মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে পৃথক দু’টি এনকাউন্টারে (Jammu Kashmir Encounter) নিহত হয়েছে মোট তিনজন জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের আগেই কিশতোয়ার ও উধমপুর জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন জন জইশ-ই-মহম্মদ সদস্যের। যা বড় সাফল্য বলেই মনে করছে বাহিনী। বুধবার সকালে উধমপুর জেলার একটি গুহায় আটকে পড়া দুই জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যাতেই কিশতোয়ারে বরফে ঢাকা চাতরু অঞ্চলে গুলির লড়াইয়ে এক জইশ সদস্য নিহত হয়।
পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গি নিহত
উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার একটি গোপন ডেরার খোঁজ পেয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী। একটি গুহার মধ্যে ছিল জঙ্গিদের গোপন আস্তানা। সেখানে ২ জঙ্গিকে শেষ করতে সফল হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে আসা একজন বেশ পরিচিত কমান্ডার মাভি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুবায়ের গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে। বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে গুলির লড়াই চলে। এম৪ রাইফেল, একে ৪৭, প্রচুর পরিমাণে গোলা-বারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে ওই ২ জঙ্গির থেকে।
কীভাবে চলল অভিযান
৩ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাবাহিনী শুরু করেছিল অপারেশন ‘কিয়া’। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের থেকে নিরাপত্তাবাহিনী খবর পেয়েছিল এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআইএফ, সেনার এবং হোয়াইট নাইট কোর (16 Corps)- ও সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথবাহিনীর দল একত্রিত হয়ে ওই জইশ জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে। উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জোপহার জঙ্গলে শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ক্যামেরা লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল স্নিফার ডগদের। জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেতেই সাহায্য নেওয়া হয়েছিল এই প্রাণীদের। প্রায় সারারাত ধরে গুলির লড়াই চলেছে ওই জঙ্গলে। একাধিকবার গ্রেনেড ছুড়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। যে গুহার মধ্যে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেই গোপোন আস্তানার মুখ লক্ষ্য করেই গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে। তারপরই ২ জঙ্গিকে (কমান্ডার) খতম করতে সক্ষম হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
নজরদারি এখনও চলছে
বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীরে আসছেন শাহ। তার আগে বুধবার বিকেলে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স ডেল্টা, সেনার হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে কিশতোয়ারের দুর্গম দিছড়ে অঞ্চলে ফের জঙ্গি আনাগোনার খবর পেয়েই এই অভিযান চালায় বাহিনীয় আর তাতেই আসে সাফল্য। হোয়াইট নাইট কোর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান এখনও চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় এখনও চলছে নজরদারি। জানা গিয়েছে, প্রায় চারমাস ধরে এই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। এখানে পাকাপাকি ভাবে ঘাঁটি গেড়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। অন্যান্য জায়গা থেকে সাহায্য জোগাড় করে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।


