Tag: Iran-Israel Conflicts

  • Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দিনভর কূটনৈতিক (Indian diplomacy) আলোচনায় অংশ নেয় দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেন, পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও উপসাগরীয় দেশ ও ইজরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা, অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস করে আলোচনার পথে ফেরার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। দুই নেতাই একমত হয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ (Diplomatic Engagement) চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, তবেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান, ইজরায়েল, কুয়েত, ওমান-সহ বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান

    জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং অঞ্চলে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানান। বুধবার কুয়েতের (Kuwait) যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গেও ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি (Security Situation) এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) বজায় রাখার প্রশ্ন।

    গভীরভাবে উদ্বেগজনক

    এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও কথোপকথনে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এক্সে (X, formerly Twitter) পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নিজে জানান, “পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আমি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।” আলোচনায় উঠে আসে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) নিরাপত্তার বিষয়টিও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর (Energy Corridor) হিসেবে পরিচিত এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল (Oil Supply) নিয়ে যাতায়াত করে একাধিক জাহাজ। মোদি স্পষ্ট বলেন, “এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল (Safe Navigation) নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” কারণ, এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (Energy Crisis) আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    সংলাপ ও কূটনীতিই শ্রেয়

    ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গেও ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ওমানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পক্ষেও মত দেন। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian Community) নিরাপত্তা ও কল্যাণে (Safety and Wellbeing) সেখানকার নেতৃত্বের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে আলোচনা

    আরব দুনিয়ার সংঘাত (Middle East tension) গড়িয়েছে ২১তম দিনে। এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (India FM Jaishankar) ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদেওন সা’আর-র ( Israeli Foreign Minister Gideon Sa’ar) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali) এর প্রভাব নিয়ে দু’পক্ষ মতবিনিময় করেছেন বলে খবর সূত্রের। জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরান, ইজরায়েল এবং গালফ অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রী সাআর জানিয়েছেন, হরমুজ সঙ্কটে ইরানের নৌ অবরোধ পুরো বিশ্বের উপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “এটি কোনও আমেরিকান বা ইজরায়েলি সমস্যা নয়, এটি বিশ্ব শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য গুরুতর সমস্যা। এখনই সমাধান না হলে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।” অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী রীম আল হাশিমির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ইউএই-তে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন।

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    সব মিলিয়ে, অশান্ত পশ্চিম এশিয়া নিয়ে এই কূটনৈতিক তৎপরতা (Indian diplomacy)ভারতের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন—যেখানে একদিকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের আবহে (War Situation) কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি, সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিথিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বদ্ধপরিকর দিল্লি।

  • Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরে ইরানের (Iran Israel Conflicts) হয়ে মূলত সামনে এসেছিলেন আলি লারিজানি (Ali Larijani)। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমেরিকাকে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে হত্যা করতে তৎপর হয়ে উঠেছিল ইজরায়েল ও আমেরিকা। অবশেষে এল সাফল্য। নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। এই খবর নিশ্চিত করেছে তেহরানও। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে লারিজানির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেই বিবৃতিতে লারিজানিকে ‘শহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লারিজানির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    দেশসেবার জন্য প্রাণ উৎসর্গ

    শুধু লারিজানি নন, ইজরায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান আলিরেজা বায়েতও প্রয়াত হয়েছেন ইজরায়েল হামলায়। লারিজানির ওপর ইজরায়েলি হামলার সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন আলিরেজা। একই হামলায় আলি লারিজানির ছেলে মোর্তেজা লারিজানিও (Morteza Larijani) প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির (Gholam Reza Soleimani) মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অগ্রগতি এবং ইসলামি বিপ্লবের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন লারিজানি। দেশসেবার জন্য এই মৃত্যু তাঁর দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। দেশের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি ‘শহিদের মর্যাদা’ অর্জন করেছেন।

    লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

    মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়, বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি! সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সেই সময় ইজরায়েলের দাবি উড়িয়ে দেয়। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল বাহিনী। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসমিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হবে ‘চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক’।

    ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি

    দিন কয়েক আগেই এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন লারিজানি। তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘আপনার থেকেও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজেরটা দেখুন, না হলে আপনাকেই নির্মূল করে দেওয়া হবে।’’ সেই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার লারিজানি ঘোষণা করেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সমস্ত মুসলিম দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তার আগেই তাঁর মাথার দাম ঠিক করে রেখেছিল আমেরিকা। কিছুদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-সহ (Mojtaba Khamenei) দেশের প্রশাসনের শীর্ষ ১০ জন কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকেই ছিলেন ইরানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

    কে ছিলেন আলি লারিজানি?

    আলি লারিজানি (Ali Larijani) ইরানের রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব (Secretary of Iran’s Supreme National Security Council) হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, সংসদের স্পিকার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৫ সালে আবার সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান লারিজানি। দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন। লেফটেন্যান্ট লারিজানি ছিলেন সদ্যনিয়ত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। লারিজানির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে।

    রেজা সোলাইমানি কে?

    তরুণ বয়সে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন রেজা সোলেইমানি। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হন। পরে আইআরজিসির কয়েকটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সাল থেকে বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম রেজা সোলেইমানি। আইআরজিসির অধীন এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীতে আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে। এ বাহিনীর নেতা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন সোলাইমানি। ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ একাধিক দেশ ও সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

    ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বার বার লারিজানিকে ‘দুর্বৃত্তদের প্রধান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য। তবে এ-ও জানান, কাজটা সহজ নয়। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘‘এক বারে ঘটবে না। সহজ হবে না। তবে আমরা যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারি তবে ইরানের মানুষ তাদের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে পারবে।’’ ইজরায়েল দাবি করেছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আলি লারিজানি ও রেজা সোলেইমানি দুই নেতাকে নিশানা করা হয়েছিল।

  • Iran-Israel Conflict: মার্কিন যুদ্ধবিমানের হাতেই ধ্বংস মার্কিন যুদ্ধবিমান! আমেরিকার ৩টে ‘এফ ১৫’-কে মেরে নামাল কুয়েতি ‘এফ ১৮’

    Iran-Israel Conflict: মার্কিন যুদ্ধবিমানের হাতেই ধ্বংস মার্কিন যুদ্ধবিমান! আমেরিকার ৩টে ‘এফ ১৫’-কে মেরে নামাল কুয়েতি ‘এফ ১৮’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান (Iran-Israel Conflict) ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কুয়েত বায়ুসেনার একটি মার্কিন-নির্মিত এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান ভুলবশত তিনটি মার্কিন বায়ুসেনার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। ঘটনাটি সংঘাতের তৃতীয় দিনে ঘটে, যখন ইরান কুয়েতসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে—যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুয়েতি এফ/এ-১৮ হর্নেটের পাইলট ভুল করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েন, যা তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই বিমানে আঘাত হানে। তবে স্বস্তির খবর হলো, তিনটি বিমানের সব পাইলট ও ক্রু সদস্য নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

    পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে প্রশ্ন

    প্রথমদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত হামলায় বিমানগুলো ভূপাতিত হয়। তবে পরে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্পষ্ট করেন, ঘটনাটি “শত্রুপক্ষের সরাসরি হামলার” ফল নয়। বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, মিত্রদেশগুলোর পাইলটরা সাধারণত ‘আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো’ (IFF) কোড ব্যবহার করে নিজেদের শনাক্ত করেন, যাতে এ ধরনের ভুল এড়ানো যায়। এক মার্কিন বিমানচালক বলেন, “আকাশ প্রতিরক্ষা মিশনে গেলে প্রথম কাজই হলো ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা। একটি এফ-১৫ই-কে ইরানি বিমানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বেশ কঠিন।” কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র দেশ। তবুও এমন ঘটনার ফলে সামরিক সমন্বয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পৃথক তদন্ত শুরু

