Tag: Jay Shah

Jay Shah

  • Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (Pre T20 World Cup Drama) নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ভারতে আসতে অস্বীকার করায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। তাই তাদের জায়গায় (Jay Shah) নেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।

    “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়” (Jay Shah)

    পরে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত বদল করে। এই বিতর্কের সময় নীরব ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এতদিন পরে মুখ খুললেন তিনি। মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিধার কারণে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়।”

    দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে

    তিনি বলেন, “এই আইসিসি বিশ্বকাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে অনেক আলোচনা চলছিল, কিছু দল আদৌ অংশ নেবে কি না এবং বিশ্বকাপ কীভাবে এগোবে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয় এবং কোনও একক দল একটি সংস্থা তৈরি করে না। একটি সংস্থা গড়ে ওঠে সব দলের সমন্বয়ে।” যদিও তিনি সরাসরি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নাম নেননি। শাহ জানান, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে। একসঙ্গে ৭.২ মিলিয়ন দর্শক ম্যাচ দেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ সব ধরনের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবার আমরা ৭.২ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছি। সামগ্রিক দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ডই ভেঙে গিয়েছে। আপনি দেখবেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কঠিন লড়াই দিয়েছে, নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে সমস্যায় ফেলেছে, জিম্বাবোয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে এবং নেপাল ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে (Pre T20 World Cup Drama)। আমি সব অ্যাসোসিয়েট দলকে অভিনন্দন জানাই। তারা পূর্ণ সদস্য দেশগুলির বিরুদ্ধে খুব ভালো খেলেছে (Jay Shah)।”

    জয়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    শেষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন জয়। বলেন, “সূর্য (সূর্যকুমার যাদব) এবং গৌতম ভাইয়ের জন্য আমার একটি বার্তা আছে—শীর্ষে উঠতে বছর লাগে, কিন্তু শীর্ষ থেকে নীচে নামতে মাত্র কয়েক মাসই যথেষ্ট। তাই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান এবং জয়ের ধারা বজায় রাখুন। আমি যখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডে (BCCI) ছিলাম, তখন ২০২৮ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আমি আইসিসিতে আছি এবং বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব অন্যদের হাতে। আপনাদের সবাইকে ২০৩০, ২০৩১ এমনকি (Pre T20 World Cup Drama) ২০৩৬ সালের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে (Jay Shah)।”

     

  • T20 World Cup 2026: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট নিয়ে ইউ টার্ন নিচ্ছে পাকিস্তান!

    T20 World Cup 2026: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট নিয়ে ইউ টার্ন নিচ্ছে পাকিস্তান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) গ্রুপ-পর্বের ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকে সম্ভাব্য ইউ-টার্ন এখন চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগোচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) বৈঠকে বসেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব দিক থেকে বিবেচনা করলে এই ম্যাচের আর্থিক মূল্য ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

    পিসিবি দাবি (T20 World Cup 2026)

    সূত্রের খবর, পিসিবি আইসিসির সামনে একাধিক দাবি তোলে। তবে জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি সেই দাবিগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে সংবাদ সংস্থাকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবিগুলি কী এবং সেই বিষয়ে আইসিসির অবস্থান কী, এবার জেনে নেওয়া যাক সেগুলি। পাকিস্তানের প্রথম দাবি ছিল, বাংলাদেশের ওপর কোনও আর্থিক জরিমানা করা যাবে না। পিসিবি সাফ জানিয়ে দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও, বাংলাদেশকে তার সম্পূর্ণ আইসিসি রাজস্ব অংশ দিতে হবে। এ ব্যাপারে আইসিসি জানিয়েছে, এটি আগেই তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনও আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে না (T20 World Cup 2026)।

    বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত আইসিসি ইভেন্ট

    পাকিস্তানের দ্বিতীয় দাবি ছিল, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত আইসিসি ইভেন্ট। পরবর্তী চক্রে বাংলাদেশের জন্য একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি তোলে পিসিবি। আইসিসি (ICC) জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী চক্রে একটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দাবিও উঠেছিল।  ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের জন্য আইসিসির হস্তক্ষেপ চায় পিসিবি। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ তাদের আওতার বাইরে, এমনকি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের মধ্যেও নয়। ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব দেয় পিসিবি (T20 World Cup 2026)। আইসিসির তরফে এই প্রস্তাবও খারিজ করা হয়েছে। এখানেও আইসিসি তাদের এক্তিয়ার না থাকার কথা উল্লেখ করেছে।

    আইসিসির মধ্যস্থতা চেয়েছিল পিসিবি

    ২০২৬ সালে ভারত যেন বাংলাদেশ সফর করে, সে বিষয়েও আইসিসির মধ্যস্থতা চেয়েছিল পিসিবি। এ ব্যাপারে আইসিসি জানিয়ে দেয়, তারা এতে হস্তক্ষেপ করবে না। আবারও জানিয়েছে, সফর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিকভাবেই নেওয়া হয় (ICC)। সূত্রের খবর, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য সময় চাইলে আইসিসি ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে। শিগগিরই একটি ফলো-আপ বৈঠক হতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে (T20 World Cup 2026)।

