Tag: Indus Waters Treaty

  • Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কারণ, ভারত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় শুধু নিজের নয়, ভারতের ভাগের (Indus Waters Treaty) খরচও বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকেই। একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ফেলেছে পাকিস্তান। শুনানি যত এগোবে, খরচের বহর আরও বাড়বে। যদিও ভারত প্রথম থেকেই এই সালিশি ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার মেনে নেয়নি, অংশও নেয়নি কোনও শুনানিতেই।

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার ব্যয় সমানভাবে বহন করার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাকিস্তান একাই মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে সালিশি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদকে মেটাতে হচ্ছে দুই দেশেরই ব্যয়ের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রতিটি দেশের গড় ব্যয় প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ভারত কোনও অর্থ না দেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ব্যয় ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং শুনানি চলতে থাকলে খরচের অঙ্ক আরও বাড়বে।

    পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের সাফ কথা

    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা। পাকিস্তানের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জলচুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করছে। সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় (Pakistan)। এদিকে, ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সালিশি আদালতের মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালতে একযোগে একই বিষয়ের শুনানি হওয়া চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোর পরিপন্থী বলেও ভারতের বক্তব্য। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করে আসছিল ভারত। পরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে এবং সালিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করাও বন্ধ করে দেয়। ভারত সরকারের অবস্থান, পাকিস্তান যত দিন না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। একই সঙ্গে ভারত এই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধভাবে গঠিত” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এর যে কোনও সিদ্ধান্তই “অকার্যকর ও বাতিল” (Indus Waters Treaty)।

    আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি

    ভারত অংশ না নিলেও আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে যে তাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তবে শুনানি চালিয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাকিস্তানের মামলার শুনানি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তিতে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার কোনও সুযোগ নেই। এর পর থেকে অন্তত আটটি শুনানি হয়েছে, যার প্রতিটিই ভারত বয়কট করেছে।২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশিত সিন্ধু জলচুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আদালত গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, কোনও বৈঠকেও উপস্থিত ছিল না এবং সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ চাওয়া অর্থও জমা দেয়নি (Pakistan)। পরে ২০২৬ সালের ১৫ মে সর্বাধিক জলাধার ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ই মামলার ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শুধু সালিশি আদালতই নয়, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া থেকেও পরে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজের ব্যয়ের অংশও বহন করেছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার আবেদন জানায় (Indus Waters Treaty)।

    পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা

    এর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের বৈঠক-সহ পরবর্তী কার্যক্রম থেকেও ভারত দূরে থাকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হয়েছে। এই বিপুল ব্যয় এমন একটা সময় বাড়ছে, যখন পাকিস্তান এখনও বিদেশি আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতি ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৭.২ শতাংশ। পাশাপাশি সংস্থাটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণও ৯০০ থেকে ১,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (Pakistan)। তবে এত সব ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালকে মানে না, এর কোনও রায়কে বৈধ বলে মনে করে না এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফলে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনেও (Indus Waters Treaty) সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হতে পারে। যার জেরে আরও গাড্ডায় পড়বে শাহবাজ শরিফের দেশ (Pakistan)।

     

  • UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘আমরা গর্বের সঙ্গে বিদেশে সবাইকে বলি, আমরা সিন্ধু সভ্যতার সন্তান।’’ সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথাই বললেন পাকিস্তানের (Pakistan) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার। তাঁর এহেন বক্তব্যের কারণেই জন্ম হয়েছে নয়া বিতর্কের। কারণ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) পাকিস্তানকে তক্ষশিলার দু’টি প্রাচীন প্রত্নস্থলে সংরক্ষণের নামে অনুপযুক্ত কাজ করার অভিযোগে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইউনেস্কোর অভিযোগ (UNESCO)

