Tag: Jagdalpur

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের। বুধবার ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় অন্তত ১০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের সম্মিলিত মাথার মোট পুরস্কার মূল্য ছিল ৩.৯৫ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে একসঙ্গে এত টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

    নকশাল ঘাঁটি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ, সোনা (Maoists Surrender)

    এদিন যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন কমিউনিস্ট পার্ট অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-র দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য। তারা বস্তার জেলার সদর শহর জগদলপুরে আত্মসমর্পণ করে। বস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি সুন্দররাজ পি জানান, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩.৬১ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ১ কেজি সোনা, ১০১টি অস্ত্র। এই অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে একে ৪৭ রাইফেল, ইনসাস রাইফেল, এসএলআর, লাইট মেশিনগান, .৩০৩ রাইফেল এবং ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার।

    ছত্তিশগড় পুলিশের বক্তব্য

    আত্মসমর্পণকারী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে রয়েছে ডিভিশনাল কমিটির সদস্য রাহুল তেলাম, পান্ড্রু কোভাসি ও ঝিত্রু ওয়াম (পশ্চিম বস্তার বিভাগ), রামধর ওরফে বীরু (পূর্ব বস্তার বিভাগ) এবং মল্লেশ (উত্তর বস্তার বিভাগ)। এছাড়াও ছিলেন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (PLGA) ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার মুচাকি এবং অন্ধ্র-ওডিশা সীমান্ত এলাকার ডিভিশনাল কমিটির সদস্য কোসা মান্দাভি। ছত্তিশগড় পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পুনা মার্গেম: রিহ্যাবিলিটেশন টু রিজুভেনেশন” কর্মসূচির আওতায় ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বস্তার বিভাগীয় সদর দফতর জগদলপুরে এই ১০৮ জন মাওবাদী মূলধারায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিংসা ত্যাগ করা এই ক্যাডারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নকশাল অস্ত্রভান্ডারের হদিশ মিলেছে।

    কী বলছেন উপমুখ্যমন্ত্রী

    ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি জানান, আত্মসমর্পণকারী ছ’জন ডিভিশনাল কমিটি সদস্যের মাথার ওপর প্রতি জনের জন্য ৮ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল ৩ জন কোম্পানি প্লাটুন কমিটি কমান্ডার, ১৮ জন প্লাটুন পার্টি কমিটি সদস্য, ২৩ জন এরিয়া কমিটির সদস্য, ৫৬ জন সাধারণ পার্টির সদস্য। জেলাওয়াড়ি পরিসংখ্যানটি হল, বীজাপুরে ৩৭ জন, দান্তেওয়াড়ায় ৩০ জন, সুকমায় ১৮ জন, বস্তারে ১৬ জন, নারায়ণপুরে ৪ জন এবং কঙ্কেরে ৩ জন। পুলিশের মতে, মাওবাদীদের এই বিরাট সংখ্যায় আত্মসমর্পণ মাওবাদী মতাদর্শের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র অভিযানের ফল।

    মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ

    পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৬ মাসে ছত্তিশগড়ে মোট ২,৭১৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত বস্তার বিভাগেই আত্মসমর্পণ করেছে ২,৬২৫ জন। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশে নকশালবাদের অবসানের জন্য ডেডলাইন দিয়েছেন চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এদিকে, বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দু’জন সদস্য এখনও পলাতক। গত বছরের শুরুতে এই কমিটিতে ২১ জন সদস্য ছিল, যার মধ্যে ১৯ জনই আত্মসমর্পণ করেছে বা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। ২০০০ সালের শুরুর দিকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিল ৪০-৪৫জন সদস্য।

    মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা

    উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে মাওবাদের অবসান হলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বস্তার অঞ্চল থেকে অধিকাংশ আধাসামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। বিধানসভায় বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার ৩১ মার্চ ২০২৬-কে সশস্ত্র মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এরপর ধাপে ধাপে বাহিনী প্রত্যাহার করা শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, এই বাজেটে পুলিশ বিভাগের জন্য ৭,৭২১.০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল বলেন, “সবাই চায় মাওবাদের অবসান হোক, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।” তাঁর প্রস্তাব, ৩১ মার্চ রাজ্যে মাওবাদ নির্মূলীকরণ উপলক্ষে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। আলোচনার শেষে ভোটাভুটিতে কাট মোশন ৩৭ বনাম ২৪ ভোটে খারিজ হয় এবং পরে বিধানসভা শর্মার দফতরগুলির বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করে।

     

LinkedIn
Share