Tag: Islamist Politics

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠন (Bangladesh Election) হেফাজত-ই-ইসলাম সেই দেশটির প্রধান ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা (Jihad) করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, “মুসলমানদের জন্য জামায়াতে-ই-ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম (ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ)।”

    হেফাজতে-ই-ইসলামের বক্তব্য (Bangladesh Election)

    চট্টগ্রাম শহরে বিএনপির এক প্রার্থীকে সমর্থন করে হেফাজতে-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “আমার কাছে এটি কোনও নির্বাচন নয়। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি জেহাদ।” তিনি জানান, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হেফাজতের মৌলিক আদর্শগত ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে এবং জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাবুনগরীর ভাষায়, “এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতেই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব মুসলমানের জন্য জামায়াতে ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম এবং কোনওভাবেই তা বৈধ নয়। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে। তারা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।” বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটি বর্তমানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, আগে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা জোটে আপত্তি না থাকলেও হেফাজত এখন জামায়াতের বিরোধিতা শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোটই নয়, একই সঙ্গে জনগণ ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও ভোট দেবেন। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত মহম্মদ ইউনূস সরকার দাবি করেছে, এই চার্টার ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মে’র সঙ্গে (Bangladesh Election) যুক্ত।

    কেন জেহাদ

    প্রশ্ন হল, কেন হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে? হেফাজতের আমির বাবুনগরীর এই বক্তব্য আসে কয়েক মাস আগে জামায়াতকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেওয়ার পর (Jihad)। ২০২৫ সালের অগাস্টে বাবুনগরী বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামি একটি ভণ্ড ইসলামি দল। এটি খাঁটি নয়। শুধু আমি নই, আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমরাও এ কথা বলেছেন। জামায়াত মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করে, আর আমরা মদিনার ইসলাম অনুসরণ করি। মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করলে ইমান (সম্মান) ঝুঁকির মুখে পড়ে।” জামায়াতে ইসলামি আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক-আদর্শিক ইসলামের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, যেখানে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয় এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে অবিচ্ছেদ্য ধরা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াত বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মদিনার ইসলাম’ নৈতিক সংস্কার, সামাজিক ঐকমত্য, বহুত্ববাদী সহাবস্থান এবং প্রফেটিক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা, যেখানে শাসনব্যবস্থা কোনও দলীয় মতবাদের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক চুক্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যেমন মদিনা সনদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশভিত্তিক একটি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামপন্থী সংগঠন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এবং চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এর সদর দফতর (Bangladesh Election)।

    অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও, ১৩ দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আইন ও সমাজব্যবস্থাকে ‘ইসলামিকরণে’র জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যেই ইউনূস হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। হাসিনা সরকারের শেষ দিকেও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা চলছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পড়েন হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহার (Jihad)। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাকে হেফাজত-সহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘অ-ইসলামিক’ বলে আখ্যা দেয় এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে পথে নামার হুমকিও দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হেফাজতের এক কর্মী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তাঁর শতাধিক অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসকনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে (Bangladesh Election)।

    দেশব্যাপী বনধ্

    ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজত দেশব্যাপী বনধ ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং সিএএ কার্যকরের পর হেফাজত ভারতকে ‘উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে একাধিক সমাবেশ করে (Jihad)। সব মিলিয়ে ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কার্যত ‘কে প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে’—এই প্রশ্নের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। হেফাজত-জামায়তে বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইসলামের গভীর আদর্শগত ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে (Bangladesh Election)।

     

LinkedIn
Share