Tag: Iran

Iran

  • Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা আলি খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলায় নিহত, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর হাতেই ইরানের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই হলেন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের (Ali Khamenei) মেজো ছেলে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। অর্থাৎ সামনে থেকে দেশের হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দফতরের কাজকর্মও দেখভাল করতেন।

    সর্বোচ্চ নেতা পদটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এছাড়া প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (Islamic Revolutionary Guard Corps) উপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অ্যাসেম্বলির আলেমদের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে মোজতবাকে নির্বাচিত করতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের সরকারি মহল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোজতবা খামেনেইকে একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় আলেম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এতদিন আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করলেও এবার সরাসরি রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।

    বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী, তাহলে কেন?

    ইরান নিজেকে বরাবরই বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী বলে দাবি করে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইতিহাস বলছে, রাজতন্ত্রের বিরোধিতায় ইরানে বিপ্লব ঘটে এবং সেখান থেকে প্রথমে রুহোল্লা খোমেনেই এবং পরবর্তীতেল তাঁর সহযোগী আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে শাসনভার ওঠে। কিন্তু মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণার অর্থ বংশানুক্রমিক শাসন কায়েমে সিলমোহর দেওয়া, যা রাজতন্ত্রেরই নামান্তর মাত্র বলে মত আয়াতোল্লা খামেনেই বিরোধীদের। তাই মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

    রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবা

    ইরানের সর্বোচ্চ শাসক পদে আসীন হওয়া অর্থ দেশের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা। প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি, সশস্ত্র বাহিনী এবং রেভলিউশনারি বাহিনীর প্রধান হওয়াও। আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে ইরানে রেভলিউশনারি বাহিনীর উত্থান। কিন্তু আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে খোলনলচেই বদলে যায় তাদের। পশ্চিমি শক্তি, পশ্চিমি সংস্কৃতির বিরোধিতায় রেভলিউশনারি বাহিনীর ক্ষমতাবৃদ্ধি করেন তিনি। ইরানের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও তাদের বিরাট প্রভাব। এই রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবাও। ১৯৬৯ সালে মাশাদে জন্ম মোজতবার। ২০১৯ সালে মোজতবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ। অভিযোগ ওঠে, সরকারি পদে না থেকেও, নির্বাচিত না হয়েও, বাবার জায়গায় নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

  • Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে। এই ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য চোকাতে হবে। এর জবাবে ইরানি (Iran) ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান।” এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সিনিয়র কমান্ডার সারদার হোসেইন নেজাত। উল্লেখ্য, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সতর্কবার্তা।

    ইরান-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের মানচিত্র (Iran)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটিতে ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের একটি মানচিত্র সংযুক্ত ছিল। সেখানে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে দৃশ্যত চিহ্নিত করে সম্ভাব্য দুর্বল অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ইরান পাকিস্তানকে টার্গেট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানে প্রবেশের রুটও দেখানো হয়েছে এবং সীমান্ত বরাবর সম্ভাব্য দুর্বল স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে (Pakistan)। সারদার হোসেইন নেজাত বলেন, “আমাদের নির্ভুল তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের ওপর হামলায় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান খুব শিগগিরই এর মূল্য দেবে এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির মতো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না।”

    ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    প্রসঙ্গত, ১ মার্চ পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই-এর মৃত্যু হয়। তারপরেই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেয় এবং অন্তত ২৩ জন নিহত হন। করাচিতে একদল বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন (Iran)। পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সবচেয়ে গুরুতর হিংসার ঘটনা সেখানেই ঘটে। কিছু যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে (Pakistan)। পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাঈদ জানান, অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Iran)।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পাকিস্তান যে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেই ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের চাপের মুখে রয়েছে। যদি ইরান ইসলামাবাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে (Iran)।

     

  • Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল (Israel) বহু বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Khamenei) ও তাঁর নিরাপত্তা দলের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল, তাঁকে হত্যা করার অনেক আগে থেকেই। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। জানা গিয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরাই বছরের পর বছর হ্যাক করা হয়েছিল। সেগুলির ভিডিও ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আভিভ ও দক্ষিণ ইজরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হত।

    নজরদারির খুঁটিনাটি (Israel)

