Tag: Jammu

Jammu

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের শ্রী অমরনাথ যাত্রায় (Shri Amarnath Yatra) তৈরি হল নয়া ইতিহাস। যাত্রা শুরুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই পবিত্র গুহা মন্দির দর্শন করেছেন ৩ লাখেরও বেশি তীর্থযাত্রী (Pilgrims)। মঙ্গলবার এই সংখ্যা পার হয়েছে ৩ লাখের গণ্ডি। ২৮ অগাস্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা তথা রাখিবন্ধনের দিন শেষ হবে ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রা। প্রশাসনের আশা, যাত্রা শেষ হওয়ার আগেই এ বছর তীর্থযাত্রীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

    উপরাজ্যপালের বার্তা (Shri Amarnath Yatra)

    জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এই সাফল্যের জন্য প্রশাসনের আধিকারিক, বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “শ্রী অমরনাথ যাত্রা মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই পবিত্র যাত্রাকে প্রতিটি ভক্তের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্মরণীয় করে তুলতে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, সেই সব আধিকারিক, পরিষেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আমি অভিনন্দন জানাই। হর হর মহাদেব!” মঙ্গলবার দর্শনের দ্বাদশ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৬ হাজার ৩০৮ জন ভক্ত দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার ৩ হাজার ৮৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বাবা বরফানির পবিত্র গুহা মন্দিরে পুজো দেন। বালতাল ও পহেলগাঁও— এই দুই পথ দিয়ে তাঁরা গুহা মন্দিরে পৌঁছন।

    তুষারলিঙ্গ দর্শন

    এর ফলে ৩ জুলাই যাত্রা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ১ হাজার ৯২৬ জন তীর্থযাত্রী ইতিমধ্যেই তুষারলিঙ্গ দর্শন করে ফেলেছেন। এঁদের সিংহভাগই নিজ নিজ রাজ্যে ফিরেও গিয়েছেন। তবে অনেকে সোনমার্গ, ক্ষীর ভবানী মন্দির, শঙ্করাচার্য মন্দির-সহ কাশ্মীরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শন শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে (Shri Amarnath Yatra)। পুরো তীর্থযাত্রা জুড়েই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জম্মু ও শ্রীনগরের প্রশাসন যৌথভাবে যাত্রা পরিচালনা করছে। প্রতিদিন ভোর প্রায় ৩টা থেকে বালতাল ও পহেলগাঁও রুটের উদ্দেশে তীর্থযাত্রীদের (Pilgrims) দল রওনা দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় নির্দিষ্ট বিশ্রামস্থলে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

    তীর্থযাত্রার সাত-সতের

    দর্শন শেষে ফেরার সময়ও একইভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় তীর্থযাত্রীর দল যাতায়াত করে। যাত্রার সময় জাতীয় সড়কে তীর্থযাত্রীদের দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যবাহী গাড়ির সারিও তৈরি হয়। এ বছর আবহাওয়াও তীর্থযাত্রীদের অনুকূলে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ দিনই গুহা মন্দির এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় যাত্রায় কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। সাধারণত ভারী বৃষ্টির সময় দুই পথই পিচ্ছিল হয়ে গেলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় পুণ্যযাত্রা। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যাত্রাপথে একাধিক স্থানে বিনামূল্যে ভোজশালায় নানা ধরনের খাবার, চা ও জলখাবারের ব্যবস্থা রয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

    পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন

    শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন গত কয়েক বছরে যাত্রাপথের পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। রাস্তা চওড়া করা, যাত্রী নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন জায়গায় ওয়েটিং রুম এবং অস্থায়ী তাঁবু নির্মাণের ফলে এখন তীর্থযাত্রা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে হচ্ছে (Pilgrims)। প্রতিদিন জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে ভোর ৩টার দিকে বালতালগামী দল এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরে পহেলগাঁওগামী দল রওনা দেয়। পুরো জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ তীর্থযাত্রী ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গুহা মন্দিরে দর্শন করা মোট তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, বিপুল সংখ্যক ভক্ত অন্য পথ দিয়ে যাত্রায় অংশ নিয়েছেন (Shri Amarnath Yatra)।

    অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী

    যাত্রা পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চন্দেরকোট, রামবান এবং বানিহাল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তীর্থযাত্রীর ভিড় কিছুটা কমে যাওয়ায় জম্মুর মহাজন হলের নিবন্ধন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাওয়ি নদী তীর কেন্দ্র, গীতা ভবন এবং পুরানি মণ্ডির রাম মন্দিরে নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এই রাম মন্দিরে প্রতি বছর বহু সাধু-সাধ্বী তীর্থযাত্রার আগে অবস্থান করেন। এদিকে, কাঠুয়ার লক্ষণপুরে রাতের বেলায় পৌঁছনো তীর্থযাত্রীদের সরাসরি জম্মুর দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের স্থানীয় শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পরের দিন সকালে সরকারি বহরের সঙ্গে জম্মুর উদ্দেশে রওনা করানো হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লক্ষণপুরে একসঙ্গে (Pilgrims) ২ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে আহারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

     

  • Omar Abdullah: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে খুনের চেষ্টা, নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওমরের

    Omar Abdullah: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে খুনের চেষ্টা, নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওমরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার (Omar Abdullah) বাবা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স সুপ্রিমো ফারুক আবদুল্লার ওপর হামলার চেষ্টা। ঘটনায় যারপরনাই বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ে থাকা সত্ত্বেও হামলাকারী কীভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছে গেল?

    পিছন থেকে গুলি, বরাতজোরে বাঁচল প্রাণ

    বুধবার সন্ধ্যায় জম্মুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবীণ ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লাকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়্যাল পার্কে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি পিস্তল হাতে আবদুল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ের দায়িত্বে থাকা এনএসজি-র নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন এবং গুলিটি প্রতিহত করেন। ফলে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন ফারুখ আবদুল্লা। ঠিক সেইসময় পিছন দিক থেকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঢুকে পড়েন ওই অভিযুক্ত। ফারুখ আবদুল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কী কারণে এই হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। ঘটনার জেরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। ওই অভিযুক্তের দাবি, ২০ বছর ধরে তিনি ফারুখ আবদুল্লাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছেন।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Omar Abdullah)

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান ফারুক।” এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে ওমর লেখেন, “আল্লাহ্ দয়ালু। আমার বাবা অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়, তবে জানা গিয়েছে যে এক ব্যক্তি পিস্তল নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে আটক করে, ব্যর্থ হয় হত্যার চেষ্টা। এখন উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এনএসজির জেড প্লাস নিরাপত্তায় থাকা একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে কেউ কীভাবে পৌঁছতে পারল?”

    ফারুক আবদুল্লা সুস্থ

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানি জানান, ঘটনায় কেউ আহত হননি, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এমন কিছু নয়। আল্লাহ্ খুব দয়ালু।” পুলিশি ব্যবস্থার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে (Omar Abdullah) তিনি বলেন, “এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তাই এখনই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।” তিনি বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বোঝা যাবে অভিযুক্ত কেন গুলি করার চেষ্টা করেছিল, তার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল।” তিনি জানান, ফারুক আবদুল্লা (Farooq Abdullah) সম্পূর্ণ সুস্থ, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।

    কী বললেন উপমুখ্যমন্ত্রী

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও জানিয়েছে, ফারুক আবদুল্লার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এনএসজি সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ করায় ব্যর্থ হয় হামলার চেষ্টা। অভিযুক্তের নাম কামাল সিং। তাকে আটক করা হয়েছে। সে জম্মুর পুরানি মান্ডি এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রটিও। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে, চলছে তদন্তও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী। তিনিও জানান, ঘটনায় কেউ আহত হননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনিও। জম্মু জোনের (Farooq Abdullah) পুলিশের আইজিপি (IGP) গাংগিয়াল থানায় পৌঁছন। এখানেই ফারুক আবদুল্লার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় রয়েছে অভিযুক্ত (Omar Abdullah)।

     

