েছেন মাত্র একবার বিদেশ সফরে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ঘিরে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উঠতে শুরু করেছে হাজারো প্রশ্ন।

    জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর (Global Diplomacy)

    জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর ছিল ৮ থেকে ১০ জুন, উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর বাইরে তিনি বিদেশ সফরে না গিয়ে বেজিংয়েই ছিলেন, এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। অতীতে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় কূটনৈতিক সফরের জন্য পরিচিত জিনপিংয়ের এই অতি-সীমিত বিদেশ সফর জন্ম দিয়েছে নানা জল্পনার। অথচ, ওই সময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মালয়েশিয়া ও ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। মে মাসে সফর করেন ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশ। জুনে গিয়েছিলেন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায়। এই মাসেরই শেষের দিকে সফর করেন সেশেলস। জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ইন্দো-প্যাসিফিক সফরসূচি।

    একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে চিন

    এর মধ্যে সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় চার দশক পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেন, যা ওই অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (China)। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক বৈপরীত্য এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন চিন একইসঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএতে চলা ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান। গত অক্টোবরে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ন’জন শীর্ষ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে এই নির্দেশটি দেওয়া হয়, কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ প্লেনামের ঠিক আগে আগে, যেখানে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামো অনুমোদিত হয়েছিল (Global Diplomacy)।

    গোপন টিউমার

    অপসারিত আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল হে ওয়েইদং, যিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। সামরিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে হে জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিলে শুরু হয় গুঞ্জন। পরে তাঁকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পিএলএর সরকারি মুখপত্রে তাঁকে এবং অন্য অপসারিত কর্তাদের “অবিশ্বস্ত” ও “গোপন টিউমার” বলে উল্লেখ করা হয়। শুদ্ধি অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ন’জন প্রবীণ সামরিক প্রতিনিধিকে জাতীয় গণ কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চার মাস পরে স্থায়ী কমিটি আরও ছ’জন পদস্থ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল শু শুয়েচিয়াং, জেনারেল লি ফেংবিয়াও, জেনারেল গো পুশিয়াও, ওয়াং কাংপিং, ঝাং মিংহুয়া এবং ইন হংসিং। বিমানবাহিনী, স্থলবাহিনী, সাইবার বাহিনী, সরঞ্জাম উন্নয়ন বিভাগ এবং পূর্ব ও পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড—সব ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে (Global Diplomacy)।

    আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিত!

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অপসারিত অনেক কর্তাকেই জিনপিং নিজে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভিযান কেবল দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নয়, বরং সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। যদিও গত কয়েক বছরে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্তার হঠাৎ অন্তর্ধান, বরখাস্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী চিন গ্যাংয়ের অন্তর্ধান, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর অপসারণ, রকেট বাহিনীর একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং সাম্প্রতিক সামরিক শুদ্ধি অভিযান সেই জল্পনাকে আরও একবার উসকে দিয়েছে (Global Diplomacy)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতবিরোধ সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। বরং হঠাৎ পদচ্যুতি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত মিলতে পারে। গত এক দশকে জিনপিং নিজেই পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকজন নিয়োগ করেছেন। ফলে তাঁর নিজের বেছে নেওয়া কর্তাদের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ (China)।

    নানা সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতি

    এদিকে, চিনের অর্থনীতিও নানা সমস্যা জর্জরিত। একসময় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সম্পত্তি খাত। বড় বড় নির্মাণ সংস্থার ধসের পর সেই খাত এখনও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জমি বিক্রি থেকে স্থানীয় প্রশাসনের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পরিকাঠামো প্রকল্পেও। ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, তরুণদের বেকারত্ব, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং মূল্যপতনের চাপ চিনের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় শিল্প উৎপাদন ধরে রাখতে রফতানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে (Global Diplomacy)।

    কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব

    অন্যদিকে, বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা উৎপাদনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। “চায়না প্লাস ওয়ান” কৌশলের ফলে চিনের উৎপাদনভিত্তিক আধিপত্যও আগের মতো অটুট নেই। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়া এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (China)। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    জল্পনা জল্পনাই

