Tag: inflation

inflation

  • Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের অন্যতম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উদ্বেগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের আবহে এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই জয় পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটে (Donald Trump) ৫৪-৪৪ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত ৩০টি নতুন আসন দখল করেছে তারা।

    সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৪০ এবং রিপাবলিকানদের ১৪৭। যদিও কয়েকটি আসনের ফল তখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই ফলের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা (India Tariffs) করার পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের পর দলের একাধিক নেতা দ্রুত ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা শুরু করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ দলের নেতাদের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধ এবং ইজরায়েল সম্পর্কে আমেরিকার অবস্থান ভোটারদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকী বহু রিপাবলিকান সমর্থকও এবার দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

    কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পিছনে কি শুধুই বিদেশনীতি দায়ী? উত্তর হল, একেবারেই নয়। বরং আরও গভীর একটি প্রশ্ন উঠে আসছে। মাত্র দু’বছর আগে যাঁরা ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি আস্থা রেখেছিলেন, তাঁরাই কেন এবার দলটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?

    আম-আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি (Donald Trump)

    এর উত্তর খুঁজতে গেলে সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে। টেক্সাসের রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ জর্জটাউন ব্লাড অ্যান্ড প্লাজমা রিসার্চ গ্রুপের একটি গবেষণার উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “২০২৬ সালে আমেরিকানরা অর্থের বিনিময়ে ৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বার রক্তরস দান করেছেন। এটিও একটি নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ প্রতিদিন ২ লাখ আমেরিকানকে কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকা জোগাড় করতে হাতে সূচ ফুটিয়ে রক্তরস দান করতে হচ্ছে।”

    ক্রুজের এই মন্তব্য আমেরিকার সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সংসার চালানোর খরচ এবং সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপনের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। আর এখানেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি, বিশেষ করে তাঁর ব্যাপক শুল্ক আরোপের কৌশল।

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ, চাপে মার্কিন অর্থনীতি

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আমেরিকার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল, বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমানো, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আমেরিকার বাজারকে সুরক্ষিত করা।

    কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় তাঁর শুল্কযুদ্ধ। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেন তিনি। অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি দেশগুলি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার সুযোগ-সুবিধার অন্যায্য ব্যবহার করে এসেছে (Donald Trump)।

    আমেরিকানদের কাছে এই নীতিকে বিদেশি দেশগুলির উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশের বাজার রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকনমির গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। বিদেশি রফতানিকারীদের পরিবর্তে শুল্কের অধিকাংশ আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয়েছে আমেরিকার আমদানিকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের।

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত থাকায় অগাস্টে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপান ট্রাম্প। ফলে বহু ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।

    এর প্রভাব শুধু ভারতীয় রফতানিকারীদের উপরেই পড়েনি, আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্ষোভ জমেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রচার এবং রাজনৈতিক বার্তার তুলনায় এই আর্থিক সমস্যাগুলিই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ এই নয় যে আমেরিকানরা হঠাৎ ভোট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। টেড ক্রুজও নির্বাচনের পর তাঁর বিশ্লেষণে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিপাবলিকান সমর্থক, নির্দলীয় ভোটার এবং উদারপন্থী ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    অর্থাৎ সমস্যা ছিল ভোটারদের বুথমুখী করা নয়, বরং তাঁদের আস্থা অর্জন করা। অর্থনীতি সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে, এই বিশ্বাস যথেষ্ট সংখ্যক ভোটারের মধ্যে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন (Donald Trump) রিপাবলিকান নেতৃত্ব।

    নির্বাচনের আগে রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ সমীক্ষাতেও তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৮ শতাংশ জানিয়েছিলেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিয়ম ও মূল্যবোধ, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ২৬ শতাংশ। অভিবাসন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ১৩ শতাংশ (India Tariffs) ভোটার।

    আরও একটি তথ্য ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগজনক ছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁদের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাত্র ১৩ শতাংশের মতে, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতির বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি।

    ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ

    হিস্পানিক সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল আরও বেশি। তাঁদের ৫৪ শতাংশের মতে, পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সাফল্যকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা ট্রাম্পের কাছে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তিনি বারবার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্ব ও নীতির উপর গণভোট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভোটাররাও কার্যত সেই পথেই হেঁটেছেন। কিন্তু ফল গিয়েছে তাঁর বিপক্ষে।

    শুল্কের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পিছনে যুক্তি ছিল সহজ। বিদেশি পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমেরিকার বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করা, বিদেশি দেশগুলিকে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা এবং দেশে উৎপাদন বাড়ানো।

    কিন্তু কোনও পণ্যের উপর বিদেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুল্ক আরোপ করলেই তার আর্থিক বোঝা বিদেশি দেশগুলির ঘাড়ে গিয়ে পড়ে না। আমদানি করা পণ্য আমেরিকার সীমান্তে পৌঁছনোর পর সে দেশের শুল্ক দফতর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারী সংস্থার কাছ থেকে শুল্ক আদায় করে। পরে সেই অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়িক সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরো দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।

    কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির এই প্রভাবের একটি বিস্তারিত ছবি উঠে এসেছে (Donald Trump)।

    গবেষণার জন্য প্রায় ৪ লাখ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আড়াই কোটিরও বেশি পণ্য পরিবহণের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষকদের দাবি, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের মোট আর্থিক বোঝার মাত্র ৪ শতাংশ বহন করেছেন। বাকি প্রায় ৯৬ শতাংশের বোঝা গিয়ে পড়েছে আমেরিকার ক্রেতাদের উপর। এর প্রভাব পড়েছে পোশাক থেকে শুরু করে গয়না, খাদ্যপণ্য এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও।

    ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা আইসিআরএ-র মতে, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুতির পোশাক, তৈরি পোশাক এবং গৃহস্থালির কাপড়ের পাইকারি দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। আমেরিকা তার আমদানি করা বস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্কের প্রভাব এই বাজারে বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে।

    গয়নার বাজারেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পালিশ করা হিরে এবং উন্নত মানের সোনার গয়নার দাম বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ হিরে পালিশ করার কাজ ভারতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    খাদ্যপণ্য ও রেস্তরাঁ ব্যবসাতেও শুল্কের প্রভাব পড়েছে। আমদানি করা হিমায়িত চিংড়ি, বাসমতি চাল এবং বিভিন্ন মশলার খুচরো দাম বেড়েছে বলে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এমনকী গাড়ি মেরামতির বাজারও এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। আমেরিকার বাজারে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, ধাতব ঢালাইয়ের উপকরণ এবং বিকল্প যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছে ভারতের অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে আমেরিকার শুল্ক আদায়ের রাজস্ব প্রায় ২০০০ কোটি ডলার বেড়েছিল। কিন্তু সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি মানেই সাধারণ মানুষের আর্থিক লাভ নয়। কারণ এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান এসেছে মূলত আমদানিকারী সংস্থা ও ক্রেতাদের পকেট থেকেই। বাস্তবে শুল্ক অনেকটা ভোগ্যপণ্যের উপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করেছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পরীক্ষাগারে ভারতও

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল ভারত। ২০২৫ সালের অগাস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়।

    প্রশ্ন উঠেছিল, অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা সামলাতে ভারতীয় রফতানিকারীরা কি নিজেদের পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছিলেন? কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, বাস্তবে তা হয়নি। বরং আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

    এর অর্থ, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের বোঝা বহন না করলে সেই আর্থিক চাপ অন্য কোনও পথে আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। আমদানিকারীদের বেশি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির খরচ বাড়ে। সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। বাজারে পণ্যের জোগান কমে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সেই পণ্য কিনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদেরই।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য কি শুল্কই দায়ী?