    ইউনেস্কোর অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ তক্ষশিলার মহরা মরাদু বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ এবং সিরকাপ প্রাচীন নগরীর সংরক্ষণকাজে সিমেন্ট ও আধুনিক গাঁথুনি ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্নসংরক্ষণ নীতির পরিপন্থী এই পদক্ষেপের ফলে ঐতিহাসিক কাঠামোগুলির মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক সত্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মনে করছে ইউনেস্কো। সম্প্রতি ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জানানো হয়, অবিলম্বে এই পরিবর্তন প্রত্যাহার করে যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে তক্ষশিলাকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

    প্রত্ন নিদর্শনে আধুনিকতার ছোঁয়া

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে এক দর্শনার্থী তক্ষশিলার বিভিন্ন জায়গার ছবি এবং ভিডিও ইউনেস্কোর কাছে পাঠান। তাতে দেখা যায়, প্রাচীন ইটের দেওয়াল ভেঙে নতুন গাঁথুনি তৈরি করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও দেওয়ালের উচ্চতাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১২ জুন ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ দল পাক প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রত্নস্থল পরিদর্শন করে (UNESCO)। তক্ষশিলা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নগরী। বৈদিক সাহিত্য, মহাভারত এবং বৌদ্ধ জাতক কাহিনিতে এই নগরীর উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে এটি গান্ধার শিল্প, বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

    অবহেলার শিকার

    সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান তার প্রাক-ইসলাম পর্বের ইতিহাসকে গুরুত্ব না দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সিন্ধু সভ্যতা ও তক্ষশিলাকে পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতি অনুসরণ না করায় তাদের এই উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, তক্ষশিলা এবং সোয়াট উপত্যকার বহু বৌদ্ধ প্রত্নস্থল বছরের পর বছর অবহেলার শিকার (Pakistan)। অর্থাভাবের অজুহাতে এসব জায়গার সংরক্ষণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ ইসলামি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলির রক্ষণাবেক্ষণে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই (UNESCO) অভিযোগ। ২০০৯ সালে সোয়াট উপত্যকায় সপ্তম শতাব্দীর একটি পাহাড় খোদাই করা বুদ্ধমূর্তি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। ওই অঞ্চলের বহু বৌদ্ধ স্তূপ এবং প্রত্নস্থলও হামলার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নবস্তু চুরি ও অবৈধ খননের ঘটনাও ঘটেছে।

    ইউনেস্কোর সতর্কবার্তা

    বিশ্লেষকদের অভিযোগ, পাকিস্তানে বহু প্রাচীন হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বার এবং অন্যান্য ইসলাম-পূর্ব ঐতিহাসিক কাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাও নানা সময়ে পড়েছে হামলার মুখে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে সিন্ধু সভ্যতাকে নিজেদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অনুদান অর্জন এবং নিজেকে সিন্ধু সভ্যতার প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে (UNESCO)। সংশ্লিষ্টমহলের দাবি, বাস্তবে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অবহেলা এবং ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা পাকিস্তানের এই অবস্থানকেই ফেলেছে প্রশ্নের মুখে (Pakistan)।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Indus Water Treaty: স্থগিত সিন্ধু জলচুক্তি, হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

    Indus Water Treaty: স্থগিত সিন্ধু জলচুক্তি, হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্থগিত হয়ে গিয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি। তার পর এই প্রথমবার চুক্তির আওতাভুক্ত চেনাব-সহ হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলিতে পলি সরানোর কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বহু দশকের পরিচালনাগত বিধিনিষেধের পর চেনাব নদীতে এখন ড্রেজিং শুরু হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। চুক্তির বিধান অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া ছ’টি আন্ডার-স্লুইস গেট থেকে পলি সরিয়ে সেগুলি ফের চালু করতে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। চুক্তি স্থগিতের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত সালাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

    এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের বক্তব্য (Indus Water Treaty)

    সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সালাল পাওয়ার স্টেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনীশ গৌরাহা বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।” তিনি বলেন, “এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা বাড়বে তা এখনই বলা কঠিন, তবে যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি অবশ্যই কমবে। পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কাজ হল ড্রেজিং। এর মাধ্যমে যতটা সম্ভব পলি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফ্লাশিং পদ্ধতির মাধ্যমে পলি কমানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।” আগের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে গৌরাহা বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ করতে পারতাম না। উদাহরণস্বরূপ, চুক্তির শর্তে পলি অপসারণের জন্য ড্র-ডাউন ফ্লাশিং বা ড্রেজিং করার অনুমতি ছিল না।”