  • Jammu and Kashmir: কাশ্মীরের ডোডায় খাদে পড়ল সেনার গাড়ি, নিহত ১০ জওয়ান

    Jammu and Kashmir: কাশ্মীরের ডোডায় খাদে পড়ল সেনার গাড়ি, নিহত ১০ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু একাধিক সেনা জওয়ানের। কাশ্মীরের ডোডা জেলায় খাদে পড়ে গিয়েছে সেনার একটি গাড়ি। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। একাধিক জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর। ডোডা জেলায় খান্নি টপে ভাদেরওয়া-চাম্বা রোডের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    কীভাবে ঘটে এই দুর্ঘটনা

    দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার,১৭ জন সৈন্য বহনকারী একটি সামরিক যান উঁচু পোস্টের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ডোডার ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খানি টপের কাছে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দশজন সৈন্য নিহত হন, অন্যরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে সহায়তা করতে সেখানে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযানের সময় ১০ জন সৈন্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত সৈন্যদের উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তিনজনকে হেলিকপ্টার করে উধমপুরের কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডোডা মেডিক্যাল কলেজ থেকেও ডাক্তার ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের একটি দলকে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আহত সৈন্যদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণ হারানো সৈন্যদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিন‍্‍হা সেনা জওয়ানদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে উপরাজ্যপাল সিনহা লেখেছেন, “ডোডা জেলায় সেনার গাড়ি দুর্ঘটনায় আমরা ১০ জন জওয়ানকে হারিয়েছি ৷ এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সাহসী সেনাদের অসামান্য বীরত্ব ও তাঁদের আত্মত্যাগ সর্বদা স্মরণ করব। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।” ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা৷ এক্স হ্যান্ডেলে নিহত সেনা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।কয়েকদিন আগেই গুলমার্গ সেক্টরে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ২ জন সেনা পোর্টার। সেই গাড়িটিও খাদে পড়ে গিয়েছিল।

  • Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীন পরিবেশ (Jammu Kashmir) মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদন দিল জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় ২৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,২৭৭.৪৫ কোটি টাকা (Indus Treaty Freeze)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে বর্তমানে চালু থাকা ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপ ২০০৭ সালে চালু হয় এবং তারপর থেকে সফলভাবে কাজ হয়ে আসছে।

    মউ স্বাক্ষর (Jammu Kashmir)

    রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন প্রায় চার বছর আগে, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিল্ড–ওন–অপারেট–ট্রান্সফার মডেলে ৪০ বছরের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–টু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে চেনাব নদীর জল ব্যবহার করা হবে। নদীটি সিন্ধু নদের অববাহিকার অন্তর্গত। পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সমস্ত নকশা ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির নিয়ম মেনে পরিকল্পিত। যদিও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র

    নতুন প্রকল্পের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮.৫ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট ৩,৬৮৫ মিটার দীর্ঘ একটি পৃথক সুড়ঙ্গ দিয়ে জল আনা হবে। এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে স্টেজ–টু প্রকল্পের জন্য একটি হর্সশু আকৃতির পন্ডেজ নির্মাণ করা হবে। পন্ডেজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় একটি সার্জ শ্যাফ্ট, প্রেশার শ্যাফ্ট এবং একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট বসানো হবে। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ক্ষমতা হবে ২৬০ মেগাওয়াট, এবং বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে (Indus Treaty Freeze)।

    ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ

    প্রকল্পটির জন্য মোট ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ আনুমানিক ৬০.৩ হেক্টর। এই প্রকল্পের জন্য কিশ্তওয়ার জেলার বেঞ্জওয়ার ও পালমার—এই দুই গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য পূর্বে অধিগৃহীত জমিও দ্বিতীয় পর্যায় তৈরিতে ব্যবহার করা হবে (Jammu Kashmir)। পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি নির্দেশ দেয় যে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি সমীক্ষা করা হবে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সরকারি বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, “প্রকল্প চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষা হবে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা দ্বারা সম্পন্ন।”

    চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস

    এছাড়াও মন্ত্রক এনএইচপিসি (NHPC) এবং চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড (CVPPL)-কে একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে চেনাব নদী অববাহিকার টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করা যায়। এই সমীক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে সুদৃঢ় পরিবেশগত প্রবাহ ব্যবস্থা, নদীখাতের গঠন ও পলিসঞ্চালন প্রক্রিয়ার পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জলজ ও নদীতীরবর্তী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ মোকাবিলা এবং চেনাব অববাহিকার ক্যাসকেড কাঠামোর মধ্যে মারুসুদার উপনদীকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

    দুল হস্তি জলাধার

    দুল হস্তি জলাধারে প্রতিবছর গড়ে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন পলি জমা হয়, যার বেশিরভাগই মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে, যখন নদীর জলপ্রবাহ বেশি থাকে। জলাধারের ধারণক্ষমতা বজায় রাখতে পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লাশিং ও স্লুইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (Indus Treaty Freeze)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার পর প্রকল্পটি ৪৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের কারণে প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্প রূপায়ণ করতে গেলে কোনও বনভূমি পড়বে না। তাই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বন দফতরের কোনও ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন নেই। এনএইচপিসি প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই নির্মিত বাঁধ ও ইনটেক কাঠামো ব্যবহার করবে। তাই নতুন করে কোনও জলাধার নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না (Jammu Kashmir)।

  • Kashmir Times Office Raid: ‘দেশ-বিরোধী’ প্রচার! কাশ্মীরে সংবাদপত্রের অফিসে পুলিশি অভিযানে মিলল একে-৪৭-র গুলি

    Kashmir Times Office Raid: ‘দেশ-বিরোধী’ প্রচার! কাশ্মীরে সংবাদপত্রের অফিসে পুলিশি অভিযানে মিলল একে-৪৭-র গুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবিরোধী কাজে উৎসাহ দেওয়া, অস্ত্র মজুত করা সহ নানা অভিযোগে কাশ্মীর টাইমসের (Kashmir Times Office Raid) জম্মুর দফতরে তল্লাশি চালাল সে-রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা এসআইএ। সূত্রের খবর, সংবাদপত্রের অফিসে তল্লাশি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সঙ্গে একে-৪৭-এর কার্তুজ, পিস্তলের গুলি এবং গ্রেনেডের তিনটে লিভার উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে আরও ৪ অভিযুক্তকে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এখনও পর্যন্ত এনআইএ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    ‘কাশ্মীর টাইমস’ এর অফিস থেকে উদ্ধার অস্ত্র

    দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে জম্মুতে ‘কাশ্মীর টাইমস’ সংবাদপত্রের (Kashmir Times Office Raid) অফিসে হানা দিয়েছে এসআইএ (স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)। দিল্লির লাল কেল্লায় গাড়ি বিস্ফোরণ এবং জইশ-ই-মহম্মদের ‘ডাক্তার জঙ্গি’ নেটওয়ার্কের তদন্তে বৃহস্পতিবার জম্মুর রেসিডেন্সি রোডে কাশ্মীর টাইমস সংবাদপত্রের অফিসে তল্লাশি চালায় রাজ্য তদন্ত সংস্থা (এসআইএ)। সম্প্রতি এই সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছে। এই এফআইআর-এর কারণেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। এদিন কাশ্মীর টাইমসের অফিসে থাকা নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। এসআইএ-র তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার হয় একে-৪৭-এর কার্তুজ, পিস্তলের গুলি এবং গ্রেনেডের তিনটে লিভার। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, ‘আমরা মনে করছি যে, এই সব কিছুই বেআইনি ভাবে রাখা হয়েছিল যা দেশ-বিরোধী বা চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত করছে। আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।’