    মার্কিন-ইজরায়েল হামলার (US-Israel Strikes) প্রতিশোধে আরবদুনিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েছে ইরান (Iran)। ছোড়া হচ্ছে মিসাইল, পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে এলাকা। এরমধ্যেই কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল সিদ্ধান্তে ‘সহযোগী’ দেশ আমেরিকার যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হল। কুয়েত সরকারও ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল, কুয়েতে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন বিমান তাদের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ভুল শনাক্তকরণের ফল, বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের চরম উত্তেজনা ও একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

  • Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে উদ্বেগের মধ্যে থাকা বহু ভারতীয় নাগরিক ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আল খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এর জেরে গোটা অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দুবাই, যেখানে বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি অবস্থিত, সেই শহরও ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ থাকায় বহু ফ্লাইট (Iran-Israel Conflict) বাতিল হয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন।

    দুবাই থেকে ফিরছেন ভারতীয়রা

    সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে আটকে পড়েছিলেন বহু ভারতীয়। সোমবার (২ মার্চ) থেকে তাঁদের অনেকেই বিশেষ ও বিকল্প বিমানে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। দুবাই থেকে ইন্দোরে ফিরে আসা ব্যবসায়ী প্রভীন কক্কর জানান, “ওখানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার ভালো কাজ করছে।” একদল বিজেপি নেতাও দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। তাঁদের মধ্যে বিশাল প্যাটেল বলেন, “মিসাইল প্রতিহত করার শব্দ শোনা যেত, তখন কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হতো। তবে আমিরাত সরকার সতর্ক ছিল। সেখানে থাকা সব ভারতীয়রই দেখভাল করা হয়েছে।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বিজেপি নেতা সঞ্জয় শুক্লাও একই কথা বলেন। তাঁর কথায়, “প্রথম দু’দিন পরিস্থিতি বেশ খারাপ মনে হচ্ছিল। দুবাইতেও হামলার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন বাহিনী তা প্রতিহত করে। আমরা নিয়মিত সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম।”

    দিল্লিতে নামতেই স্বস্তি

    দুবাই থেকে দিল্লিতে ফেরা সুনীল গুপ্ত জানান, “আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। চারদিকে যা ঘটছিল, তা দেখে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। শুধু বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম।” অন্যদিকে, ওমানের মাস্কাট থেকে ফেরা সুহেল আহমেদ জানান, বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ লাইন, বিভ্রান্তি—পরিবার নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন। অনেকের টাকাও ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় দ্রুত ছাড়পত্র ও ভালো ব্যবস্থাপনা দরকার।”

    মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা

    জানা গিয়েছে দুবাইয়ের বিমানবন্দর আংশিক চালু হয়েছে। যদিও যাত্রীদের জানানো হয়েছে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তবেই বিমানবন্দরে যেতে। মঙ্গলবার ওমান থেকে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। তাঁর বলছেন দেশের মটিয়ে পা দিয়ে তাঁর যারপরনাই নিশ্চিন্ত বোধ করছেন। ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ভারতে ফের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস। ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে অনিশা আগরওয়াল নামের একজন বলেন, “ওখানে মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছিল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। আমরা সে সব দেখে ভয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও দুবাইয়ের সরকার কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যথা সম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে মিসাইল ও সেই মিসাইল ধংসের কারণে কান ফাটানো আওয়াজ আমরা পেয়েছি। যে কারণে আমাদের সঙ্গে থাক বাচ্চাদের বেশ সমস্যা হচ্ছিল।”