    ছ’টি আন্ডার-স্লুইস স্থায়ীভাবে বন্ধ

    সালাল কংক্রিট বাঁধটি মূলত পলি নিয়ন্ত্রণের জন্য ছ’টি আন্ডার-স্লুইস গেট-সহ নির্মিত হয়েছিল। তবে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং পরবর্তী ১৯৭৮ সালের এক চুক্তির অধীনে এই ছ’টি আন্ডার-স্লুইস স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সিল্ট এক্সক্লুডার গেট পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে কোনও কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দশক ধরে জলাধারে পলি জমতে থাকে। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৌরাহা বলেন, “আন্ডার-স্লুইস গেটগুলি ফের সচল করতে আমরা দরপত্র আহ্বান করেছি এবং সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।” ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জলাধারের মূল ধারণক্ষমতা ছিল ২৮৪ মিলিয়ন ঘনমিটার, যা কমে মাত্র ৯.৯১ এমসিএমে নেমে এসেছিল। চুক্তি স্থগিত এবং পলি অপসারণ কাজ শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সেই ধারণক্ষমতা বেড়ে ১৪ এমসিএম হয়েছে।

    পলি অপসারণের জন্য এনওসি জারি

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “সালাল বাঁধের জলাধার থেকে পলি অপসারণের জন্য এনওসি জারি হয়েছে এবং কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১.৭ লাখ মেট্রিক টন পলি ড্রেজিং করে তোলা হয়েছে এবং ৬৮,৪৯০ মেট্রিক টন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।” দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে জলাধারের ধারণক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং পলি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

     

  • India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। এর (India) ফলে রাভি (সংস্কৃত নাম ইরাবতী) নদীর অতিরিক্ত জল আর প্রবাহিত হবে না পাকিস্তানে (Pakistan)। এমনই জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে  জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল।

    কী বললেন জাভেদ আহমেদ রানা? (India)

    একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রানা বলেন, “হ্যাঁ, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি এও বলেন, “কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা খরাপ্রবণ এলাকা, কান্দি অঞ্চলের জন্য এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।” নদীর জল সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। শাহপুর কান্দি ব্যারাজ, যা একটি জাতীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চার দশক পর সংশোধিত হয়। গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং সেগুলি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (India)।

    সিন্ধু জলচুক্তি

    বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রুটিপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ছ’টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলি (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগা) পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল সীমিত ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল (Pakistan)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শাহপুর কান্দি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সেচ অংশের জন্য ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা মঞ্জুর করে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পাঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। পাঞ্জাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাধোপুর হেডওয়ার্কসের নিম্নপ্রবাহ দিয়ে পাকিস্তানে অপচয় হওয়া রাভি নদীর জল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (India)। এছাড়াও, পাঞ্জাবের ১.১৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য যে জল ছাড়া হয়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি রূপায়ন হলে পাঞ্জাব ২০৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল আগেই

    এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৭৯ সালে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে রণজিৎ সাগর বাঁধ (থেইন বাঁধ) ও শাহপুর কান্দি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাঞ্জাবের ওপর ন্যস্ত হয়। ২০০১ সালে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করে। তবে বিদ্যুৎ অংশের জন্য পাঞ্জাব সরকারের অর্থাভাব এবং পরে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমস্যার কারণে (India) কাজ বিশেষ এগোয়নি। একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ২০১৮ সালে দিল্লিতে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন (Pakistan)। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে। ব্যারাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বছর আগে নির্মিত প্রায় ৮০ কিমি রাভি খাল এবং জম্মু-কাশ্মীরে ৪৯২.৫ কিমি জলবণ্টন নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন অব্যবহার্য অবস্থায় ছিল।

     

  • India: চেনাব নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু ভারতের, সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাকিস্তান