    তবে জিনপিংয়ের সীমিত বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যত জল্পনাই থাকুক না কেন, শুধুমাত্র বিদেশ সফর কম হওয়াকেই তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা হারানোর কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সামরিক শুদ্ধি অভিযান, ধারাবাহিক প্রশাসনিক রদবদল, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সফর—সব মিলিয়ে চিনের নেতৃত্ব যে একটি জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। একই সময়ে ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার (Global Diplomacy) দিকটিকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে (China)।

     

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    সুশান্ত দাস

    ভারতের কাছ থেকে ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) ইন্দোনেশিয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চিনের কপালেও ভাঁজ ফেলেছে। বেজিংয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে গোটা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও ভূ-রাজনীতির ওপর। বিশেষ করে মালাক্কা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা কূটনীতির বিস্তারকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে চিন।

    চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামরিক চুক্তি

    ভারতের তৈরি ‘ব্রহ্মস’ এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ কেনার সিদ্ধান্তে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল চিন। আর সেই স্বীকৃতির পরই চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, বেজিং এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র রফতানি হিসেবে দেখছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ব্রহ্মসের গ্রাহক হচ্ছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা-অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত এখন শুধু অস্ত্র রফতানি করছে না, বরং আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও গড়ে তুলছে।

    ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ বলছে চিন

    চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে জড়িত দেশগুলির হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেই মনে করছে বেজিং। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এখন শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    ব্রহ্মসের মোকাবিলা কীভাবে? ভাবনা শুরু চিনের!

    তবে একই সঙ্গে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে চিনা প্রতিরক্ষা মহল। তাদের দাবি, রফতানিযোগ্য ব্রহ্মস সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর আগের রফতানি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই সংস্করণ মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য বেশি উপযোগী, দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়। এছাড়াও চিনা বিশ্লেষকদের দাবি, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ‘টাইপ ০৫৫’ এবং ‘টাইপ ০৫২ডি’ ডেস্ট্রয়ারে থাকা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    মালাক্কা প্রণালি ঘিরে বাড়ছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব

    চিনা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে। মালাক্কা, সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বড় অংশ এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। চিনের আশঙ্কা, এই ধরনের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলির হাতে যদি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে নৌ-অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে ভারতের যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠছে, তা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    ইন্দোনেশিয়াকে সরাসরি আক্রমণ নয়, সতর্ক বার্তা বেজিংয়ের

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা না করে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকীয়গুলিতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, চিন এখনও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার—এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের জন্য বড় মাইলফলক

    ভারতের দৃষ্টিতে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাফল্য। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস ভারতের সবচেয়ে সফল প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর হলে অ্যাস্ট্রা হবে ভারতের প্রথম স্বদেশে তৈরি বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা বিদেশে রফতানি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিণত সক্ষমতারও প্রমাণ। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত অস্ত্র-রফতানিকারি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলির কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

    ‘স্ট্রিং অব পার্লস’-এর জবাব দিচ্ছে ভারত, বলছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা

    ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই চুক্তিকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল পিকে সেহগল (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগেরও বড় সাফল্য।’’ তিনি জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। মেজর জেনারেল সেহগল আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর এবার ইন্দোনেশিয়ারও ব্রহ্মস চুক্তি প্রমাণ করছে যে, চিন যেভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, ভারতও তার কৌশলগত জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়া শুধু ব্রহ্মসই নয়, ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রও নিচ্ছে, যা দেশটির বিমানবাহিনি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সাবাং বন্দর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।’’

    ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ কৌশলের ইঙ্গিত

    মেজর জেনারেল সঞ্জয় সোই (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি চিনের সম্প্রসারণবাদি নীতির কার্যকর জবাব। তাঁর মতে, চিন যেখানে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছে, সেখানে ভারত ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ নীতির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত অংশিদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল ধ্রুব কাটোচ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ব্রহ্মসের মতো কৌশলগত অ্যাস্ট্রা কোনও দেশের হাতে থাকলে সেটি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) তৈরি করে। এতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

    ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা রফতানি নয়; এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ভারতের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উপর আস্থা দেখাচ্ছে, তখন স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রফতানিকারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশিদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। একই সঙ্গে চিনের তীব্র প্রতিক্রিয়াও এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Equipment) উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইউনিকর্ন শিপবোর্ন কমিউনিকেশনস্ মাস্ট (UNICORN Shipborne Communications Mast)-র যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন। জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের (NEC Corporation) তৈরি এই অত্যাধুনিক সমন্বিত মাস্ট (মাস্তুল) ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতে এই ব্যবস্থা উৎপাদনের দায়িত্ব পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), যারা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এটি তৈরি করবে।

    কী এই ভারত-জাপান চুক্তি?

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান অত্যাধুনিক নকশা, মূল প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ভারত স্থানীয়ভাবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, উৎপাদন এবং নির্মাণের দায়িত্ব নেবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উচ্চ প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের তড়িৎ-চৌম্বকীয় দক্ষতা (Electromagnetic ) বাড়াবে এবং রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Low Radar Cross Section) কমাবে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

    কীভাবে ব্যবহার করবে ভারত?

    যদিও ইউনিকর্ন ব্যবস্থা মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন তৈরি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এতে নিজেদের সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অ্যান্টেনা সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত কমিউনিকেশন ও সেন্সর মাস্টের পরিবর্তে এই নতুন সমন্বিত মাস্তুল বসানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ বহুদিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারত ও জাপান ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথ খুলে গেল।

    কী এই ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট?

    ইউনিকর্ন, যার আরেক নাম নোরা-৫০ (NORA-50), যৌথভাবে তৈরি করেছে এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি। এটি মূলত জাপানের মোগামি শ্রেণির ফ্রিগেটের (Mogami-class Frigate) জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট সিস্টেম (Integrated Mast System), যেখানে যোগাযোগ, নজরদারি (Surveillance) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (Electronic Warfare) একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজের উপরের অংশে আলাদা আলাদা অ্যান্টেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা জাহাজের স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও সহজ করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারত-জাপানের এই প্রথম প্রতিরক্ষা সহ-উন্নয়ন প্রকল্পকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আরও আধুনিক ও স্টেলথ সক্ষম হবে।
    • ● ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
    • ● ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেন (India Backs CECA Deal) তিনি।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রধান এক্সিকিউটিভ কর্তাদের ফোরাম এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি, প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দু’হাজার তেইশ সাল থেকে এই ফোরাম উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই আলোচনায় যোগ দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।”

    ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান

    মোদি জানান, বৈঠকে বিমান চলাচল, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য অতুলনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি (PM Modi)।” ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দ্রুত বিস্তৃত উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এগুলি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে (India Backs CECA Deal)।

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি

    প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। উৎপাদন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খনিশিল্প, পরিকাঠামো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার সমন্বয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির সুযোগ কাজে লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান মোদি (PM Modi)। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কাজে লাগানোয় জোর

    অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে থাকা স্বাভাবিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, অর্ধপরিবাহী, এআই, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের দু’শোরও বেশি প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক ও শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। মোদি বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় জনসংযোগ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে মজবুত ভিত তৈরি করেছে (PM Modi)।” ব্যবসায়িক নেতাদের রেয়ার আর্থ খনিজ, লিথিয়াম, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অর্ধপরিবাহী, এআই এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতি

    দু’হাজার বাইশ সালে কার্যকর হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতাকে ভিত্তি করে গতিশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবর্ষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দু’হাজার চারশো দশ কোটি মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে (India Backs CECA Deal) ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যাবেন নিউজিল্যান্ডে।

     

  • PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Pact) গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Visit) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সফরে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির দুয়ার খুলে যাবে। এর ফলে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা পূরণে বড় রকমের সুরাহা হবে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ের কারণে বাণিজ্যিকভাবে ইউরেনিয়াম রফতানি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই জটিলতা এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (PM Modi Visit)