    নির্বাচনের ফলের পিছনে একাধিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করেছে। তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক উদ্বেগ যে অন্যতম প্রধান কারণ, তা টেড ক্রুজের নিজের দেওয়া তথ্য থেকেও স্পষ্ট (Donald Trump)।

    কানসাসের ভোটারদের মতামত বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার ৩০.৬ শতাংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। দ্বিতীয় স্থানে ছিল দুর্নীতি, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ১৮.৫ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন ১০.১ শতাংশ ভোটার।

    এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য যথেষ্ট গভীর। ভোট দিতে যাওয়ার সময় আমেরিকার সাধারণ মানুষ যে শুধু ইরান যুদ্ধ কিংবা ইজরায়েল নীতি নিয়ে ভাবছিলেন, তা নয়। তাঁদের চিন্তার কেন্দ্রে ছিল প্রতিদিনের বাজার খরচ, জ্বালানির দাম, বিমার খরচ এবং মাসের শেষে বেতন দিয়ে সংসার চালানোর বাস্তব সমস্যা।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছিল। ফলে বিদেশি দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যনীতি গ্রহণের রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক সমস্যাকে আড়াল করতে পারেনি।

    নিজের উপরেই গণভোট চেয়ে বিপাকে ট্রাম্প

    মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্বের উপর গণভোটে পরিণত করার কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পিছনে রাজনৈতিক যুক্তিও ছিল। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থী এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলি বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলে জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নগুলি সামনে চলে আসে।

    তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের কাজে অসন্তুষ্ট হলে প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠেন।

    ট্রাম্প কার্যত ভোটারদের তাঁর শাসনকাল ও নীতির মূল্যায়ন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ভোটাররাও সেই মূল্যায়ন করেছেন। আর সেই মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, আর্থিক সচ্ছলতা এবং দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু রিপাবলিকান পার্টির সাংগঠনিক বিপর্যয় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে (India Tariffs) তৈরি হওয়া ব্যবধানেরও প্রতিফলন। বিদেশি দেশগুলিকে শুল্কের চাপে রাখার নীতি শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কতটা (Donald Trump) চাপ তৈরি করেছে, সেই প্রশ্নই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

     

  • PoJK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের

    PoJK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্দোলনকারীদের (PoJK Unrest) ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরগরম ব্রিটেন। রবিবার লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবন ‘প্যালেস অব ওয়েস্টমিনস্টারে’র বাইরে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার ব্রিটিশ কাশ্মীরি (Global British Kashmiris Protest)। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    কী বলছেন বিক্ষোভকারীরা? (PoJK Unrest)

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পিওজেকের সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হয়েছেন। মহিলাদের হয়রানি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এদিনের সমাবেশে বক্তারা বলেন, “পিওজেকের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক স্বস্তি, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ, উন্নত প্রশাসন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।”

    আন্দোলনকারীদের ওপর হিংসাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তান রেঞ্জার্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের ওপর হিংসাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা। এর পাশাপাশি সেখানে মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা (PoJK Unrest)। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, রবিবার রাওয়ালাকোট ইদগাহে চলা একটি অবস্থান কর্মসূচিতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়। এতে অন্তত দু’জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ জখম হন।

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট, সংরক্ষিত আইনসভা আসনের বণ্টন, মুদ্রাস্ফীতি, চড়া বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট-সহ নানা ইস্যুতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন (Global British Kashmiris Protest) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান প্রশাসন আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, যার ফলে সংঘর্ষ, হতাহতের ঘটনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে (PoJK Unrest)।

     

  • China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চিন (China Economic)। এই ভবিষ্যদ্বাণী আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কোভিড অতিমারির প্রথম ঢেউয়ের পর, ব্রিটিশ থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইকনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (Centre for Economics and Business Research) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০২৮ সালের মধ্যে চিন আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে (Debt Nightmare)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, অতিমারির মোকাবিলায় চিনের ‘দক্ষ’ ব্যবস্থাপনা আগামী বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে দেবে।

    কী বলছে সেই সংস্থা? (China Economic)

    পাঁচ বছর পরে এখন সেই একই সংস্থা বলছে, আগামী আরও অন্তত ১৫ বছরের আগে চিনের পক্ষে মার্কিন অর্থনীতিকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন হয়তো কখনওই ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কারণ তাদের অর্থনীতির সামনে রয়েছে গুচ্ছের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও বাধা। গত সপ্তাহে বেজিংয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, গতি হারিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

    কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা

    এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বছরে মাত্র ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সবচেয়ে দুর্বল বৃদ্ধি। খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উদাহরণ এটি। বছরের প্রথম চার মাসে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ কমেছে ১.৬ শতাংশ। এর প্রধান কারণ সম্পত্তি উন্নয়ন খাতে ১৩.৭ শতাংশ পতন। ২০২১ সালে যে রিয়েল এস্টেট বুম ছিল, অতিমারির পর তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি চিনা নাগরিকের সঞ্চয়। তাই কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা। কারণ অনেকেই এমন ফ্ল্যাটের ঋণে ডুবে রয়েছেন যে, তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। আগে বাড়ির পরে গাড়ি কেনাটা ছিল চিনের মধ্যবিত্ত দের একটি বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র (China Economic)। কিন্তু এখন অনেকেরই গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। মে মাসের শুরুতে চিনের গাড়ি নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি বছরে কমেছে ২৫.৫ শতাংশ — টানা ষষ্ঠ মাসের পতন। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির প্রচুর গাড়ি বিক্রি হয়নি। তাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

    ড্রাগনের দেশে হ্রাস পেয়েছে চাহিদা

    দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৮০ সালের সংস্কার এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতির ফলে চিন কার্যত পরিণত হয়েছিল বিশ্বের কারখানায়। তাই কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থানের (Debt Nightmare)। ড্রাগনের দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন। চিন এখন জাহাজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বহু ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। তবে চিনের প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানি-নির্ভর — আর এই মডেলই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যদিও পণ্যের দর সস্তা। মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশেরও বেশি চালিত করে। সেই তুলনায় ভারতে এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। গত বছর চিনে এর পরিমাণ ছিল মাত্রই ৫২ শতাংশ (China Economic)।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সঙ্কট ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের খরচ করার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য চিনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করেছে। চিনা সরকারও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে — ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ (Debt Nightmare)। খবরে প্রকাশ, রফতানির জন্য চিন এখনও নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত বছর তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ চিনের কাছে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ যদি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করে, তাহলে চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে শিল্পখাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যেই জিনপিংয়ের দেশে মূল্যহ্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও কম দামে জিনিস পাওয়ার আশায় কেনাকাটা করছেন না চিনারা (China Economic)।

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও বড় সমস্যা

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও দু’টি বড় সমস্যা রয়েছে – একটি হল বাজেট ঘাটতি, অন্যটি জনসংখ্যা সঙ্কট। সরকারি হিসেবে চিনের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, অন্যান্য গোপন বাজেট যোগ করলে তা পৌঁছে যায় ৯.১ শতাংশে। চিনের মোট ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান। ঋণের সুদ শোধের খরচ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়েছে ৩৪১ শতাংশ।এদিকে, চিনা জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পর জন্মহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আয়তনে এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মেছে। আগামী দশকে চিনের জনসংখ্যা কমে যেতে পারে প্রায় ৬ কোটি। এতে ভোগব্যয় আরও কমবে, বাড়বে অর্থনৈতিক সঙ্কট (Debt Nightmare)।

    কমিউনিস্ট-শাসিত চিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ!

    চিনের বিশাল তেল মজুত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে এপ্রিল মাসে চিনের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ। এদিকে, তেল ও গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে প্লাস্টিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খেলনা কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে আবার একেবারে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। চাকরি খুইয়েছেন হাজার হাজার চিনা শ্রমিক (China Economic)। দক্ষিণ চিনে খেলনা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে, যা চিনের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত সমাজে বিরল নজির। চিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ভবিষ্যতের পণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে লাভবানও হতে পারে চিন (Debt Nightmare)। তবে যেহেতু চিনা অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর, তাই বিদেশের বাজারে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। সমস্যা হল, অনেক দেশই চিনকে ভালো চোখে দেখে না। আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও, সেখানে চিনকে নয়া ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এশিয়ান (ASEAN) দেশগুলিতেও চিনের সস্তা পণ্যের চাপে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা কোম্পানিগুলি স্থানীয় কাঁচামাল কম ব্যবহার করে নিজেদের দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে এসব দেশে চিনের (China Economic) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

     

  • Pakistan: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান, বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে শরিফের দেশও

