Tag: Jaffar Express

  • BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে ২৫টিরও বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে বিএলএ (BLA)। সংগঠনটির দাবি, এই হামলাগুলিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। একাধিক সামরিক ও রসদ পরিবহণকারী গাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে (Pakistani Troops) বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানান, তাঁদের যোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ডেথ স্কোয়াড’গুলিকে নিশানা করেছে। এই অভিযানে একাধিক সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের জেরে বালোচিস্তানজুড়ে কয়েক দিনের জন্য রেল পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল পাক প্রশাসন। জাফর এক্সপ্রেসে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে বালোচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের হাতে অপহৃত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিল এই ট্রেন। তার পরেও একাধিকবার ট্রেনটিকে নিশানা করা হয়েছে। সাধারণত এই ট্রেনে সামরিক কর্মীদের যাতায়াতের কারণেই হামলার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়।

    সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশে অনীহা পাকিস্তানের (BLA)

    একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ ও জনসংযোগ বিভাগ নিয়মিতভাবে সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা বালোচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের বিবরণও নিয়মিত জানানো হত। কিন্তু দুই অশান্ত প্রদেশেই সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে সেই স্বচ্ছতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বালোচিস্তান পোস্ট’।

    কোনও অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিহত হলে অবশ্য কখনও কখনও তা স্বীকার করতে বাধ্য হয় সেনার জনসংযোগ বিভাগ। গত ১৯ অক্টোবর লাহোরের বাসিন্দা মেজর ওয়াজাহাত ওয়াহিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল তারা। একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্রের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সেনাকর্মীদের হতাহত হওয়ার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বর্তমানে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ কিংবা হতাহতের বিস্তারিত বিবরণ খুব কমই সামনে আনে ওই বিভাগ। অধিকাংশ বিবৃতিতে বরং টিটিপি বা পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বালোচ বিদ্রোহীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার দুই সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরে অভিযানের বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

    ৩০টিরও বেশি গাড়ির কনভয়ে হামলা

    বিএলএর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর খুজদার জেলার কারখ এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর ৩০টিরও বেশি গাড়ির একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালান তাদের যোদ্ধারা। ওই কনভয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসদমন বিভাগ এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনীর গাড়ি ছিল। খুজদার রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল ইমরান কুরেশি এবং জেলার পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ গাড়িও ওই কনভয়ে ছিল। হামলায় অন্তত ৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তিনটি গাড়ি অকেজো হয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    সংগঠনটির আরও দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোয়েটা-করাচি সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন তাদের সদস্যরা। ওই সময় যাতায়াতকারী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়।

    খারান জেলাতেও একাধিক সংঘর্ষের দাবি করেছে বিএলএ। গত ২৮ অক্টোবর বরশোনকিতে একটি নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

    এর পর ১ নভেম্বর লেজাই এবং সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ চলে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অগ্রসরমান সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্রের সাহায্যে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়। তিনটি পৃথক এলাকায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। তাতে আটজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। পরদিন একই এলাকায় আরও একটি সামরিক গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর ফলে সেনাদের পিছিয়ে যেতে হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর খারানেই আরও দুটি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি (BLA)। সকালে জোমি এলাকায় এবং রাতে নওরোজ কালাতে সামরিক গাড়ি নিশানা করা হয়। জোমির হামলায় অন্তত তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি। একই দিনে রোটিনকো এলাকায় একটি সামরিক চৌকিতেও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএ।

    তুরবত, বাসিমা ও নুশকিতেও হামলার দাবি

    বিবৃতি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর তুরবত জেলার গিবান এলাকায় একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালান বিএলএ-র সদস্যরা। দু’টি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। একই দিনে কেচ জেলার হিররঙ্ক কানরাক এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদারি দলের উপর দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

    ২৮ অক্টোবর বাসিমায় সাজিদের কাছে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাতে চারজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং অন্তত সাতজন গুরুতর জখম হন। একই দিনে পাঞ্জগুর জেলার গোয়ারগো এলাকায় আর একটি সামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি।

