Tag: Japan

Japan

  • Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্যে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ভারত। গ্রিন হাইড্রোজেন বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন (Largest Green Hydrogen Order) সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক বরাত রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ২৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি বছরে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Japan Germany Korea) প্রভাবেরই ইঙ্গিত।

    ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩টি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালে। এই চুক্তিগুলির আওতায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। মোট চুক্তিবদ্ধ জ্বালানির ৭০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানির জন্য নির্ধারিত। এই বিপুল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য (Largest Green Hydrogen Order)

    এই পরিসংখ্যান ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত দিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এখন বিদেশি ও দেশীয় ক্রেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার চুক্তি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কিনতে ক্রেতারা বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী।

    গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোনও নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কেনার নিশ্চয়তা না থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা ক্রয়চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে উৎপাদক সংস্থাগুলি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক নিশ্চয়তা পায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির অভাবে থমকে গিয়েছে। সেই জায়গায় ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ নিশ্চিত ক্রয়াদেশ থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

    রফতানিতে গুরুত্ব অ্যামোনিয়া-মিথানলের

    ভারতের মোট সরবরাহের পরিমাণ হাইড্রোজেনের সমতুল্য হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে রফতানি হতে চলা জ্বালানির অধিকাংশই সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস নয়। দীর্ঘ দূরত্বে হাইড্রোজেন পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই হাইড্রোজেনকে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজে পরিবহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত পণ্যবাহী জাহাজেই এই দুই ধরনের জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব।

    ওজনের হিসাবে অ্যামোনিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ হাইড্রোজেন। ফলে অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তিতে কয়েক লাখ মেট্রিক টনের উল্লেখ থাকলেও তার হাইড্রোজেন-সমতুল্য পরিমাণ তুলনায় অনেক কম হয়। মিথানলের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের অনুপাত আরও কম, প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ শতাংশের সমান হল ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিমাণ।

    ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পথে

    ভারতের গ্রিন জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে জাপান। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনায় আমদানি করা হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে একের পর এক সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা।

    এসিএমই গোষ্ঠী জাপানের ইহাই কর্পোরেশনকে বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি মিতসুবিশি গ্যাস কেমিক্যালকে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তিও (Largest Green Hydrogen Order) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এদিকে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং জাপানের বাণিজ্যিক সংস্থা ইতোকু যৌথভাবে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা জেরার সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হবে।

    জাপানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

    ইউরোপের কঠোর পরিবেশবিধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত

    গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে কোনও জ্বালানিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড রয়েছে। ভারতীয় উৎপাদকরা সেই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে ভারত নিজস্ব গ্রিন হাইড্রোজেন মানদণ্ড ঘোষণা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য নিঃসরণের পরিমাণ ২ কেজির মধ্যে থাকলেই তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এই জাতীয় মানদণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। জার্মান সংস্থা হিন্টকো জিএমবিএইচ পরিচালিত এইচটু গ্লোবাল নিলামে এশীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বরাতের একমাত্র বিজয়ী হয়েছে এএম গ্রিন।

    এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এএম গ্রিনের কাছ থেকে অন্তত ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য অ্যামোনিয়া কিনবে হিন্টকো। ২০২৯ সালে জার্মানিতে প্রথম দফার জ্বালানি সরবরাহ শুরু (Largest Green Hydrogen Order) হওয়ার কথা।

    এ ছাড়াও জার্মানির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংস্থা ইউনিপারের সঙ্গে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। অন্যদিকে, জৌনো জুলস প্রতিদিন ৬০০ টন, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য সিলেক্ট এনার্জি জিএমবিএইচের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    ইউরোপের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে জয়ী হওয়া শুধু আর্থিক সাফল্য নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতীয় গ্রিন অ্যামোনিয়া আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র, পরিবেশগত স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে (Japan Germany Korea) সক্ষম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ভারতের প্রবেশ