    রণাঙ্গনের মাঝে আটকে

    পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে এয়ার ইন্ডিয়া আংশিকভাবে বিমান পরিষেবা চালু করে। তাতে একটি বিমানে দুবাই থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন অন্তত ১৫০ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, বলিউড নায়িকা ইশা গুপ্তা। দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামা পীযুষ পল্লভ, নীতা শর্মা, সঞ্জীবরা জানাচ্ছেন, “ফোনে ক্রমাগত অ্যালার্ট আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেনের শব্দে বুঝতে পারছিলাম, মিসাইল ছোড়া হয়েছে, কোথাও ধ্বংসলীলা চলছে। শুধু ভাবছিলাম, কখন এই অবস্থা থেকে বেরব। আপনার পকেটে যথেষ্ট অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতি সামলানো কঠিন।” সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ পর্যটক রণাঙ্গনের মাঝে আটকে ছিলেন সবাই। স্বদেশে ফিরেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। যেমন অভিজ্ঞতা হল, সেই রেশ কাটাতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।

    ফ্লাইট পরিস্থিতি

    কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত ভারতীয় এয়ারলাইন্সের ১,২২১টি এবং বিদেশি সংস্থার ৩৮৮টি বিমান বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ও অতিদীর্ঘ দূরত্বের বিমান পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৪টি ভারতীয় বিমান পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এমিরেটস ও ইতিহাদের ৯টি ফ্লাইট উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) অতিরিক্ত ৫৮টি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ইন্ডিগো এবং ২৩টি এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস পরিচালনা করবে।

    সক্রিয় কেন্দ্রের মোদি সরকার

    আরব দুনিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা (Iran-Israel Tension) ও সংঘাতের মধ্যে গালফ অঞ্চলে (Gulf region) আটকে পড়া ভারতীয়দের (stranded Indian nationals) দেশে ফেরাতে সবরকম ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। পরিবর্তিত আকাশপথ পরিস্থিতি নজরে রেখে ভারত সরকার গালফে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যও তাদের বাসিন্দাদের সাহায্যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে বিমান পরিষেবা এবং দেশে ফিরছেন উদ্বিগ্ন ভারতীয় নাগরিকরা।

    ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Prahlad Joshi) বলেন, গালফ অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তাঁর কথায়, “যেখানে যেখানে ভারতীয়রা বিপদে পড়েছে, কেন্দ্র সবসময়ই তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে। ইউক্রেন (Ukraine) থেকেও আমরা নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছিলাম। ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

  • Iran-US Conflicts: ‘‘খামেনেইকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছি’’ দাবি ট্রাম্পের , অপমান সহ্য না করার হুঁশিয়ারি ইরানের

    Iran-US Conflicts: ‘‘খামেনেইকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছি’’ দাবি ট্রাম্পের , অপমান সহ্য না করার হুঁশিয়ারি ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Iran-US Conflicts) কথা বলার ধরন ঠিক করতে হবে। তবেই পরমাণু নিয়ে চুক্তি সম্ভব, জানিয়ে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অভিযোগ, বার বার তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করছেন। তেহরান যা বরদাস্ত করবে না। এর আগে ইজরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ‘জয়ের’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান যদি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিশ্চিতভাবেই’ ইরানে ফের বোমাবর্ষণ করবে। এমনকী ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর সময় ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা থেকে খামেনেইকে তিনি রক্ষা করেছিলেন।

    ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের

    শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্পকে (Iran-US Conflicts) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরাগচি। দাবি করেছেন, ইরানের শক্তিতে ভীত হয়ে ইজরায়েলকে আমেরিকার দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আরাগচি লিখেছেন, ‘‘যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যিই কোনও চুক্তি চান, ওঁকে আগে ইরানের নেতা খামেনেইয়ের প্রতি কথা বলার অসম্মানজনক ভঙ্গি পাল্টাতে হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। খামেনেইয়ের লক্ষ লক্ষ সমর্থককে আঘাত করা বন্ধ করতে হবে ট্রাম্পকে।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘ইরানের মানুষ অত্যন্ত শক্তিশালী। সারা বিশ্বকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, ইজরায়েলের সামনে বাবার কাছে ছুটে যাওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ওদের ধ্বংস করে দিত। ইরানের মানুষ ট্রাম্পের হুমকি এবং অপমান সহ্য করবেন না।’’