    নুশকির আহমদ ওয়াল এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান শিবিরে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিএলএ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। চার দিন পর ওই এলাকাতেই সেনাবাহিনীর ট্রাকের একটি বহরে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত, বেশ কয়েকজন আহত এবং একটি ট্রাক ধ্বংস হয় বলে সংগঠনটির দাবি।

    গত ২ নভেম্বর আহমদ ওয়াল এলাকায় পায়ে হেঁটে এবং গাড়িতে যাতায়াতকারী সেনাদের ফের নিশানা করা হয়। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। একই দিনে মাস্তুংয়ের প্রধান সড়কে মদিনা হোটেলের কাছে একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে চারজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে (Pakistani Troops) দাবি সংগঠনটির। এ ছাড়াও ৩০ অক্টোবর হোশাবের গোয়ান্ড সারিন এলাকায় বিস্ফোরণে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

    বিএলএর মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানিয়েছেন, সংগঠনটির গোয়েন্দা শাখা জিরাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৬ অক্টোবর ডালবান্দিনের কোহ-এ-তারান এলাকায় শাহজাহান ওরফে শাহুর গাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁর গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শাহু-সহ তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)। বিএলএর অভিযোগ, শাহু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় সহযোগীদের নিয়োগ এবং ডালবান্দিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংগঠনটির ভাষায় ‘মৃত্যুদল’ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    গত ২৮ অক্টোবর রাতে গোয়াদরের ঘাট্টি ডোর এলাকায় লাহোরের বাসিন্দা রানা মহম্মদ আহমেদকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তিনি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করতেন তিনি। এ ছাড়াও ২৮ অক্টোবর তুরবতের নোদিজ এলাকায় রাষ্ট্রসমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা আহত হন।

    পুলিশ থানা দখল ও সড়ক অবরোধ

    গত ৩১ অক্টোবর খারান জেলার মুসকান কালাত পুলিশ থানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বক্তব্য, থানার সমস্ত পুলিশকর্মীকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র ও তদন্তের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে বিস্ফোরক ব্যবহার করে থানার ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি। এর আগে ২৬ অক্টোবর বাব-এ-খারানের কাছে নির্মীয়মাণ ডেপুটি কমিশনারের দফতরে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। হামলার পর ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদেরও নিশানা করা হয়। এতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

    বাসিমার দোরুগ এলাকায় ৩০ অক্টোবর একটি ফাঁকা সামরিক চৌকি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে বিএলএ। একই দিনে পাসনি জিরো পয়েন্টের কাছে একটি হোটেলে লাগানো নজরদারি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী ওই ক্যামেরাগুলি নজরদারির কাজে ব্যবহার করত। সামরিক রসদ ও বাণিজ্যিক যানবাহন আটক করার একাধিক ঘটনার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর নুশকির জারিন জঙ্গলে সেনাবাহিনীর একটি রসদবাহী গাড়ি আটক করা হয় বলে দাবি। ৩০ অক্টোবর ডালবান্দিন ও ইয়াকমাচের মধ্যবর্তী প্রধান সড়ক থেকে পাকিস্তানি সেনাদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী আরও একটি গাড়ি আটক করা হয়। এর পর ৩১ অক্টোবর কোয়েটা-তাফতান সড়কের চেয়াহতর এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক গাড়ি আটক করা হয়। বিএলএ এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক অবরোধে’র অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ২ নভেম্বর একই সড়কে অবরোধ চলাকালীন আরও একটি বাণিজ্যিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)।

    সাত সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার বিএলএর

    একদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার দাবি করলেও, অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে নিজেদের সাত সদস্যের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর কালাতের রোডিনজো এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার সদস্যের মৃত্যু হয়। তাঁদের নাম ফরিদ ওরফে আবিয়ান, মুনির ওরফে নূরা, শাহজেব ওরফে এহসান এবং জলিল। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর মাঙ্গুচারের চোটাঙ্ক এলাকায় ঔরঙ্গজেব ওরফে আসিফ নিহত হন। একই দিনে সুরাবের গিদার এলাকায় সংঘর্ষে নোমান জামালদিনি ওরফে কমরেড সামির এবং পারভেজ মহম্মদ হাসনি ওরফে (Pakistani Troops) কাদিরের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নিহত সাত সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ফের অঙ্গীকারও করেছে বিএলএ (BLA)।

     

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

LinkedIn
Share