    ভারত আগামী কয়েক দশকে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, তেমনি অন্যদিকে, নির্ভরতা কমবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর।মেলবোর্ন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম (PM Modi Visit) সরবরাহ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বিশ্বেশ নেগি বলেন, “সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই আলোচনার যৌক্তিক পরিণতি হবে (Uranium Supply Pact) বলেই আমরা আশাবাদী।”

    ভারতের লাভ

    এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জন্য নির্ভরযোগ্য ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন এবং শিল্প, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং তথ্যকেন্দ্র খাতের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণেও সহায়ক হবে। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বিরল খনিজ নিয়েও হতে পারে বড় চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রেয়ার আর্থ খনিজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই খনিজগুলি সামরিক সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, স্মার্টফোন এবং উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের রেয়ার আর্থ খনিজ উত্তোলনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াকরণের প্রায় ৯০ শতাংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রফতানিতে চিনের বিধিনিষেধের ফলে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বহু (PM Modi Visit) দেশ। ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য, বছরে প্রায় ৬ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা (Uranium Supply Pact)। অস্ট্রেলিয়ার রেয়ার আর্থ খনিজ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ট্র্যাভিস বেইঙ্কে বলেন, “আমাদের প্রকল্প থেকে কাঁচামাল সরবরাহের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও এমন আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।” অন্যদিকে আরাফুরা রেয়ার আর্থ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ড্যারিল কাজুব্বো বলেন, “ভারত তাদের উৎপাদন শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত সরকারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।”

    ২০৪৭ সালের বড় লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এআই এবং তথ্যকেন্দ্র শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে আগামিদিনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, বিশ্বের মোট পরিচিত ইউরেনিয়াম মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও, বিভিন্ন রাজ্যে খনন নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় কম। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক হল বিএইচপি, যারা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক ড্যাম খনিতে তামার পাশাপাশি ইউরেনিয়ামও উৎপাদন করে (PM Modi Visit)। অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের সভাপতি টানিয়া কনস্টেবল বলেন, “এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। ভারতের উচ্চাভিলাষী পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে আমাদের ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এটি প্রমাণ করে যে অস্ট্রেলিয়ার খনিজ সম্পদ ভারতের কাছে (Uranium Supply Pact) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশটি ইউরেনিয়াম রফতানি করে রোজগার করেছে প্রায় ১২০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (PM Modi Visit)।

     

  • PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : তিন দেশ সফরের প্রথম পর্বে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় (PM Modi in Jakarta) পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সে দেশের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভ্যর্থনা জানায় ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia Relation)। জাকার্তায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিমানবন্দরে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৮ সালে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী সেখানের ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও-র সঙ্গে ইয়োগিয়াকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন। এই মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা

    এই সফরে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিও এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান অঞ্চলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টিরও বেশি ভারতীয় সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের মোট নিকেল মজুদের প্রায় ২১ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার দখলে। পাশাপাশি তামা, বক্সাইট ও টিন উৎপাদনেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ও সহযোগিতা বাড়ানো এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সরকারি সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর

    ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড-এই তিন দেশে ছয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দফায় ৬ থেকে ৮ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের আমন্ত্রণে মেলবোর্নে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, মোবিলিটি, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে যাবেন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে গতি এসেছে, এই সফর তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখানে মূলত অর্থনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ও ‘মহাসাগর ভিশন’

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Act East Policy) এবং ‘মহাসাগর ভিশন’ (MAHASAGAR Vision)-কে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর (Prabowo Subianto) ভারত সফরের পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক ইন্দোনেশিয়া সফর। জাকার্তায় পৌঁছে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “জাকার্তায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আন্তরিক অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। ২০১৮ সালে আমরা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করেছিলাম, যার সুফল দুই দেশের মানুষই পাচ্ছেন। এই সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”

     

     

     

     

LinkedIn
Share