    এশিয়ার আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তিগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের অভ্যন্তরে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ভারতীয় গ্রিন জ্বালানি তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলির বাজারেও ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার সার সংস্থাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অগস্ত্য। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্য প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আরও সম্প্রসারিত হবে।

    জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ক্রেতা তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট দেশের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারি ভর্তুকি এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশবিধির উপর নির্ভরশীল এই আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈচিত্র্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারছে। এর ফলে ইউরোপ ও জাপানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে (Largest Green Hydrogen Order)।

    এই শিল্পে উৎপাদন খরচই অন্যতম নির্ধারক বিষয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশই বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়।

    ভারতে প্রচুর সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের দাম ক্রমশ কমছে। তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারি নীতিগত সহায়তা রয়েছে। এই সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে ভারতীয় উৎপাদকরা এমন অনেক দেশের তুলনায় কম খরচে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারছেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

    উৎপাদনের পাশাপাশি ক্রেতার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার খরচ কম রাখতে পারাও আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ। এইচটু গ্লোবালের মতো সরকারি সহায়তাপুষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্রে মূলত দামের ভিত্তিতেই সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

    বাড়ছে গ্রিন জ্বালানির ব্যবহার

    গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ শিল্পে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ২০৫০ সালের মধ্যে জাহাজ পরিবহণ ক্ষেত্রে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার উৎপাদন এবং পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্পেও গ্রিন হাইড্রোজেন ও তার উপজাত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। এই দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাহিদা

    শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও গ্রিন হাইড্রোজেনের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন হাইড্রোজেন রূপান্তরের কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় দেশের ১১টি সার কারখানায় গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত সরবরাহ ক্ষমতা বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

    প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত প্রচলিত অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে গ্রিন অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়ার ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

    একই কর্মসূচির আওতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং নুমালিগড় রিফাইনারির শোধনাগারগুলিতে বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের প্রকল্পও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভারত সার তৈরির কাঁচামাল এবং অপরিশোধিত তেলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যও পূরণ হবে।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে অনুমোদন দেয়। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কৌশলগত উদ্যোগ বা সাইট কর্মসূচির জন্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্রের উৎপাদন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    অবশিষ্ট অর্থ পরীক্ষামূলক প্রকল্প, গবেষণা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৫টি সংস্থাকে বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি, ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ, ৬ লাখেরও বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে।

    এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

    চুক্তির পরিমাণের নিরিখে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সরবরাহ ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন প্রধান কাজ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা।

    এর জন্য বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র বসানো, উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা এবং অ্যামোনিয়া ও মিথানল জাহাজে তোলার উপযোগী বন্দর ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি (Largest Green Hydrogen Order)।

    ২০২৬ সালের গোড়ায় দেশে চালু হওয়া গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশের সমতুল্য সরবরাহের জন্য এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সিংহভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ ক্রয়চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

    তবে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, দেশ এখন আর শুধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে প্রবেশ করছে না। বরং ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে (Japan Germany Korea) নির্দিষ্ট ক্রেতা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা নিয়ে এগোচ্ছে। এই চুক্তিগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী দিনে বিশ্ব গ্রিন হাইড্রোজেন বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে ভারত।

     

  • Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ফের সমর্থন করল রাশিয়া (Russia)। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। ভারত ও ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে সওয়াল করলেও জার্মানি ও জাপানের মতো দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন (UNSC) তিনি।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভরভ বলেন, “আমরা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে আমরা সমর্থন করি।”

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে আফ্রিকার স্বার্থকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল (Russia)

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন লাভরভ। তাঁর দাবি, বিশ্বের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলি ক্রমশ স্বাধীন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই দেশগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, “একক আধিপত্যবাদী শক্তির একনায়কতন্ত্র বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনও একটি শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের পরিবর্তে একাধিক শক্তিকেন্দ্রের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে যুক্ত করেছে রাশিয়া।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলিকে নিশানা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমি দেশগুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন লাভরভ। তাঁর দাবি, পশ্চিমি দেশগুলি এখনও ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে কিয়েভকে সাহায্য করছে।

