Tag: International Yoga Day

International Yoga Day

  • PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’

    ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর

    প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।

    রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী

    আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন

    যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গে প্রথম বিজেপি-রাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আসছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি। বুধবার কলকাতার বাগবাজারের মায়ের ঘাটে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘাট পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া (Swachhata Se Swagat Drive) হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

    স্বচ্ছতা অভিযান (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের দাবি, ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে এই স্বচ্ছতা অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জনপরিসরকে জঞ্জালমুক্ত রাখা। বুধবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। কর্মসূচির শুরুতে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ঘাট পরিদর্শন করে নিজে হাতে ঝাঁটা নিয়ে নেমে পড়েন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত বিজেপির অন্যান্য নেতাও যোগ দেন স্বচ্ছতা অভিযানে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    পরে সাংবাদিকদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সকলের নিয়মিত একটি অভ্যাস হওয়া উচিত। সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও জোর দেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো কলকাতা, পুরো রাজ্যকে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নও হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতাও জরুরি।’’

    পুজো দিয়ে শুরু সাফাই অভিযান

    ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে এগোয়নি। ভবিষ্যতে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।কয়েক দিন আগেই পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই বুধবার বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সূচনা করা হয় (Swachhata Se Swagat Drive)। এদিন সাফাই অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাগবাজার ঘাটের পাশে থাকা মন্দিরে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন মা গঙ্গার আশীর্বাদ। এরপরেই হাতে ঝাঁটা নিয়ে সহকর্মী এবং মন্ত্রীদের নিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছতা উপহার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। আমাদের সমাজ ও পরিবেশে স্বচ্ছতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। আমরা তাঁকে এই স্বচ্ছতা উপহার দিয়ে কলকাতায় স্বাগত জানাতে চাই।” তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিগত সরকারের নেতিবাচক ভাবনার কারণে বাংলায় নমামি গঙ্গা প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি। আমরা আগামী দিনে গঙ্গাকে আরও নির্মল ও দূষণমুক্ত করব। সারা বছর ধরেই এই সাফাই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জারি থাকবে।” রাজ্যে যে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হবে, তা আগেই জানিয়েছিল নবনির্বাচিত পদ্ম সরকার। সেই মতো এদিন শুরু হয় অভিযান। চলবে পাঁচ দিন ধরে। গঙ্গা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিষ্কার করা হবে কলকাতার প্রতিটি গঙ্গার ঘাটও। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছিলেন, ২১ জুন যোগ দিবসে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এক স্বচ্ছ কলকাতা উপহার দেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই বছরই দেশের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার পরিকল্পনা সামনে রেখে ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Swachhata Se Swagat Drive)। ঝাঁটা হাতে নিজেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। তখন দিল্লি ভোটের তোড়জোড় চলেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালার দল আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাঁটা। বস্তুত, এই ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েই পথে নেমে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেবার দিল্লির নির্বাচনে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

    প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অভিযান

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাফা্ই অভিযান দেশ তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে (Suvendu Adhikari)। এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই মিশন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন (Swachhata Se Swagat Drive)। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এহেন অভিযানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন বিল গেটস।

     

  • World Record: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ৬টি নয়া বিশ্ব রেকর্ডের দাবিদার হল ভারত, কী কী জানেন?

    World Record: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ৬টি নয়া বিশ্ব রেকর্ডের দাবিদার হল ভারত, কী কী জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (International Yoga Day) ছয়টি নয়া বিশ্ব রেকর্ডের দাবিদার হল ভারত, যার মধ্যে রয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও (World Record)। এই ছয়টি বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয় একেবারে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিনেই।

    অন্ধ্রপ্রদেশে জোড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড (World Record)

    ১১তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে অন্ধ্রপ্রদেশে দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের দাবিদার হল ভারত। আরকে সৈকতে ৩,০৩,৬৫৪ জন একসঙ্গে বসে যোগাভ্যাস করেন। এখানেই হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যোগ অনুশীলনের সর্ববৃহৎ রেকর্ডের (World Record) স্বীকৃতি পায় এই সমাবেশ। একই সঙ্গে ২২,০০০ আদিবাসী ছাত্রছাত্রী ১০৮ মিনিট ধরে ১০৮ বার সূর্য নমস্কার করে আরেকটি বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

