Tag: Inter-State Network

  • Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কান্নুর জেলার উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত এঝিমালা ভারতীয় নৌ অ্যাকাডেমির ভিতর থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে নতুন করে নজর পড়েছে (Kerala Police)। ৩২ বছরের বিপ্লব সোরেন নামে ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে নৌ অ্যাকাডেমির ধোপাখানায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে (Bangladeshi National) কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন করতে তিনি আধার কার্ড এবং পুলিশের ছাড়পত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    এঝিমালার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ঠিক এক দিন আগে কান্নুর পুলিশ জেলায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই থাকা ও কাজ করার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কান্নুর রেলস্টেশনের কাছে একটি স্পা থেকে সালিনা আক্তারকে আটক করার মধ্যে দিয়ে ওই অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও চার মহিলার সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁরা হলেন নাজমা আখতার, কে তসলিমা, কে মইনা এবং নাসরিন বিবি। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতেন।

    তদন্তকারীদের হাতে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র, যার মধ্যে আধার কার্ডও রয়েছে, উদ্ধার হয়েছে। পরিচয়পত্র তৈরি, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, গুয়াহাটি, মুম্বই, কর্নাটক এবং কেরলের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জাল পরিচয়পত্রের জন্য একটি আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জুন থেকেই শুরু ধরপাকড় (Kerala Police)

    কেরলে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছিল জুন মাসে। ৮ জুন কোল্লাম জেলার কুলশেখরপুরম থেকে মুমতাজ বেগম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করে দেওয়ার একটি চক্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে (Kerala Police)।

    তদন্তে তাঁর নামে কেরলের ঠিকানা-সহ রেশন কার্ডের সন্ধান পাওয়া যায় বলে সেই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। কয়েকটি অক্ষয় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা নজর দিয়েছিলেন। ওই সময়ের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখা মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল এবং কীভাবে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের কেরলে এনে বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল ও ভারতীয় নথি দেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

    এরপর ২৪ জুন কোল্লামের একটি ইসলামি মাদ্রাসা থেকে ১৯ বছরের মোশিউর খান ওরফে আমান খানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রবেশের নথি ছাড়াই তিনি করুণাগাপল্লির পুথেনথেরুভু মুসলিম জামাত মসজিদের অধীন শরিয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসায় থাকছিলেন ও পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং স্থানীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে।

    ২৫ জুন কেরল পুলিশ, বিশেষ শাখা, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে কোচির কাছে ত্রিপুনিথুরার এরুর এলাকায় দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম মেইদি হাসান, মহম্মদ আসিম, তারেক, সোখির, মহম্মদ সোহেল এবং মহম্মদ মিজান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁরা পুরনো লোহালক্কড় ও বাতিল সামগ্রী সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁদের কাছে ভারতে থাকার প্রয়োজনীয় নথি বা বৈধ অনুমতি ছিল না বলে অভিযোগ।

    জুলাইতেও অব্যাহত অভিযান

    ১ জুলাই কোঝিকোড় থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—মহম্মদ উলা, মহম্মদ মাফদি হাসান এবং মহম্মদ হাসান আলি—গ্রেফতার হন বলে রিপোর্টে জানানো হয়। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তাঁরা ভারতে ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জাল পরিচয়পত্র, মুঠোফোনের সিম কার্ড এবং স্থানীয় যোগাযোগের সূত্র নিয়ে তদন্ত করা হয় বলে জানা যায়।

    এরপর ২৯ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোঝিকোড়ের মাভুরের কায়ালম বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক, মহম্মদ হাসানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযানে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে যায় বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

    এই গ্রেফতারিগুলিকে রাজ্যজুড়ে চলা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখার সাম্প্রতিক অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    একই ধরনের নথি ও যোগাযোগের সূত্র

    এখন পর্যন্ত সামনে আসা ঘটনাগুলিতে কয়েকটি মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জাল আধার ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র, ভাড়া বাড়িতে থাকা, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া, স্থানীয় যোগাযোগ এবং নথি জোগাড় করে দেওয়ার কথিত চক্র—এই বৈশিষ্ট্যগুলি একাধিক মামলায় উঠে এসেছে।

    ফলে বিভিন্ন জেলা ও পেশায় নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত ও বসবাসে সহায়তা করার জন্য কোনও সংগঠিত ব্যবস্থা বা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের পরিধি ও প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।

    কোচিন শিপইয়ার্ডের ঘটনাতেও নিরাপত্তা প্রশ্ন

    এর মধ্যে কেরলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও একটি পৃথক ঘটনা সামনে আসে। ১২ জুন কোচিন শিপইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকা একটি জাহাজের ভিতরের দেওয়ালে ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে “আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি” লেখা পাওয়া যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর কোচি সিটি পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

    যে অংশে জাহাজটি রাখা হয়েছিল, সেখানে নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। জাহাজে কারা প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের নথি এবং কর্মীদের উপস্থিতির রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়। তবে তদন্তকারীরা ওই ঘটনাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত করেননি।

    নজরে এবার কান্নুর

    কোল্লাম, কোচি, কোঝিকোড় এবং কান্নুর—একাধিক জেলায় চলা অভিযানের পর বিষয়টি কোনও একটি এলাকা বা নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরনো লোহালক্কড় সংগ্রহের কর্মী, ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা, মাদ্রাসার ছাত্র, স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের কর্মী এবং সর্বশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীও রয়েছেন।

    এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমির ঘটনায় এখন তদন্তের মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে—বিপ্লব সোরেন কীভাবে জাল নথি সংগ্রহ করলেন, কে তাঁকে চাকরি পেতে সহায়তা করেছিল এবং কীভাবে প্রায় এক বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাঁর কর্মরত থাকা শনাক্ত হয়নি। তাঁর ভারতে অবস্থানের সময়কাল এবং এই ঘটনায় বৃহত্তর কোনও নিরাপত্তাজনিত যোগসূত্র রয়েছে (Bangladeshi National) কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কান্নুরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারের পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আরও কোনও নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ নজরদারি (Kerala Police) ও নথি পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে বলেও খবর।

     

LinkedIn
Share