Tag: Jagdalpur

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের। বুধবার ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় অন্তত ১০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের সম্মিলিত মাথার মোট পুরস্কার মূল্য ছিল ৩.৯৫ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে একসঙ্গে এত টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

    নকশাল ঘাঁটি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ, সোনা (Maoists Surrender)

    এদিন যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন কমিউনিস্ট পার্ট অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-র দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য। তারা বস্তার জেলার সদর শহর জগদলপুরে আত্মসমর্পণ করে। বস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি সুন্দররাজ পি জানান, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩.৬১ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ১ কেজি সোনা, ১০১টি অস্ত্র। এই অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে একে ৪৭ রাইফেল, ইনসাস রাইফেল, এসএলআর, লাইট মেশিনগান, .৩০৩ রাইফেল এবং ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার।

    ছত্তিশগড় পুলিশের বক্তব্য

    আত্মসমর্পণকারী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে রয়েছে ডিভিশনাল কমিটির সদস্য রাহুল তেলাম, পান্ড্রু কোভাসি ও ঝিত্রু ওয়াম (পশ্চিম বস্তার বিভাগ), রামধর ওরফে বীরু (পূর্ব বস্তার বিভাগ) এবং মল্লেশ (উত্তর বস্তার বিভাগ)। এছাড়াও ছিলেন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (PLGA) ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার মুচাকি এবং অন্ধ্র-ওডিশা সীমান্ত এলাকার ডিভিশনাল কমিটির সদস্য কোসা মান্দাভি। ছত্তিশগড় পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পুনা মার্গেম: রিহ্যাবিলিটেশন টু রিজুভেনেশন” কর্মসূচির আওতায় ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বস্তার বিভাগীয় সদর দফতর জগদলপুরে এই ১০৮ জন মাওবাদী মূলধারায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিংসা ত্যাগ করা এই ক্যাডারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নকশাল অস্ত্রভান্ডারের হদিশ মিলেছে।

    কী বলছেন উপমুখ্যমন্ত্রী

    ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি জানান, আত্মসমর্পণকারী ছ’জন ডিভিশনাল কমিটি সদস্যের মাথার ওপর প্রতি জনের জন্য ৮ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল ৩ জন কোম্পানি প্লাটুন কমিটি কমান্ডার, ১৮ জন প্লাটুন পার্টি কমিটি সদস্য, ২৩ জন এরিয়া কমিটির সদস্য, ৫৬ জন সাধারণ পার্টির সদস্য। জেলাওয়াড়ি পরিসংখ্যানটি হল, বীজাপুরে ৩৭ জন, দান্তেওয়াড়ায় ৩০ জন, সুকমায় ১৮ জন, বস্তারে ১৬ জন, নারায়ণপুরে ৪ জন এবং কঙ্কেরে ৩ জন। পুলিশের মতে, মাওবাদীদের এই বিরাট সংখ্যায় আত্মসমর্পণ মাওবাদী মতাদর্শের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র অভিযানের ফল।

    মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ

    পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৬ মাসে ছত্তিশগড়ে মোট ২,৭১৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত বস্তার বিভাগেই আত্মসমর্পণ করেছে ২,৬২৫ জন। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশে নকশালবাদের অবসানের জন্য ডেডলাইন দিয়েছেন চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এদিকে, বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দু’জন সদস্য এখনও পলাতক। গত বছরের শুরুতে এই কমিটিতে ২১ জন সদস্য ছিল, যার মধ্যে ১৯ জনই আত্মসমর্পণ করেছে বা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। ২০০০ সালের শুরুর দিকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিল ৪০-৪৫জন সদস্য।

    মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা

    উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে মাওবাদের অবসান হলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বস্তার অঞ্চল থেকে অধিকাংশ আধাসামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। বিধানসভায় বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার ৩১ মার্চ ২০২৬-কে সশস্ত্র মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এরপর ধাপে ধাপে বাহিনী প্রত্যাহার করা শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, এই বাজেটে পুলিশ বিভাগের জন্য ৭,৭২১.০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল বলেন, “সবাই চায় মাওবাদের অবসান হোক, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।” তাঁর প্রস্তাব, ৩১ মার্চ রাজ্যে মাওবাদ নির্মূলীকরণ উপলক্ষে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। আলোচনার শেষে ভোটাভুটিতে কাট মোশন ৩৭ বনাম ২৪ ভোটে খারিজ হয় এবং পরে বিধানসভা শর্মার দফতরগুলির বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করে।

     

LinkedIn
Share