    মোহালির এইমস তৈরি করল এশিয়ার রেকর্ড

    মোহালির এইমস-এ স্বাস্থ্যকর্মীদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় যোগ দিবসে। একসঙ্গে বসে যোগাভ্যাস করেন তাঁরা। এই যোগ শিবিরের মাধ্যমে তাঁরা এশিয়া বুক অব রেকর্ডসে (World Record) নাম তোলেন।

    গুজরাটে ভুজঙ্গাসনে গিনেস রেকর্ড

    গুজরাটের ভাটনগরে ২,১২১ জন একসঙ্গে ভুজঙ্গাসন করেন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (International Yoga Day)। এর মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের দাবিদার হন তাঁরা।

    কুরুক্ষেত্রের ব্রহ্মসরোবর-এ রেকর্ড জমায়েত

    হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে ব্রহ্মসরোবর-এ এক লক্ষেরও বেশি মানুষের জমায়েত হয়। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ছিল স্কুল ছাত্রছাত্রী। তারা বিভিন্ন আসন ও প্রাণায়াম অনুশীলন করে। এখানে উপস্থিত ছিলেন যোগগুরু স্বামী রামদেব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। এই বিশাল শিবির একাধিক রেকর্ড ভেঙে দেয়।

    কৃষ্ণা নদীর উপর ভাসমান যোগাভ্যাস

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীতে একটি অভিনব রেকর্ড তৈরি হয়। সেখানে এক হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী স্পিডবোট ও অন্যান্য প্রায় ২০০টি জলযানে ভাসমান অবস্থায় যোগাভ্যাস করেন। এই উদ্যোগে সহায়তা করে এনটিআর জেলা প্রশাসন।

    লখনউয়ে সূর্য নমস্কার ভেঙে দিল পুরনো রেকর্ড

    উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সূর্য নমস্কার অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভিড় হয়। সরদার প্যাটেল গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই যোগ শিবিরে প্রায় ১,২০০ ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপালও। এই আয়োজন অনেক আন্তর্জাতিক রেকর্ড ভেঙে দেয় (World Record)।

  • International Yoga Day: ‘‘অশান্ত বিশ্বে শান্তির দিশা দেখায় যোগ’’, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বার্তা মোদির

    International Yoga Day: ‘‘অশান্ত বিশ্বে শান্তির দিশা দেখায় যোগ’’, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্ত বিশ্বে শান্তির পথ দেখায় যোগ। গ্রাম থেকে শহর, যোগ সবার। যোগ হল জীবনের শৃঙ্খলা। শনিবার ১১তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (International Day of Yoga) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Yoga Day)। এদিন বিশাখাপত্তমে ২৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫ লক্ষ মানুষের সঙ্গে যোগে অংশ নেন মোদি। বিশ্ব শান্তিতে যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এবছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম হল ‘এক পৃথিবী ও এক স্বাস্থ্যের জন্য যোগ’। আরকে বিচে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা ৪৫ পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও যোগ দেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, রাজ্যপাল এস আবদুল নাজির, উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং সেই রাজ্যের আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশ। এখানেই মানুষের জীবনে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    সবার জন্য যোগ—সীমাহীন একতা

    বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্তে মানুষ যোগকে নিজের জীবনের অঙ্গ করে নিয়েছে। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য রাষ্ট্রসংঘে আবেদন করে ভারত। সেকথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১১ বছর পর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে যোগ। ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালনের জন্য ভারত প্রস্তাব দেওয়ার পরপরই বিশ্বের ১৭৫টি দেশ তা সাদরে গ্রহণ করে। আজ সেই যোগ পৌঁছে গিয়েছে মহাকাশেও, যেখানে নভোচারীরাও যোগাভ্যাস করছেন।” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “যোগ কারও একার নয়, এটি সবার। এটি বয়স, জাতি, ভাষা কিংবা শারীরিক সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে।”