    ভারত-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ -এর অভিযোগ 

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশে সন্ত্রাস-দমন শাখা এসআইএ-র অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে লেখা ভারত-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এই সংবাদপত্রে। এই সব প্রতিবেদন লেখকের নামও উল্লেখ থাকে। দেশবিরোধী কার্যকলাপ প্রচারের অভিযোগে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এসআইএ। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিনের নামও এফআইআর-এ রয়েছে। বছর চারেক ধরে বন্ধ শ্রীনগরের প্রেস এনক্লেভে ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর অফিস। ২০২১-২২ থেকে বন্ধ প্রকাশনাও। বর্তমানে পুরোটাই অনলাইন। সেই বন্ধ অফিসেই বৃহস্পতিবার সাতসকালে হানা দেয় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)।’ পুলিশ ‘কাশ্মীর টাইমস’–এর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করেছে, সেখানে বলা হয়েছে — এই নির্দিষ্ট মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাবধারা প্রচার করছিল। পাশাপাশি উস্কানিমূলক মন্তব্য, সাজানো ও মিথ্যে বক্তব্য তুলে ধরা, জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্মকে মৌলবাদে উৎসাহিত করা, জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব, শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করা এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে তাদের প্রকাশিত সংবাদ ও ডিজিটাল কনটেন্ট-এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

    এর পরে কী?

    এর আগে, ২০২০-এর অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর শ্রীনগর অফিস সিল করে দেয়। পরে অবশ্য মেন গেট-সহ দু’একটা রুমে যাওয়ার অনুমতি ছিল। তার প্রায় পাঁচ বছর পরে ফের তল্লাশি চলল এই সংবাদমাধ্যমের অফিসে। এর পরে কী? তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানায়নি পুলিশ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব কিছু ফরেন্সিকে পাঠানো হবে। তা হলেই বোঝা যাবে কোন উদ্দেশ্যে, কেন, কোথায় এই সব ব্যবহার করা হতো এবং কোনও জঙ্গি সংগঠন বা সন্ত্রাসবাদ-সহমর্মী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ রয়েছে কি না।

    দিল্লি বিস্ফোরণে শ্রীনগর থেকে ধৃত আরও ৪

    দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে শ্রীনগর থেকে আরও চার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গণাই, অনন্তনাগের চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথের, উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের চিকিৎসক শাহিন সাঈদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে। পাটিয়ালা হাউস কোর্টের নির্দেশে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। এনআইএ জানিয়েছে, হামলার পরিকল্পনা, অর্থসংস্থান, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সব দিকেই বড় ভূমিকা ছিল এই চার জনের।

  • Kashmir: চেনা ছন্দে ফিরল ভূস্বর্গ, দশেরায় মাতল শ্রীনগর

    Kashmir: চেনা ছন্দে ফিরল ভূস্বর্গ, দশেরায় মাতল শ্রীনগর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দশকেরও বেশি সময় পরে ফের ঘটা করে দশেরা উৎসব পালিত হল জম্মু-কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে (Kashmir)। আবারও প্রাণ ফিরে পেল ভূস্বর্গ। গত ২ অক্টোবর হাজার হাজার কাশ্মীরি হিন্দু এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও উৎসব (Grand Dussehra) পালন করতে জড়ো হয়েছিলেন শের-ই-কাশ্মীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি অঞ্চলে এটি ছিল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক পুনর্জাগরণ।

    গর্বের দশেরা (Kashmir)

    এদিনের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের বিশাল মূর্তি পোড়ানো। স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে রাখা অতিকায় প্রতিমাগুলি আগুনের করাল গ্রাসে চলে গেলে ৫ হাজারেরও বেশি দর্শক করতালিতে ফেটে পড়েন। সঙ্গে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত, পটকা ফাটানো ও মিষ্টি বিতরণ। দশেরার এই উৎসব ছিল সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক গর্বের এক বিরল মুহূর্ত। এবারের এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরাও। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী ইলতিজা মুফতিও উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন (Kashmir)।

    কাশ্মীরি হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি

    অনুষ্ঠানের আয়োজক কাশ্মীরি হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে ইন্দিরা নগরের একটি মন্দির থেকে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা বের হয়, ঠিক ৩৩টি বছর আগেও যেমনটি হত।কাশ্মীরি হিন্দু রাহুল মাত্তু বলেন, “কাশ্মীরে দশেরা আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষদের একত্রিত করে। এটি আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।” স্থানীয় বাসিন্দারাও একই কথা বলেন। তাঁরা উৎসবটির ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “এটি আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে দৃঢ় করে, আশার সঞ্চার করে।” ক্ষীরভবানীর এক বাসিন্দা বলেন, “দশেরা উদযাপন আমাদের শেকড় ও যৌথ ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি আশা ও একতার এক বিশেষ মুহূর্ত।”