     

  • T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) খেলতে হবে ভারতেই। একান্ত না চাইলে, বাদ দিয়ে দেওয়া হবে বিশ্বকাপ থেকেই। পরিবর্তে নিয়ে নেওয়া হবে টি-২০ ব়্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নীচে থাকা দেশকে। বোর্ড সদস্যদের (ICC Board Meeting) বৈঠকে ভোটাভুটির পর ঘোষণা করে দিল আইসিসি। বুধবার, ২১ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসি বোর্ড বৈঠক হয়েছে। ভারতের মাটি থেকে নিজেদের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরাতে বলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই বুধবারের বৈঠক বসেছিল। আইসিসির নির্দেশের পর থমথমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদর দফতর। কর্তারা ভেবেছিলেন, বৈঠকে আশার কথা শোনাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই গ্রুপ বদলানো যাবে না। তারা ভারতে খেলবে কি না সেই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

    বৈঠকে ছিলেন কারা

    এ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবির পক্ষে ছিলেন সভাপতি আমিনুল। ছিলেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ, সিইও স‌ংযোগ গুপ্ত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি শাম্মি সিলভা, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড, জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের সভাপতি তাভেঙ্গা মুকুহলানি, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি কিশোর শ্যালো, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাকনিস, ক্রিকেট নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে রবার্ট টোয়েস, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মহম্মদ মুসাজি এবং ক্রিকেট আফগানিস্তানের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ আশরাফ যোগ দেন। বৈঠকে ছিলেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, হেড অফ ইভেন্টস গৌরব সাক্সেনা এবং লিগ্যাল অফিসারেরা।

    আইসিসি-র বিবৃতি, সূচি পরিবর্তন অসম্ভব

    বুধবার সমাজমাধ্যমে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে। কোনও পরিবর্তন করা হবে না। বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠালে অন্য কোনও দেশকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। বুধবার আইসিসির বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সূচি বদলের বিভিন্ন সমস্যা আবার ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয় সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে গেলে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। বিসিবি কর্তা, বাংলাদেশের সমর্থক বা সাংবাদিকদেরও কোনও সমস্যা হবে না ভারতে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি নেই। তা ছাড়া এ ভাবে সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ তৈরি হবে। বলা হয়েছে, ‘‘আইসিসি সততা, বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে, ধারাবাহিক মান বজায় রাখতে এবং বিশ্বব্যাপী খেলার সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার (আইপিএল) সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে আইসিসি।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    আইসিসির বক্তব্য শোনার পরেও অনড় অবস্থান বজায় রাখেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আইসিসির বোর্ডের সভায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়। তাতে অধিকাংশই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে ম্যাচের কেন্দ্র বদল নিয়ে বিসিবির দাবি খারিজ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একমাত্র অলৌকিক কিছু হলেই বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব। বৈঠকে আইসিসি জানিয়েছে, এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশকে। আমিনুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছিলাম, দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটা শেষ সুযোগ দিন। ওরা আমার অনুরোধ রেখেছে।” আমিনুল বলেন, “মুস্তাফিজ়ুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে আমারই মনে হচ্ছে ভারতে খেলা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। সেটাই আইসিসির বৈঠকে বলেছি।” আমিনুল জানিয়েছেন, সরকাকে কোনও রকম চাপ দিতে চান না তাঁরা। তিনি বলেন, “সরকার তো চায় আমরা খেলি। কে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না? কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতে খেলা নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই দাবি থেকে আমরা সরিনি।”

  • ICC Women’s World Cup: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদা সক্রিয়, জানেন কে এই ব্যক্তি?

    ICC Women’s World Cup: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদা সক্রিয়, জানেন কে এই ব্যক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য ছিল ‘প্রায়’-এর গল্প। ২০০৫ ও ২০১৭, দু’দুবার ফাইনালে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়েছিল স্বপ্ন। কিন্তু হরমনপ্রীতদের হাতে যখন সেই বহু প্রতীক্ষিত কাপ উঠল, তখন যেন দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার স্বপ্নও বাস্তব হয়ে গেল। ১৯৮৩ অনুপ্রাণিত করেছিল এক প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে। এদিন মেয়েরা সেই কাজটাই করল—দেশের হাজারো মেয়েকে দেখিয়ে দিল, তারাও একদিন ব্যাট হাতে বিশ্বজয় করতে পারে। নারী শক্তির এই জয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন জয় অমিতভাই শাহ।

    সমান ম্যাচ ফি দেওয়ার ঘোষণা

    রাজনৈতিক কারণে আপনি জয় শাহকে পছন্দ করতে পারেন বা অপছন্দ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই মানুষটা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য যা করেছেন, তা সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা ততটা না জানলেও বা বুঝলেও হরমনপ্রীত কৌররা জানেন। তাই সেই কৃতজ্ঞতা, সেই অ্যাডমিরেশন থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে কাপ গ্রহণের আগে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলেন হরমনপ্রীত কৌর। ২০২২ সালে জয় শাহের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট বোর্ড ছিলো, যারা পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের সমান ম্যাচ ফি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের মানসিকতাই বদলে দিয়েছিল।

