Tag: Jharkhand

Jharkhand

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (Jharkhand Recruitment Scam) পরীক্ষায় দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্নপত্র লিক, উত্তরপত্রে জালিয়াতি এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাতেই গলদ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন সেই রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা। এবার ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ (Union Minister Sanjay Seth)। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে তদন্তের অনুমতি না দেওয়ার জন্য হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।

    আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি কেন

    সঞ্জয় শেঠের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর প্রশাসন দমনমূলক পদক্ষেপ করছে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি দেন এবং রাত ১টার সময় আন্দোলনস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শেঠের বক্তব্য, নিজেদের খরচে পড়ুয়ারা জেনারেটরের ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিও সরিয়ে দেয়। ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জেপিএসসি হোক বা জেএসএসসি—সমগ্র ঘটনায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই অর্থের ভাগ কারা পেয়েছেন এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

    সিবিআই তদন্ত কেন নয়

    রাজ্য সরকার কেন সিবিআই তদন্তে সম্মতি দিচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয় শেঠ। তাঁর অভিযোগ, শাসক জোটের প্রভাবশালী নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম তদন্তে উঠে আসতে পারে বলেই সিবিআই তদন্তে আপত্তি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC)-এর পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাঁচিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।  ইতিমধ্যেই বিতর্কিত জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে সরকার রাজি বলে  ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরীক্ষার আয়োজনকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি, আইআইটি ও আইআইএমের সাহায্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তবে, পরীক্ষার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নিশানা করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস মিথ্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand Parliament) পড়ুয়াদের ওপর হিংসার ঘটনায় রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল। তার পরের দিনই কংগ্রেস এবং রাহুলকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা রটিয়ে চলেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। যে বিরোধী দলনেতা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা জবাব শুনতেও চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা রটাতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।’’

    রাহুল গান্ধী নীরব কেন?’ (Rahul Gandhi)

    অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল ও কংগ্রেস ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত। কংগ্রেস সংসদের কাজ ব্যাহত করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এর পরেই ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে রাহুলকে নিশানা করেন প্রধান। বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে রাহুল গান্ধী প্রতিটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি আজ নীরব কেন?’’ কংগ্রেস গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাছাই করা নীতি অনুসরণ করে বলেও অভিযোগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে যুবকদের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক নজর কাড়ার প্রয়োজন হলে মিথ্যা এবং হইচইও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বুঝে গিয়েছে।’’

    রাহুলকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান নাড্ডার

    সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের একদিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও রাহুলের বিরুদ্ধে সংসদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ দিন ধরে ব্যাহত করার এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন (Rahul Gandhi)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর দাবির পর সরকার সংসদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরে রাহুল তাঁর দাবি বদলে ফেলেন। নাড্ডা বলেন, “যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছিলেন রাহুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দাবিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা নিজের দাবিই বদলে ফেললেন এবং রাম মন্দিরের অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি তুলতে শুরু করলেন।” সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাহুলকে আহ্বান জানান নাড্ডাও। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (রাহুল) আলোচনা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাহুল গান্ধী, আলোচনা থেকে পালাবেন না। আমরা প্রস্তুত। সংসদের ভিতরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। পালিয়ে যাবেন না।’’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলার অভিযোগও করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য (Jharkhand Parliament), গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলা রাহুল এবং কংগ্রেস পার্টির এটা ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত (Rahul Gandhi)।’’

  • NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধীদের লাগাতার অচলাবস্থার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদের দিকে মিছিল করলেন এনডিএ (NDA) সাংসদরা। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। সেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংসদে বিতর্ক এড়িয়ে (Jharkhand) যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

    এনডিএর বিক্ষোভ (NDA)

    সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হয়েছে। বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দাবি করছে। এদিকে, রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি করেছেন। সরকার অবশ্য এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।সোমবার ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনায়ও রাহুলের কাছে জবাব চেয়েছেন এনডিএ সাংসদরা। বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত বলেন, “এখন ওরা আলোচনা করতে অস্বীকার করছে। এর আগে ওরাই আলোচনার দাবি জানিয়েছিল—যে পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে ওরা পিছিয়ে গেল। ওরা দেশকে বিভ্রান্ত করছে। সংসদ চলতে দিচ্ছে না।”

    কী বলছে বিজেপি

    বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ রাহুলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেন, “এটি দ্বিচারিতার ঘটনা। ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় রাহুল গান্ধী সংসদ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন এবং নীরব রয়েছেন। গোটা দেশ সব কিছু দেখছে (NDA)।” বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ বলেন, “পুরো বিরোধী দল কোনও ধরনের আলোচনাই চায় না। ছাত্রদের বিষয়টির ক্ষেত্রে তাদের নীতি এক এক জায়গায় এক এক রকম, এবং ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা।” বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু রাহুল গান্ধী প্রস্তুত নন। তিনিই লোকসভাকে অচল করে রেখেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে প্রস্তুত।” বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “অমিত শাহজি জবাব দেবেন, রাহুল গান্ধী পালাবেন না… রাহুল গান্ধী লজ্জা করুন, ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের উপর এতটা বর্বরতা হয়েছে…”  অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সবাই তাঁদের (বিরোধীদের) কাছে জবাব চাইছে। তাঁদের জবাব দিতেই হবে।”

    গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল

    এর আগে সোমবার রাহুল জানিয়েছিলেন, বিরোধীরা অমিত শাহের মতামত শুনতে আগ্রহী নয়। বরং পুলিশের দমন-পীড়নের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তা জানতে চান বিরোধীরা। রাহুল বলেন, “অমিত শাহের সংসদে এসে আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই। গত ১৫ দিনে তাঁরা সেটাই দেখিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ—কারও সাহস নেই… তাঁর মতামত নিয়ে কারও আগ্রহ নেই। আমরা শুধু জানতে চাই, গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তিনি যদি নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কে সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন? আমরা জানতে চাই, এর দায় কার, নাকি এটি অদক্ষতার ফল?” টানা কয়েক দিন ধরে সরকার ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই সংঘাতের জেরে (Jharkhand) সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হওয়ার পর সরকার ফের জানিয়েছে, তারা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের নির্দেশদাতা এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি জবাব দাবি করছে (NDA)।

     

  • Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের (Jharkhand Protest) মূল দাবি, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে। সোমবার আন্দোলনকারীদের ‘বিধানসভা ঘেরাও’ অভিযানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রাঁচীর পথে ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদীরা এগোতে থাকেন বিধানসভার দিকে। পড়ুয়ারা পিছিয়ে যেতে অস্বীকার করলে পুলিশ একাধিক দফায় জলকামান ব্যবহার করে। এরপরও আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

    আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ

    ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকালে ট্রেন, বাস ও নিজস্ব গাড়িতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাঁচিতে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। প্রধান রাস্তা ও সীমানায় তল্লাশি চালানো হয়, বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগোলে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। অভিযানের জন্য পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরেই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাও চালায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই থেকে ধীরে ধীরে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন।

    বিজেপি নেতাদের আটক

    মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। বিধানসভা অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জমায়েত হন পড়ুয়ারা। মিছিল এগোতে শুরু করার পর পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাকের ঠিক আগের দিন, রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর তিন সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তদন্তের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি—সিবিআই তদন্ত। সেই দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। রবিবার রাঁচিতে আন্দোলনরত জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা হাতে ফ্ল্যাশলাইট মিছিল করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন।

    ইস্তফা ৩ জেপিএসসি সদস্যের

    রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। গত তিন দিন ধরে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার পর একাধিক দাবিতে সরকার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু। মন্ত্রী জানান, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, এই বিষয়ে দুটি দিক থেকে তদন্ত এগোনো হবে। অভিযোগের ফৌজদারি দিক খতিয়ে দেখবে সিআইডি। অন্যদিকে আর্থিক অনিয়ম বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইডি তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। সোনুর দাবি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তদন্তের উপর নজরদারি এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগের সমাধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    সিবিআই ছাড়া কোনও সমাধান নয়, বলছেন আন্দোলনকারীরা

