Tag: Janjatiya Gaurav Divas

Janjatiya Gaurav Divas

  • New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নীতি (New Industrial Policy) প্রকাশ্যে আনার কথা। দুর্গাপুজোর আগে নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। নতুন শিল্পনীতিতে বড় শিল্প সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে (West Bengal) খবর।

    জমি ব্যবহারে কড়া শর্ত (New Industrial Policy)

    নতুন শিল্পনীতিতে দ্রুত শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প গড়তে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যা কমতে পারে।

    শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে লাগানোর বিষয়েও কড়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু না হলে সংশ্লিষ্ট জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এই শর্তগুলির চূড়ান্ত রূপ নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

    কৃষি প্রকল্প ও জনজাতি দিবস নিয়েও সিদ্ধান্ত

    দুর্গাপুজোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্পনীতির পাশাপাশি কৃষি ও প্রশাসনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য সরকারের বহুল প্রচলিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় একটি জনসভা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা।

    এছাড়া, যেসব প্রশাসনিক দফতর ইতিমধ্যেই তাদের বরাদ্দ বাজেটের অন্তত ৩৫ শতাংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছে, তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দ্রুত ছাড়ার জন্য অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখতেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের (New Industrial Policy) খবর।

    তোলাবাজি রুখতে হেল্পলাইন

    এর আগে নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের প্রসারের বদলে ভাতা দেওয়ার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষ ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও হুমকি কিংবা তোলাবাজির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর ১৫৫-৩৩৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস (West Bengal) দিয়েছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি এবং জমির যথাযথ ব্যবহার কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। আগামী ৫ নভেম্বর নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট (New Industrial Policy) ধারণা মিলবে বলেই খবর।

     

  • Janjatiya Gaurav Divas: আজ জনজাতি গৌরব দিবস, ফিরে দেখা বিরসা মুন্ডার ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস

    Janjatiya Gaurav Divas: আজ জনজাতি গৌরব দিবস, ফিরে দেখা বিরসা মুন্ডার ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড রাজ্যের খুন্তি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম উলিহাতু। মেরেকটে আড়াইশো পরিবারের বাস গ্রামে। মোট জনসংখ্যা ১,১২৬। এমন গ্রামের সংখ্যা ভারতে নেহাত কম নয়। গুনতে গেলে কয়েক লাখে থামতে হবে। তবে হঠাৎ উলিহাতু নিয়ে আলোচনা কেন? কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই গ্রামে? উত্তর হল, ছোট্ট প্রত্যন্ত এই গ্রাম এক দেশ বিখ্যাত যোদ্ধার জন্মভূমি। যাঁকে তার অনুগামীরা ‘ধরতি আবা’ বলতেন। অর্থাৎ কিনা স্বয়ং ভগবান (Janjatiya Gaurav Divas)। যাঁকে দমানোর জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছিল। তিনি মুন্ডা বিদ্রোহের অবিসংবাদী নেতা ভগবান বিরসা মুন্ডা (Birsa Munda Birth Anniversary)। মুন্ডা শব্দটি সংস্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে যার প্রকৃত অর্থ ‘গ্রাম প্রধান’।

    ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন বিরসা, মুখস্থ ছিল রামায়ণ-মহাভারত