    যোগের মাধ্যমে সমষ্টির কল্যাণ

    ভারতের প্রাচীন মন্ত্র “সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ” উদ্ধৃত করে মোদি জানান, যোগ মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করে, সমাজমুখী করে তোলে। তিনি বলেন, “যোগ কেবল ব্যায়াম নয়, এটি এক সামাজিক নৈতিকতা—সহানুভূতি, সহমর্মিতা, ও সেবার শিক্ষা দেয়। যোগ হল জীবনের শৃঙ্খলা। একইসঙ্গে এটা একটা ব্যবস্থা যেটা আমাদের আমি থেকে আমরা করে। আমরা বিচ্ছিন্ন নই, আমরা প্রকৃতির অংশ।”

    যোগ হোক নতুন মানবতার নীতি

    বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, অস্থিরতা এবং মানসিক চাপের প্রেক্ষিতে মোদি বলেন, “যোগ হচ্ছে সেই ‘পজ বাটন’, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে পারে।” তিনি আহ্বান জানান নতুন উদ্যোগ ‘যোগা ফর হিউম্যানিটি ২.০’-এর, যেখানে “আভ্যন্তরীন শান্তি হোক আন্তর্জাতিক নীতি”। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন অস্থিরতা, চাপানউতোর চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের শান্তির দিশা দেয় যোগ।”

    বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় যোগের বিকাশ

    যোগা বয়স, সীমানা নির্বিশেষে সকলের জন্য। মোদি জানান, এইমস-সহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছে যে, হৃদরোগ, স্নায়ু সমস্যা, নারী স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতায় যোগ অত্যন্ত কার্যকর। মোদি জানান, জাতীয় আয়ুষ মিশনের অধীনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যোগচিকিৎসার প্রচার চলছে, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ মানুষ যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

    স্থূলতা রুখতে যোগ ও খাদ্য সংস্কার

    কুরুক্ষেত্রে ব্রহ্মসরোবর-এ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন যোগগুরু স্বামী রামদেব এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি। একইভাবে আন্তর্জাতিক যোগাসনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রী। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তেও পালিত হয় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এদিন সকালে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এদিন রামকৃষ্ণ বিচে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘১০ শতাংশ কম তেল’ চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, “তেল কমান, খারাপ খাদ্য এড়ান, যোগ করুন—এটাই আপনার প্রাকৃতিক ফিটনেস ফর্মুলা।”

    যোগ হোক বিশ্বজুড়ে এক গণ-আন্দোলন

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে যোগাসনের জনপ্রিয়তা। ইউকে তে যোগাসনের বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হন রাজা চার্লস। সেখানে যোগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে রাজা চার্লস বলেন, “যোগ ঐক্য, সহানুভূতি এবং কল্যাণের আন্তর্জাতিক নীতিগুলি তুলে ধরে। এটির বার্ষিক উদযাপন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুখের প্রেরণা দেয়।” এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদিও বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় যোগকে অন্তর্ভুক্ত করতে। তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষ তার দিন শুরু করুক যোগের মাধ্যমে, প্রতিটি সমাজ সংহত হোক যোগের মাধ্যমে, আর বিশ্ব হোক শান্তি ও সুস্থতার পথযাত্রী।”

  • RSS: যোগাভ্যাসকে আরএসএস-এর শাখায় আবশ্যক করেন সংঘ প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার

    RSS: যোগাভ্যাসকে আরএসএস-এর শাখায় আবশ্যক করেন সংঘ প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে। প্রতিষ্ঠা করেন ডাক্তার কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার। ভারতীয় যুবকদের সংগটিত করতে, তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের আদর্শের বীজ রোপণ করতে তিনি এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এর পাশাপাশি দেশের যুবকদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে তার সঙ্গেই যুক্ত করা হয় যোগাভ্যাসকে, যাতে যুবকদের আধ্যাত্মিক এবং মানসিক উন্নতি হয়। তাই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখাতে সূর্য নমস্কার, প্রণায়াম, ধ্যান এবং আরও বিভিন্ন যোগাসন করানো হতে থাকে তখন থেকেই।

