Tag: Jaish Terror Module

  • Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানোর অভিযোগে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এসটিএফ-এর ডিজি, সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ফাঁক ছিল কি না, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে— সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হবে।

    হামিদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

    বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু বর্ধমান নয়, হাওড়াকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল এই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হামিদ একা কাজ করছিল না। এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্তত চারজন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিদ নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য অবস্থান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে কাশ্মীরে থাকা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পাঠাত। এই তথ্যের বিনিময়ে সে নিয়মিত অর্থও পেত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

    ছাপোষা জীবনের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

    তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ময়কর। বাইরে থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাওড়ার পিলখানায় তার পরিবারের বসবাস। বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও দীর্ঘদিন সেই কারখানাতেই কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে সে দর্জির কাজও করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পিলখানা এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর সে বর্ধমানে চলে আসে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং-এ থাকছিল সে। এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় থেকেই কি নতুন করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

    পূর্ব ভারতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্ব?

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া— একাধিক দায়িত্ব সামলাত সে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। গোয়েন্দাদের মতে, তার সাধারণ চেহারা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই ছিল সবচেয়ে বড় আড়াল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পেরেছিল সে।

    শুধু বাংলা নয়, উত্তর-পূর্বেও সক্রিয় একই নেটওয়ার্ক

    এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অসমে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং একাধিক সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্লিপার সেল গঠন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত। গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ ও অপারেশন পরিচালনার চেষ্টা চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া— বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম— ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ, ভয়েস নোটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত হামিদ কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সদস্য। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, টার্গেটেড কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাকে একই সূত্রে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

    মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা বলয়ের প্রতিটি স্তর নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধৃত হামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। হামিদের ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।

LinkedIn
Share