    সরকারের ঘোষণায় একাধিক দাবি পূরণ হলেও সিবিআই তদন্তের দাবি না মানায় আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। এই দাবিতে আমরা কোনও আপস করব না।” জেপিএসসি-র তিন সদস্যের ইস্তফাকে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও শুধুমাত্র ইস্তফা দিয়ে দায়বদ্ধতা শেষ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারী অনিশ ফতিমার দাবি, কমিশনের ভিতরে অনিয়মের অভিযোগ যে গুরুতর, তিন সদস্যের পদত্যাগে তারই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর অভিযোগ, সিআইডি তদন্তে শুধু ছোট পর্যায়ের অভিযুক্তরা ধরা পড়তে পারেন, কিন্তু “বড় মাথাদের” সামনে আনতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন। আন্দোলনকারী অর্চনা কুমারীর কথায়, “শুধু পদত্যাগ করলেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। তাঁদের মেয়াদে যে ভুলের কারণে যোগ্য ও সৎ পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।”

    দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি

    ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যুবকদের তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তাঁদের ন্যায়বিচার দেওয়া হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে, আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (JLKM)-র বিধায়ক জয়ারাম মাহতো রাঁচিতে একদিনের অনশনে বসেন। তিনিও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মাহতো অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড শিক্ষামন্ত্রী নীরা যাদবও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের মূল সমস্যার সমাধান না করে সরকার তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি সিবিআই তদন্ত, ইডি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন শনিবার পড়ল ১৫ দিনে। দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পর আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে রবিবার ফের আলোচনায় বসার (Reforms Protest) সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেন সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

    অচলাবস্থা কাটেনি (Jharkhand)

    শনিবার সরকার চার দফায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় অংশ নেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চ এবং আদিবাসী ছাত্র সংঘ। এর আগে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিল সরকার। পাঁচ দফা আলোচনার পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। এরপর রবিবার দুপুর ১২টায় ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ষষ্ঠ দফায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    সরকারের নতুন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং মূল দাবিগুলি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। সংস্কার মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “এটি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল। সরকার ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে আন্দোলনের দিক থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু সরকারের জানা উচিত, সমস্ত ছাত্র একজোট।” শনিবার জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠকে পাসওয়ান আরও দাবি করেন, শুক্রবার রাতে পাঁচ সদস্যের সরকারি কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সংস্কার মঞ্চ তাদের সমস্ত দাবি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, চলমান আন্দোলনে কোনও ভূমিকা না থাকা সংগঠনগুলির সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করে সরকার আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

    বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক

    শনিবার সরকারি কমিটি প্রথমে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে মাহাতোর অনশন এদিন সপ্তম দিনে পড়ে (Reforms Protest)। এর পর জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, আদিবাসী ছাত্র সংঘ এবং ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে সরকারি কমিটি। বৈঠকে প্রত্যেক সংগঠনের কাছ থেকে তাদের দাবিপত্র চাওয়া হয়। সরকারের দাবি, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা যে সমস্ত উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেছেন, সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানান, আলোচনায় ছাত্র প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবি ও উদ্বেগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে রবিবার দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত দফার আলোচনা হবে।” মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদব জানান, ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি

    ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিলের দাবি (Jharkhand)। জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ছ’দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের অন্যতম দাবি, সন্দেহের আওতায় থাকা ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের সমস্ত পরীক্ষা ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধ তদন্ত দফতরের মাধ্যমে তদন্ত করা। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার আদলে ঝাড়খণ্ডে একটি পৃথক পরীক্ষা সংস্থা গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। আদিবাসী ছাত্র সংঘের নেতা কার্তিক ওরাঁও নিয়োগ পরীক্ষায় আদিবাসী ও আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে যোগ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যেসব পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেগুলি বাতিল করার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। সংস্কারের বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মতামত জানতে একটি বৈদ্যুতিন ডাকের ঠিকানাও চালু করেছে সরকার। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে (Reforms Protest)।

