Tag: Iran US conflict

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার আবহে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলাকে তারা “সাপের মাথা কেটে ফেলা” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    “সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি”

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কিন নৌজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর একটি শহুরে কম্পাউন্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, “গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ১০০০-এরও বেশি মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে৷ গতকাল, একটা বড় বিমান অভিযানে সেই সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি।” সেন্টকম আরও দাবি করেছে, “আমেরিকার সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং এখন আইআরজিসি-এর আর কোনও সদর দফতর নেই।” বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থ—

    • ● ইরানের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আঘাত
    • ● মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল
    • ● অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমান হামলা ও বিমান অভিযানের সাইরেনের খবর মিলছে। প্রতিশোধমূলক অভিযানে তেহরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইযের মৃত্যু তিনটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে—

    • ● ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
    • ● আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আরও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া
    • ● সংঘাতকে “রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র” যুদ্ধের স্তরে নিয়ে যাওয়া

    এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে অভিযান, বললেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মজুত আছে।” আরও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি শুরু থেকেই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার বদলে কৌশলগত চাপে রাখতে চাইছে। এর আগে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। তবে কবে ও কার সঙ্গে এই আলোচনা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    ইরান সরকার জানিয়েছে, আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ড “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান।” ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের নেপথ্যের কারিগরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।” এদিকে আইআরজিসি-ও “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, “আজ আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।” বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

LinkedIn
Share