Tag: Iran

Iran

  • US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই একের পর এক জরুরি পদক্ষেপ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Military Withdrawal)। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা ও কর্মী প্রত্যাহার, ইরানের আকস্মিক আকাশসীমা বন্ধ এবং উভয় পক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি—এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে যে তেহরানের (Iran) ওপর হামলা যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে।

    কর্মী প্রত্যাহার (US Military Withdrawal) 

    বুধবার আমেরিকা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে তাদের কিছু কর্মী প্রত্যাহার করে নেয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা থাকেন। কাতার সরকার জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের কর্মীদের ওই উপসাগরীয় আরব দেশটির একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

    কঠোর সতর্কবার্তা জারি

    প্রসঙ্গত, এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে এমন একটা সময়ে, যখন ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে, বিশেষত, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে তারা ওইসব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপত্যগুলির ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন (Iran)।

    “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ”

    তবে এক পশ্চিমী সামরিক কর্তা সংবাদসংস্থাকে বলেন, এসব ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই এমন কৌশলগত পদক্ষেপ করে, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ।” উত্তেজনা (US Military Withdrawal) আরও বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (NOTAM) জারি করে অধিকাংশ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়, কেবল অনুমোদিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশ জারির আগেই ইরান ও ইরাকের আকাশ দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়।

    আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা

    পরবর্তী কালে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরান আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। তবে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সময় ও পরিসর এখনও স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Iran)। ইরান আকাশসীমা বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরানে যে হত্যাকাণ্ড চলছিল, তা বন্ধ হচ্ছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথাও বলেন তিনি। ট্রাম্প জানান, অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, এই মুহূর্তে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ

    তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি উড়িয়ে না দিলেও বলেন, ওয়াশিংটন প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়, তা দেখবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে তার প্রশাসন একটি খুবই ভালো বক্তব্য পেয়েছে (US Military Withdrawal)।সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা যেন দ্রুত, চূড়ান্ত হয় এবং সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘ সংঘাতের রূপ না নেয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন সূত্রের দাবি, “তিনি যদি কিছু করেন, তবে সেটির চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক হতে চান।” তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন যে, একটি হামলাই দ্রুত ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে (Iran)। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের শক্তিশালী পাল্টা আঘাত মোকাবিলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নাও থাকতে পারে (US Military Withdrawal)।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দমন-পীড়নে অন্তত ২,৬১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনাগুলির একটি। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, আটক বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে। হিংসার মাত্রা সাম্প্রতিক যে কোনও (Iran) আন্দোলনের চেয়ে বেশি এবং এটি কয়েক দশক আগের বিপ্লবী সময়ের অশান্তির স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে (US Military Withdrawal)।

     

  • Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া নির্দেশিকা জারি করল তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। তাতে ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক বিমান-সহ উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান (Iran) ছেড়ে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Embassy)। ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পূর্ববর্তী সতর্কতার পরে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, কারণ দেশজুড়ে বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান প্রেক্ষাপটে ইরানে বর্তমানে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    হিংসার আগুনে জ্বলছে ইরান (Indian Embassy)

    এই নির্দেশিকাটি দেশব্যাপী হিংসাত্মক বিক্ষোভের প্রতিফলন, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০,০০০ এরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং মুদ্রার অবনতির জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের সমস্ত প্রদেশের ১৮০টিরও বেশি শহরে (Indian Embassy)। বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহণ ব্যাহত এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে হিংসাত্মক ঘটনাও। ইরান ৮৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করেছে, যার ফলে ইরানিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছেন না, পারছেন না কোনও ভিডিও পোস্ট করতেও।

    ফ্লাইট বাতিল

    বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইরানে এবং সেখান থেকে ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে। ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অনেক ভারতীয় পরিবার ইরানে (Iran) থাকা আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর পাচ্ছে না। তাদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট (Indian Embassy)। ভারতের বিদেশমন্ত্রক ৫ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিকদের আপাতত ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বানও জানিয়েছে। সর্বশেষ পরামর্শটি সেই সতর্কতার আরও তীব্রতা তুলে ধরেছে। যেহেতু ইরানে অশান্তির পারদ ক্রমশ চড়ছে, তাই এখন অবিলম্বে সে দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জাপান, জার্মানি এবং ফ্রান্স-সহ অন্যান্য দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরণের নির্দেশিকা জারি করেছে।

    ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যদিও ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের কারণে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারত এর আগে ২০২৫ সালের জুনে অপারেশন সিন্ধু চালু করেছিল, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় ৩,৪০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ইরান (Iran) থেকে সরিয়ে নিয়েছিল (Indian Embassy)।

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Drump)। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর এবং চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেছেন (Bilateral Trade)। আমেরিকার এই ঘোষণার ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুতর চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অভিজ্ঞমহলের। বিদ্রোহের জেরে কার্যত জ্বলছে ইরান। তার মধ্যেই শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    ভারতের ওপর প্রভাব (Donald Drump)

    প্রশ্ন হল, ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? ভারত ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। নয়া এই শুল্ক ভারতের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের আমদানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (Bilateral Trade)। ইরানে ভারতের প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে, বাসমতী চাল, চা, চিনি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। অন্যদিকে, ভারত মূলত আমদানি করে জৈব রাসায়নিক, শুকনো ফল ও বাদাম এবং খনিজজাত পণ্য (Donald Drump)।

    শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে

    বর্তমানে ভারতীয় রফতানিকারীরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ জরিমানাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সংক্রান্ত নয়া এই শুল্ক যুক্ত হলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বস্ত্র শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র রফতানিকারী খাত (Bilateral Trade)। ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্তে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্পও জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু নয়া শুল্ক নীতির ফলে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে (Donald Drump)।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির আওতায় চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও রয়েছে। এই দেশগুলির সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে (Bilateral Trade) নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে (Donald Drump)।

  • Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে অব্যাহত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের (Iran Update) ঘটনা।দেশটির অন্তত তিনটি বড় হাসপাতাল (Hospitals) মৃত ও আহত রোগীর চাপে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে খবর। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক সংবাদ মাধ্যমে জানান, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “তরুণদের মাথায় সরাসরি গুলি করা হয়েছে, এমনকি বুকেও গুলি লেগেছে।”

    ইরানের পরিস্থিতি (Iran Update)

    এদিকে, রাজধানীর একটি চক্ষুরোগের হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে হাসপাতালটিকে ‘ক্রাইসিস মোড’ বা জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিচালনা করতে হচ্ছে।” দুই চিকিৎসাকর্মী জানান, তাঁরা এমন বহু রোগীর চিকিৎসা করেছেন যাঁদের শরীরে তাজা গুলি এবং পেলেট গান- উভয়েরই ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে (Iran Update)। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে উসকে দিয়ে সহিংস ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম ও ব্যাপক ভাঙচুরে পরিণত করেছে। বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের (Iran Update)।

    বিক্ষোভের জেরে ভয়ঙ্কর অবস্থা

    জানা গিয়েছে, ইরানে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তা দিন দিন ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে প্রায় দুসপ্তাহ আগে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সব প্রদেশের অন্তত ১০০টির বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে (Hospitals)। বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত বা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অনুমান, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। সূত্রের খবর, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ছ’জন শিশুও রয়েছে। বহু মানুষকে আটকও করেছে নিরাপত্তা বাহিনী (Iran Update)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা অন্তত ১৪।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান সম্ভবত ইতিহাসের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!” জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশত শহরের পুরসিনা হাসপাতালে অন্তত ৭০টি মৃতদেহ আনা হয়েছিল। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ মৃতদের স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য মৃতদেহ ছাড়াতে ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করেছে (Iran Update)।

    ভয়াবহ দৃশ্য

    তেহরানের একটি হাসপাতালের কর্মী জানান, “ভয়াবহ দৃশ্য। এত বেশি আহত মানুষ এসেছিল যে অনেকের ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩৮ জন মারা গিয়েছেন, এঁদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। তরুণদের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।” তিনি জানান, “মর্গে জায়গা না থাকায় মৃতদেহগুলি একটির ওপর আর একটি রাখা হয়েছিল। পরে প্রার্থনাকক্ষেও সেগুলিকে ডাঁই করে রাখা হয় (Hospitals)।” ওই হাসপাতাল কর্মীর ভাষায়, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। তিনি বলেন, “অনেকের দিকে তাকানোই যায়নি, এতটাই কাঁচা বয়স তাদের (Iran Update)।” ইরানে বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কারণে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সরাসরি ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করতে পারছে না।

    ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট

    এদিকে, ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, তাকে ঘিরে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল বর্তমানে চরম সঙ্কটে রয়েছে। জরুরি পরিষেবা চাপে পড়ে গিয়েছে। ওই চিকিৎসকের দাবি, শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নন-ইমার্জেন্সি ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয় (Hospitals)।চিকিৎসকদের বক্তব্য, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই পেলেট ভর্তি কার্তুজ ছোড়ে এমন শটগান ব্যবহার করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে জখম হচ্ছেন, বিশেষ করে চোখে গুলি লাগার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, চোখে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে” (Iran Update)।

    চোখে গুলি

    মধ্য ইরানের কাশান শহরের এক চিকিৎসক জানান, শুক্রবার রাতের অশান্তির সময় বহু বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে একই ধরনের রিপোর্ট এসেছে বলেও জানান তিনি। তেহরানের এক চিকিৎসক বলেন, “আহত ও মৃতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। আমি নিজে একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলি লেগে মাথার পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “রাত প্রায় বারোটার দিকে হাসপাতালের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন একদল মানুষ দরজা ভেঙে এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভিতরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।” এরকম ছবি ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের সিরাজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, “বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্জেন ছিলেন না। চোখে গুলি লাগার একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    ইরানজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাজধানী লাগোয়া কারাজ শহরে একটি সরকারি ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয় (Iran Update)। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় নামবে। সেনার এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল, যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে (Hospitals)।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপ

    শুক্রবার ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একাধিক সমন্বিত সতর্কবার্তা জারি করে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তথাকথিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইরানি পুলিশের দাবি, শুক্রবার রাতে তেহরানে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, তেহরানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করছেন জেনারেশন জেড। তাঁর কথায়, “তরুণরা তাঁদের বাবা-মা ও প্রবীণদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছেন এবং ভয় না পেতে আহ্বান জানাচ্ছেন।” ইরানের এই বিক্ষোভের আঁচ কবে স্তিমিত (Hospitals) হয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Iran Update)।

  • Iran Protest: ইসলামিক শাসনের প্রতিবাদকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি! দেশজুড়ে বাড়ছে সংঘর্ষ, ইরানে মৃত ২১৭

    Iran Protest: ইসলামিক শাসনের প্রতিবাদকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি! দেশজুড়ে বাড়ছে সংঘর্ষ, ইরানে মৃত ২১৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে (Iran Protest) রাজনৈতিক সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিয়েছে। শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মোকাবিলায় বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ইরানের সরকার। যার ফলে অন্তত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক চিকিৎসক। তেহরানের ৬টি হাসপাতালেই এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    বিক্ষোভ শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নয়

    প্রথমে ইরানে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ইরানি রিয়ালের দ্রুত পতনের প্রতিবাদে। তবে ধীরে ধীরে তা সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। এখন এই বিক্ষোভ আর শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীর ৬ হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। খবর যাতে ছড়াতে না পারে, তাই সরকার সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকী ফোনের কানেকশনও স্তব্ধ করা হয়েছে।

    বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লক্ষের বেশি মানুষ

    সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২,০০০-এরও বেশি মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষের বেশি মানুষ। সারা দেশে প্রায় ৪০০টি স্থানে আন্দোলন চলছে। শুধু তেহরানেই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। পুলিশ অন্তত ২,৩০০ জনকে আটক করেছে। বিদ্রোহের আগুন ইরানের ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ১১০টিরও বেশি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তেহরানে অন্তত ২৬টি ব্যাঙ্ক লুট করা হয়েছে, ২৫টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ১০টি সরকারি ভবন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, ৪৮টি দমকলের গাড়ি ও ৪২টি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সরকারি দমন-নীতি