    দরকার ছিল একটা বড় মঞ্চের সাফল্য

    এই বিজয় মানে আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম। এখন মেয়েদের ক্রিকেটে পরিকাঠামো, স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক উন্নত। বোর্ডের বিনিয়োগও বেড়েছে। তবু দরকার ছিল একটা বড় মঞ্চের সাফল্য, যে সাফল্য দর্শক, মিডিয়া ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে। সেই ব্রেকথ্রু এল রবিবার। হরমনপ্রীতের হাতে সেই কাপ, যা মিতালি রাজ (Mithali Raj) বা ঝুলন গোস্বামীর (Jhulan Goswami) প্রজন্মের নাগালের বাইরে থেকে গিয়েছিল। তাঁদের পাতা পথেই দাঁড়িয়ে আজ ভারতীয় মেয়েরা দেখাল, কঠোর পরিশ্রম আর বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। আর সমতা কোনও দয়া নয়, সাফল্যের শর্ত।

    উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ চালু

    আইপিএল এর সাফল্যের ব্যাপারে ক্রিকেট ভক্তরা ওয়াকিবহাল। কিন্তু আইপিএলের ধাঁচে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ চালু করে মহিলা ক্রিকেটের উন্মাদনা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন জয় শাহ ২০২৩ সালে। প্লেয়ার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ডব্লু পি এলের অবদান এখন সর্বজনবিদিত। বিনামূল্যে টিকিট দিয়ে মহিলা ক্রিকেট দেখার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেছেন জয় শাহ-ই। দেশের ভেতরে মহিলা ক্রিকেটের জন্য প্রোপার ডোমেস্টিক প্ল্যাটফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তি ও ফ্যাসিলিটির ব্যবস্থা করা যে বৃথা যায়নি, তা বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারা প্রমাণিত।

    মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদর্থক পদক্ষেপ

    ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ভারতীয় বোর্ড পুরুষ ও মহিলা দলের জন্য সমস্ত টুর্নামেন্টে প্রাইজ মানি সমান করেছে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদর্থক পদক্ষেপ করেছেন। গত মাসে আইসিসি চেয়ারম্যান মহিলা ক্রিকেটের প্রাইজমানি ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছেন। ২.৮৮ মিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে ১৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এসব উদ্যোগে মহিলাদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। একসময় যেখানে মহিলা খেলোয়াড়দের সাফল্য মানে ছিল “সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়”, আজ তা হয়ে উঠেছে “ব্যবস্থার সহায়তায় জয়”। সমান পারিশ্রমিকের সিদ্ধান্ত কাগজে লেখা একটি নীতিমালা ছিল, আজ তা বাস্তবের উজ্জ্বল উদাহরণ।

  • ICC Women’s World Cup: সমতাই সাফল্যের চাবিকাঠি! বিসিসিআই দেখাল সমান পারিশ্রমিক বদলে দিতে পারে মানসিকতা

    ICC Women’s World Cup: সমতাই সাফল্যের চাবিকাঠি! বিসিসিআই দেখাল সমান পারিশ্রমিক বদলে দিতে পারে মানসিকতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা বিশ্বকাপ (ICC Women’s World Cup) অনেকের কষ্ট মুছে দেয়। ৬ বিশ্বকাপ খেলেও মিতালি রাজ পারেননি। ৫টা বিশ্বকাপ খেলে পারেননি ঝুলন গোস্বামী। সব আক্ষেপ এক রাতে মুছে দিলেন হরমনপ্রীত, স্মৃতি, দীপ্তি, শেফালিরা। ফারাক একটাই সমতা। নবি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলোয় ইতিহাস রচনা করলেন হারমনপ্রীত কৌর। শেষ বলে উড়ে আসা ক্যাচটি যখন তিনি মাথার উপরে তুলে ধরলেন, তখন তাঁর সতীর্থরা ছুটে এলেন মাঠে, চোখে জল, মুখে অবিশ্বাসের হাসি। প্রথমবার ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল জয় করল বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চ—ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কিন্তু এই জয় শুধুই ক্রিকেটের নয়, এটি এক নীতির জয়—যার সূচনা হয়েছিল তিন বছর আগে বোর্ডরুমের এক নীরব বৈঠকে।

    “আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত”ই যুক্তিযুক্ত

    ২০২২ সালের অক্টোবরে, বিসিসিআই-এর (BCCI) ১৫তম অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে নেওয়া হয়েছিল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত—পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সমান ম্যাচ ফি চালুর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। রোহিত-বিরাটদের মতো পারিশ্রমিক বা ম্যাচ -ফি পেতে শুরু করেন হরমনপ্রীত, মান্ধানারা। সেই সিদ্ধান্ত তখন আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব ক্রীড়ামহলে। তখন বিসিসিআই সচিব পদে ছোট-খাটো চেহারার এক ব্যক্তি জয় অমিতভাই শাহ। যার রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু তিনি নীরবে কাজ করে গিয়েছেন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন—মহিলা ক্রিকেট কি এখনও সেই অর্থনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে সমান পারিশ্রমিক যুক্তিযুক্ত? কেউ কেউ বলেছিলেন এটি “আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত”, যুক্তির নয়।