    India: চেনাব নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু ভারতের, সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর ওপর ৫,১২৯ কোটি টাকার সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিল ভারত (India)। সংবাদ সংস্থার খবর, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অনুমোদন পাওয়া এটিই প্রথম নতুন প্রকল্প। জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি নিগম (NHPC) ৫ ফেব্রুয়ারি উধমপুর ও রামবান জেলাজুড়ে এই (Pakistan) বৃহৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে দরপত্র চেয়েছে।

    সাওয়ালকোট প্রকল্প (India)

    জানা গিয়েছে, সাওয়ালকোট প্রকল্পটি দুটি ধাপে গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে ১,৪০৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১,৮৫৬ মেগাওয়াট। চেনাব নদীর উজানে বাগলিহার প্রকল্প এবং ভাটিতে সালাল প্রকল্পের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এই প্রকল্পটি রান-অব-দ্য-রিভার পদ্ধতিতে নির্মিত হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে প্রকল্প চালু করার লক্ষ্যে নির্মাণ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতি নির্বাচন করা হয়েছে, যা প্রকল্পটির জরুরি গুরুত্বকে তুলে ধরে।
    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে পরিবেশমন্ত্রকের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রকল্পটিকে ছাড়পত্র দেয়। এরপরই এনএইচপিসি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়। নথিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক প্রস্তুতির পর বড় আকারের নির্মাণকাজ শুরু হবে। ভূগর্ভস্থ কাজ সারা বছর চলবে, তবে ভূপৃষ্ঠে নির্মাণকাজ বর্ষাকালের পরে পূর্ণগতিতে এবং বর্ষাকালে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলবে। পুরো প্রকল্পটি শেষ হতে বছর নয়েক লাগবে (India)।

    ভারতের বৃহত্তর জলবিদ্যুৎ কৌশলের অংশ

    সাওয়ালকোট প্রকল্পটি চেনাব নদীকে ঘিরে ভারতের বৃহত্তর জলবিদ্যুৎ কৌশলের অংশ। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে (Pakistan)। সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকাল দুল ও কিরু প্রকল্প চালু করতে, ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে কোয়ার প্রকল্প শেষ করতে এবং
    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাটলে বাঁধ নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত করতে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে কিস্তওয়ারে অবস্থিত ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাকাল দুল প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। এতে ১৬৭ মিটার উঁচু বাঁধ রয়েছে, যা ভারতের সর্বোচ্চ। এটি পাকিস্তানে প্রবাহিত কোনও পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীতে ভারতের প্রথম জলাধার প্রকল্প, যা নয়াদিল্লিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাই নয়, জলপ্রবাহের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণের সুযোগও দেয়, যা নিয়ে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন।

    প্রকল্পের উদ্বোধন ২০১৮ সালে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮ সালের মে মাসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা (India)। কিস্তওয়ারের আর একটি রান-অব-দ্য-রিভার প্রকল্প কিরু, যার বাঁধের উচ্চতা ১৩৫ মিটার। উজান ও ভাটির একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সরকার কিরুর ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে (Pakistan)। চেনাব নদীর ওপর ১০৯ মিটার উঁচু বাঁধযুক্ত কোয়ার প্রকল্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বড় সাফল্য অর্জন করে, যখন নির্মাণের সুবিধার্থে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়—যা পাকিস্তানে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, এটি ২০২৮ সালের মার্চে চালু হওয়ার কথা। ৮৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাটলে প্রকল্পটি সবচেয়ে বিতর্কিত। এতে ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ রয়েছে এবং স্পিলওয়ে নকশা নিয়ে পাকিস্তান বারবার আপত্তি জানিয়েছে। গত বছর সুড়ঙ্গের মাধ্যমে চেনাব নদীর প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার পর নির্মাণকাজে গতি আসে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