    খামেনেইকে বাঁচিয়েছি, বললেন ট্রাম্প

    আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের (Iran-US Conflicts)  আলোচনার মাঝেই সেখানে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। এরপর যুদ্ধে যোগ দেয় আমেরিকাও। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তার পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধ থেমেছে। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমি জানতাম খামেনেই ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইজরায়েলকে বা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ওঁকে মেরে ফেলতে দিইনি। ওঁকে আমি একটা কুৎসিত এবং অপমানজনক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি। কিন্তু উনি তার জন্য আমাকে কোনও ধন্যবাদ জানাননি!’’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের চেষ্টা করছিলেন। তেহরান বহু দিন ধরে যে দাবি করে আসছে। কিন্তু এই চেষ্টার পরিবর্তে ইরান থেকে তিনি কেবল রাগ এবং ঘৃণাভরা বিবৃতি পেয়েছেন। তাই সাহায্যের চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। ইরানকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

    হিরোশিমা ও নাগাসাকির উদাহরণ

    ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বোমারু বিমান (Iran-US Conflicts) । তার জবাবে কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। ট্রাম্প বলেন,‘‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণু কেন্দ্রে টার্গেট করেছিলাম। সেগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এটা নির্ণায়ক পদক্ষেপ ছিল।’’ এরপরই ট্রাম্প টেনে আনেন মানব সভ্যতার ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়কে। বলেন,‘‘আমি হিরোশিমার উদাহরণ দিতে চাই না। নাগাসাকির উদাহরণও দিতে চাই না। তবে সেখানেও একই জিনিস ঘটেছিল। এর ফলে সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলাও যুদ্ধে ইতি টেনেছে। আমাদের কাছে আছে সাহসী দেশপ্রেমিক, যাঁরা অত্যন্ত দক্ষ বিমানচালক। তাঁরা আমেরিকান স্টেলথ বোমারু বিমান থেকে লক্ষ্যবস্তুগুলিতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন স্তিমিত। দুই দেশই এখন ক্লান্ত।’’

    ঠিক করে কথা বলুক আমেরিকা

    ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, আয়াতুল্লাহ খামেনেই একটি বিজয় ভাষণে বলেন, “এই লড়াইয়ে ইরান- আমেরিকার গালে সপাটে চড় কষিয়েছে।” ট্রাম্প পাল্টা দাবি করেন, “তিনি (খামেনেই) জানেন তাঁর বক্তব্য মিথ্যা, একজন ধর্মীয় নেতার এমন মিথ্যা বলা কাম্য নয়।” ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালায়, তবে আমেরিকা ফের হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। এই মুহূর্তে ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ট্রাম্প ন্যাটোর সম্মেলনে আশা প্রকাশ করলেও, তেহরান (Iran-US Conflicts) জানিয়েছে—তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। আসলে র্মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা ভাল চোখে দেখছে না তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রম্পকে কথা বলার ধরন ঠিক করতে বলেছেন। খামেনেইকে অসম্মান করা হলে ইরান কখনওই আলোচনার টেবিলে বসবে না, জানিয়ে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।

     

     

     

     

     

  • Operation Sindhu: ইরান ও ইজরায়েল থেকে এখনও ফিরছেন ভারতীয়রা, অপারেশন সিন্ধু চলবে কতদিন?

    Operation Sindhu: ইরান ও ইজরায়েল থেকে এখনও ফিরছেন ভারতীয়রা, অপারেশন সিন্ধু চলবে কতদিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিন্ধুর (Operation Sindhu) আওতায় ইরান থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,১৫৪ জন। মঙ্গলবার ভারত ইরান ও ইজরায়েল থেকে ১,১০০-র বেশি ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ‘অপারেশন সিন্ধু’ শুরু করে ভারত। ইজরায়েল থেকে ৫৯৪ জন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার ২৯৬ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৪ জন নেপালের নাগরিককে ইরান থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারত। তবে ধীরে ধীরে অপারেশন সিন্ধুর গতি কমানো হচ্ছে। কারণ এখন ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশের মধ্যেই সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ইজরায়েল থেকে কীভাবে ফেরানো হল

