Tag: Jammu Kashmir

Jammu Kashmir

  • Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (OGW) নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়ে তা ভেঙে দিল রাজৌরি পুলিশ। এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের লজিস্টিক সহায়তা, নিরাপদে যাতায়াত এবং অন্যান্য মাটির স্তরের সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন জাকির হুসেন, গুলাম হুসেনের ছেলে, রাজৌরির কোটচরওয়াল তেরিয়াথের বাসিন্দা; মোহাম্মদ আজম, আলি বাহাদুরের ছেলে, একই এলাকার বাসিন্দা; এবং মোহাম্মদ মুস্তাক, মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে, রাজৌরির উদান এলাকার বাসিন্দা।

    কীভাবে জঙ্গিদের সহায়তা

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় একটি জঙ্গি মডিউলের তদন্তের সময় এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, ধৃতরা জঙ্গিদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করতেন। এমনকি তাঁরা গাইড হিসেবে কাজ করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক হাই-প্রোফাইল হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদেরও তাঁরা প্রাথমিক স্তরে সহযোগিতা করেছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। এর মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনাও রয়েছে।

    এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধির খোঁজ চলছে

    তদন্তের সময় এক অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা ওই বিস্ফোরকটি ধৃত ব্যক্তির হাতে নিরাপদে রাখার জন্য তুলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা কোনও নির্দিষ্ট হামলায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ। আইইডি উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনের গ্রেফতারি পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজৌরি পুলিশ। এখন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং জঙ্গি কার্যকলাপে এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধি কতটা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গিদের সহযোগী কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাজৌরি পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Jammu & Kashmir: পর্ন সাইটের চ্যাটে জঙ্গি যোগাযোগ! কাশ্মীরে নিয়োগ করা সদস্যদের সঙ্গে গোপন বার্তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের

    Jammu & Kashmir: পর্ন সাইটের চ্যাটে জঙ্গি যোগাযোগ! কাশ্মীরে নিয়োগ করা সদস্যদের সঙ্গে গোপন বার্তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নজরদারি এড়াতে এবার পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের চ্যাট পরিষেবা ব্যবহার করে জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) নিয়োগ করা জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তানভিত্তিক (Pakistan) জঙ্গি সংগঠনগুলি। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে নিরাপত্তা আধিকারিকদের তদন্তে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-সহ (ISI) একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীও এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে নজরদারি বাড়ায় যোগাযোগের নতুন মাধ্যম (Terrorists Using Porn Websites) খুঁজছে জঙ্গি হ্যান্ডলাররা। কয়েকটি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে থাকা রিয়েল-টাইম চ্যাট সুবিধা, যা সাধারণত কাছাকাছি এলাকার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তৈরি, সেই পরিষেবাকেই গোপন বার্তা আদানপ্রদানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    টর-ভিত্তিক অ্যাপেও নজর

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও বেশ কিছু বিশেষ ডিজিটাল টুলের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গি হ্যান্ডলাররা টর-ভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপ কোটক্স (Cotecks) এবং কনিয়ন (Conion)-এর মতো পরিষেবাও ব্যবহার করছে। এই ধরনের প্রযুক্তিতে এনক্রিপ্টেড নোডের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ। ভারতে কনিয়ন-এর এপিকে ফাইলের অ্যাক্সেস ইতিমধ্যেই ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এপিকে হল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অ্যাপ ইনস্টল ও বিতরণের জন্য ব্যবহৃত ফাইল ফরম্যাট।

    ফ্রান্স, ভিয়েতনাম ও অজ্ঞাত অ্যাপও নজরে

    নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি অ্যাপও। ওই অ্যাপে সিম কার্ড বা ফোন নম্বর ছাড়াই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মেসেজ পাঠানো যায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ভিয়েতনামভিত্তিক কয়েকটি অ্যাপ এবং মুন চ্যাট (MoonChat)-এর মতো অ্যানোনিমাস প্ল্যাটফর্মও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, মুন চ্যাট-এর কয়েকটি পিজিপি-এনক্রিপ্টেড সংস্করণের উৎস নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং সেগুলির কিছু সংস্করণে প্রচলিত রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাও নেই।