    ১৮৭৫ সালের ১৫ নভেম্বর এক গরীব পরিবারে জন্ম হয় বিরসা মুন্ডার। পার্থিব জীবন মাত্র ২৫ বছরের ছিল কিন্তু তিনি আজও বেঁচে রয়েছেন শোষণ, বঞ্চনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে। জীবিত অবস্থাতেই তিনি ‘ভগবান বিরসা মুন্ডা’ নামে খ্যাতি লাভ করেন। কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে তিনি আসীন। ভারতের জনজাতি এলাকাগুলিতে খ্রিস্টান মিশনারীদের ধর্মান্তকরণ ব্রিটিশ আমল থেকেই চালু রয়েছে। ছোট্ট প্রত্যন্ত গ্রামে বিরসা মুন্ডাকে খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনা করার জন্য জোর করা হলে, তিনি গ্রামের খ্রিস্টান স্কুল ত্যাগ করেন। বিরসা মুন্ডা হিন্দুধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন বলে জানা যায়। নিজগৃহের বিভিন্ন দেবতার প্রতি তাঁর পরম ভক্তি ছিল (Janjatiya Gaurav Divas)। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বৈষ্ণব ধর্মগুরু আনন্দ পাঁড়ের কাছে দীক্ষা নেন। খাদ্যাভাসে ছিলেন নিরামিষাশী। কণ্ঠস্থ ছিল রামায়ণ-মহাভারত।

    অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সেনাবাহিনী গঠন

    ১৮৯৪ সালে ভয়াবহ খরা দেখা দিল। নির্দয় ব্রিটিশ সরকার তবুও কর সংগ্রহ করছিল সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে। ওই বছরেই ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন বলবৎ করে (Janjatiya Gaurav Divas)। অরণ্যের উপর জনজাতিদের অধিকার খর্ব হয়। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হন তরুণ বিরসা মুন্ডা। স্থানীয় মানুষজনকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সেনাবাহিনী তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৮৯৫ সালেই ‘কর মুক্ত’ আন্দোলন করার অপরাধে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। দুই বছর জেলে থাকার পরে ১৮৯৭ সালে তিনি মুক্তি পান। পুনরায় শুরু হয় বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক আন্দোলন। ছোটনাগপুরে শুরু হয় তীর ধনুক নিয়ে আন্দোলন।

    ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    ১৮৯৮ সালে টাঙ্গা নদীর তীরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিরসা মুন্ডার যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশদের পরাজিত করতে সমর্থ হন তিনি। যুদ্ধজয়ের পর তিনি বলেন, ‘‘প্রথমবার আমরা জয়লাভ করেছি (Janjatiya Gaurav Divas)। কিন্তু এর বিরূপ প্রভাব শত শত মানুষ ভোগ করেছে। শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে। এত নির্যাতনের পরেও থামেনি মানুষের সংগ্রাম।’’ ১৯০০ সালে ডোবাড়ি পাহাড়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সংঘর্ষে অনেক নারী ও শিশু নিহত হন। বিরসা মুন্ডাকে ধরতে তাঁর মাথার দাম ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে ব্রিটিশ সরকার। নিরস্ত্র বিরসাকে জঙ্গলের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রেফতার করে ব্রিটিশ সরকার। কথিত আছে, কারাগারে থাকাকালীন খাবারে বিষ মিশিয়ে বিরসা মুন্ডাকে (Birsa Munda Birth Anniversary) হত্যা করা হয়‌। ১৯০০ সালের ৯ জুন স্বর্গযাত্রা করেন ভগবান বিরসা মুন্ডা।

    বিরসার জন্মদিন ‘জনজাতি গৌরব দিবস’

    ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশাতে আজও পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ বিরসা মুন্ডাকে ‘ভগবান বিরসা মান্দা’ হিসাবে পুজো করে থাকেন। এমন একজন ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্ব যিনি তরুণ প্রজন্মের প্রেরণার কেন্দ্র ,- যিনি ভারতের সম্পদ, তিনি ব্রাত্য থেকেছে বরাবর। তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাননি। স্বাধীনতার পর থেকেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কয়েক বছর আগে ‘মন কি বাতে’, ‘ভগবান বিরসা মুন্ডা’র দুঃসাহসিক গল্প স্মরণ করেন এবং ঘোষণা করেন, তাঁর জন্ম-জয়ন্তী (Birsa Munda Birth Anniversary), প্রতি বছর ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ (Janjatiya Gaurav Divas) হিসাবে উদযাপন করা হবে।

LinkedIn
Share