    উদ্বেগ বেড়েছে পাকিস্তানের

    এছাড়া, গত ডিসেম্বরে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভারত চেনাব নদীর ওপর দুলহস্তি স্টেজ-২ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। দ্রুতগতিতে এই প্রকল্পগুলি এগোনোর ফলে পাকিস্তানের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ চেনাব নদী সিন্ধু অববাহিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির কৃষি ও জলপরিকাঠামোর বড় অংশ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল (India)। পাকিস্তানের মোট জলসম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভারত হয়ে প্রবাহিত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি থেকে আসে, ফলে উজানে ভারতের প্রকল্পগুলি (Pakistan) রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
    পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তির সব ধরনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে, যার ফলে এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

  • India: ‘এদের এক্তিয়ারই নেই’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

    India: ‘এদের এক্তিয়ারই নেই’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের ৮ অগাস্ট সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির (Indus Waters Treaty) বিষয়ে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতের (PCA) রায়কে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত (India)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে তারা কখনওই এই আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না। ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েও দিয়েছে, নয়াদিল্লি আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না এবং পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়নও ফের শুরু করা হবে না। ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর হুমকিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে এবং তার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের একপ্রস্ত শুল্ক আরোপ করেছে ভারতীয় পণ্যের ওপর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বহিঃচাপের মুখে নয়াদিল্লির এই অবস্থান ক্রমবর্ধমান কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ইঙ্গিত দেয়।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি (India)

    নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান একতরফাভাবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে এই সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সমাধানের সুযোগকে ক্ষুণ্ণ করেছে। সরকার জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের জোরাজুরিতে বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালে একইসঙ্গে একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালত সক্রিয় করার পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা বাস্তব ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং চুক্তির কাঠামোর অধীনে সেটি গ্রহণযোগ্যও নয়। ভারত সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগতি রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত এটি ফের কার্যকর হবে না (India)।

    স্থায়ী সালিশি আদালতের রায়

    স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় পাকিস্তানের ব্যাখ্যার পক্ষে গিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাবের মতো (Indus Waters Treaty) পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিকে ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নকশায় ভারতকে চুক্তির ধারা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং নিজস্ব কোন মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। আদালতের নির্দেশ, ভারতকে জলের প্রবাহ এমনভাবে রাখতে হবে (Indus Waters Treaty) যাতে পাকিস্তান অবাধে তা ব্যবহার করতে পারে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় প্রকল্পগুলি নিম্নপ্রবাহের জলের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। শাহবাজ শরিফের দেশের এই অভিযোগ ভারত ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বারংবার উড়িয়ে দিয়েছে (India)।

  • Indus Waters Treaty: পাক আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রভাগা নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে টেন্ডার ডাকল ভারত

    Indus Waters Treaty: পাক আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রভাগা নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে টেন্ডার ডাকল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে হাতের পাশাপাশি পাকিস্তানকে (Pakistan) ভাতেও (Indus Waters Treaty) মারতে উদ্যোগী হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। পাকিস্তান হাতে-পায়ে ধরায় আপাতত চলছে যুদ্ধবিরতি। তবে পাক প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফের দেশকে ভাতে মারতে আরও একধাপ এগোল নয়াদিল্লি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে যে প্রকল্প, শেষমেশ সেই প্রকল্পই শুরুর উদ্যোগ নিল ভারত। জম্মু-কাশ্মীরের চন্দ্রভাগা নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য ডাকা হল টেন্ডার।

    পাক আপত্তি উড়িয়েই হবে প্রকল্প (Indus Waters Treaty)

    এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল আটের দশকে। তার পর থেকে বার বার আপত্তি জানিয়ে এসেছে পাকিস্তান। এতদিন পর এবার তাদের আপত্তি উড়িয়ে দিয়েই শুরু হচ্ছে প্রকল্পের কাজ। ন্যাশনাল হাইড্রোলিক্টক পাওয়ার কর্পোরেশন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বিডিংয়ের ভিত্তিতে সাওয়ালকোট প্রকল্পের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর। কাজ শুরু হচ্ছে এনএইচপিসি এবং জম্মু-কাশ্মীর পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে। সাওয়ালকোট ভারতের সবচেয়ে বড় রান-অফ-দ্য-রিভার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। একে দেখা হচ্ছে সিন্ধু অববাহিকার জলস্রোত ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে, বিশেষত যখন স্থগিত রয়েছে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি

    বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু ও তার পাঁচটি উপনদীর জল বণ্টিত হয়ে থাকে দুই দেশের মধ্যে। সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা – এই তিন পশ্চিমমুখী নদী পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। সেই দেশের ৮০ শতাংশ কৃষি এই তিন নদীর ওপর নির্ভরশীল। গত ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে হত্যা করা হয় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে। অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে ছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী। তারাই এই হত্যালীলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনার পরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায় ভারত। শুরু হয় দুই পড়শি দেশের সংঘাত। তার আগেই অবশ্য ভারত বাতিল করে দিয়েছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি। এখনও সেই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। তাই চুক্তির শর্ত মেনে চন্দ্রভাগার ওপরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পাকিস্তানের সম্মতির আর প্রয়োজন নেই। সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেই সম্মতি ছাড়াই কাজ শুরু (Pakistan) করতে চলেছে ভারত।

    ডিপিআর জমা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে

    সাওয়ালকোট প্রকল্পটি জম্মু-কাশ্মীরের রামবান ও উধমপুর জেলাজুড়ে (Indus Waters Treaty) বিস্তৃত। জম্মু থেকে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, আর শ্রীনগর থেকে ১৩০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছিল সেই ১৯৬০ সালে। তবে ডিপিআর জমা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায়। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর এখন এই প্রকল্পের কাজই দ্রুত শেষ করতে চাইছে নয়াদিল্লি। চন্দ্রভাগা নদীর ওপর যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে, তা থেকে মেলার কথা ১ হাজার ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এটিই হবে কাশ্মীরের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই মিটবে বলে আশা ভূস্বর্গ প্রশাসনের। ভারত চন্দ্রভাগার ওপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করলে বিপাকে পড়বে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই তারা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে (Pakistan)। তাদের বক্তব্য, ভারতের এই পদক্ষেপের জেরে প্রভাবিত হবে চন্দ্রভাগার জলপ্রবাহ।

    কাজ হবে দু’টি ধাপে

    জানা গিয়েছে, চন্দ্রভাগার ওপর ভারতের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা দু’টি ধাপে। কারণ প্রক্রিয়াগত নানা অসুবিধার কারণে বার বার পিছিয়ে গিয়েছে এই প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে খরচ হওয়ার কথা ২২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা (Indus Waters Treaty)। সাওয়ালকোট প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চন্দ্রভাগার তীরের একাধিক গ্রাম। সেই সব গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের অন্যত্র থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়াও প্রকল্পের অংশ।

    কী বলছেন ওমর আবদুল্লা

    জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা রয়েছেন বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্বেও। এই প্রকল্প শুরুর উদ্যোগকে তিনি বহু প্রতীক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন (Indus Waters Treaty)। রামবানের বিধায়ক অর্জুন সিং রাজু বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি উপকৃত হবে পুরো দেশ (Pakistan)।” প্রসঙ্গত, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। তাদের বক্তব্য, এই জলের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানের বহু মানুষ। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে তারা (Indus Waters Treaty)।

  • Amit Shah: “সিন্ধু জলচুক্তি আর কখনওই কার্যকর হবে না”, সাফ জানিয়ে দিলেন শাহ

    Amit Shah: “সিন্ধু জলচুক্তি আর কখনওই কার্যকর হবে না”, সাফ জানিয়ে দিলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) আর কখনওই কার্যকর হবে না।” ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি সরকার ১৯৬০ সালের এই চুক্তিকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কারণ পাকিস্তান বারবার ভারতের শান্তি ও অগ্রগতির মূলে কুঠারাঘাত করে চলেছে। অথচ এর ওপর ভিত্তি করেই এই চুক্তি হয়েছিল।” তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো একতরফাভাবে বাতিল করা যায় না। তবে স্থগিত রাখার অধিকার আমাদের ছিল। এবং আমরা তা-ই করেছি।”