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলিকেও দায়ী করেন তিনি। লাভরভ বলেন, “রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অবাস্তব লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে পশ্চিমি দেশগুলি ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং কিয়েভে রাশিয়াবিদ্বেষী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।”

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা চালাতে ইউরোপীয় সরকারগুলি সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী (Russia)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ভারতের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যরা দু’বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভেটো প্রয়োগের অধিকার নেই।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সদস্যদেশগুলির মধ্যে পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই পরিষদ। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় (UNSC)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হল ভেটো। কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনও একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করলে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তবে কোনও প্রস্তাবে সরাসরি বাধা না দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সুযোগও রয়েছে স্থায়ী সদস্যদের (Russia)।

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে স্থায়ী সদস্যদেশগুলি। ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কাল-সহ রাশিয়া মোট ১৬২ বার ভেটো প্রয়োগ করেছে। আমেরিকা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে ৯৫ বার। তুলনামূলকভাবে চিনের ভেটো প্রয়োগের সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা বেড়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালের পর থেকে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভেটো প্রয়োগ করেনি।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ

    ভারত স্থায়ী সদস্যপদ পেলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না, তা এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনও প্রয়োজন। এর জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য-সহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

    রাশিয়ার সাম্প্রতিক সমর্থন (UNSC) ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি মস্কোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সদস্যদেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় (Russia)।

     

  • Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানে চলতি ২০২৬ এশিয়ান গেমসে (Asian Games) দ্বিতীয় দিনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাল ভারত। শুটিংয়ে এল তিনটি পদক। মিক্সড মার্শাল আর্টস থেকেও মিলল আরও একটি ব্রোঞ্জ। মহিলা হকি, কবাডি, টেবিল টেনিস-সহ একাধিক খেলায়ও জয় পেল ভারতীয় দল (India)।

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। ব্যক্তিগত ফাইনালে জোড়া পদক জিতল ভারত। হিমাংশু ধিলোঁ রুপোর পদক দখল করেন, আর রুদ্রাংশ পাটিল জেতেন ব্রোঞ্জ। এর আগে ধিলোঁ ও পাটিল পার্থ মানের সঙ্গে মিলে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত বিভাগেও রুপোর পদক জিতেছিলেন।

    মার্শাল আর্টস বিভাগেও মেডেল (Asian Games)

    মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী ৬০ কেজি মিক্সড মার্শাল আর্টস বিভাগেও ব্রোঞ্জ এল ভারতের ঘরে। সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেও-র কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারেন সুচিকা তারিয়াল। ম্যাচের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল আবেদন জানালেও সেই সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ফলে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সুচিকাকে।

    হকিতে অবশ্য ভারতের জয়ের ধারা অব্যাহত। পুল বি-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের মহিলা দল। প্রতিযোগিতায় এটি ভারতের টানা দ্বিতীয় জয়। শুরু থেকেই দুরন্ত পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

    কবাডিতেও জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ভারতের পুরুষ দল। গ্রুপ এ-র ম্যাচে জাপানকে ৪৯-২৪ পয়েন্টে হারায় ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় ভারতীয় দল।

    মহিলাদের টেবিল টেনিসেও সাফল্য এসেছে। পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের শেষ ষোলো পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

    জয় সাঁতারেও

    সাঁতারে পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন শ্রীহরি নটরাজ। ঋষভ দাস রিজার্ভ হিসেবে শেষ করেন। অন্যদিকে, পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ফাইনালে উঠতে পারেননি আকাশ মণি ও গীতেশ শাহ। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের ফাইনালেও জায়গা হয়নি ধনুষ সুরেশের (Asian Games)।

    সফট টেনিসের মিক্সড ডাবলসে গ্রুপ বি-র ম্যাচে কম্বোডিয়ার ভিভা চাও ও চানরোসেকা খুনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরু করেছিলেন আধ্যা তিওয়ারি ও জয় মীনা। তবে পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ইয়ন-হোয়া ও জ্যাকিউ পার্কের কাছে ১-৫ ব্যবধানে হারেন তাঁরা। সেপাকটাকরোতেও জয় পেল জাপান। গ্রুপ বি-র ম্যাচে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারায় আয়োজক দেশ।