    যোগাভ্যাসের কথা বলতেন আরএসএস-এর দ্বিতীয় সরসংঘচালক

    যোগাভ্যাসের (Yoga) মাধ্যমে স্বয়ংসেবকদের মধ্যে গড়ে উঠতে থাকে, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সমাজসেবা, সম্প্রীতি এবং আধ্যাত্মিকতা প্রভৃতি গুণ। জানা যায়, ডাক্তার কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নিয়মিতভাবে যোগাভ্যাস করতেন এবং তিনি শাখা পদ্ধতিতেও (RSS) যোগাভ্যাসকে রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে গুরু গোলওয়ালকর, যিনি সংঘের দ্বিতীয় সরসংঘচালক, তিনিও যোগাভ্যাসকে আরএসএস-এর অংশ হিসেবেই রেখে দেন। গুরুজি গোলওয়ালকর বলতেন, যদি জনগণ যোগাসন করে, তাহলে তাদের স্বাস্থ্য যেমন রক্ষা হয়, সেরকমই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। জনস্বাস্থ্য এই যোগাভ্যাসের মাধ্যমে উন্নত হবে এবং তাদের রোগ নিরাময়ে ওষুধ কেনার খরচও কমবে। সমস্ত দিক থেকেই তারা লাভবান হবে।

    যোগ হল বিশ্বমঞ্চে ভারতের উপহার, প্রস্তাব পাশ হয় আরএসএস-এর প্রতিনিধি সভায়

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) মনে করে যে, যোগ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির উন্নতির জন্য কোনও অভ্যাস বা অনুশীলন নয়, এটি হচ্ছে সামাজিক উন্নতির জন্যই প্রয়োজন। যোগের মাধ্যমে দেশ গঠিত হবে। দেখা যায়, আরএসএস-এর বেশিরভাগ প্রশিক্ষণ বর্গে যোগাসন এবং ধ্যানকে বর্তমানে রাখা হয়। যোগ-এর মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা শৃঙ্খলা, উৎসাহ, শারীরিক সুস্থতা পান, যা তাঁদের সমাজের কাজ করতে আরও উৎসাহিত করে। বর্তমানে যোগাভ্যাস আবশ্যিক করা হয়েছে আরএসএস-এর যে কোনও প্রশিক্ষণ শিবিরে। যে কোনও শাখাতেও যোগাভ্যাস চলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তুলে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছেন যোগ-এর গুরুত্ব (Yoga)। ২০১৫ সালে আরএসএস-এর অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভাতে প্রস্তাব পাস করা হয় যে যোগ হল বিশ্বমঞ্চে ভারতের উপহার।

    ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা রাষ্ট্রসংঘের

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘের ৬৯তম সাধারণ সভায় ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা ছিল প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য গর্বের মুহূর্ত, কারণ যোগাভ্যাস ভারত থেকে উদ্ভূত। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবটি রাখেন। নেপালসহ ১৭৫টি রাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয় ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর।

    সংস্কৃতিভেদে বিশ্বজুড়ে চলছে যোগ-এর অনুশীলন

    সারা বিশ্বজুড়ে অজস্র মানুষ বর্তমানে নানারকম সমস্যায় ভুগছেন, শারীরিক সমস্যা, মানসিক সমস্যা। যোগ হল একমাত্র উপায় বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলির নিরাময় সম্ভব এবং তা প্রাকৃতিক উপায়ে সম্ভব। তাই বিশ্বব্যাপী এই যোগাভ্যাসের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। মানুষ যোগকে গ্রহণ করেছেন তাঁদের সুস্থ থাকার জন্য, মানসিক ও শারীরিক উন্নতির জন্য। যোগ তাই আজ নির্দিষ্ট কোনও গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নেই। পৃথিবীর যে কোনও সাধারণ মানুষ থেকে বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা প্রত্যেকেই আজ যোগাভ্যাস করেন। এর মধ্যে আছেন বড় বড় শিল্পপতি থেকে কূটনীতিকরাও।