    বিধানসভা অভিযানের হুঁশিয়ারি

    সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রবিবারের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১০ অগস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। শনিবার আন্দোলনস্থলে আলাদা মঞ্চ তৈরি করে সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি। তবে সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, একে পৃথক কোনও আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। শুক্রবার বিরসা চকে বিধানসভা অভিযানের সময় কালি ছোড়ার ঘটনায় আক্রান্ত হওয়া সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও শনিবার কিছু সময়ের জন্য আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি চতুর্দশ লোকসেবা কমিশন পরীক্ষা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। সংগঠনের রাঁচি শাখার প্রধান বিজয় কুমার বলেন, “বৃহত্তর আন্দোলনের যে দাবিগুলি রয়েছে, আমাদেরও একই দাবি। ১০ অগাস্টের মিছিলে আমাদের সদস্যরা অংশ নেবেন, তবে সংগঠনের পতাকা নিয়ে নয়।”

    বিধানসভা অভিযানের ডাক এবিভিপির

    এদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে তাদের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ কর্তা অজয় আর্যন জানান, ওই মিছিল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় (Jharkhand)। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে  ১১ অগাস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই শহিদ নির্মল মাহাতোর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা আন্দোলনস্থল থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মিছিল করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিও ফের তুলে ধরেন। এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাক্তন কমিটি-প্রধান এল (Reforms Protest) খিয়াংতেকে ২৮ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত চার দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে (Jharkhand)।

     

  • Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী-মুক্ত ভারত! কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা (Misir Besra Arrested)। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী। মিসির ছিলেন একমাত্র জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য।

    কীভাবে ধরা পড়লেন মিসির

    পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ থানার পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে। রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু এবং সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ। অভিযানে দুই গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক, পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মিসিরের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টির বেশি মামলা রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এমন তিনটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রায় দু’ দশক ধরে অধরা

    ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে. প্রায় দু’ দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে মিসির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে মিসির পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁকে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে পুরোনো একটি মামলায় হাজির করানোর জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে মিসির বেসরাকে ছাড়াতে আচমকা হামলা চালায়। তাতেই পালিয়ে যান মিসির। মিসিরের গ্রেফতার নিয়ে তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থর দাবি, পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর তরফ থেকে তাঁর বাবার গ্রেফতার নিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে খবর দেওয়া হয়নি। তিনি সূত্র মারফত জেনেছেন তাঁর বাবার গ্রেফতার হওয়ার খবর। সিদ্ধার্থর দাবি, ১৫ দিন আগেও পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে বলেছিল, বাবাকে চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে অনুরোধ করতে। একই সঙ্গে মিসিরের ছেলে জানিয়েছেন, ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। বাবা জীবিত রয়েছেন জেনে তিনি খুশি।

    মিসির বেসরা কে?

    মিসিরের আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের কাছে তিনি ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিসিরের। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সারান্ডা, পোরাহাট ও কোলহানের জঙ্গল এলাকায় সংগঠনের ঘাঁটি শক্তিশালী করা, সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মাওবাদী ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে।

    পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু, বিভীষণ বা কুম্বা মুর্মু ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা। সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল মোচ্ছু। তার গ্রেফতারির জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, মিসির বেসরার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সারান্ডা-পোডাহাট অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ, তোলাবাজি, ক্যাডার পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোচ্ছুর। আর এক ধৃত গৌরব ওরফে সৌরভও সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকেও সংগঠনের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোয় শেষ পেরেক!

     ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংগঠনের দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য ও দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মিসির বেসরার গ্রেফতরি রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। পুলিশের দাবি, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি বর্তমানে পলাতক।

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

LinkedIn
Share