    উৎসবের সমাপ্তি হয় এক মনোমুগ্ধকর আতশবাজির প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এটি শ্রীনগরের আকাশকে রঙিন করে (Grand Dussehra) তোলে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছিল প্রশাসন (Kashmir)।

  • Terrorist Bagu Khan: কাশ্মীরে খতম হিউম্যান জিপিএস, চেনেন একে?

    Terrorist Bagu Khan: কাশ্মীরে খতম হিউম্যান জিপিএস, চেনেন একে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) গুরেজ সেক্টরে গত সপ্তাহে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছে দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজন ছিল বাগু খান। হিউম্যান জিপিএস নামেও পরিচিত ছিল সে। বাগু (Terrorist Bagu Khan) এবং আর এক জঙ্গি নওশেরা যখন নার এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল, তখনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে।

    কে এই বাগু খান? (Terrorist Bagu Khan)

    প্রশ্ন হল, কে এই বাগু খান? বাগু খান সমন্দর চাচা নামেও পরিচিত ছিল। সে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে গুরেজ সেক্টরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে সে ১০০ও বেশি জঙ্গিকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় জড়িত ছিল। তার অধিকাংশ চেষ্টাই সফল হয়েছিল। কারণ সে এই অঞ্চলটির দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও গোপন রুটগুলি সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিল। সে সীমান্ত পেরিয়ে আসা যাতায়াতকারীদের অন্যতম প্রবীণ হ্যান্ডলার ছিল। দক্ষতার কারণে সে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হত। কখনও কোনও জঙ্গিকে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে ঢোকাতে হলে ডাক পড়ত বাগুর।

    হিজবুল কমান্ডার

    বাগু মূলত হিজবুল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। তবে সে আরও কয়েকটি সংগঠনকেও সাহায্য করেছিল। গুরেজ ও আশপাশের সেক্টরগুলি দিয়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও সাহায্য করেছে সে। কুখ্যাত এই জঙ্গির মৃত্যু এই অঞ্চলে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সাহায্যদানকারী লজিস্টিক নেটওয়ার্কের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সাম্প্রতিক যে সংঘর্ষটি নৌশেরা নার এলাকায় হয়েছে, তার নাম “অপারেশন নৌশেরা নার চতুর্থ”। এখানে সেনারা ভারী অস্ত্রসজ্জিত একদল অনুপ্রবেশকারীর মুখোমুখি হয়। শুরু হয় গুলি যুদ্ধ। নিকেশ হয় বাগু-সহ দুজন। বাকিরা পালিয়ে যায় (Terrorist Bagu Khan)।

    জানা গিয়েছে, ১৯৯৫ সাল থেকে বাগু ঘাঁটি গেড়েছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। তার প্রধান কাজই ছিল, ভারতে জঙ্গি ঢোকানো। বহু বছর ধরে বাগুকে খুঁজছিল ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার গুরেজে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল আরও দুই জঙ্গি (Jammu Kashmir)। সেনার গুলিতে মৃত্যু হয় তাদের। এরপর ফের একবার অভিযান চালানো হয় গুরেজে। তাতেই খতম হয় বাগু (Terrorist Bagu Khan)।

  • Landslide in Vaishno Devi: বৈষ্ণদেবী মন্দিরে পথে ধসে মৃত অন্তত ৩১, টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর

    Landslide in Vaishno Devi: বৈষ্ণদেবী মন্দিরে পথে ধসে মৃত অন্তত ৩১, টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের (Landslide in Vaishno Devi) কাছে ভয়াবহ ভূমিধস। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তা ধসে গিয়ে বিপর্যয়। কমপক্ষে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত ২৩। তবে এখনও ধসের কবলে অনেকে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথ নয়, ভারী বৃষ্টির জেরে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। রাস্তাঘাট বন্ধ। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। বুধবার সকালেও বৃষ্টি চলছে। হিমাচল প্রদেশেরও সব জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জারি রয়েছে হলুদ সর্তকতা। মেঘ-বাঙা বৃষ্টিতে কুলুতে ভেসে গিয়েছে বাড়ি-গাড়ি।

    বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের কাছে অর্ধকুঁয়ারীতে ভূমিধস

    গত তিন দিন ধরে জম্মু-কাশ্মীরে বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরে কোথাও কোথাও হড়পা বান, কোথাও আবার ধস নেমেছে। জম্মুর পরিস্থিতি বেশি খারাপ। ভেঙে পড়েছে সেতু। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইল টাওয়ারগুলি। রিয়াসির এসএসপি পরমবীর সিং জানিয়েছেন, বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরের (Landslide in Vaishno Devi) কাছে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেই ধসের নীচে চাপা পড়ে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে সমানতালে। বিভিন্ন সংস্থা সেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে অর্ধকুঁয়ারীতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে ধস নামে। আতঙ্ক দেখা দেয় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। ধসের পর পরই বৈষ্ণোদেবী মন্দির কমিটির সদস্যেরা, নিরাপত্তাবাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। যাত্রাপথে থাকা অন্য পুণ্যার্থীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এখনও ওই যাত্রাপথে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তার খোঁজ চলছে।

    সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হল

    মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করা হচ্ছে ক্যাম্পে। তবে যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত বৈষ্ণোদেবী যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘অবিরাম বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ বার বার বাধা পাচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সকলকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

    সহযোগিতার আশ্বাস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র

    অগাস্টের মাঝামাঝি মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান হয়েছিল কিস্তওয়ারে। তারপর কাঠুয়ায়ও মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছিল। ২ জায়গাতেই প্রাণ গিয়েছিল অনেকের। এবার ভারী বৃষ্টির জেরে কাটরায় বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের যাত্রাপথে ধস নামে। ধসে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কেন্দ্রের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। ধস নামার পরই উদ্ধারকাজে নামে এনডিআরএফ (NDRF) এবং সিআরপিএফ (CRPF)। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। আহতদের চিকিৎসায় সবরকম ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    উপত্যকায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস 

    পরিস্থিতি এখনই বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আপাতত আরও দু’তিন দিন জম্মু-কাশ্মীরের আবহাওয়া এমনই থাকবে। আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কোনও কোনও জায়গায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাটরা, জম্মু, সাম্বা, রিয়াসি, উধমপুর, ডোডা এবং কিশতোয়ার জেলায় ভূমিধস এবং হড়পা বানের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। পাহাড় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের (KU) সব পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ব্যাহত জম্মুর ট্রেন চলাচলও। জম্মু শহরে একদিনেরও কম সময়ে ২৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । জম্মু ও কাটরা রেলওয়ে রুটে ২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ব্যাপক সমস্যায় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা। একদিকে ধসে বন্ধ রাস্তা অন্যদিকে বাতিল ট্রেনও।

    হিমাচল প্রদেশেও দুর্যোগ অব্যাহত

    সবুজ পাহাড়ে ঘেরা উত্তর ভারতের রাজ্যে হিমাচল প্রদেশ। বছরভর যেখানে লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় জমান। সেই হিমাচল প্রদেশ চলতি বছরে প্রবল বৃষ্টির জেরে ‘মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে। তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক অঞ্চল। কোথাও ধস, কোথাও হড়পা বান, কোথাও আবার মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। মানালিতে প্রবল বর্ষণ, বন্যা পরিস্থিতি বিয়াস নদীতে। কুলুতে মঙ্গলবার জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাড়ি-গাড়ি। চলতি সপ্তাহেও হিমাচল প্রদেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। মৌসম ভবন সূত্রে জানা গেছে, আজ বিলাসপুর, সোলান, হামিরপুরে সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ রয়েছে। দুটি জাতীয় সড়ক সহ মোট ৪৮৪ টি সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র মান্ডি জেলায় ২৪৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। কুলুতে বন্ধ ১০২টি রাস্তা।

LinkedIn
Share