Tag: Information Technology Act

  • Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার অনেক বড় আকার নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মেটা নাকি স্বীকার করেছে, নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের প্রচার (Boost) বাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থাটি এ-ও মেনে নিয়েছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্টও প্রচার পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা-র সিইও মার্ক জুকেরবার্গ শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক এবং কিছু অপারেশনাল ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন। যদিও এই তথ্যগুলির বেশিরভাগই বৈঠক-সংক্রান্ত সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক আইনি রায় হয়নি।

    শুধু প্রযুক্তিগত ভুল নয়, সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন

    প্রথমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও। মেটা জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় প্রকাশ করা হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হয়। কিন্তু সরকারি সূত্রের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু ওই ভিডিও নয়। বরং মেটা-র কনটেন্ট প্রচার (Content Amplification), ‘অ্যালগরিদম’ এবং ‘পেড বুস্টিং’ ব্যবস্থা নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হয়। সূত্রের দাবি, মেটা-র প্রতিনিধিরা স্বীকার করেন যে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেআইনি কনটেন্টও প্ল্যাটফর্মে প্রচার পেয়েছে বলে তাঁরা মেনে নেন। যদিও কোন ধরনের কনটেন্টের কথা বলা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

    ‘কনটেন্ট বুস্ট’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

    ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে প্রতিটি পোস্ট সমান সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় না। জটিল অ্যালগরিদম ঠিক করে দেয়, কোন ব্যবহারকারী কোন পোস্ট দেখবেন, কতবার দেখবেন এবং কোন ক্রমে দেখবেন। ‘বুস্টিং’ বলতে বোঝায় কোনও পোস্টের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে তার পৌঁছনোর ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া। এটি হতে পারে—

    • ● পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে,
    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের সাহায্যে,
    • ● অথবা অন্যান্য অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন টুলের মাধ্যমে।

    ফলে যে পোস্ট স্বাভাবিকভাবে কয়েক হাজার মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথা, সেটি কয়েক লক্ষ বা কোটি মানুষের কাছেও পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মকে আর শুধু নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত মধ্যস্থতাকারী (Intermediary) বলা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তখন প্ল্যাটফর্ম নিজেই তথ্যপ্রবাহকে প্রভাবিত করছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা?

    ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ (Information Technology Act, 2000)-এর আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি সাধারণত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকে। এই আইনি সুরক্ষার মূল ভিত্তি হল—প্ল্যাটফর্মটি কেবল ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্ট হোস্ট করবে, নিজে সেই কনটেন্ট তৈরি বা নির্বাচন করবে না। সরকারি সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারীর আধিকারিকরা মেটা-কে জানিয়েছেন যে, যদি প্ল্যাটফর্ম নিজেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ঠিক করে দেয় কোন কনটেন্ট কার কাছে পৌঁছবে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে সেই দৃশ্যমানতা বাড়ায়, তাহলে ‘ইন্টারমেডিয়ারি সেফ হারবার’ (Intermediary Safe Harbour)-এর দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত মেটা-র বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    কনটেন্ট হোস্ট করা আর কনটেন্ট প্রচার করা এক নয়

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পোস্ট সংরক্ষণ করা এবং সেই পোস্টকে সক্রিয়ভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম শুধু অবকাঠামো দেয়। কিন্তু যখন কোনও সংস্থা—

    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে,
    • ● ট্রেন্ডিং তালিকা তৈরি করে,
    • ● ব্যক্তিগতকৃত ফিড সাজায়,
    • ● অথবা পেড বুস্টিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পোস্টকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরে,

    তখন সেটি কার্যত তথ্যের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করছে। মেটা-র কথিত স্বীকারোক্তি সেই বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    ভারতে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    মেটা-র সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারীভিত্তিক বাজারগুলির অন্যতম ভারত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন কয়েকশো মিলিয়ন ভারতীয়। এই পরিস্থিতিতে অ্যালগরিদম কোন কনটেন্টকে সামনে আনছে, তা জনমত, রাজনৈতিক আলোচনা, সংবাদ গ্রহণ এবং সামাজিক প্রবণতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন কোনও পোস্ট ভাইরাল হয়েছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের কারণে। কিন্তু বাস্তবে অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন বা পেড বুস্টিংয়ের ফলে সেই ধারণা বদলে যেতে পারে।

    মোদির ভিডিও থেকেই শুরু বিতর্ক

    সূত্রের দাবি, ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ভার্টিক্যাল ভিডিও পোস্ট করার পর সেটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক (Facebook) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিওটি ফের প্রকাশ করা হয়। মেটা এই ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা করলেও, সেই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটা-র গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান-সহ শীর্ষ প্রতিনিধিদের তলব করে। বৈঠকে শুধু মোদির ভিডিও নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক, কনটেন্ট মডারেশন এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় উঠে আসে বলে সূত্রের দাবি।

    মেটা-র কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    মেটা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং মানব মডারেটরের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বিপুল বিনিয়োগ করছে।

    তবুও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে—

    • ● শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট,
    • ● ডিপফেক,
    • ● ভুয়ো তথ্য,
    • ● আর্থিক প্রতারণা,
    • ● ঘৃণামূলক বক্তব্য,
    • ● অন্যান্য বেআইনি কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে।

    যদি সত্যিই বেআইনি কনটেন্ট অ্যালগরিদম বা পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে মেটা-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই বাড়ছে নজরদারি

    ভারতের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ এখন শুধু কনটেন্ট অপসারণ নয়, অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার উপর জোর দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA)-এ বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই এখন প্রশ্ন উঠছে—সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি শুধু তথ্য সাজিয়ে দেয়, নাকি তারা ঠিক করে দেয় মানুষ কী দেখবে?