    যোগ শব্দের উৎপত্তি কীভাবে, ব্যাখ্যা করেছে আরএসএস

    ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভাতে (RSS) যোগের উপর যে প্রস্তাবনা হয়, সেখানে স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ব্যাখ্যা করে যে যোগের মূলগত উৎস এসেছে ‘যুজ’ (Yug) থেকে, যার অর্থ সংযুক্তিকরণ। যোগাসন শুধুমাত্র একটি শারীরিক অনুশীলন নয়। মহর্ষি পতঞ্জলির মতে, এটি হল একটি পবিত্র জীবনযাপনের অনুশীলন, যা মানুষের শরীর, মন, বুদ্ধি এবং আত্মাকে একত্রিত করে। বিভিন্ন হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে, যোগাভ্যাসের নানা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে—যোগব্যায়াম অশান্ত মনকে শান্ত করে। যোগ শব্দের অর্থ হলো মনের প্রশান্তি। এই ব্যাখ্যার ফলে এই দর্শনকে অনুসরণ করে নিজেদের জীবনে যোগাভ্যাসকে নিয়মিতভাবে অনুশীলন করে আজ ব্যক্তিজীবন সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠেছে।

    ভারতীয় সাধু-সন্ত, যোগ গুরু এবং যোগ প্রশিক্ষকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে আরএসএস

    আরএসএস বিভিন্ন সময়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ভারতীয় সাধু-সন্ত, যোগ গুরু এবং যোগ প্রশিক্ষকদের, যাঁরা বিশ্বমঞ্চে যোগাভ্যাসকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। একইসঙ্গে আরএসএস ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় কূটনীতিকদের, যাঁরা রাষ্ট্রসংঘসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে অবদান রেখেছেন। অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা কেন্দ্রীয় সরকার তথা প্রতিটি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারা যেন যোগকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং গবেষণার কাজেও অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে যোগাভ্যাসের প্রসার ঘটানো যায়।

  • PM Modi on Yoga Day: “বিশ্বে গুরুত্ব বাড়ছে নয়া যোগ-অর্থনীতির”, যোগ দিবসে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi on Yoga Day: “বিশ্বে গুরুত্ব বাড়ছে নয়া যোগ-অর্থনীতির”, যোগ দিবসে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যোগ-চর্চার হাত ধরে সারা বিশ্বে নয়া অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (International Yoga Day) শুক্রবার এই মত ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Yoga Day)। যোগাসনকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সকালে কাশ্মীরের শ্রীনগরে, ডাল লেকের ধারে অবস্থিত শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোদি। অন্যদের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে যোগাসনও করেন। যোগ-সাধনার শেষে কাশ্মীরের যুবতীদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যোগাসনের তাৎপর্যও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

    নিত্যদিনের সঙ্গী যোগ

    জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ডাল লেকের তীরে যোগ দিবস উপলক্ষে ভাষণ দেন মোদি। সেখানে তিনি বলেন,  “যোগ সমাজে পরিবর্তনের নতুন রাস্তা তৈরি করছে। যোগাব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারি। যোগ একটি বিজ্ঞান। আজ সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে ক্রীড়া ক্ষেত্রে যোগব্যায়ামকে সামিল করা হয়েছে। মহাকাশচারীদেরও যোগাসনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে কর্মক্ষমতা বাড়ে। যোগাসন আমাদের শরীর ও মনকে শক্তিশালী করে তোলে। যোগ আমাদের ভালোভাবে বাঁচতে শেখায়। আমি সকলের কাছে অনুরোধ রাখছি যে, যোগাসনকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী করে তুলুন।” 

