Tag: Jairam Ramesh

Jairam Ramesh

  • Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-সহ দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার সংসদে হাজির বিজেপি (BJP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আর প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, ‘‘আমি স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।’’

    সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা

    সোমবার সংসদের মকর দ্বার প্রবেশপথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপেক্ষায় ছিলেন এনডিএ (NDA)-র একাধিক সাংসদ। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পৌঁছতেই তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক টুপি পরিয়ে স্বাগত জানান দলীয় সহকর্মীরা। যা বিজেপির তরফে তাঁর প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হাসিমুখেই সহকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    জয়রামের সহানুভূতি, প্রধানের পাল্টা জবাব

    এদিন সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কাছে পদত্যাগের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। জয়রাম রমেশ বলেন, “এমনটা হয়েই থাকে।” জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।” বিজেপি (BJP) নেতাদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি আসেনি।

    নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের জল্পনা

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) এই মন্তব্যের পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়ার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়ে আসছে দল। বিজেপির অন্দরে এখন জোর জল্পনা, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার আগামী দিনে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে কোনও একটির নির্বাচনী দায়িত্বও তুলে দেওয়া হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে।

    একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দলের দাবি।

    পাশে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রকাশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের প্রশংসা করেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই পদত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত নয়। বরং এটি “রাজনৈতিক জবাবদিহি”, “ত্যাগ” এবং “জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত”-এর উদাহরণ।

    বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

    একদিকে যখন বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছিল, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী দল ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ছবির মধ্যেই লোকসভায় আলোচনার জন্য তোলা হয় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।

  • Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, দুই দলের (TMC-Congress) সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর “সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য”।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল (Jairam Ramesh)

    জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত “আন্তরিক ও সৌজন্যমূলক”। দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে সেখানে মূলত ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC-Congress) বৈঠকে কী ঘটেছে তা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।” নয়াদিল্লিতে সোনিয়া-মমতার এই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের একাংশে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতেই কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতার কাছ থেকে এই স্পষ্টীকরণ এলো।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় ইস্তফা এবং বিদ্রোহী নেতাদের মন্তব্যের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের (TMC-Congress) সঙ্গে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণের জল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণই দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তৃণমূল ব্লকের পক্ষে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমানে আমাদের সঙ্গে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এঁরা সবাই এসে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেবেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের পক্ষে বিধায়কদের সমর্থন ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ হয়েছে এবং তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হবেন। ফলে এই সময়ে জয়রামের মন্তব্য মমতার জন্য কতটা সুবিধা জনক হবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

    কোনও প্রশ্নই ওঠে না

    শুধু তাই নয়, দলের সংযুক্তিকরণের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেসে (TMC-Congress) যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সংসদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদও কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছেন না।” ঋতব্রত জোর দিয়ে বলেন, দলের কোনও অংশ—তা সে সাংসদ, পুরপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সদস্য হোক না কেন, কেউই কোনও সংযুক্তিকরণের দিকে হাঁটছেন না। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল এবং কংগ্রেস দুই দল চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পরদিন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দুই নেত্রীর মধ্যকার আন্তরিকতার কথা জানানো হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যেদিন দুই নেত্রীর এই বৈঠক হয়, সেদিনই জালিয়াতি সই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায় সিআইডি (CID)-র একটি দল। রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

  • Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ আর বাড়াবে না। তেল কেনা বন্ধ হবে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি নয়াদিল্লির তরফে দেওয়া হয়নি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে।” মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এহেন মন্তব্য ভারত- রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আরও ইন্ধন জোগাল বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    কী বললেন রুবিও (Marco Rubio)

    রুবিও বলেন, “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নয়াদিল্লি মস্কো থেকে সম্পূর্ণভাবে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও প্রতিশ্রুতিই দেয়নি। এমন কিছু নেই-ও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে। তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি সেই রাজনৈতিক দাবিগুলির দাবিকেই খণ্ডন করে, যেখানে বলা হচ্ছিল যে মার্কিন চাপের মুখে ভারত পুরোপুরি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন ভারতের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি পেয়েছে যে তারা অতিরিক্ত রুশ তেল কিনবে না। এখানে মূল শব্দটি হল “অতিরিক্ত”।

    তেল আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত

    এর অর্থ, ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল হারে তেল আমদানি চালিয়ে যাবে, তবে এর বেশি বাড়াবে না। রুবিও এরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সমর্থন জানানো অব্যাহত রাখলেও, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং চাপ – উভয়ই থাকবে।” এই সম্মেলনেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হয় মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বাইরের কোনও চাপের ভিত্তিতে নয়।” তিনি বলেন, “ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুসরণ করে, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়নি।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল নিরন্তর মোদি সরকারের সমালোচনা করে চলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে।” তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন।” কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, “সংসদকে কি জানানো হয়েছে যে সরকার রুশ তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?” এই মন্তব্যগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের একাংশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছে। রুবিওর ব্যাখ্যা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় ভারত রাজি হয়নি।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, যার ৮০–৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সস্তায় তেল সরবরাহ করেছে, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ২০–৩০ মার্কিন ডলার কম ছিল। এর ফলে ভারত জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতে রুশ তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২০.৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও তা বাজারদর পরিবর্তন ও সরবরাহের বহুমুখীকরণের কারণে, রাজনৈতিক চাপে নয়। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। তবে অতিনির্ভরতা এড়াতে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় ফেরার পর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। তাঁর প্রশাসন ২০২৫ সালের অগাস্টে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়েছিল, যা অনেকেই ভারতের রুশ তেল নির্ভরতা কমানোর চাপ হিসেবে দেখেন।

    রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য

    ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে পরবর্তী আলোচনার ফলে একটি সংশোধিত বাণিজ্য সমঝোতা হয়, যাতে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয় এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা তুলে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি। বরং শুধু বর্তমান পরিমাণের বেশি না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও বলেছেন, “ভারতের সম্পূর্ণ অবরোধের দাবি মস্কোর পক্ষ থেকে আসেনি।” এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ভারত কীভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে। মিউনিখে রুবিওর বক্তব্য বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি জানান, ভারত রুশ তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কেবল আমদানি বর্তমান স্তরে স্থির রাখার কথা বলেছে। এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট, জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাশ্রয়ী মূল্য, প্রাপ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও।

  • Digvijay Singh: পুলওয়ামা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় দিগ্বিজয়কে থামালেন জয়রাম রমেশ

    Digvijay Singh: পুলওয়ামা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় দিগ্বিজয়কে থামালেন জয়রাম রমেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং (Digvijay Singh)। সোমবার সাংবাদিকদের সামনে পুলওয়ামা আক্রমণ নিয়ে আরও বেফাঁস মন্তব্য করা থেকে দিগ্বিজয়কে আটকালেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। সাংবাদিকরা দিগ্বিজয়ের মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলে, সাংবাদিকদের ঠেলে দূরে সরিয়ে দেন জয়রাম রমেশ।

    কী ঘটেছে?  

    ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং পুলওয়ামা হামলার বিষয়ে দিগ্বিজয়ের (Digvijay Singh) মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলে, জয়রাম রমেশ পিছন থেকে দ্রুত এগিয়ে যান এবং সাংবাদিকের হাতে ধরে রাখা মাইকটিকে ধাক্কা দেন। যদিও এরপরেও নিজের বক্তব্য রাখেন দিগ্বিজয় সিং। 

    সোমবার ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরে বিতর্কে জানান দিগ্বিজয় সিং (Digvijay Singh)। সোমবার জম্মুতে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রায় এসে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং বলেন, “আমাদের ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান পুলওয়ামায় শহীদ হয়েছিলেন। সিআরপিএফ আধিকারিকরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অনুরোধ করেছিলেন যে, কর্মীদের এয়ারলিফ্ট করা উচিত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজি হননি। কীভাবে এই ধরনের ত্রুটি ঘটল? আজ পর্যন্ত, পুলওয়ামা নিয়ে কোনও রিপোর্ট সংসদের সামনে রাখা হয়নি’। কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “তারা দাবি করে যে একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছে, কিন্তু প্রমাণ দেখায়নি। তাঁরা শুধু মিথ্যা ছড়ায়।”  

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জম্মুকাশ্মীরের উড়িতে সন্ত্রাসবাদী হামলার ১০ দিন পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত। উড়িতে সেনাবাহিনীর ১২ নম্বর ব্রিগেডের সদর দফতরে হামলা চালায় চার জন জঙ্গি। হামলায় মৃত্যু হয় ১৮ জন সেনার।

    এর আগে রবিবার দিগ্বিজয় সিং (Digvijay Singh) বলেন, “প্রথমত, আমরা রাজৌরির ধাংরি এবং জম্মুর নারওয়ালে সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা জানাই। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মুকাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে যা প্রচার করা হচ্ছে আসলে তা নয়। হত্যা এবং বোমা বিস্ফোরণ ফের শুরু হয়েছে।”

    আরও পড়ুন: মঙ্গলে কুন্তল-তাপসকে বসিয়ে মুখোমুখি জেরা! নীলাদ্রির ‘পরিচয়’ মিলবে এদিনই?

    প্রসঙ্গত রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার ১২৯তম দিনে তাতে যোগ দেন দিগ্বিজয় সিং (Digvijay Singh), কে সি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশ, জম্মুকাশ্মীর কংগ্রেসের প্রধান ভিকার রসুল ওয়ানি, কার্যকরী সভাপতি রমন ভাল্লা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তারিক হামিদ কাররা-র মতো নেতারা। গত ৭ সেপ্টেম্বর কন্যাকুমারী থেকে শুরু হয়েছে ভারত জোড়ো যাত্রা। আগামী ৩০ জানুয়ারি তা শ্রীনগরে সমাপ্ত হওয়ার কথা। পদযাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে একটি মেগা র‍্যালিতে দলের সদর দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

     
     
LinkedIn
Share