    ইরানের সেই চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হলে সিকিউরিটি ফোর্স সরাসরি গুলি চালাতে শুরু করে। যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু জনের বডি হাসপাতাল থেকে শুক্রবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই অল্প বয়সি। এছাড়া উত্তর তেহরানের পুলিশ স্টেশনের বাইরে মেশিন গান থেকে গুলি চালিয়েও বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে মেরে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি। যতদূর খবর, ইরানে সরকার বিরোধী মিছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ছিল। তবে কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা অশান্ত হয়ে ওঠে। তারা তেহরানের আল রাসুল মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    ইরান ঝুঁকবে না কোনও শক্তির কাছে

    যদিও এই চিকিৎসক যতটা দাবি করেছেন, মৃতের সংখ্যা এতটাও বেশি নয় বলে দাবি করেছে কিছু মানবাধিকার সংগঠন। ওয়াশিংটনের মানবাধিকার সংগঠন এবং সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মোটামুটি ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। মৃত্যের মধ্যে ৪৯ জন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনি জানান, এই ইসলামিক দেশ কারও কাছে মাথা নত করবে না। যারা বিক্ষোভ করছে তাদের কাছে হার মানার প্রশ্নই নেই।

  • Iran Protest: ইরানে আরও তীব্র খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া

    Iran Protest: ইরানে আরও তীব্র খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থায় দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রমাণ করছে ইরান। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইরানজুড়ে (Iran Protest) তীব্র বিক্ষোভ। বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাজধানী শহর তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে এই গণবিক্ষোভ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। তেহরানের বহু বাসিন্দা রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। এমনকী, ঘর থেকেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বহু মানুষকে। দেশজুড়ে যে অস্থিরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে তা ১২ দিনে পড়ল। এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছে মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার অসম পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চরমে পৌঁছতেই ইন্টারনেট এবং ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় ইরান জুড়ে।

    বিক্ষোভের সূত্রপাত

    গত দেড় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে ইরানে (Iran Protest) । গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারেরা দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। প্রাথমিক ভাবে দেশের আর্থিক অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চললেও ক্রমে তা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Anti-Khamenei protests) বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিক্ষোভে পরিণত হয়। ১২ দিন পরেও এই বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই। বিপর্যস্ত অর্থনীতির মধ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ ইরানিরা রাস্তায় নেমে এসে ক্ষমতাসীন ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অধীনে ইরানের সরকার ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এদিকে, দেশের বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানরা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকা বিক্ষোভে সাড়া দিতে দেখা গিয়েছে। পাহলভির বাবা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের ঠিক আগে ইরান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিক্ষোভগুলোতে শাহের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারত, কিন্তু এখন ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পুরনো ক্ষোভকেও তুলে ধরছে।

    রেজা পাহলভির আহ্বান

    রেজা পাহলভি শুক্রবার রাত ৮টায় জনগণকে ফের রাস্তায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক। স্বৈরাচারী শাসকের পতন হোক। ইরানের মহান জাতি, বিশ্বের চোখ আজ আপনাদের দিকে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামুন। আপনাদের দাবি জোরাল ভাবে তুলে ধরুন। আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং তার নেতা ও বিপ্লবী গার্ডকে সতর্ক করছি। গোটা বিশ্ব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর আপনাদের উপর রয়েছে। জনগণের উপর দমন পীড়নের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।” সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে যুবরাজ পাহলভি খামেনেই প্রশাসনকে তোপ দাগেন। তিনি লেখেন, “লাখ লাখ ইরানবাসী আজ স্বাধীনতা চেয়ে মিছিল করেছেন। তার জবাব দিতে প্রশাসন ইরানে যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।” ওই পোস্টেই নির্বাসিত যুবরাজ ইরানের প্রতিবাদী জনতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলিকে নীরবতা ভেঙে এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রকে কঠোর জবাব

    নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দেওয়ার পরেই পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ইরানের গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রকে (Anti-Khamenei protests) অতি কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরেই ইরানের প্রশাসন ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। তাবরিজ বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেনা-পুলিশের হামলায় ইরানে ৩৯ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা চলবে না। বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা (ইরান প্রশাসন) মানুষ মারতে শুরু করে, তা হলে আমরা তাদের উপর খুব কঠিন আঘাত হানব।” ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুঁশিয়ারির পর সম্প্রতি সুর নরমের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই তাঁদের উপর কঠোর পদক্ষেপ করা চলবে না।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা

    ইরানের (Iran Protest) ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টি প্রদেশে এই বিক্ষোভ চলছে, কিছু প্রদেশে ১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভের মূল কারণ রিয়ালের মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে হঠাৎ পতন ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লি ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা (India advisory for citizens) জারি করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, “ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না।” এছাড়াও ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের (PIO) সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বিক্ষোভ বা সশস্ত্র সংঘর্ষের এলাকায় না যাওয়ার জন্য।

    ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

    ইরানের শহর ও গ্রামীণ এলাকা জুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা ক্রমশ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে অনেক বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসায় অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। যার কারণে ঘরেই চাপে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Anti-Khamenei protests)। ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ক্লাউডফ্লেয়ার এবং অ্যাডভোকেসি গ্রুপ নেটব্লকস ইন্টারনেট বিভ্রাটের খবর দিয়েছে এবং উভয়ই এর জন্য ইরান সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছে। দুবাই থেকে ইরানে ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। অতীতেও এ ধরনের বিভ্রাটের পর সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। পাহলভির আহ্বান ভবিষ্যতে বিক্ষোভের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

  • Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদ বেশিদিন মানুষের নিত্য প্রয়োজনকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে না। তার স্পষ্ট উদাহারণ ইরান। গত এক সপ্তাহ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃ্দ্ধি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘিরে আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে ইরানের (Protest in Iran) রাজপথে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার জনতা। এরইমধ্যে গত তিন-চারদিনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরমধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

    আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন। নিউইয়ার (New Tear) ইরানে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা ইরান জুড়ে বিক্ষোভকারী পথে নেমে পড়েন। তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক স্লোগান মুখে মিছিল বের করে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মুখে রেজা পহলভির (Reza Pahlavi) সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। রেজা হলেন প্রয়াত শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির (Shah Mohammad Reza Pahlavi) ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাঁকে অপসারিত করে চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করেন আয়াতুল্লা। তারপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় ইরানের। শাহ জিন্দাবাদ— স্লোগান শোনা যায় তেহরানের সর্বত্র। রেজা পহলভি বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। জয় আমাদের নিশ্চিত। কারণ আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যতক্ষণ এই জমানা সিংহাসন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলতে থাকবে। আরও দুর্দশা নেমে আসতে চলেছে।

    কেন বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে

    ইরানের (Protest in Iran) সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সঙ্কট। ডিসেম্বর মাসে দেশে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দেন। ঘটনার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন রাজধানী তেহরানের কিছু দোকানদার মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিলেন। এরপরেই আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারাও। রাজপথে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার।

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতি

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী তেহরানে (Tehran) ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে এর মূল কারণ, মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের (IRR) মূল্য। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। পেজেশকিয়ান কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। আর এই মুহূর্তে রিয়ালের অবক্ষয় রোধের কোনও উপায় সরকারের হাতেও নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইরানে চলতি বছরে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

    মৌলবাদের বিরোধিতা

    ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এই বিক্ষোভ শুরু করে, তবে কিছু বিক্ষোভকারীকে দেশের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এই পরিস্থিতির জন্য ইরানের শাসনব্যবস্থার চরমপন্থা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন, ‘এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ইরানের জনগণ ধসে পড়া অর্থনীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে… তাঁর (খামেনেই) নেতৃত্বে ইরানি শাসনব্যবস্থা চরমপন্থা ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে… ইরানের জনগণের এমন একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রাপ্য, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে – মোল্লা ও তাঁদের সহযোগীদের নয়।’

    বাংলাদেশ-ভারত-ইরান

    বর্তমানে ইরানের (Protest in Iran) মতোই বাংলাদেশেও মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে সে দেশের একাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আপাতত নির্ধারিত নির্বাচনে জামাত অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে, এটি হবে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়ার আরেকটি উদাহরণ। মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশও ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে ভারত। মোদি সরকারের হাত ধরে ভারতে মুদ্রাস্ফীতির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে করছাড় দেওয়ায় গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে মোলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব সেদেশের মুক্তমনারা। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক শহরে পথে নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি, দেশে মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক। পতন হোক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন।

LinkedIn
Share