    আবারও ডাকা হতে পারে মেটা-কে

    সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে মেটা-কে আরও এক দফা আলোচনার জন্য ডাকা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত এই মর্মে রায় দেয়নি যে মেটা তার ইন্টারমেডিয়ারি (Intermediary) বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারিয়েছে বা ভারতীয় আইন ভঙ্গ করেছে। নির্দিষ্ট কনটেন্ট বুস্ট করা বা বেআইনি কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগও এখনও আনুষ্ঠানিক আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ডিজিটাল নীতিনির্ধারণে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—যে প্ল্যাটফর্ম অ্যালগরিদম ও অর্থের বিনিময়ে কনটেন্টের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে কি এখনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা উচিত? আগামী দিনে এই প্রশ্নের উত্তরই ভারতের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বিকৃত ভিডিও।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর (Meta) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওগুলির উৎস কোথায়, কারা সেগুলি তৈরি করেছে এবং কীভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মেটার নিজস্ব নজরদারি ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ভিডিওগুলির প্রচার ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হয়ে যাওয়ার পৃথক ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন চলছে। ওই পোস্ট পরে ফের দেখা যায়। মেটা ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও, কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, এবং সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কে এই অরুণ শ্রীনিবাস? (PM Modi)

    অরুণ শ্রীনিবাস বর্তমানে ভারতে মেটার পরিচালক এবং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তিনি এই দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি ভারতে মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান ছিলেন। মেটার পক্ষ থেকেই ২০২৫ সালের জুনে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মেটায় যোগ দেওয়ার আগে শ্রীনিবাস হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিবক এবং ওলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন (PM Modi)। মেটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রথমে তিনি ভারতে সংস্থাটির গ্লোবাল বিজনেস গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে ভারতে বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান করা হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ভারতে মেটার ব্যবসা, উদ্ভাবন ও আয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান। কলকাতার ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপণনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেছেন শ্রীনিবাস। তার আগে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন। প্রায় তিন দশকের বিক্রয় ও বিপণন-অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কেন মামলা দায়ের?

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এআই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই দুই সোশ্যাল মিডিয়াই মেটার মালিকানাধীন। তদন্তকারীরা প্রথমে জানতে চাইছেন, ভিডিওগুলি কোথা থেকে তৈরি বা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কীভাবে সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ভিডিও নির্মাতাদের ভূমিকা নয়, যারা ওই ভিডিও আপলোড, ফের প্রকাশ বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ধরনের বিকৃত ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরাতে পেরেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পুলিশ এখনও পৌঁছয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন (Meta)।

    মেটা কী বলেছে?

    এফআইআর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, মেটার এক প্রতিনিধি তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন।হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশের পক্ষ থেকে মেটার প্রতিনিধিদের ডেকে এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতারণামূলক বিষয়বস্তু, ভুয়ো বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য বিকৃত বিষয়বস্তু শনাক্ত ও সরানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট নিয়ে আলাদা চাপের মুখে মেটা

    শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনার থেকে আলাদা। তবে দু’টি ঘটনাই মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ভিডিওটিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়। মেটার তরফে ঘটনাটিকে এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয় সংস্থার তরফে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ওই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ বলেন, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল—এটি ভালো। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই… এটি যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য চাইছি (PM Modi)।” এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট  সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ—দু’টি ঘটনাই ভারতে মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন বাড়ছে নজরদারি?

    ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারি নজরদারি সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, পরিচয় জাল করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কোন বিষয়বস্তু দ্রুত শনাক্ত করা হবে, কোনটি সরানো হবে এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Meta)। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে এফআইআর শুধু একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া -নির্ভর বিকৃত বিষয়বস্তুর দায় কার—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায় কতটা?

    এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভিডিও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হওয়ায় সাধারণ ইউজারদের পক্ষে আসল ও নকল ভিডিও আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের নামে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই তদন্তে শুধু ভিডিওটি কে তৈরি করেছে, তা জানাই যথেষ্ট নয়। সেটি কোন মাধ্যমে প্রথম ছড়াল, কত দ্রুত ছড়াল, কারা তা ফের প্রকাশ করল এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সেটি শনাক্ত করতে বা সরাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হায়দরাবাদ পুলিশের বর্তমান তদন্ত সেই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিই সামনে নিয়ে আসছে। তবে তদন্ত যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই শ্রীনিবাস বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা ভারতে এআই-নির্ভর ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে যে ব্যাখ্যা-পর্ব চলছে, তার সঙ্গে এই (Meta) নতুন তদন্ত যুক্ত হওয়ায় ভারতের ডিজিটাল পরিসরে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

LinkedIn
Share