    Pakistan: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান, বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে শরিফের দেশও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় নাম রয়েছে শাহবাজ শরিফের দেশের। ২০২৬ সালের গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস (Global Report on Food Crises)-এ পাকিস্তানকে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মায়ানমার, নাইজিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের সঙ্গে তীব্র ক্ষুধার প্রধান কেন্দ্রগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে খাদ্য সঙ্কট (Pakistan)

    পাক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ২০২৫ সালে বিশ্বের সেই ১০টি দেশের মধ্যে ছিল যেখানে সবচেয়ে বড় খাদ্য সঙ্কট দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৯৩ লাখ মানুষ “ক্রাইসিস” অবস্থায় এবং ১৭ লাখ মানুষ “এমার্জেন্সি” অবস্থায় ছিল, যা দুর্ভিক্ষের ঠিক আগের সবচেয়ে গুরুতর স্তরগুলির মধ্যে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) নামের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি অনুযায়ী, খাদ্য সঙ্কট এমন এক পরিস্থিতি যেখানে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তখন ঘটে যখন খাদ্যে প্রবেশাধিকার এতটাই সীমিত হয়ে যায় যে, তা আদতে হয়ে দাঁড়ায় মানুষের বেঁচে থাকার পক্ষে হুমকি স্বরূপ।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ চরম আবহাওয়া। ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ফলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল, যা জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাকিস্তানে ভারী মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৃষিজমি এবং পরিকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।” পুষ্টি বিশ্লেষণেও পাকিস্তানের নাম এসেছে, যেখানে বালুচিস্তান, সিন্ধ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া উদ্বেগের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জন্য আনুষ্ঠানিক তীব্রতা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত সাম্প্রতিক তথ্য না থাকায় পাকিস্তানকে “নো সেভেরিটি ডেটা” (no severity data) তালিকায় রাখা হয়েছে।

    মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছতে পারে ৬ শতাংশে

    পাকিস্তানে অপুষ্টির ঝুঁকির কারণ বিশ্লেষণেও রয়েছে, যেখানে খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জল এবং স্যানিটেশন এবং রোগব্যাধি সম্পর্কিত দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি দেশটির সঙ্কটের গভীরতা এবং তথ্য সংগ্রহ বিস্তারের প্রতিফলন। বিশ্লেষণের এরিয়া ২০২৪ সালের ৪৩টি গ্রামীণ জেলা থেকে ২০২৫ সালে ৬৮টি জেলায় বাড়ানো হয়েছে। এতে বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং সিন্ধের এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যার হার ১৬ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছে ওই তালিকায়।

  • Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ২ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্র (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর (Central Govt Employees)।

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত (Cabinet Approves DA)

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বছরে দু’বার—সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে—সংশোধন করা হয়। এটি শিল্প শ্রমিকদের জন্য ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই-আইডব্লিউ) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা শ্রমমন্ত্রকের অধীন লেবার ব্যুরো প্রতি মাসে প্রকাশ করে। তবে এবার ঘোষণায় খানিক দেরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকদের কনফেডারেশন (সিসিজিইডব্লিউ) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং অক্টোবরের শুরুতে বকেয়া অর্থ দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন না করায় বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিলটির পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধীরা বড় ভুল করেছে। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে।”

    দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে

    প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিরোধীদের এই অবস্থান মহিলাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন এবং এই বার্তা দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছনো উচিত।” তিনি বলেন, “বিলের বিরোধিতা করার পর এখন বিরোধী দলগুলি নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করার চেষ্টা করছে এবং কার্যত তারা দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে (Cabinet Approves DA)।” এছাড়াও, মন্ত্রিসভা ১৩,০০০ কোটি টাকার একটি সার্বভৌম সামুদ্রিক তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই তহবিলের লক্ষ্য ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ভারতগামী ও ভারত থেকে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বীমার সুবিধা দেওয়া (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই)-এর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত (Central Govt Employees) বাড়ানোর অনুমোদনও দিয়েছে, বরাদ্দ করেছে অতিরিক্ত ৩,০০০ কোটি টাকা।

LinkedIn
Share