    ভিপিএন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ অ্যাপ ডাউনলোড

    নজরদারি এড়াতে নয়া চাল (Terrorists Using Porn Websites) জঙ্গিদের, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে পর্ন সাইটের মাধ্যমে চলছে যোগাযোগ। ভারতে নিষিদ্ধ থাকা বেশ কিছু পর্নোগ্রাফিক অ্যাপও ভিপিএন ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ডাউনলোড করা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি। ভিপিএন ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা আড়াল করা এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিক এনক্রিপ্ট করা সম্ভব হয়। ফলে অনলাইন কার্যকলাপ শনাক্ত করা আরও কঠিন হতে পারে।

    টুজি নেটওয়ার্কেও চলছে যোগাযোগ

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, উপত্যকায় (Jammu & Kashmir) কিছু জঙ্গি হ্যান্ডলার ও তাদের নিয়োগ করা সদস্য এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করছিল, যেগুলি টুজি বা এজ নেটওয়ার্কেও কাজ করতে সক্ষম। কয়েকটি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফোন নম্বর বা ই-মেল ঠিকানার প্রয়োজন হয় না বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

    ভার্চুয়াল সিম নিয়েও তদন্ত

    বিদেশি সংস্থার তৈরি ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার বন্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় এই নতুন যোগাযোগ কৌশলের বিষয়টি সামনে আসে। ভার্চুয়াল সিম প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোনে ফোন নম্বর তৈরি বা ব্যবহার করা যায়, ফলে প্রচলিত টেলিকম ব্যবস্থার তুলনায় কম ডিজিটাল চিহ্ন রেখে যোগাযোগ করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার তদন্তেও ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার সামনে এসেছিল। ওই হামলায় ৪০ জন সিারপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন এই সমস্ত বিকল্প ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে উপত্যকার স্থানীয় নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং নজরদারি এড়ানোর নতুন প্রযুক্তিগত কৌশলগুলিকে প্রতিহত করা।

    কেন এই নয়া পদ্ধতির ব্যবহার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারির ফাঁদ এড়াতে মারাত্মক চাল চেলেছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতারা (Terror groups porn sites)। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং নতুন সদস্য নিয়োগ করতে সাধারণ অ্যাপ ছেড়ে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট ও গোপন এনক্রিপ্টেড অ্যাপকে নিজেদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে তারা (ISI Jammu and Kashmir surveillance)। পাকিস্তানভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকদের মগজধোলাই ও গোপন বার্তা পাঠাতে এই ছক কাজে লাগাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা সিগন্যালের মতো পরিচিত মাধ্যমে ইদানিং কড়া নজরদারি চলায় জঙ্গি সংগঠনগুলো বিকল্প পথ ধরেছে। বর্তমানে তারা এমন কিছু পর্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, যেগুলোতে ডেটিংয়ের নামে ‘লাইভ চ্যাট’ বা গোপন বার্তা পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু এনক্রিপ্টেড অ্যাপ বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডির প্রয়োজন হয় না।

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের (Wandhama Massacre) তদন্ত ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর (JK SIA) রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। ওই হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন। উপত্যকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তুঙ্গপর্বে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকালাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার মামলার তদন্তও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যার মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছিল।

    ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড ও টাপলুর হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন আগে কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা এখন হামলায় জড়িত জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

    ওয়ান্ধামায় নিহত ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিত (JK SIA)

    ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামের কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা। হামলায় ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন এবং রমজান মাসের অন্যতম পবিত্র রাত শবে কদরের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি (JK SIA)।

    নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘটনাটি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের সময়কালের বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাগুলির পুনর্তদন্তের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুরনো হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    জুন মাসে সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৩৭ পাতার অভিযোগপত্র পেশ করে ওই সংস্থা। ১৯৯০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জেলবন্দি জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Wandhama Massacre)।