    উশুতে মহিলাদের চাংছুয়ান ফাইনালে ১৫তম স্থানে শেষ করেন নিয়েমান ওয়াংসু। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় দিনটি (India) একাধিক খেলায় সাফল্যে ভরা ছিল ভারতের। শুটিংয়ে পদক জয়ের পাশাপাশি দলগত খেলাগুলিতেও একের পর এক জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে (Asian Games) ভারতীয় শিবিরে।

     

  • Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Bose Ashes Tokyo) ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির কন্যা অনিতা বি পাফ এই আবেদনটি করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এএম সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে তাঁর বাবার দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” (Supreme Court)

    সিংভি বলেন, “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” তাঁর বক্তব্য, এর আগে শীর্ষ আদালত নেতাজির উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁর কন্যা সরাসরি আদালতে এসেছেন। সওয়াল-জবাবের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করে আদালত। গত মার্চেই নেতাজির গ্র্যান্ড নেফিউ (নাতি-ভাইপো) আশিস রায় তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নেতাজির উত্তরাধিকারী যদি তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আদালতের সামনে আসতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছিল, “আমরা তাঁর আবেগকে সম্মান করি এবং তাঁর আবেগকে আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব (Supreme Court)।”

    সিংভির সওয়াল

    সেই শুনানির সময় সিংভি আদালতকে জানিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি ওই আবেদন সমর্থন করছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “এই বিষয়টি আর কতবার আদালতের সামনে আসবে?” সিংভি জবাব দেন, এবারের বিষয়টি আগের আবেদনের মতো নয়। তখন বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “পরোক্ষভাবে হোক বা সরাসরি… এই আবেদন আবার কেন আসছে? প্রথমত, চিতাভস্ম কোথায় রয়েছে? তার প্রমাণ কী?” এর জবাবে সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা, যাঁর বয়স ৮৪ বছর এবং যিনি সেই সময় আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব পালন করা প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানই জাপানের রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভস্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন (Netaji Bose Ashes Tokyo)।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমত, আমরা জানতে চাই নেতাজির পরিবারের কতজন সদস্য জীবিত রয়েছেন। নেতাজি নিঃসন্দেহে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আমাদের অনেকেই তাঁর সামনে মাথা নত করি।” সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র সন্তান অনিতা এবং তিনিই একমাত্র উত্তরাধিকারী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকারীকে আমাদের সামনে আসতে দিন… উত্তরাধিকারী যদি চিতাভস্ম আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আমাদের সামনে আসতে হবে।” বেঞ্চের অবস্থান দেখে সিংভি আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তিনি জানান, নেতাজির কন্যা নিজে পরবর্তী সময়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

    রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়ে আসছে। সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই (Netaji Bose Ashes Tokyo) বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এবার নেতাজির কন্যার সরাসরি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

     

  • India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারত (India)। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নয়াদিল্লি। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে ভারত ধারাবাহিকভাবে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (India)

    মন্ত্রীর কথায়, “পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী উৎপাদন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলিতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ক্রমাগত দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করছে।” তিনি জানান, খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, উচ্চমানের খনিজের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে টেকসই পদ্ধতির প্রসারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত অংশীদার দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির সঙ্গে কাজ করছে। মার্ঘেরিটা বলেন, “নির্ভরযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”

    জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন

    বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন খনিজ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত দায়িত্বশীল ভূ-কৌশলগত সম্পৃক্ততা মঞ্চ এবং চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোর উদ্যোগগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করা। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল জুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, আকরিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথকীকরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পণ্য থেকে খনিজ পুনরুদ্ধার—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শক্তিশালী করার (India) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ

    মন্ত্রী আরও জানান, “বর্জ্য থেকে খনিজ পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।” জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের অধীনে বর্জ্য ও বাতিল ধাতব সামগ্রীর মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর (Critical Minerals) ফলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র (India)।

