মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বিল্ডার তথা ব্যবসায়ী জয় কামদারকে (Joy Kamdar) গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি। নির্মাণ সংস্থা ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সমাজবিরোধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। দুজনের এই ‘অশুভ আঁতাত’ এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে।
সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর বিদেশি পিস্তল-রহস্য
সম্প্রতি, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রাম্ত মামলায় তল্লাশি অভিযানের সময় সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়িতে উদ্ধার হওয়া বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির হদিস পায় ইডি (ED)। ১ এপ্রিল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ একটি ৭ এমএম বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে, যার গায়ে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা ছিল। তদন্তে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি ওই অস্ত্রটি সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা পোদ্দারের নামে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনা হয়েছিল জয়ের সংস্থা থেকে। তদন্তে উঠে আসে, বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সংস্থার মাধ্যমেই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল। অশ্বিনী দত্ত রোডে জয়ের অফিস থেকেই এই কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ। যদিও সোমা পোদ্দার দাবি করেছেন, তিনি এই কেনাকাটা বা তাঁর নামে কোনও ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
সোনা পাপ্পুর স্ত্রী-র নামে সংস্থা, অথচ তিনিই জানেন না!
পাশাপাশি, সোনা পাপ্পু ও জয়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে। ইডির তদন্তে আরও জানা যায়, জয়ের সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পু ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা একাধিক সংস্থার সঙ্গে বিপুল টাকার লেনদেন হয়েছে। ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামের সংস্থায় ডিরেক্টর হিসেবে নাম রয়েছে জয়ের। এছাড়া ‘এসপি কনস্ট্রাকশন’ নামে আর একটি সংস্থা সোনা পাপ্পুর নামে রয়েছে। এসব সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি, ‘হেভেন ভ্যালি’ নামে সোমা পোদ্দারের সংস্থার সঙ্গেও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে ইডি—যদিও তিনি সবকিছুই অস্বীকার করেছেন।
৪ মাসে ৫০০ কোটি নগদ জমা, মোট লেনদেন ১১০০ কোটি!
তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ইডির। ‘ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটি’-র অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ কোটি টাকা জয়ের ভুয়ো কোম্পানিতে স্থানান্তরের তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাত্র চার মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে জয়ের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫টি ভুয়ো সংস্থার খোঁজ মিলেছে। বর্তমানে ইডি জয়ের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার আইনজীবীর কথায়, “তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ মিলেছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনের সঙ্গেও অভিযুক্তের যোগ রয়েছে।”
রবিবার দীর্ঘ জেরার পর বিকেল ৫টা নাগাদ জয় কামদারকে গ্রেফতার করে ইডি। কিন্তু গ্রেফতারির পরপরই তিনি অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে প্রথমে সল্টলেকের সেবা হাসপাতাল ও পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে জয়কে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