    এর পর অগাস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

    টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি গঞ্জুর মামলায়ও নজর

    কাশ্মীরের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সহ-সভাপতি টিকালাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে টাপলুর হত্যাও ছিল অন্যতম (JK SIA)।

    বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তও নতুন করে জোরদার করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি গঞ্জু।

    ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে সন্দেহভাজন জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বিচারপতি গঞ্জু। তার আগে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

    কয়েক দশকের পুরনো মামলায় ফের তৎপরতা

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলিকে ফের তদন্তের আওতায় আনার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ। সরলা ভাট এবং সর্বানন্দ কৌল প্রেমীর হত্যার মামলায় সাম্প্রতিক তদন্ত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগপত্র পেশের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা কয়েক দশকের পুরনো একাধিক মামলার সূত্র খতিয়ে দেখছে। জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে সন্ধান করা হচ্ছে (Wandhama Massacre) নতুন সূত্রের।

    ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলা ফের সক্রিয় তদন্তের আওতায় এল। ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড, টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার পুনর্তদন্ত সেই প্রক্রিয়াকেই আরও বিস্তৃত করল (JK SIA) বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল শিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য (LG Manoj Sinha) নির্বাচিত দু’টি বইয়ে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে যে দু’টি বই (Jammu Kashmir)

    সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত বই দু’টি হল ‘পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু ও কাশ্মীর (সিরিজ-৪)’ এবং ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’। বই দু’টি বিশেষজ্ঞ সাবকমিটির অনুমোদনের পর সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় জম্মু, রামবান, উধমপুর ও বারামুলা-সহ কয়েকটি জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যায় পাঠানো হয়েছিল। ৩ জুলাই সেগুলি তুলে নেওয়া হয়।

    তরুণ মনে বিষ ঢালার চেষ্টা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, বই দু’টিতে জেকেএলএফ প্রতিষ্ঠাতা মকবুল ভাট, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, শব্বির শাহ, মিরওয়াইজ উমর ফারুক ও মাসারত আলম ভাটকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি “ভারত অধিকৃত কাশ্মীর” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদ-সমর্থক বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। শাসক দলের নেতাদের দাবি, “বইগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “এটি শিক্ষার মোড়কে তরুণ প্রজন্মের মনে বিষ ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

    আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    সরকারের বক্তব্য, বই নির্বাচন, মূল্যায়ন ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া, গুরুতর গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (Jammu Kashmir) নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচন ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিক অশ্বিনী কুমারকে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এর (LG Manoj Sinha) পাশাপাশি দুই লেখক ও দুই প্রকাশককে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের লেখা বা প্রকাশিত সমস্ত মুদ্রিত বই প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

     

  • Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রা। চলবে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত। এই পবিত্র তীর্থযাত্রাকে (Amarnath Yatra) ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir) প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। আগামী দু’মাসে লক্ষাধিক ভক্ত অমরনাথ গুহা মন্দিরে দর্শনে যাবেন জম্মু থেকে পাহেলগাঁও এবং বালতাল রুট ধরে। সেই কারণে গোটা যাত্রাপথে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা বলয় (Jammu Kashmir)

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার, উন্নত যানবাহন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, আরএফআইডি ট্র্যাকিং এবং কড়া পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে যাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার সতর্কতা নেই, তবুও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে।

    কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র

    এই (Jammu Kashmir) প্রথমবার তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত ঘোড়াওয়ালা, পিঠু শ্রমিক ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র চালু করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এর ফলে পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশে কোনও জঙ্গি অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য মিলবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার ও ‘মাচান মোর্চা’ তৈরি করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত মক ড্রিল ও নজরদারি মহড়া চালাচ্ছে।

    ‘নো-ফ্লাই জোন’

    এছাড়াও, পুরো অমরনাথ যাত্রাপথকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এবারও হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ থাকছে। তীর্থযাত্রীদের কনভয় চলাচলের সুবিধার্থে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক এবং উপত্যকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় (Amarnath Yatra) বিশেষ ট্রাফিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ, এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানই এবার যাত্রা সফল করার প্রধান চাবিকাঠি বলেই (Jammu Kashmir) ধারণা প্রশাসনের।