     

  • FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল। এত গোল বিশ্বকাপে আগে কবে হয়েছে, তা ভেবে দেখতে হবে। ভারতীয় সময় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চার ম্যাচে মোট ১৯ গোল হল। বড় জয় পেল জার্মানি, সুইডেন। ড্র হল নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচ। জিতল আইভরি কোস্টও।

    কুরাসাওকে ৭ গোল জার্মানির

    শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এ বারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় কুরাসাও। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দেয়। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন— সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসকে রুখল জাপান

    রবিবার নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল চলছিল। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ। সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে।

    টিউনিশিয়াকে হারাল সুইডেন

    সুইডেনের খেলা দেখে মনে হল, এ বারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া তারা। গত বার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পোল্যান্ডের কাছে হেরে। এ বার সেই পোল্যান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচেই সুইডেন বুঝিয়ে দিল, তাদেরকে হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। এদিন পাঁচ গোল করলেও অন্তত সাত গোল করার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ড্র করায় এই গ্রুপ থেকে আপাতত শীর্ষে সুইডেন। তারা যে খেলাটা দেখাল, তাতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের সামনেও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।

    ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

    বাকি তিন ম্যাচে ১৮ গোল হলেও এই ম্যাচে মাত্র এক গোল হল। তা-ও একেবারে শেষ মুহূর্তে। দেখে মনে হচ্ছিল, ড্র হবে খেলা। কিন্তু ৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট। হারতে হল লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে।

  • India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত (India Surpasses Japan)। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী ২.৫ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে, জার্মানিকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছে (Largest Economy)। সরকারের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির দেশ।

    ভারতের প্রকৃত জিডিপি (India Surpasses Japan)

    চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২ শতাংশ, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার প্রকাশিত ২০২৫ সালের সংস্কার-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং তখন জার্মানিকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে।” বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন।

    প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

    বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক গতি আরও চমকপ্রদ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছেছে গত ছয় ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ স্তরে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন বলে মনে করছে সরকার (India Surpasses Japan)। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় চাহিদা, বিশেষ করে শক্তিশালী বেসরকারি ভোগব্যয় (Largest Economy)। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাঙ্ক ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে মুডিজ জানিয়েছে, ভারত ২০২৬ সালে ৬.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬.২ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ২০২৫ সালে ৬.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস চলতি অর্থবর্ষে ৬.৫ শতাংশ এবং আগামী অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদার কারণে ফিচ (Fitch) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করেছে।

    সরকারি বিবৃতি

    সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম এবং এই গতি বজায় রাখার জন্য দেশটি যথেষ্ট শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০৪৭ সালে, স্বাধীনতার শতবর্ষে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত অর্থনৈতিক (Largest Economy) প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্তির ওপর এগিয়ে চলেছে ((India Surpasses Japan))।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সহনশীলতার নিম্ন সীমার নীচে রয়েছে, বেকারত্ব ক্রমহ্রাসমান ধারায় রয়েছে এবং রফতানি খাতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া, অনুকূল রয়েছে আর্থিক পরিস্থিতি। বাণিজ্যিক খাতে ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে এবং শহুরে ভোগব্যয় আরও জোরদার হওয়ায় সামগ্রিক চাহিদাও রয়েছে স্থিতিশীল।

  • Bacterium Killed Tumors: প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সক্ষম! কী বলছে জাপানের নয়া গবেষণা?

