Tag: iran protests

iran protests

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • Iran Protests: ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরান, এক ডলারের মূল্য ১৪ লাখ রিয়াল! কেন এই হাল?

    Iran Protests: ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরান, এক ডলারের মূল্য ১৪ লাখ রিয়াল! কেন এই হাল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইরান (Iran Protests)। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন পতনে এক মার্কিন ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি। লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধজনিত ধাক্কা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক (Rial vs Dollar) অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি গভীর মন্দার দিকে এগোচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

    মুদ্রা-পতন (Iran Protests)

    বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির জন্য এই মুদ্রা-পতন কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ধাক্কা সামাল দিলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে রিয়ালের এই পতন নজিরবিহীন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইরানের বাজারে এক ডলার রিয়ালের দর ১৪ লাখ ছুঁয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে রিয়াল তার প্রায় ৯০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টানছেন বিশ্লেষকেরা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় এক ডলারের দাম ছিল মাত্র ৭০ রিয়াল। চার দশকে ইরানের মুদ্রাটির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার গুণ। শুধু ২০২৫ সালেই রিয়ালের দর কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ, যার ফলে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ হুড়োহুড়ি করে সঞ্চয় ভেঙে ডলার, সোনা ও অন্যান্য নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে শুরু করে (Iran Protests)।

    অর্থনৈতিক বিপর্যয়

    ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ত্বরান্বিত করেছে একাধিক ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সঙ্কট। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষ, এরপর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং নতুন করে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা, সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় (Rial vs Dollar)। এর আগেই ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তেল রফতানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, যার জেরে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছে।এই সম্মিলিত চাপ সামলাতে না পেরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পদত্যাগ করেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর মহম্মদ রেজা ফারজিন। এটি সরকারের ব্যর্থতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সরকারি হিসাবে ইরানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪২.২ শতাংশ হলেও অর্থনীতিবিদদের মতে প্রকৃত হার আরও অনেক বেশি। অথচ বেতন ও মজুরি কার্যত স্থবির, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে ভয়াবহভাবে (Rial vs Dollar)।

    বিপদে মধ্যবিত্তরা

    খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সরকার যখন জরুরি পণ্যের জন্য থাকা বিশেষ বিনিময় হার বাতিল করে, তখন সঙ্কট আরও তীব্র হয়। রাতারাতি ভোজ্যতেল, গমজাত পণ্য ও মুরগির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে লাখো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যায় (Iran Protests)। এই মুদ্রা বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরানের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণি। শহুরে স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত মধ্যবিত্তরা দেখছে, দশকের পর দশক ধরে জমানো সঞ্চয় কয়েক মাসেই উবে গিয়েছে। ব্যাঙ্ক আমানত, পেনশন ও বাড়ির স্বপ্ন, সবই অনিশ্চিত। শ্রমজীবীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, যাতায়াত ও ভাড়া মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে নিচ্ছে, চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছে। দৈনিক মজুরিই হয়ে উঠছে বেঁচে থাকার কৌশল (Rial vs Dollar)।

    কালোবাজারে ডলার কেনা

    রিয়ালের ওপর আস্থা হারিয়ে বহু মানুষ কালোবাজারে ডলার কেনা, সোনা কেনাবেচা ও সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছে, যার জেরে ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে সে দেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশ হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘটে নামেন। জোমহুরি অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র, শ্রমিক ও নানান পেশাজীবীদের মধ্যে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশেই। অর্থনৈতিক দাবির গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরাসরি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে (Iran Protests)। ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ‘শাহের জয় হোক’—পাহলভি রাজতন্ত্র পুনর্বহালের স্লোগান শোনা যাচ্ছে মাশহাদ ও কুমের মতো ধর্মীয় শহরেও (Rial vs Dollar)। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রিয়ালের পতনের সঙ্গে সঙ্গে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিও ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত।

    ইন্টারনেট বন্ধ

    বিদ্রোহীদের দমনে সরকার প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী টিয়ার গ্যাস এবং গুলিও ব্যবহার করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির হিসেব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বহু মানুষ নিহত ও হাজারো মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। তবুও আন্দোলন থামেনি। বিশ্বব্যাঙ্কের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালে ইরানের জিডিপি ১.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশি বিনিয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া রিয়ালের এই পতন অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরানের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের কাছে এখন প্রশ্ন আর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নয়, স্রেফ শুধু কীভাবে টিকে থাকা যায়। রিয়ালের (Rial vs Dollar) এই দরের পতন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শুধু আর্থিক নয়, বরং শাসনব্যবস্থা, বৈধতা ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সঙ্কট (Iran Protests)।

LinkedIn
Share