    যোগভূমি শ্রীনগর

    শ্রীনগরকে ‘যোগ এবং সাধনার ভূমি’ বলেও উল্লেখ করে এদিন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi on Yoga Day) বলেন, “আমরা দশম যোগ দিবস পালন করতে চলেছি। যোগাসন শক্তি বৃদ্ধি করে, সুস্বাস্থ্যের সহায়ক হয়। আমি খুশি যে, এই বছর শ্রীনগরে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরেছি।” চলতি বছরে যোগ দিবসের মূল বিষয় ছিল, “নিজের এবং সমাজের জন্য যোগাসন।” দেশের নানা প্রান্তেই শুক্রবার যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। সেনা জওয়ানেরা লাদাখের প্যাংগং হ্রদের ধারে এবং বরফে ঢাকা সীমান্তবর্তী এলাকায় সমবেত ভাবে যোগাসন করেন। আমেরিকার নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যারেও সমবেত ভাবে যোগাসন করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।

    নয়া যোগ-অর্থনীতি

    এদিন শ্রীনগরে যোগ দিবস (International Yoga day 2024) উপলক্ষে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “বিগত ১০ বছরে, যোগব্যায়ামের সম্প্রসারণের ফলে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণাগুলির পরিবর্তন ঘটেছে। আজ, বিশ্ব একটি নতুন যোগ অর্থনীতির উত্থানের সাক্ষী। ভারতে, ঋষিকেশ এবং কাশী থেকে কেরল পর্যন্ত, আমরা যোগ ট্যুরিজমের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা লক্ষ্য করছি। যোগ সেন্টারের পাশাপাশি যোগ রিট্রিট, রিসর্ট তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকরা যোগ অভিজ্ঞতার সন্ধানে ভারতে ভিড় করছেন। ব্যক্তিগত যোগ প্রশিক্ষকদের ফিটনেস রুটিনের জন্য খোঁজ বাড়ছে। কোম্পানিগুলিতেও যোগাসন নিয়ে প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। যোগাসনের জন্য আলাদা পোশাকের ব্যবসা দারুণ চলছে। এই বিষয়গুলি তরুণদের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে।” 

    যোগ-সেলফি

    এদিন শ্রীনগরে বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠান কিছুক্ষণ পিছিয়ে গেলেও, ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে (PM Modi on Yoga Day) প্রাণায়ম, বজ্রাসন থেকে শুরু করে নানা ধরনের যোগাভ্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যোগাসন শেষে তিনি কাশ্মীরের যুবতীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে সেই ছবিগুলি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।

    যোগ ভারতের অনন্য উপহার, বললেন রাষ্ট্রপতি

    এদিন গোটা দেশের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ভবনেও আয়োজন করা হয়েছিল যোগ দিবসের (International Yoga Day)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও যোগাভ্যাস করতে দেখা যায়।   রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই ছবি শেয়ার করা হয়। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি টুইট করা হয়। সেখানে লেখা হয়-“আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে ভারতের সহ-নাগরিকদের শুভেচ্ছা!যোগ মানবতার জন্য ভারতের অনন্য উপহার। ক্রমবর্ধমান জীবনধারা সম্পর্কিত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে, যোগ আজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যোগ একটি শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার উপায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে যোগা গ্রহণ করার সংকল্প করা যাক।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • PM Modi: নৈসর্গিক ডাল লেকের পাড়ে যোগ দিবস পালন, যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, আঁটসাঁট নিরাপত্তা

    PM Modi: নৈসর্গিক ডাল লেকের পাড়ে যোগ দিবস পালন, যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, আঁটসাঁট নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফি বছর বিভিন্ন জায়গায় দিনটি পালন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এবার যোগ দিবস পালনের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ভূস্বর্গকে।  কাশ্মীরের ডাল লেকের পাড়েই এবার যোগ দিবস পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, তাই বহুস্তরীয় নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে শ্রীনগরকে।

    ‘রেড জোন’ (PM Modi)

    মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ শ্রীনগরকে অস্থায়ীভাবে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে। শহরে ড্রোন চালানো যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে কোয়াড কপ্টার চলাচলও (PM Modi)। কেন্দ্রীয় আয়ূষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব বলেন, “চলতি বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে ২১ জুন, শ্রীনগরে।” সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে দশম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হবে ডাল লেকের ধারে শের-ই-কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় শ্রীনগরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে প্রচুর যোগ-প্রেমী এবং স্পোর্টস পার্সন যোগ দিতে পারেন বলে আধিকারিকদের আশা।

    ভূস্বর্গে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী

    গত বছর নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে যোগ দিবস পালন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ভূস্বর্গ থেকে ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার উপত্যকা সফরে যেতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভূস্বর্গে বিজেপির এক নেতা মহম্মদ আরিফ বলেন, “মোদিজিকে অভ্যর্থনা জানানোর বিরাট সুযোগ কাশ্মীরের কাছে। তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি আমাদের এখানে আসছেন।”

    রাজনৈতিক মহলের মতে, চলতি মাসেই ঘোষণা করা হতে পারে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার নির্বাচন। জানা গিয়েছে, অগাস্টের মধ্যেই নির্বাচনের কাজ শেষ করে ফেলার চেষ্টা চলছে। তার আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের জন্য ভূস্বর্গকে বেছে নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোক বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    আর পড়ুন: বিশ্বমঞ্চে বন্দিত! লন্ডনে ‘রিস্ক ম্যানেজার অফ দ্য ইয়ার ২০২৪’ পুরস্কারে ভূষিত আরবিআই

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছিল জম্মু-কাশ্মীর। উন্নয়নও ছিল অধরা। ভূস্বর্গে ৩৭০ ধারা রদ করে গোটা দেশের সঙ্গে উপত্যকাকেও এক করে দেন প্রধানমন্ত্রী। বইয়ে দেন উন্নয়নের জোয়ারও। অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে মার্চ মাসের গোড়ার দিকেও শ্রীনগরে গিয়ে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার নানা সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি (PM Modi)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Yoga Asanas: উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ঘরে বসে করুন এই ৫ টি যোগাসন

    Yoga Asanas: উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ঘরে বসে করুন এই ৫ টি যোগাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যোগ হল এমন একটি আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা যা শরীর ও মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে।যোগ শব্দটি সংস্কৃত মূল ‘যুজ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘যোগ দেওয়া’ বা’একত্রিত হওয়া’। আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের সবকিছুই একই কোয়ান্টাম ফার্মামেন্টের একটি প্রকাশ মাত্র। যিনি এই অস্তিত্বের একত্ব অনুভব করেন তাকেই যোগী বলা হয়। যোগের ইতিহাস খুঁজতে গেলে দেখা যায় বৈদিক যুগের পূর্বেই এই যোগের উৎপত্তি। আবার অনেকে বলেছেন মহর্ষি পতঞ্জলি যোগাসনার উদ্ভব করেছেন। এই নিয়ে তর্কবিতর্ক রয়েছে।

    সিন্ধু সভ্যতার বেশ কিছু শিলমোহরে যোগাসনরত চিত্র খোদাই করা রয়েছে। প্রাচীন এই যোগাভ্যাস ভারতে বাইরে প্রসিদ্ধ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে  ভারতের এই প্রাচীন এই শরীরচর্চাবিদ্যা রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীতে বিশ্ব যোগ দিবস ( World Yoga Day) হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত ৪৪ টি মুসলিম দেশ সহ মোট ১৯২ টি দেশ বিশ্ব যোগ দিবস পালন করেছিল।
    নিয়মিত যোগাভ্যাসে শরীর নিরোগ থাকে।

    বর্তমানে কর্মব্যস্ততার জীবনে নানা ধরনের চিন্তা, কাজের চাপে আজকাল অনেক কম বয়েসেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। যোগাব্যায়ামের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।ধূমপান করার অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। 
    দেখে নিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কী কী যোগাভ্যাস করা প্রয়োজন।