    Bacterium Killed Tumors: প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সক্ষম! কী বলছে জাপানের নয়া গবেষণা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যানসার কোষ ধ্বংস করবে ব্যাক্টেরিয়া! কর্কট রোগের চিকিৎসায় বহু পুরনো ব্যাক্টেরিয়া-থেরাপিকে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা। ক্যানসার চিকিৎসা (Cancer Drugs) বলতে এখনও মূলত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিকেই বোঝানো হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের বাইরের জগতের দিকেও নজর দিচ্ছেন—বিশেষ করে প্রাকৃতিক অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার (Bacterium Killed Tumors) দিকে। সেই গবেষণার ধারাবাহিকতায় জাপানের এক নতুন গবেষণা ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

    সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ক্যানসার বধ

    ক্যানসার বধের অস্ত্র তৈরি হচ্ছে সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াদের দিয়েই। শরীরে জীবাণু ঢুকিয়ে মারণরোগ সারানোর পন্থা আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (JAIST)-এর অধ্যাপক এইজিরো মিয়াকোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাহিত্য গাট মাইক্রোবস-এ। গবেষণায় ব্যাঙ ও সরীসৃপের অন্ত্র থেকে সংগ্রহ করা এক প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ইঁদুরের শরীরে টিউমার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা জাপানি ট্রি ফ্রগ, ফায়ার-বেলি নিউট এবং ঘাসে বসবাসকারী টিকটিকির অন্ত্র থেকে মোট ৪৫ ধরনের ব্যাকটেরিয়া আলাদা করে পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ৯টি ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষাগারে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়।

    এক ডোজেই টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল দেখায় ইউনগেলা আমেরিকানা (Ewingella americana) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। যা জাপানি ট্রি ফ্রগের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়াটি জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র একবার শিরায় এই ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করার পর সব ইঁদুরের টিউমার সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রচলিত ক্যানসার ওষুধ যেমন ডক্সোরুবিসিন বা অ্যান্টি-পিডি-এল-১ (PD-L1) ইমিউনোথেরাপির চেয়েও বেশি কার্যকর ছিল।

    দুইভাবে ক্যানসার আক্রমণ

    গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া (Bacterium Killed Tumors) দুইটি ভিন্ন পথে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। প্রথমত, টিউমারের ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় সেখানে ব্যাকটেরিয়াটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিউমারের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার গুণ বেড়ে গিয়ে সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। দ্বিতীয়ত, ব্যাকটেরিয়াটি দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। টিউমার এলাকায় টি-সেল, বি-সেল ও নিউট্রোফিলের মতো ইমিউন কোষ জমা হয়, যা TNF-α ও IFN-γ নামের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত নিঃসরণ করে ক্যানসার কোষের মৃত্যু ঘটায়।

    সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হয়নি

    ব্যাকটেরিয়া (Bacterium Killed Tumors) ব্যবহার করে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিরাপত্তা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রক্ত থেকে সরে যায় এবং যকৃত, ফুসফুস, কিডনি বা হৃদ্‌পিণ্ডের মতো সুস্থ অঙ্গে স্থায়ীভাবে জমা হয় না। ইঁদুরের শরীরে যে সামান্য প্রদাহ দেখা গিয়েছে, তা তিন দিনের মধ্যেই সেরে যায়। ৬০ দিন পর্যবেক্ষণের পরও কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভবিষ্যতের চিকিৎসায় সম্ভাবনা

    গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি এখনও মানবদেহে প্রয়োগযোগ্য চিকিৎসা নয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করে যে প্রকৃতিতে থাকা অজানা অণুজীব ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী দিনে স্তন ক্যানসার ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে। সফল হলে, ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক থেরাপি কেমোথেরাপির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

  • Donald Trump: ‘জি৭’-কে টেক্কা দিতে ‘সি৫’! ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে থাকছে কোন কোন দেশ?

    Donald Trump: ‘জি৭’-কে টেক্কা দিতে ‘সি৫’! ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে থাকছে কোন কোন দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার নয়া প্ল্যান ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)! কোর ফাইভ বা সি৫ নামে বৈশ্বিক শক্তিগুলির একটি নয়া এলিট গোষ্ঠী গঠনের কথা ভাবছেন ট্রাম্প (Core 5 Superbloc Idea)। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই কোর ফাইভে জায়গা হয়েছে ভারতেরও। প্রস্তাবিত এই ব্লকে থাকবে আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ভারত এবং জাপান। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, এটি মূলত ইউরোপ-প্রাধান্যযুক্ত জি৭ এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মানদণ্ডভিত্তিক অন্য জোটগুলিকে পাশ কাটাবে।