    বিশ্বাসে অটল বিসিসিআই

    সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের (ICC Women’s World Cup) লিগ পর্বে যখন ভারতের পারফরম্যান্স দুর্বল হচ্ছিল, তখন সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়। সামাজিক মাধ্যমে বাড়তে থাকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য। কিন্তু বিসিসিআই তাদের বিশ্বাসে অটল ছিল। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে হরমনপ্রীতরা প্রমাণ করলেন, সেই বিশ্বাস বৃথা যায়নি। বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিসিআই সচিব জয় শাহ এক টুইটে লেখেন, “ভারতের মেয়েদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ভারতের প্রতিটি নাগরিককে গর্বিত করেছে। দলের লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা যেমন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি বিসিসিআই-এর নীতিগত সিদ্ধান্ত—সমান পারিশ্রমিক, বাড়তি বিনিয়োগ, উন্নত কোচিং কাঠামো ও উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ-এর অভিজ্ঞতা—এই সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে।”

    এক সুপরিকল্পিত কাঠামোর ফল

    এই জয় আকস্মিক নয়, এটি এক সুপরিকল্পিত কাঠামোর ফল। সমান পারিশ্রমিকের সঙ্গে সঙ্গে মহিলা ক্রিকেটে এসেছে উন্নত পরিকাঠামো, দক্ষ কোচিং স্টাফ, এবং উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ (WPL)-এর মতো প্রতিযোগিতা, যা মেয়েদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিয়েছে। সমান পারিশ্রমিক শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক বিপ্লবও ঘটিয়েছে। মহিলা ক্রিকেটাররা এখন সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত। সেই আত্মবিশ্বাসই আজ প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেটে প্রতিফলিত। সমান পারিশ্রমিক তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—সমতা কোনও দয়া নয়, এটি অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত।

    ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা

    বিশ্বকাপ (ICC Women’s World Cup) জয়ের পর ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিসিসিআই (BCCI)। সংস্থার সচিব দেবজিৎ শাইকিয়া জানান, এই পুরস্কার দলের সব সদস্য, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জয় শাহ ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিসিসিআই সচিব থাকাকালীন মেয়েদের ক্রিকেটে একাধিক বদল এনেছেন। পে প্যারিটি বা সমান বেতন কাঠামোর বিষয়টি তখনই কার্যকর হয়। গত মাসে আইসিসি চেয়ারম্যান মহিলা ক্রিকেটের প্রাইজমানি ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছেন। ২.৮৮ মিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে ১৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এসব উদ্যোগে মহিলাদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিসিসিআই ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।”

    জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসি-তেও নয়া ধারা

    জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসি-র তরফেও প্রাইজমানির পরিমাণ এবার বেড়েছে। ভারত পেয়েছে ৪.৪৮ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আগের আসরে যেখানে অস্ট্রেলিয়া পেয়েছিল মাত্র ১.৩২ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি। রানার্স-আপ দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে ২.২৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ কোটি টাকা), আর সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল প্রত্যেকে পেয়েছে ১.১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ কোটি টাকা)। পুরো টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি ছিল ১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা), যা আগের বিশ্বকাপের ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। এমনকি এই পরিমাণ পুরস্কার ২০২৩ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার অর্থকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সমতা আগে এলে সাফল্য আসবেই

    ভারতের এই সাফল্য বিশ্ব ক্রীড়াজগতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। এতদিন মহিলা ক্রিকেটারদের বলা হত, “প্রথমে তোমাদের খেলা বাণিজ্যিকভাবে সফল হোক, তারপর আসবে সমান অধিকার।” ভারত দেখিয়ে দিল—সমতা আগে এলে সাফল্য আসবেই। বিসিসিআইয়ের (BCCI) মতো একটি বাণিজ্যিকভাবে প্রভাবশালী বোর্ড যখন সমতাকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেটি বিশ্ব ক্রীড়ার মানদণ্ড বদলে দেয়। এই জয় শুধু ট্রফি নয়—এটি এক নতুন ভারতীয় বাস্তবতার প্রতীক। ডিওয়াই পাতিলের আকাশে যখন তেরঙা উড়ছিল, ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দল নতুন ভবিষ্যতের ছবি আঁকছিল। এটি শুধু ভারতের মেয়েদের জয় নয়—এটি সারা বিশ্বের কাছে এক বার্তা: সমান সুযোগ দিলে, মেয়েরা ইতিহাস লেখে।

  • Champions Trophy 2025: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুত নয় পাকিস্তান! বাধ্য হয়ে পদত্যাগ আইসিসির সিইও-র

    Champions Trophy 2025: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুত নয় পাকিস্তান! বাধ্য হয়ে পদত্যাগ আইসিসির সিইও-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy 2025) শুরু হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। তার আগে পদত্যাগ করলেন আইসিসির সিইও জিওফ অ্যালারডাইস। ২০২১ সাল থেকে আইসিসির সিইও পদে ছিলেন জিওফ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগেই সরে গেলেন তিনি। মনে করা হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজনে পাকিস্তান যে এখনও তৈরি হতে পারেনি, তার দায় নিয়েই সরলেন তিনি। যদিও জিওফ নিজে থেকেই সরে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে একটি মিডিয়া বিবৃতিতে এ কথা জানান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। তবে জিওফ-এর পদত্যাগের কারণ জানানো হয়নি।