    জল পাঠানো হবে রাজস্থানে (Amit Shah)

    শাহ বলেন, “যে জল অন্যায়ভাবে পাকিস্তানে প্রবাহিত হচ্ছিল, তা এখন রিডিরেক্ট করে ভারতের রাজস্থান প্রভৃতি রাজ্যে পাঠানো হবে। ভারত নিজের প্রাপ্য জলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি খালও নির্মাণ করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সেই জল ব্যবহার করব যা ভারতের প্রাপ্য। পাকিস্তান যে জল এতদিন অন্যায়ভাবে পাচ্ছিল, তা আর পাবে না।” শাহি সাক্ষাৎকারে অবধারিতভাবেই উঠে এসেছে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের কথা। যে হত্যাকাণ্ডের পরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দিয়েছিল নয়াদিল্লি। এই হত্যাকাণ্ডকে শাহ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন। যার উদ্দেশ্য উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত করা। তিনি বলেন, “কাশ্মীরের যুব সমাজ এখন এই দুষ্ট পরিকল্পনা বুঝতে পারছে। হামলার পর উপত্যকার প্রতিটি শহরে প্রতিবাদ হয়েছে।” তিনি বলেন, এটি ছিল কাশ্মীরবাসীর পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব ঐক্য ও প্রতিবাদের প্রকাশ (Indus Waters Treaty)।

    কংগ্রেসকে শাহি জবাব

    পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। তা নিয়ে সমালোচনা করা হয় কংগ্রেসের তরফে।। এই সাক্ষাৎকারে তারও জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারত পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে বড় ক্ষতি করেছে। কিন্তু অসামরিক লক্ষ্যে আঘাত করা থেকে বিরত থেকেছে।” ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি (Amit Shah) বলেন, “ভারতীয় সংস্থা ও বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র ব্যবস্থাপনা তৈরি করেছেন এবং তাঁদের নিখুঁত পরিকল্পনার জন্যই এই সফলতা এসেছে।” শাহ বলেন, “আমাদের বাহিনী সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান খুব দ্রুত হামলা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিল।”

    প্রসঙ্গ জম্মু-কাশ্মীর

    এই সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও একবার ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে যে কোনও জঙ্গি হামলাকে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার এটা বলেছেন। তাই এ নিয়ে আর কোনও বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।” পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামাবাদের কোনও নতুন দুঃসাহসিকতায় ভারত পুরো শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না।” জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “উপযুক্ত সময়ে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়।” তিনি জানান, সরকার নির্বিঘ্নে নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদের অন্তর্নিহিত অনুভূতিকে শেষ করে দিয়েছে।” প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছিলেন, ঠিক সময়েই জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে (Indus Waters Treaty)।

    আমাদের দেশ কোনও ধর্মশালা নয়

    ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রেক্ষিতে শাহ বলেন, “জল ও সীমান্ত সংক্রান্ত আগ্রাসনের প্রতি কঠোর অবস্থান মোদি সরকারের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক নীতির অংশ। আমাদের দেশ কোনও ধর্মশালা নয়। ভারতে আসতে চাইলে বৈধ ভিসা থাকতে হবে।” তিনি (Amit Shah) সাফ জানিয়ে দেন, “ভারতের নিরাপত্তা তা নদীই হোক বা সীমান্ত বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।”

    প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিন্ধু জলচুক্তি। সেই চুক্তিই ভারত স্থগিত করে দেয় দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পর। সেদিন পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা বেছে বেছে খুন করে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে। এই ঘটনার জেরে ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের এই সিদ্ধান্তের জেরে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে দেখা দেয় জলসংকট। তার পরেই পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তজা ভারতের জল শক্তি মন্ত্রককে একের পর এক চারটি পাঠিয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান (Indus Waters Treaty)। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের পাঠানো সব চিঠিই পাঠানো হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের কাছে। তবে এখন অবধি ভারতের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি (Amit Shah)।

LinkedIn
Share