    সূর্য নমস্কার

    সূর্য নমস্কার দিয়ে শুরু করুন। ভোর বেলায় খালিপেটে সূর্য নমস্কার করা সবচেয়ে ভাল। প্রথমে হাত জোড় করে নমস্কার করার ভঙ্গিতে দাঁড়ান। হাতের তালুতে তালুতে খুব জোরে চাপুন যাতে বুকের পেশি শক্ত হয়। তার পর এই চাপ বজায় রেখে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে হাত তুলে পেছনে বেঁকান। ওখান থেকে সামনে ঝুঁকে হাত পায়ের সামনে মাটিতে রেখে পদহস্তাসন করুন। এই অবস্থায় হাঁটু ভেঙে বসে পড়ুন। ওই অবস্থায় ডান পা পেছনে সোজা করে দিন।এ বার হাঁটু থেকে মাথা তুলে সামনের দিকে তাকান। বাঁ পা পেছনে সোজা করে দিন। এ বার ডনের ভঙ্গিতে হাতের জোরে নামুন। ডন থেকে আস্তে আস্তে উঠুন। বাঁ পা পূর্বের ভঙ্গিমায় ভাঁজ করে সামনে নিয়ে আসুন। মাথা নামান। ডান পা ভাঁজ করে সামনে নিয়ে আসুন। নিতম্ব গোড়ালিতে লাগিয়ে বসুন। আবার নিতম্ব তুলে সোজা রেখে পদহস্তাসন করুন। এ বার হাত তুলে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে পেছনে বেঁকান। সেখান থেকে সোজা হয়ে হাত জোড় করে নমস্কার করার ভঙ্গিতে ফিরে আসুন।

    শিশু আসন

    হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে মেঝেতে বসুন। এবার আস্তে আস্তে সারা শরীর পিছনে নিয়ে গিয়ে শরীরের পশ্চাদ্দেশ পায়ের গোড়ালির উপর রাখুন। কপাল মাটিতে ঠেকান। হাত দু’টো পিছনে নিয়ে গিয়ে তালু উল্টো করে পায়ের কাছে রাখুন। মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে এই যোগাসন। দেহে রক্তসঞ্চালনের প্রক্রিয়াকেও স্বাভাবিক রাখে।

    বজ্রাসন

    সোজা হয়ে বসুন। সামনের দিকে প্রথমে পা ছড়িয়ে দিন। এবার একটা করে পায়ে হাঁটু মুড়ে তার উপর বসুন। গোড়ালি জোড়া রাখবেন এবং শিরদাঁড়া সোজা রাখবেনে। হাত দু’টো উরুর উপর সোজা করে রাখুন। দুপুর বা রাতের খাওয়ার পরেও এই যোগাসন করতে পারেন। এটি শরীরে অতিরিক্ত মেদের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এবং পেটের তলদেশে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করে।

    পশ্চিমোত্তানাসন

    প্রথমে পা ছড়িয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। ভাল করে শ্বাস নিন। এরপর মাথার উপরে হাত দু’টো সোজা করে নমস্কারের ভঙ্গিতে প্রসারিত করুন। এবার শ্বাস ছাড়ুন। শরীর বেঁকিয়ে হাত দু’টো পা অবধি নিয়ে যান, পা যেন না বেঁকে। এই অবস্থায় হাত দু’টো দিয়ে গোড়ালি জড়িয়ে ধরুন। এবার পায়ের উপর মাথা রাখুন। কিছুক্ষণ রাখার পর হাত দু’টো আবার মাথা পর্যন্ত প্রসারিত করুন। দিয়ে প্রথমে যে ভাবে বসেছিলেন সেই ভঙ্গিতে ফিরে যান। ওজন কমানোর পাশাপাশি পেটের তলদেশের মেদও ঝরায় এই ব্যায়াম। মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপকেও কমায়।

    সুখাসন

    এই যোগ ব্যায়ামের ফলে শরীর ও মনে এক ধরনের সার্বিক ভারসাম্য আসে। মন ও মেজাজ ভাল থাকে। শিরদাঁড়া সোজা রেখে বাবু হয়ে বসুন। ধ্যানের ভঙ্গির এই আসন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     
     

     

LinkedIn
Share