    চাপে ছিলেন জিওফ

    আইসিসি সূত্রে খবর, চাপে ছিলেন জিওফ। গতবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টি-২০ বিশ্বকাপে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তান যে এখনও প্রস্তুত নয়, তার দায় চাপানো হয় তাঁর ওপরই। রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য তৈরি হয়নি। এই বিষয়টি আইসিসির বোর্ডকে জানাননি অ্যালারডাইস। গতবছর টি-২০ বিশ্বকাপের পর আইসিসির ইভেন্ট হেড ক্রিস টেটলি এবং মার্কেটিংয়ের জেনারেল ম্যানেজার ক্লেয়ার ফারলং পদত্যাগ করেন। দুর্নীতিবিরোধী শাখার প্রধান অ্যালেক্স মার্শালও ইস্তফা দেন। এবার সরলেন সিইও জিওফ। তিনি বলেন, “আইসিসির সিইও পদ সামলানোর দায়িত্ব পাওয়াটা সত্যিই বড় ব্যাপার। ক্রিকেটের প্রসারের জন্য যা করেছি, তাতে আমি খুশি। আমার মনে হয় এটাই সেরা সময় আমার সরে যাওয়ার। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চাই।”

    প্রস্তুত নয় পাকিস্তান

    ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy 2025)। নিরাপত্তার কারণে ভারত নিজেদের সব ম্যাচ খেলবে দুবাইয়ে। কিন্তু বাকি সব ম্যাচ হবে পাকিস্তানের করাচি, লাহোর এবং রাওয়ালপিণ্ডিতে। এই তিন জায়গার মাঠ এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। সংস্কারের কাজ চলছে, যা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এখনও বোঝা যাচ্ছে না আদৌ করাচি এবং রাওয়ালপিণ্ডির মাঠ সময়ের আগে তৈরি হবে কি না। প্রথম ম্যাচ করাচিতেই। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ যদিও অ্যালারডাইসের প্রশংসাই করেছেন। তিনি বলেন, “আইসিসির তরফে অ্যালারডাইসকে ধন্যবাদ। তাঁর পরিশ্রম ক্রিকেটকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছে। অ্যালারডাইসকে ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।” ইতিমধ্যেই নতুন সিইও খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আইসিসির দায়িত্ব নিয়েছেন জয় শাহ। তিনি যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সমস্যায় সরাসরি ঢোকেননি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনে পাকিস্তানের চরম গাফিলতিতে যে জয় শাহর আইসিসি ক্ষুব্ধ তা এই ঘটনায় স্পষ্ট।

  • Jay Shah: টেস্ট ক্রিকেটে শ্রেণিবিন্যাসের ভাবনা! জয় শাহের নেতৃত্বে বড় বদলের পথে আইসিসি

    Jay Shah: টেস্ট ক্রিকেটে শ্রেণিবিন্যাসের ভাবনা! জয় শাহের নেতৃত্বে বড় বদলের পথে আইসিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে সদ্য দায়িত্ব নেওয়ার পরই টেস্ট ক্রিকেটে বড়সড় এক বদলের পরিকল্পনা করছেন জয় শাহ (ICC Chairman Jay Shah)। টেস্ট ক্রিকেটে টু-টিয়ার সিস্টেম বা দ্বিস্তরীয় ব্যবস্থা চালু করার চিন্তাভাবনা করছেন আইসিসির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান। টি-টোয়েন্টির যুগে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা ভাবা হয়েছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা মিলে এই নীল নকশা তৈরি করছেন। যার নেতৃত্বে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    আইপিএল ও টি-টোয়েন্টির যুগে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যের টেস্ট ক্রিকেট। আধুনিক ক্রিকেটের ঘরানায় ধরে খেলা, উইকেটে থেকে খেলা দর্শক মনে জায়গা করে নিতে পারছে না। দুমদাম শট দেখতেই মাঠে ভিড় জমাচ্ছে দর্শক। সম্প্রতি এমন কথাই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বর্ডার-গাভাস্কর ট্রফিতে (Border-Gavaskar Trophy) রেকর্ড দর্শকসংখ্যার পরে সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছে। ভালো খেলা হলে দর্শক মাঠে আসতে বাধ্য তা প্রমাণ করেছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ। রোহিত-বিরাট-যশস্বী-পন্থদের সঙ্গে কামিন্স-স্টার্কদের দ্বৈরথ দেখতে প্রতিদিন মাঠে এসেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বুমরা-স্মিথ-হেড-সিরাজ বা জাদেজা-কনস্টাসদের খেলা নজর কেড়েছে সকলের। তাই টেস্ট ক্রিকট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে আইসিসি। অ্যাশেজ সিরিজের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় মাঠে এত ভিড় আর কোনও সিরিজে হয়নি। সদ্যসমাপ্ত বর্ডার-গাভাস্কর ট্রফিতে মোট দর্শকসংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৭৯। শুধু ১৯৩৬-৩৭, ২০১৭-১৮ ও ১৯৪৬-৪৭ সালে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর চেয়ে বেশি দর্শক স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখেছিলেন।