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ ভারী পরিবহণকারী বিমান ব্যবহার করে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে জর্ডান ও মিশরের স্থলপথ দিয়ে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে বিমানযোগে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৬১ জন ভারতীয় প্রথমে স্থলপথে ইজরায়েল থেকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে পৌঁছান। সেখান থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মঙ্গলবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে দিল্লি নিয়ে আসা হয় তাঁদের। বিমানবন্দরে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। ইজরায়েল থেকে জর্ডানে যাওয়া আরও ১৬৫ জন ভারতীয়কে ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ বিমানে দিল্লি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের অভ্যর্থনা করেন প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। এছাড়াও, ইজরায়েল থেকে মিশরে যাওয়া ২৬৮ জন ভারতীয়কে শারম-এল-শেখ শহর থেকে সি-১৭ বিমানে তুলে দিল্লি আনা হয়েছে।

    ইরান থেকে এল কতজন

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুটি চার্টার্ড বিমানে মোট ৫৭৩ জন ভারতীয়, তিনজন শ্রীলঙ্কান এবং দু’জন নেপালিকে ইরান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরে আরও বেশ কয়েকটি বিমান ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইজরায়েল ও ইরান একে অপরের শহর, সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। রবিবার সকালে ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন বোমা হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গত ১৮ জুন থেকে ইরানের মাশহাদ শহর, আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান ও তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদ থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে ভারত। ইরান মাশহাদ থেকে তিনটি চার্টার্ড ফ্লাইট সুবিধার্থে ২০ জুন আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। প্রথম বিমানটি গত সপ্তাহের শুক্রবার গভীর রাতে ২৯০ জন ভারতীয়কে নিয়ে নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেছিল এবং দ্বিতীয় বিমানটি শনিবার বিকেলে ৩১০ জন ভারতীয়কে নিয়ে দিল্লিতে অবতরণ করেছিল। বৃহস্পতিবার আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান থেকে আরেকটি বিমান দেশে পৌঁছায়।

  • Iran-Israel Ceasefire: ফের আগেভাগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের! দাবি ওড়াল ইরান, কী বলল তেহরান?

    Iran-Israel Ceasefire: ফের আগেভাগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের! দাবি ওড়াল ইরান, কী বলল তেহরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও আগবাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি (Iran-Israel Ceasefire) ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ১২ দিন ব্যাপী যুদ্ধপরিস্থিতি শেষে, ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেলন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এবং ইজরায়েলের তরফে বিবৃতি আসার আগেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে দুই দেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সম্মুখ সমরে থাকা ইরান এবং ইজরায়েল কী বলছে? তারা কি যুদ্ধবিরতিতে রাজি? উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের দাবিকে ফুৎকার মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এদিন তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্য়মগুলিকে জানান, ‘ইরানের সঙ্গে কোনও প্রকারের সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি হয়নি।’ এর আগে, মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলাকালীনও, সাত তাড়াতাড়ি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ভারত বরাবরই ট্রাম্পের সেই দাবিকে অস্বীকার করে।

    ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

    মঙ্গলবার ভোররাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষবিরতিতে (Iran-Israel Ceasefire) রাজি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প (Donald Trump) লেখেন, ‘আগামী ছ’ঘণ্টার মধ্যে ইরান-ইজরায়েল দু’পক্ষই সম্পূর্ণ সংঘর্ষবিরতিতে যাবে। এর শুরুটা করবে ইরান (প্রথম ১২ ঘণ্টা)। তাকে অনুসরণ করবে ইজরায়েল (পরের ১২ ঘণ্টা)। একপক্ষের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করলে অপর পক্ষও শান্তি বজায় রাখবে। ২৪ ঘণ্টা পর বারো দিন ব্যাপী যুদ্ধের ইতি।’ সিএনএন জানিয়েছে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দেশের বিদেশ সচিব তথা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তৃতীয় পক্ষ মারফত ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা চালান। হোয়াইট হাউসের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে সম্মত হয় ইজরায়েল। তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের তরফে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যদি হামলা না চালায়, তারাও আর আঘাত হানবে না।