    কোর ফাইভ গড়ার ‘স্বপ্ন’ (Donald Trump)

    যদিও সরকারিভাবে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি, তবে খবরটি চাউর হয়ে গিয়েছে। যে পাঁচটি দেশ নিয়ে কোর ফাইভ গড়ার ‘স্বপ্ন’ দেখছেন ট্রাম্প, সেই দেশগুলির তরফেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা মেলেনি। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেই সূত্রেই ছড়িয়েছে এই খবর। শোনা যাচ্ছে, ভারত, রাশিয়া, চিন এবং জাপানকে নিয়ে কোর ফাইভ গড়তে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত কোর ফাইভে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের। তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সব চেয়ে উন্নত অর্থনৈতিক গোষ্ঠী জি৭ এর গুরুত্ব লঘু করতেই এই কোর ফাইভ গঠনের ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্টের (Core 5 Superbloc Idea)।

    দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন

    ওয়াশিংটন যখন ইতিমধ্যেই আলোচনা করছে যে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন কতটা বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে পারে, ঠিক সেই সময়ই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধারণাটি জানিয়ে দেয়, জি৭ ও জি২০–এর মতো যে প্ল্যাটফর্মগুলি রয়েছে, সেগুলি বহু-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্য যথেষ্ট নয়। এটি মনে হয় বৃহৎ জনসংখ্যা ও সামরিক-অর্থনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে চুক্তি-ভিত্তিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় (Donald Trump)। মার্কিন মিত্ররা একে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যা শক্তিমান নেতাদের মান্যতা দেয়।  কারণ এতে রাশিয়াকে ইউরোপেরও ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমী ঐক্য ও ন্যাটোর সংহতি দুর্বল হতে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ট্রাম্প মনে করেন, পাঁচ শক্তিধর এই দেশকে যদি এক ছাতার তলায় নিয়ে চলে আসা যায়, তাহলে সেখান থেকে বিশ্বের অনেকটা সুবিধা হবে। প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মলনে যোগ দিয়ে এমনই একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া, চিন এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। তবে এই সুপার ক্লাবে ভারতকে রাখতে চান তিনি।

    সাবধানে পদক্ষেপ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্প খুবই সাবধানে এই পদক্ষেপটি করতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, যদি এই দেশগুলি (Core 5 Superbloc Idea) এক ছাতার তলায় চলে আসে, তাহলে সেখানে তিনি তাঁদের নেতা হয়ে সকলকে পরিচালনা করতে পারবেন। তবে বিশ্বের আরও চারটি শক্তিধর দেশ ট্রাম্পের প্রস্তাব যে সহজে মেনে নেবে না, তাও ভালো করেই জানেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সম্প্রতি ভারতের ওপর চড়া শুল্ক হার চাপিয়েছে আমেরিকা (Donald Trump)। তার জেরে ভারতের সঙ্গে যাতে আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ না হয়, তা মাথায় রেখেই ‘ট্রাম্প কার্ড’টি খেলতে চলেছেন ট্রাম্প। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতও। তাই তাকে না চটিয়েই কাজ হাসিল করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে ভারতের জায়গা হলেও, ঠাঁই হয়নি পাকিস্তানের।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কেনায় ভারতের ওপর বেজায় রুষ্ট ট্রাম্প। তার জেরেই ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। কার্যত, এর পরেই তলানিতে ঠেকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক। অথচ আমেরিকাবাসীর একটা বিরাট অংশই চাইছেন ভারতীয় পণ্যের ওপর যে চড়া হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে, অবিলম্বে তা কমানো হোক (Donald Trump)। এ ব্যাপারে তাঁরা ট্রাম্পের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাই নিজের দেশেই বেশ বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই গাড্ডা থেকে উঠে আসতে মরিয়া ট্রাম্প। সেই কারণেই ভারতের মন রাখতে নয়াদিল্লিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে সুপার ক্লাবে।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি (Core 5 Superbloc Idea) হানা কেলি জানান, এই পরিকল্পনার কোনও ব্যক্তিগত কিংবা লুকোনো কোনও ভার্সন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোর ফাইভ তৈরির বিষয়টি হতে পারে একেবারেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভাবনা (Donald Trump)।

  • PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলে গেল এক নতুন দিগন্ত! জোহানেসবার্গে জি২০ (PM Modi in G-20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করলেন মোদি। বললেন, “তিন মহাদেশ, তিন মহাসাগর জুড়ে কার্যকর হবে এই পার্টনারশিপ।” আগামী প্রজন্মের জন্য এক উন্নততর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির। তিন দিনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার সকালে নয়া দিল্লিতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থান, জি২০ মঞ্চে উচ্চস্তরের বৈঠক এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ২৪টি বৈঠক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরালো করলেন তিনি।

    সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি

    দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের নেতাদের যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসকে তার সব রূপে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থসংস্থান প্রতিরোধে এফএটিএফ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বৈত মানসিকতা ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে ভারত–ইটালি যৌথভাবে কাজ করবে বলে স্থির হয়। মোদি বলেন, ভারতের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ, বিশেষত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’-এর নীতি, ভবিষ্যতের পথ দেখাতে সক্ষম।

    নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা

    জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত ইবসা শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সবুজ শক্তিতে উদ্ভাবন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন দেশের কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন।

    জি২০-এর মঞ্চে প্রস্তাব

    মোদির প্রথম প্রস্তাব—বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ঐতিহ্যগত জ্ঞানের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণের জন্য গ্লোবাল ট্রেডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি গঠন। তাঁর মতে, প্রাচিনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু প্রচলিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যপী এই ধরণের জ্ঞানের সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন মোদি। বিশ্বের অগ্রগতির জন্য আফ্রিকার উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, এই কারণে ভারত বরাবর আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাব—আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, যার মাধ্যমে আগামী দশ বছরে আফ্রিকার এক মিলিয়ন প্রশিক্ষক তৈরি করা উচিত এবং এভাবে আফ্রিকাবাসীর স্কিল উন্নয়ন সম্ভব। তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। এজন্য জি-২০ সদস্যদের প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে মোদি বলেন, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র ভেঙে ফেলা এখন বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই লক্ষ্যে জি-২০ দেশের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান করেন তিনি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতা

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতার প্রশ্নটিও ফের তুলে দিয়েছেন মোদি। মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। মোদি বলেন, “বহুপাক্ষিকতায় যেন সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারকে কেন্দ্রে রেখে বহুপাক্ষিকতার সংস্কার ঘটলে, তবেই মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে।”

    ১৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সফরে মোদি ১৮টি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত সকল জি৭ দেশও ছিল। তালিকায় ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, অ্যাংগোলা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, জ্যামাইকা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং জাপান। তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে জোরাল বার্তা

    জোহানেসবার্গ জি২০ সম্মেলনে দিল্লি জি২০-এর ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে জি২০ আয়োজন হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনটি মূল সেশনে মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও বার্তা তুলে ধরেন। মোদি বলেন,

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

    জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এটি ছিল মোদির প্রথম সামনাসামনি বৈঠক। তাকাইচি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আয়োজিত এআই সামিট–কে দৃঢ় সমর্থন জানান। দুই নেতা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (FOIP) প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র সফর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

    প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো ভাইরাল

    ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে একাধিক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সঙ্গে ‘ত্রিশক্তি’ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘জোহানেসবার্গে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এই বিশ্বের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে যথার্থ অবদান রাখবে। একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক সারলাম। আমি আশাবাদী, আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকেও অনেক ধন্যবাদ।’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর থেকে বৈঠক, আলাপ, হাত মেলানো, ভাষণ-সহ প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই পোস্ট ঘিরেই দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের উচ্ছ্বাস। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের উচ্ছ্বাস। মোদীর বক্তব্য হোক বা বৈঠক, সবেতেই একটা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

LinkedIn
Share