     

  • Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কখনওই কোনও ধরনের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের জঘন্য পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হামলার নিহত পর্যটকদের স্মরণ করে বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত বছর এই দিনে পহেলাগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় হারিয়ে যাওয়া নিরীহ প্রাণগুলিকে স্মরণ করছি। তাঁদের কখনওই ভোলা যাবে না। এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির কথা ভাবছি, কী ভীষণ ক্ষতির সঙ্গে যুঝছেন তাঁরা।’’ বুধবার বৈসরণ উপত্যকার একাংশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর থেকে সেগুলি বন্ধ ছিল।

    শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ

    নয় নয় করে এক বছর পার পহেলগাঁও হামলার। ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলও। এতদিন পরও সেই দিনটি স্মরণ করে শিউড়ে ওঠেন সকলে। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে মোদি লিখেছেন, ‘‘একটি জাতি হিসেবে, আমরা শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও রকমের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। জঙ্গিদের চক্রান্ত সফল হবে না কখনও।’’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় স্পষ্ট করেন।

    ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হল

    অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সবুজ বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বৈসরনে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছোনো যায়। যাকে ভালবেসে ভ্রমণপিপাসুরা ‘মিনি সুই‌ৎজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। গত বছর ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আরও ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র উন্মুক্ত করা হল ভ্রমণার্থীদের জন্য। পহেলগাঁও থেকে বৈসরণ উপত্যকাগামী হাঁটাপথে বুধবার কিছু পর্যটক গিয়েছিলেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় আধাসেনা। চিহ্নিত এলাকার বাইরে পর্যটকদের যাওয়ার উপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনার

    পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সিঁদুর অভিযানকে স্মরণ করে মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিল ভারতীয় সেনা। সেনার পোস্টে প্রতিবেশী দেশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়— কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তার পরিণতি হয় ভয়ানক। পহেলগাঁওয়ের বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানের নাম না করেই সেনার তরফে দেওয়া হয় কঠোর বার্তা। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে একটি কার্ড পোস্ট করেছে ভারতীয় সেনা। সেখানে লেখা হয়েছে— “কিছু সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।” তার ঠিক নিচেই লেখা, “ভারত কখনও ভুলবে না।” এইসঙ্গে পোস্টের ক্য়াপশানে লেখা হয়েছে— “যখন মানবতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ানক। তাই কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। বিচার অবশ্যই পাওয়া যায়। ভারত ঐক্যবদ্ধ।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক

    পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের স্মরণে লিডার নদীর তীরে কালো মার্বেল দিয়ে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেই স্মৃতিসৌধে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে। বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সভার আয়োজন করা হয়। পর্যটকরাও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সেখানে। হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সর্বত্র। লিডার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ দেশের কাছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

    ভারতীয় সেনার হামলায় বিপর্যস্ত জঙ্গিরা

    ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালায়। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে পর্যটকদের খুন করা হয়েছিল পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী টাট্টুঘোড়াওলা। এই হামলার জবাবে সিঁদুর অভিযানে চালায় ভারতীয় সেনা। পাক ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হয়। এই জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

    অপারেশন মহাদেব

    হামলার পর ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন মহাদেব’। দাচিগাম ও মহাদেব রিজ সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় টানা ৯৩ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা খতিয়ে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত হামলার মূল তিন জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় সেনা। ভারতীয় সেনা জানায়, “ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও হামলার জবাব নিশ্চিত। ন্যায়বিচার হবেই।” পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন মহাদেব’ ও ‘অপারেশন সিঁদুর’—দুটি পদক্ষেপই দেখিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের কৌশল স্পষ্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত আঘাত এবং কোনওরকম আপস নয়। ভারত সরকার ও সেনার বার্তা স্পষ্ট,“ভারত ঐক্যবদ্ধ, মানবতার সীমা লঙ্ঘিত হলে জবাব হবে নির্ণায়ক।”

LinkedIn
Share