    ট্রাম্পের দাবি অসত্য

    যুদ্ধবিরতি (Iran-Israel Ceasefire) সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনও সমঝোতাই হয়নি। তবে ইজরায়েল নতুন করে হামলা না-করলে, তারাও আর সংঘাতে জড়াতে চায় না। এমনটাই জানিয়েছে ইরান। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলি ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই, ওই দাবিকে অস্বীকার করে আসছিল। বিভিন্ন সরকারি সূত্র মারফত তেহরানের সংবাদমাধ্যমগুলি ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করছিলেন। শেষে মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৬ মিনিটে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি লেখেন ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি ইজরায়েল এই হামলা শুরু করেছে। ইরান নয়। ইজরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ করে, তাহলে ইরানও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।’ এর পর ইরানের সরকারি সংবাদ মাধ্যম জানিয়ে দেয় ভোর চারটেের পর থেকে  ইরান সংঘর্ষ বিরতিতে রয়েছে। তবে তার আগে ইজরায়েলে ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

    সংঘর্ষ বিরতির আভাস!

    আরাগচি সমাজমাধ্যমে লেখেন, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি (Iran-Israel Ceasefire) বা সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে কোনও স্থির সমঝোতা হয়নি। তবে স্থানীয় সময় অনুসারে ভোর ৪টের (ভারতীয় সময়ে সকাল ৬টা) পর থেকে ইজরায়েল হামলা বন্ধ করলে ইরানও নতুন করে সংঘর্ষে জড়াতে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে তিনি এ-ও দাবি করেছেন, ইরান কোনও সংঘর্ষ শুরু করেনি। ইজরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তা এই পোস্টে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তবে ওই পোস্টটির কিছু ক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে আরও একটি পোস্ট করেন আরাগচি। সেখানে তিনি লেখেন, ভোর ৪টে (স্থানীয় সময়) বাজার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইরানের সামরিক বাহিনী ইজরায়েলি আক্রমণের জবাব দিয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শত্রুপক্ষের হামলার জবাব দেওয়ার জন্য ইরানের সেনাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় এই পোস্টের মাধ্যমে সংঘর্ষবিরতি শুরু হওয়ার আভাস দিয়েছেন আরাগচি? তবে,  ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির পরও তেহরানে ইজরােলি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ট্রাম্পের দাদাগিরি!

    হোয়াইট হাউসের দাবি, আমেরিকার জন্যই এই যুদ্ধবিরতি (Iran-Israel Ceasefire) সম্ভব হয়েছে। আমেরিকা তাদের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানোর পরই সুর নরম করেছে ইরান। সূত্রের খবর এই যুদ্ধবিরতিতে কাতার মধ্যস্থতা করেছে। সিএনএন-এর খবর অনুযায়ী, কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ইরান হামলা চালানোর পর, দেশের এমিরকে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ জানান খোদ ট্রাম্প। সেই মতো কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল-থানি ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করান। এর পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চলাকালীন একইভাবে সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জানান, তাঁর জন্যই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। পাকিস্তান সেই নিয়ে কোনও আপত্তি না করলেও, ট্রাম্পের সেই দাবি বারবার নস্যাৎ করেছে ভারত। দিল্লি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা ছিল না। ভারত এবং পাকিস্তান পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছয়। ঠিক একইভাবে এবার ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের সংঘর্যবিরতির দাবি সরাসরি খণ্ডন করেছে তেহরান। এমনকি ইজরায়েলও সরকারিভাবে এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি।

  • India Oil Price: হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বাড়বে তেলের দাম! ‘ভারতে প্রভাব পড়বে না’, ফের জানাল কেন্দ্র

    India Oil Price: হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বাড়বে তেলের দাম! ‘ভারতে প্রভাব পড়বে না’, ফের জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল-আমেরিকা সহ গোটা বিশ্বকে শিক্ষা দিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের (India Oil Price) ২৫ শতাংশেরও বেশি এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই ইরান এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে চিন্তা নেই ভারতের। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ভারত তার তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করেছে। ভারতে তেলের সরবরাহ এখন পুরোপুরি হরমুজ প্রণালী নির্ভরশীল নয়।