    সূত্রের খবর, একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরার কোণ বিশেষভাবে কার্যকর ছিল—এর মাধ্যমে দেহরক্ষীরা কোথায় তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করতেন, তা নির্ধারণ করা যেত এবং পাস্তুর স্ট্রিটের নিকটবর্তী কম্পাউন্ডের ভেতরের রুটিন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খামেনেইয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর বিস্তারিত ডসিয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এতে তাঁদের ঠিকানা, ডিউটির সময়সূচি, কর্মস্থলে যাওয়ার রুট এবং কোন কর্মকর্তাকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন—এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গোয়েন্দাদের ভাষায় এটি হল, “প্যাটার্ন অব লাইফ”। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিভিন্ন উপাদানও ইজরায়েল বিঘ্নিত করেছিল। ফলে ফোনে কল করলে সেটি ‘ব্যস্ত’ দেখাত এবং খামেনেইয়ের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সম্ভাব্য সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারতেন না (Israel)।

    ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, হামলার অনেক আগেই আমরা তেহরানকে ঠিক যেমনভাবে জেরুজালেমকে চিনি, তেমনভাবেই চিনতাম।” তিনি জানান, ইজরায়েলের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের নিয়োগ করা মানবসূত্র (Khamenei) এবং সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে একটি ঘন ও বিস্তৃত ইন্টেলিজেন্স মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। পত্রিকাটি আরও জানায়, ইজরায়েল ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালিসিস’ নামে পরিচিত একটি গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করেছিল, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র ও নয়া লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা যায়, অন্তত এমনই জানিয়েছেন এই পদ্ধতির ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি (Israel)।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’জন জানান, হামলার দিন সকালে খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকরা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যার মধ্যে হ্যাক করা ট্রাফিক ক্যামেরা ও অনুপ্রবেশ করা মোবাইল নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল (Khamenei)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পক্ষেরও একটি অতিরিক্ত মানবসূত্র ছিল, যা খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

     

  • Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ)। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

    শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিক্ষোভ

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, কর্নাটক এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে কাছে পাঠানো এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানপন্থী ও বিরোধী উভয় গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েতের ওপর নজর রাখতে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর

    বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলির সামনে প্রতিবাদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এছাড়া ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হতে পারে’ এমন ইরানপন্থী কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইরানপন্থী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানপন্থী ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন যেমন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা ভারতে মার্কিন ও ইজরায়েলি দূতাবাস-কনস্যুলেট, তাদের কর্মী, প্রতিনিধি দল, ব্যবসায়ী, পর্যটনকেন্দ্র, পশ্চিমের দেশগুলির নাগরিকদের যাতায়াতের স্থান, সিনাগগ, চাবাড হাউস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষদের জমায়েতের স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একইভাবে ইরানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিও নিশানায় থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে এমন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং বিস্ফোরক বা আইইডি-র উপস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে হিংসার ঘটনায় পাকিস্তানে (Pakistan) অন্তত ৪৪ জন নিহত এবং ১৩৭ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। তার পরেই রবিবার পাকিস্তানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিক ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গিয়েছে হতাহতের এই সংখ্যা। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় গিলগিট-বালটিস্তানের স্কার্দু ও গিলগিটে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটির কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    ১৪৪ ধারা জারি (Iran)

    পাঞ্জাব, সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ১ মার্চ থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মিছিল এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে (Iran)। রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীরা সরকারি দফতর ও বিদেশি মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে প্রশাসন ‘রেড জোন’ ও কূটনৈতিক এনক্লেভের সব প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কার্দু ও গিলগিটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন শিয়া বিক্ষোভকারী নিহত হন। ইসলামাবাদে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে নিহত হন আরও ১২ জন। পেশাওয়ারে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালালে মার্কিন মেরিন প্রহরীরা গুলি চালায়। এতে ১১ জন নিহত হন বলে খবর।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত

    শিয়া বিক্ষোভকারীরা করাচি ও লাহোরে আমেরিকার কূটনৈতিক দফতরগুলিকেও টার্গেট করে এবং গিলগিট-বালটিস্তানে রাষ্ট্রসংঘ মিশনের কাছাকাছি সমাবেশ করে। ইসলামাবাদ, স্কার্দু ও করাচির হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, অন্তত ১৮ জন গুরুতর জখম বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন (Iran)। খামেইনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভের জেরে এই অস্থিরতা শুরু হয়। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দ্রুত সংঘর্ষের আকার নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বাঁধে জনতার। দক্ষিণের করাচি থেকে উত্তরের গিলগিট-বালটিস্তান পর্যন্ত পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গিয়েছে (Pakistan)। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে তাদের কনস্যুলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ২ মার্চ ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটগুলিতে সব ভিসা সাক্ষাৎকার ও আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে (Iran)।

  • Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। ওই দুই দেশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। চিন (China) থেকে সম্প্রতি সংগ্রহ করা এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করেছিল, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এর আগে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময়ও এইচকিউ-৯বি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানে এর দুর্বল প্রদর্শনের পর এখন সামরিক বিশ্লেষকরা এইচকিউ-৯বি-এর সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

    আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা (Iran)

    যদিও এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এর নকশাগত ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবুও এটাও সম্ভব যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্মিলিত বিমানশক্তি এইচকিউ-৯বি সমর্থিত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে চাপে ফেলে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে যে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা হয়তো এই আক্রমণের তীব্রতা সামাল দিতে পারেনি। চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (CASIC) দ্বারা উন্নয়নকৃত এইচকিউ-৯বি মূলত রাশিয়ার এস-৩০০পিএমইউ এবং আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হলেও পরে এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। এটি প্রথম ২০০৬ সালে পরীক্ষা করা হয় এবং গত এক দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে (Iran)।

    লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার এবং এটি ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা (China) পর্যন্ত উঠে উচ্চ-উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। সক্রিয় রাডার হোমিং এবং প্যাসিভ ইনফ্রারেড সিকার প্রযুক্তির কারণে এটি স্টেলথ বিমান শনাক্ত ও আঘাত করতে কার্যকর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি একই সঙ্গে ৬-৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। বেইজিং, তিব্বত এবং দক্ষিণ চিন সাগর অঞ্চলে এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছে। এই এলাকাগুলি চিনের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অর্থাৎ, এই ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি প্রধান স্তম্ভ (Iran)।

    ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তি

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে ইরান তার সামরিক ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়। জানা গিয়েছে, চিনের সঙ্গে ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এইচকিউ-৯বি জোগাড় করে। ২০২৫ সালের সংঘাতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এস৩০০পিএমইউ-২ দুর্বল পারফরম্যান্স দেখানোর পর এটি ছিল ইরানের বড় আপগ্রেড (China)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি ছিল দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা স্তর। এর সঙ্গে সহায়ক হিসেবে ছিল এস-৩০০পিএমইউ এবং ব্যাভার-৩৭৩, খোড়দাদ -১৫ ও রাড, এবং স্বল্প-পাল্লার টর-এম২, প্যান্টসার-এস১, জলফাকার এবং কৌশলগত এমএএনপিএডিএস ক্ষেপণাস্ত্র। সম্ভবত এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে, যেমন নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স, ফোরদো সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং তেহরান ও ইসফাহানের নিকটবর্তী বিমানঘাঁটি।

    যৌথভাবে হামলা

    সপ্তাহ ও মাসব্যাপী উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথভাবে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি, রাজধানী তেহরান-সহ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Iran)।পাল্টা হামলা ও প্রতি-হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে (China)। ইরান সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন মিত্র কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকেও টার্গেট করেছে—এমন বার্তা দিতে যে শত্রুপক্ষের পাশে দাঁড়ালে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, এবং তেহরান তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেইনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্ট ব্যক্তিদের একজন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে (Iran)।

     

  • Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তথা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ইরান জুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে চলা কট্টর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটার আশায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। বিশেষ করে ইরানের মহিলারা এই পরিবর্তনকে তাঁদের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    দেশজুড়ে উদযাপন (Ayatollah Khameneis)

    শিয়া ধর্মগুরু খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুকে ঘিরে তেহরান-সহ ইরানের প্রধান শহরগুলিতে মানুষ আতশবাজি ফাটিয়ে, মিষ্টি বিলি করে আনন্দ প্রকাশ করছেন। গত শনিবার মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় খামেইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এই উল্লাস শুরু হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে তাঁদের বাড়ির ছাদ থেকে “স্বৈরাচারী শাসকের পতন হোক” বলে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যে খামেইনির ছবি, মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    নারীদের প্রতিবাদ ও জয়