    কীভাবে হবে শ্রেণিবিন্যাস

    টেস্ট ক্রিকেটকে দুটো শ্রেণিতে ভাঙার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বায়ার্ড, ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন টেস্ট ক্রিকেটকে দুটো আলাদা আলাদা ডিভিশনে ভাঙার জন্য। টেস্ট ক্রিকেটকে টিয়ার-১ ও টিয়ার-২ তে ভাঙা হবে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড— এই তিন দল একে অপরের বিরুদ্ধে চার বছরে দু’বার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলে। টেস্ট খেলিয়ে তিনটে প্রথম সারির দলের ক্ষেত্রে যেটা অনেক কম বলে মনে করে আইসিসি। রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসিসি যেই পরিকল্পনা করেছে তাতে এই তিন দল একে অপরের বিরুদ্ধে তিন বছরে দু’বার করে টেস্ট খেলবে।

    কোন বিভাগে কারা

    আইসিসি যেই প্রস্তাব দিয়েছে তাতে প্রথম ডিভিশনে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলবে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এই গ্রুপ বিন্যাসের অর্থ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত তিন দল একে অপরের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে ম্যাচ খেলবে। তিন মহাশক্তিধর টেস্ট খেলিয়ে দেশ নিজেদের মধ্যে বেশি করে খেললে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে খবর আইসিসির অন্দরে। তাই তিন ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে আইসিসি একটা চুক্তি করতে চাইছে। সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষেই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বৈঠক করবেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে।

    বিতর্কে নতুন ফরম্যাট

    তবে প্রস্তাবিত এই ফর্ম্যাট নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ, এখনও পর্যন্ত এই দ্বিস্তরীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ভাবনায় অবনমন প্রথা থাকবে বলে খবর নেই। সেক্ষেত্রে ওপরের পর্বে যাওয়ারও সুযোগ থাকবে না দ্বিতীয় গ্রেডে থাকা দলগুলির। কী করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ঐতিহ্যশালী দলকে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, স্যর গ্যারি সোবার্স, ভিভ রিচার্ডস, পেস বোলিংয়ের পঞ্চপাণ্ডব, ব্রায়ান লারার দেশকে গ্রেড টুয়ে রাখা আসলে উপেক্ষা করা কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

    এই ভাবনা নতুন নয়

    তবে, এই প্রথম নয়, যেখানে টেস্ট ক্রিকেটকে দুই ভাগ ভাগ করার কথা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন সব ক্রিকেট বোর্ড তা খারিজ করে দেয়, তালিকায় ছিল বিসিসিআইও। সেই সময় ভারতের যুক্তি ছিল, টেস্ট ক্রিকেটকে দুই ভাগে ভাগ করা হলে ছোট দলগুলো পিছিয়ে যাবে এবং টেস্টে এগোতে পারবে না। কিন্তু ২০১৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের যা ছবি ছিল সেটা এখন বদলেছে। এখন সমর্থকরা নির্দিষ্ট কিছু দলের ম্যাচ দেখতে টেস্টে ভিড় করেন। তাই আইসিসি চাইছে পুরোনো প্রস্তাব ফিরিয়ে আনতে ও সেটাকে বাস্তবায়িত করতে। 

    কবে থেকে নতুন ফরম্যাট

    নতুন ফরম্যাট চালু হলে সবটাই হবে ২০২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পর। এখন আইসিসির টেস্ট সাইকেল চলছে। সেই সাইকেল অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত টেস্ট সূচি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই হিসেবে যদি টেস্টকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায় তাহলে সূচিতে বদল আনতে হবে। মনে করা হচ্ছে, বর্তমানে চলা টেস্ট সাইকেল শেষ হলে তারপর নতুন নিয়ম চালু করা হতে পারে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jay Shah: সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে আইসিসি-র চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জয় শাহ

    Jay Shah: সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে আইসিসি-র চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হল আইসিসি। আর সেই আন্তর্জাতিক সংস্থার মাথায় ফের বসলেন কোনও ভারতীয়। আজ ১ ডিসেম্বর থেকে আইসিসির চেয়ারম্যান (Icc Chairman) পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জয় শাহ। প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকে আইসিসির পদে ছিলেন গ্রেগ বার্কলে। ২০২৪ সালে এই পদে বসলেন জয় শাহ (Jay Shah)। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে প্রথম ক্রিকেট প্রশাসনে এসেছিলেন জয় শাহ। সেসময় গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীকালে বিসিসিআইয়ে কনিষ্ঠতম সচিবও হন তিনি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    দায়িত্ব নিয়ে কী বললেন জয় শাহ (Jay Shah)?