    হরমুজ প্রণালীর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব

    হরমুজ প্রণালী ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই প্রণালীটি প্রায় ৩০ মাইল চওড়া এবং সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। দক্ষিণাংশটি ওমানের অধীনে। ফলে এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সহজ নয়। ইরানের সংসদে পাশ হয়েছে হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত। এখন এই সরু প্রণালী দিয়ে যাতায়াত বন্ধ কেবল সময়ের অপেক্ষা। সরু জলপথ হলেও এর গুরুত্ব অনেক। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহই হয় এই প্রণালী পথ ধরে।

    হু হু করে বাড়বে তেলের দাম

    ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে ঢুকে পড়ছে আমেরিকা। রাতের অন্ধকারে ইরানের তিনটি পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। আর এরপরই রবিবার ইরানের সংসদ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করে। যদিও এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়—এটি কার্যকর হতে গেলে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু আপাতত ইরানের এই সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বেই কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সকলেরই আশঙ্কা একটাই, এবার বিশ্বজুড়ে তেলের সঙ্কট দেখা যাবে। হু হু করে বাড়বে তেলের দাম।

    ভারতের কি অবস্থা

    ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই ভারত তেলের দাম ওঠানামার উপরে বিশেষ নজর রাখছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেন, “বিগত দুই সপ্তাহ ধরেই মধ্য প্রাচ্যের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিজির নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছরে আমরা তেলের আমদানি আরও বিভাজিত করেছি। বর্তমানে আমদানি করা তেলের একটা বড় অংশই হরমুজ প্রণালী থেকে আসে না।” এই সংঘাতের জেরে কি ভারতেও তেলের দাম বাড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আমাদের ওয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির কাছে বেশ কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে। একাধিক অন্য রুট থেকেও তেল ও শক্তি সরবরাহ হচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষ জ্বালানি পান, তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করব।”

    বেশিদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ সম্ভব নয়

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী সামরিকভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে ইরানকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট বাহরিনে মোতায়েন রয়েছে। এই অঞ্চলে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিও এই জলপথে নিয়মিত নজরদারি চালায়। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান এক সপ্তাহের জন্যও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে তার অভিঘাত গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই মার্কিন হামলার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে চড়তে শুরু করেছে অশোধিত তেলের দাম। একদিকে যখন ব্রেন্ট ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছে, তেমনই মার্কিন ডব্লুটিআই পৌঁছেছে ৭৪.০৪ ডলারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর তেলের দাম ৪০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক

    বিশ্বে সবথেকে বেশি পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি করে ভারত— প্রতিদিন ৫১ লক্ষ ব্যারেল। নজর করার মতো বিষয় হল, জুন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে রাশিয়ার থেকে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছে। ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেলে। আমদানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দেশ আমেরিকা। আগে প্রতিদিন ২ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল মার্কিন ডব্লুটিআই তেল আমদানি করত ভারত। জুন মাসে সেটাই দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ব্যারেলে। এটা অবশ্যই নয়াদিল্লির একটা কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক। কেন? যে দেশগুলির থেকে ভারত তেল আমদানি করে, তাদের মধ্যে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে আসে ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে প্রথমেই রাশিয়া এবং আমেরিকার থেকে আমদানির বহর বাড়িয়ে নিয়েছিল নয়াদিল্লি। কারণ, এই দু’টি দেশকেই ভারতীয় উপমহাদেশে তেল সরবরাহের সময় হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হয় না। বরং তারা ইয়েমেন ও আফ্রিকার জিবুতি সংলগ্ন বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ব্যবহার করে আরব সাগরের রুট নিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে হরমুজ বন্ধ হলে প্রথম ধাক্কা নয়াদিল্লি খাবে না।

LinkedIn
Share