    ইরানের কারাজ, বেসাত, ফুলাদ, বোরাজ্জন, মামাসানিটে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক হামলা হলেও নারীরা পতাকা নিয়ে মেতে উঠেছেন আনন্দে। এই উল্লাস উদযাপনের অগ্রভাগে রয়েছেন ইরানের সাধারণ নারীরা। অনেক নারী জনসমক্ষে তাঁদের হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে দীর্ঘদিনের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ (Woman, Life, Freedom) স্লোগানটি আবারও তেহরানের রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁদের মতে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু মানে কয়েক দশকের লিঙ্গবৈষম্য ও নিপীড়নের সমাপ্তি।

    আর্ন্তজাতিক প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসে থাকা ইরানিরাও লন্ডন, প্যারিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় নেমে নেচে-গেয়ে আনন্দ করছেন। তাঁরা একে “ইরানের দ্বিতীয় জন্ম” হিসেবে অভিহিত করছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান

    আমেরিকা এবং ইজরায়েল অপারেশন রোইয়ারিং লায়ন এবং অপারেশন এপিক ফিউড়ি নামে যৌথ অভিযান চালায়।  যদিও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়ের সামনে তারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু কিছু সামরিক সদস্য সাধারণ মানুষের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন বলেও সূত্রের খবর।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেইনির এই আকস্মিক বিদায় ইরানে এক বিশাল ক্ষমতাশূন্যতা তৈরি করেছে। একদিকে যেমন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই জোয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পথে পা বাড়াতে পারে। আয়াতুল্লাহ খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক নেতার প্রস্থান নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী ধর্মতান্ত্রিক শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রাজপথ এখন পরিবর্তনের গানে মুখরিত, যেখানে সাধারণ মানুষ একটি নতুন ও মুক্ত ইরানের স্বপ্ন দেখছেন।

  • Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি (Khameneis Possible Successors)। তেহরান এই তথ্য নিশ্চিত করার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানালেও, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষমতা দখলের আশায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে।

    আসরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা (Iran)

    এদিকে, নয়া ইরান গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিরোধী নেত্রী মরিয়ম রাজাভি এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি পৃথক বার্তায় ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যদিও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট করে দেন। নয়া নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ইসলামি আইনজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে (Khameneis Possible Successors)।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    ট্রুথ সোশ্যালে খামেইনির হত্যার কথা ঘোষণা করার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তেহরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” সংবাদমাধ্যমে ফোনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঠিক জানি কে, কিন্তু বলতে পারছি না।”
    কাকে তিনি পছন্দ করেন—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, আমার মনে হয় আছে। কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি (Iran)। প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই)-এর প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত মরিয়ম রাজাভি ইরানিদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় দেশটির ধর্মীয় শাসন উৎখাত করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তিনি বলেন, “ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের শাসনে আমাদের মাতৃভূমি আরও যন্ত্রণা ও ধ্বংস সহ্য করছে।” তিনি বিশেষ করে দেশের সাহসী তরুণদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান (Iran)।

    এনসিআরআই

    ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এনসিআরআই নিজেকে নির্বাসিত সরকার হিসেবে উপস্থাপন করে। দলটির দাবি, ছ’মাসের একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নকশা তাদের প্রস্তুত আছে, যা অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে (Khameneis Possible Successors)। রাজাভি বলেন, “এখনই সংহতির সময়। ইরানিরা শাহ ও মোল্লা—উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করেছে।” এর অর্থ হল, রাজতন্ত্রে ফেরার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। এদিকে, ইরানের শেষ সম্রাটের পুত্র রেজা পাহলভিও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন হলে তিনি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে মানবিক হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন, যা জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং শাসনের বিরুদ্ধে (Iran)। তিনি লেখেন, “চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে। এই শেষ লড়াই শেষ করবে ইরানের জনগণ। আবার রাস্তায় নামার সময় ঘনিয়ে আসছে (Khameneis Possible Successors)।”

    জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

    দুই নেতাই ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানান, যাতে তারা গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করে। রাজাভি আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের অস্ত্র নামিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাহলভি সতর্ক করে বলেন, “তা না করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খামেইনির জাহাজের সঙ্গে ডুবে যাবেন।” বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খামেইনির অনুপস্থিতিতে আইআরজিসি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে। খামেইনি কখনও প্রকাশ্যে উত্তরসূরির নাম জানাননি, তবে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেইনিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা তাঁর পিতার কঠোর নীতির অনুসারী বলে সূত্রের খবর (Iran)।

    হাসান খোমেইনি

    আর একটি সম্ভাব্য নাম হল হাসান খোমেইনি, ইসলামিক বিপ্লবের জনক রুহোল্লাহ খোমেইনির নাতি। ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেইনিও প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে খামেইনির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সমঝোতাপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন (Khameneis Possible Successors)। খামেইনি হত্যার পরের দিন থেকেই জটিল উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। সংবিধান অনুযায়ী, ইরান একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে, যা সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনা করবে। এতে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং কট্টরপন্থী প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই প্রমুখ। তবে অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করলেও, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে—এমনটাই বলছে ইরানি আইন। এই পরিষদের সদস্যরা শিয়া আলেম, যাঁরা প্রতি আট বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং যাঁদের প্রার্থিপদ গার্ডিয়ান কাউন্সিল অনুমোদন করে। গার্ডিয়ান কাউন্সিল অতীতে বহু প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এমনকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকেও ২০২৪ সালে অ্যাসেম্বলিতে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি (Iran)।

    সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন

    উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জনসমক্ষে হয় না, ফলে কে এগিয়ে আছেন তা অনুমান করা কঠিন। ১৯৮৯ সালে আয়াতোল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পরই একমাত্র সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন হয়েছিল (Khameneis Possible Successors)। সর্বোচ্চ নেতা ইরানের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু, যিনি রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কও। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরোধিতায় গঠিত তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের নেতৃত্বেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব রয়েছে (Iran)।

     

  • Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৯ সালের আগে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজত্বে ইরান (Iran) মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। ইজরায়েলের সঙ্গে (US Israel Axis) সাইলেন্ট সম্পর্কও বজায় রাখত তারা। দুই দেশই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সহযোগিতা করত, যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অবস্থানকে প্রতিফলিত করত।

    ইরানের রাজনৈতিক পরিচয় (Iran)

    রুহোল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর সেই অবস্থানের আকস্মিক অবসান ঘটে। নয়া শাসনব্যবস্থা ইরানের রাজনৈতিক পরিচয়কে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর পুনর্নির্ধারণ করে। এগুলি হল,  পশ্চিমি আধিপত্যের বিরোধিতা,  ইজরায়েলের বৈধতা প্রত্যাখ্যান এবং
    শিয়া ইসলামি রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বভিত্তিক শাসন। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রতি বৈরিতা কেবল বিদেশনীতির পছন্দের বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং তা রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই বৃহত্তম শিয়া-অধ্যুষিত রাষ্ট্র, যেখানে অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুন্নি-শিয়া বিভাজনের সূচনা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, মহানবী হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর। প্রথমদিকে বিরোধের কেন্দ্র ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। সুন্নিরা নবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আবু বকরকে নেতা নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, শিয়ারা বিশ্বাস করতেন নেতৃত্ব নবীর পরিবারভুক্ত আলির প্রাপ্য (Iran)।

    ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাজনৈতিক মতভেদ গভীর ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ নেয় (US Israel Axis)। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৮৫-৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি এবং ১০-১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। ইরানের জনসংখ্যার প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ শিয়া। এদিকে, সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডন-সহ অধিকাংশ আরব দেশেই সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বারো ইমামপন্থী শিয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল “গায়েব ইমামে”  বিশ্বাস। শিয়ারা মনে করেন দ্বাদশ ইমাম গায়েব হয়েছেন এবং একদিন মাহদি হিসেবে ফিরে আসবেন। এই বিশ্বাস ঐতিহাসিকভাবে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেটি হল, ইমামের অনুপস্থিতিতে শাসন করবেন কে? বহু শতাব্দী ধরে শিয়া আলেমরা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁরা সমাজে নৈতিক ও আইনি দিশারি হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৯ সালে এই অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে (Iran)।

    “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব”