    দায়িত্ব নেওয়ার পর জয় শাহ (Jay Shah) বলেন, ‘‘আইসিসির চেয়ারম্যানের (Icc Chairman) দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত। আইসিসির পরিচালক এবং সদস্য বোর্ডগুলির সমর্থন এবং বিশ্বাসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ক্রিকেটের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা এখন ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশ্বে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছি আমরা। চেষ্টা করা হচ্ছে খেলাটাকে আরও আকর্ষণীয় করার। তিন ধরনের ক্রিকেটকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মহিলাদের ক্রিকেটেরও বিশ্বব্যাপী প্রসারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের সব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আইসিসির সব কমিটি এবং সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে চাই।’’ নিজের বক্তব্যে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন গ্রেগ বার্কলেকেও।

    সবচেয়ে কম বয়সি সভাপতি (Jay Shah)

    প্রসঙ্গত, জয় শাহ হলেন আইসিসির সবচেয়ে কম বয়সি প্রেসিডেন্ট। এর আগে ভারতীয় হিসেবে আইসিসির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন জগমোহন ডালমিয়া, শরদ পাওয়ার, শশাঙ্ক মনোহর প্রমুখ। প্রসঙ্গত,  বিসিসিআইয়ের সচিব থাকার সময় জয় শাহ বারবার মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি নিয়ে কথা বলতেন। তিনি সচিব থাকাকালীনই মেয়েদের প্রিমিয়াম লিগ শুরু করে বিসিসিআই। পাশাপাশি মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য পুরুষদের সমান বেতনও চালু করেন তিনি। এবার আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পরেও তাঁর মুখে শোনা গেল মহিলা ক্রিকেটে জোর দেওয়ার কথা। তিনি জানিয়েছেন, মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে গতি আরও বাড়াতে হবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jay Shah: বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষস্থানে জয় শাহ, কীভাবে উপকৃত হবে ভারতের বাইশ গজ?

    Jay Shah: বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষস্থানে জয় শাহ, কীভাবে উপকৃত হবে ভারতের বাইশ গজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসির মসনদে পা রেখেছেন জয় শাহ (Jay Shah)। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান। বোর্ড সচিব হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ভূমিকা রেখেছেন জয়। এ বার আইসিসির (ICC) দায়িত্বে এসে ক্রিকেটের আরও উন্নতি করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানে এর আগেও চার ভারতীয় নিজেদের স্বাক্ষর রেখেছেন। এবার পালা জয়ের। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের মসনদ লাভ করায় ভারত আরও সুবিধা পাবে বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল। তবে এখন কিন্তু শুধু ভারতীয় ক্রিকেট নয় বিশ্ব ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভাবতে হবে তাঁকে এমনই দাবি আইসিসির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির।

    ক্রিকেটে জয়-যাত্রা

    ১৯৮৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাটে জয়ের জন্ম। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সোনাল শাহের পুত্র তিনি। জয়ের ছোটবেলা কেটেছে গুজরাটেই। সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। আমেদাবাদের নিরমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিটেক করেন জয়। ২০০৯ সালে জিসিএ-র এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য হয়েছিলেন তিনি। তারপর ২০১৩ সালে সহ-সচিব। বিসিসিআই-এর অন্দরে প্রথম পা রাখেন ২০১৫ সালে। হন ফিনান্স কমিটির সদস্য। এরপর ২০১৯-এ পান সচিবের দায়িত্ব। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় এই আসন সামলাচ্ছেন তিনি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন জয়। এবার সেসব পিছনে ফেলে আইসিসি’র মসনদে বসছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের গ্রেগ বার্কলে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ৩০ নভেম্বরের পর আসন আর ধরে রাখতে চান না তিনি। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ২৭ অগাস্ট অবধি। জয় শাহের (Jay Shah) বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী না দাঁড়ানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরবর্তী সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ

    আইসিসির দায়িত্ব নেওয়ার পরই জয় শাহর প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নির্বিঘ্নে আয়োজন করা। পাকিস্তান আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক। ২০০৮ সালের এশিয়া কাপের পর ভারতীয় ক্রিকেট টিম পাক সফরে যায়নি। জয় শাহ আইসিসি-র দায়িত্বে থাকায় ভারত কি পাকিস্তানে খেলতে যাবে? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রীড়া বিশ্বে। তবে এক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা কেন্দ্র সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে বিসিসিআই। এখন জয় শাহ মধ্যস্থতা করে ভারতেকে পাকভূমে খেলাতে নিয়ে যেতে পারেন। আবার ভারত না চাইলে নিরপেক্ষ কোনও জায়গাতেও হতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। 

    ভারতে মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি

    জয় শাহের নেতৃত্বে বিসিসিআই মহিলাদের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) শুরু করেছিল, যা অত্যন্ত সফল। এই লিগ মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চুক্তির পরিমাণ বাড়ায়, যা মেয়েদের ক্রিকেটে আসতে উৎসাহ দিয়েছে। শাহ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য অভিন্ন ম্যাচ ফি প্রয়োগ করে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন। এবার বিশ্ব ক্রিকেটের দায়িত্ব নিয়ে তিনি যে মহিলা ক্রিকেটের আরও উন্নতির চেষ্টা করবেন তা বলাই বাহুল্য।