    বিপ্লবের পর খোমেইনি “ভেলায়াত-এ ফকিহ” বা “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব” মতবাদ প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় গায়েব ইমামের প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ইসলামি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন প্রবীণ শিয়া ফকিহ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বোচ্চ নেতা, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ওপর আলেমদের তত্ত্বাবধান এবং শিয়া ফিকহভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো (US Israel Axis)। মুসলিম বিশ্বে এই কাঠামো অনন্য। কোনও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই আলেমশাসনের এমন সমতুল্য ব্যবস্থা নেই।ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তার আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেহরান নিজেকে শিয়া সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে শিয়া-ঘনিষ্ঠ আন্দোলনগুলিকে সমর্থন করে। তারা এই নীতিকে অবিচার ও বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরে।

    কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

    সুন্নি রাজতন্ত্রগুলি, বিশেষত সৌদি আরব, এই সক্রিয়তাকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। তাদের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া এবং নিজ নিজ দেশে শিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে অস্থিরতার সম্ভাবনা (Iran)। একে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আসলে এটি ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক বৈধতা ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিযোগিতার এক জটিল সমন্বয়। ইরানের স্বতন্ত্র পরিচয় আরও একটি মাত্রা যোগ করে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রের বিপরীতে ইরান আরব নয়, বরং বহন করে পারস্যজাতীয় সংস্কৃতি। তাদের ভাষা ফার্সি এবং তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাস ইসলামেরও পূর্ববর্তী (US Israel Axis)। জাতিগত, ভাষাগত, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ধর্মীয় পার্থক্য তেহরানের স্বাতন্ত্র্যবোধকে জোরদার করে এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও গভীর করে।

    কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল

    অনেক সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধর্মীয় কারণে নয়, বরং কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল (Iran)। সৌদি আরব ১৯৪৫ সাল থেকে “তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা” অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে এবং শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্পদ-স্বল্প জর্ডন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর মিশর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং এখনও উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা পায়। এই সরকারগুলি আদর্শগতভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে একাত্ম নয়, বরং তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয় (US Israel Axis)। ধর্মতত্ত্ব ও বৈদেশিক জোটের বাইরে রয়েছে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর লড়াই। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে, আর ইরান নিজেকে পশ্চিমি ও ইজরায়েলি প্রভাববিরোধী প্রতিরোধ অক্ষের সামনে রাখে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিচ্ছিন্নতা হল বিপ্লবী আদর্শ, শিয়া রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব, পারস্য পরিচয় এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার (Iran) সমন্বিত ফল—যা তাকে অধিকাংশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র থেকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

     

  • Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আজ রবিবার সকালে খবরটি নিশ্চিত করেছে। খামেইনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবারের হামলায় খামেইনির পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতিরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

    এরই মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, খামেইনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প খামেইনিকে “ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।”

    হামলার বিবরণ (Ayatollah Khameneis)

    শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানে খামেইনির সুরক্ষিত বাসভবন কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খামেইনির দফতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গিয়েছে। ইরানের (Iran) সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, খামেইনি (Ayatollah Khameneis) নিজের দফতরে থাকা অবস্থায়ই হামলার শিকার হন।

    ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করে আসছেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের সকল শাখা, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের করিম সাদ্দাদপুর সংবাদমাধ্যমে বলেন, খামেইনি ছিলেন ইতিহাসের এক দুর্ঘটনা। যিনি একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতি থেকে প্রাথমিকভাবে দুর্বল সর্বোচ্চ নেতা হয়ে গত ১০০ বছরের পাঁচজন শক্তিশালী ইরানির একজন হয়ে উঠেছিলেন।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) শনিবার সকালে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকদের যৌথ হামলায় শহিদ হয়েছেন। ইরান (Iran) এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলির দিকে একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ শুরু করেছে।

    অন্যান্য নেতার মৃত্যু

    ইরানি (Iran) সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদে এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া খামেইনির কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও মারা গিয়েছেন বলে খবর।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লেখেন, “খামেইনি (Ayatollah Khameneis) এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা আমেরিকার উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। এটিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেইনি। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আরও অন্তত এক সপ্তাহ ইরানে (Iran) বোমাবর্ষণ চলবে!”

    পরবর্তী পরিস্থিতি

    খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর পর ইরানে (Iran) ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেইনির কোনও নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকায় দেশটিতে এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এহেন আবহে ইরান এই হামলার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।

LinkedIn
Share