    ঘরোয়া ক্রিকেটে গুরুত্ব

    জয় শাহ খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করেন। ভারতের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (এনসিএ) কে নতুনভাবে সাজিয়েছেন জয়। বর্তমানে অ্যাকাডেমিটি শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। আমদাবাদে প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। জয় আইসিসি-র দায়িত্ব নিলেও তাঁর নজর যে সবসময় দেশের ক্রিকেটকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার দিকে থাকবে তা মনে করছে ক্রীড়ামহল।

    টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি

    আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পরে দিন-রাতের টেস্ট নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেছেন শাহ। টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “হতে পারে এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রমরমা। কিন্তু আমাদের ভুললে চলবে না যে ক্রিকেটের ভিত হল টেস্ট। তাই সকলে যাতে ক্রিকেটের বড় ফরম্যাট খেলতে চায় সে দিকে নজর দিতে হবে। টেস্টকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এখন টি-টোয়েন্টির মতো টেস্টেও দর্শকেরা মাঠ ভরাচ্ছেন। এটা ভাল ছবি। দিন-রাতের টেস্ট শুরু হয়েছে। সেটাও আকর্ষণীয়।” চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরই জয়ের হাতে থাকবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দায়িত্ব। গত দুবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলেও জিততে পারেনি ভারত। এবার জয়ের অপেক্ষায় রোহিতরা।

    কবে দায়িত্বগ্রহণ

    আইসিসির কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৫ বছরের জয় শাহ। এখন আইসিসির সদস্য সংখ্যা ১৬। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্বে জয়কে সমর্থন করেছিলেন ১৫ জন সদস্য। শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন পাননি বিসিসিআই সচিব। জয় শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডকে পাশে পেয়েছিলেন। পরে অন্য সদস্য দেশগুলির সমর্থন পেতেও সমস্যা হয়নি তাঁর। সব দেখেশুনে পিসিবি জয়ের বিরোধিতার রাস্তায় হাঁটেনি। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন জয়। বোর্ড সচিব হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ভূমিকা রেখেছেন জয়। ২০২২ সালে তাঁর আমলেই আইপিএলের মিডিয়া স্বত্ব রেকর্ড ৪৮,৩৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়। এই চুক্তির পরেই আইপিএল বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে মূল্যবান ক্রীড়া লিগে পরিণত হয়। এবার বিশ্ব ক্রিকেটে সফল প্রশাসক হিসেবে একজন ভারতীয়ের ‘জয়’যাত্রার অপেক্ষায় ক্রিকেট অনুরাগীরা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘আপনার ভাইরাও নানা পদে’’, জয় শাহকে কটাক্ষ করায় মমতাকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘আপনার ভাইরাও নানা পদে’’, জয় শাহকে কটাক্ষ করায় মমতাকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র জয় শাহ আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় অমিত শাহকে (Amit Shah) ‘খোঁচা’ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রেক্ষিতেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পাল্টা জবাব দিলেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। 

    মমতার পোস্ট

    সদ্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জয় শাহ (Jay Shah)। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার একদিন পরে অমিত শাহকে ‘খোঁচা’ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ অগাস্ট করা ওই পোস্টে জয় শাহের নাম না নিয়েই মমতা লিখেছিলেন, ‘‘আপনার ছেলে রাজনীতিবিদ হয়নি। কিন্তু তার থেকেও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছে। অভিনন্দন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনার পুত্র রাজনীতিবিদ না হলেও আইসিসির চেয়ারম্যান হয়েছেন। এই পদটি অধিকাংশ রাজনৈতিক পদের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পুত্র সত্যিই অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছেন। ওঁর এই সাফল্যের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।’’ 

    শুভেন্দুর জবাব

    মমতার (Mamata Banerjee) পাল্টা হিসেবে সোশ্যাল সাইটে ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ পাল্টা পোস্ট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু লেখেন, ‘‘বাংলার ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন। আপনার ভাইয়েরা রাজনীতিবদ হননি। পরিবর্তে তাঁরা হয়েছেন— অজিত বন্দোপাধ্যায় (ষষ্ঠী) আইএফএ (বাংলার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা) সভাপতি। বাবুন বন্দোপাধ্য়ায় (স্বপন) বাংলা অলিম্পিক্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি, মোহনবাগান ফুটবল ক্লাবের মাঠ সচিব, পশ্চিমবঙ্গ হকি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ অ্যামেচার বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। ক্রীড়া প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের এই পোস্টগুলি পাওয়ার আকাঙ্খা অনেক রাজনীতিবিদেরই থাকে। আপনার ভাইয়েরা নিঃসন্দেহে ভীষণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তাঁদের এই সাফল্যে আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই। কুর্নিশ।’’

    এর আগেও অমিত শাহের ছেলে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের পদাধিকারী হওয়ায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা এবং তৃণমূল নেতারা। আর এবার আইসিসির কনিষ্ঠতম সভাপতি হয়েছেন জয় শাহ। যা নিয়ে অমিত শাহকে ‘খোঁচা’ মেরে অভিনন্দন জানান মমতা (Mamata Banerjee)। আর তারই পালটা জবাব দিয়ে মমতার ভাইদের পদ নিয়ে পোস্ট করলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share