Tag: Kasba

Kasba

  • ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে পুজো (Durga Puja)পরিক্রমার ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বাংলার এই গায়ক। সেই অভিযোগের তদন্তেই মঙ্গলবার সাতসকালে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে পৌঁছে গেল ইডি (ED Raid)। সূত্রের খবর, তাঁর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িই নয়, এ দিন ভোর থেকে একইসঙ্গে তাঁর সংস্থার অফিস-সহ শহরের একাধিক জায়গায় চলছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীলের হুগলির ফার্ম হাউসেও পৌঁছে গিয়েছে ইডির দল।

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইডির দল

    মঙ্গলবার ভোরে শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দেয় ইডির (ED Raid in Kolkata) একাধিক দল। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়ি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। তবে তিনি এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, মাস-আর্ট নামক সংস্থার নামে বাজার থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা তোলেন ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত তিন বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

    প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি চড়া দামে

    ইডির দাবি, বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই শুরু হয়েছিল অন্য এক খেলা। সেই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম অপব্যবহার করে প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের চড়া দামের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর হেরিটেজ পাওয়ার ঠিক এক বছর পরেই (২০২২ নাগাদ) একটি বিশেষ সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার নাম দেওয়া হয়, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art)। এর নেপথ্যে ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সংস্থাটির কাজ ছিল দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীদের বিশেষ ‘প্রি-পূজা টিকিট’ বিক্রি করা। কলকাতার নামজাদা প্রায় ২৪টি পুজোকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হত। সংস্থাটি দাবি করত, এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    ইউনেস্কো যুক্ত ছিল না কখনওই

    অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কো কোনওদিনই পুজোর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো আন্তর্জাতিক তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে বিপুল দামে এই টিকিট বিক্রি করা হত। তদন্তে উঠে আসে এই পাসগুলি পাওয়ার জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার জন, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। যে পুজোগুলোকে এই প্রদর্শনীতে বাছা হত, নিয়ম করে কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল কোটি টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলো, আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। ইডির দাবি, সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

    কোটি কোটি টাকার কারবার

    এতদিন ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী। চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তার ভিত্তিতে ইডি তল্লাশি শুরু করল। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পুজোর পাস নিয়ে ইডির এই তদন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীলের সংস্থার বিরুদ্ধে। কলকাতার প্রায় চব্বিশটি বাছাই করা পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে যে পাস বিক্রি করা হতো তার একেকটির মূল্য ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউনেস্কো ওই মণ্ডপগুলি নির্বাচন করেছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনও সত্যতা মেলেনি।

    কীভাবে টাকার লেনদেন হত

    যদিও এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর হয়েছিল। তবে দুর্নীতির অঙ্ক বিপুল হওয়ায় ইসিআইআর করে তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থার নামে যদি টাকা তোলা হয়, তবে তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে টাকার লেনদেন হত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন শহরের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও ইডি আধিকারিকরাও হানা দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক দুর্নীতির উৎসে পৌঁছনো।

  • SIR: এসআইআর জুজুর ভয়েই কি রাতারাতি খালি হয়ে গেল গুলশন কলোনি?

    SIR: এসআইআর জুজুর ভয়েই কি রাতারাতি খালি হয়ে গেল গুলশন কলোনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন পাঁচেক আগেও যেখানে লাখ দুয়েক লোকের বসবাস ছিল, এখন সেখানে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধুই বহুতল। কোনওটায় একজন, কোনওটায় বা দু’জনের হাতে বিএলও তুলে দিলেন এনুমারেশন ফর্ম (SIR)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআর জুজুতে রাতারাতি ফাঁকা হয়েছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ (Bangladeshi) নামে খ্যাত কসবার গুলশন কলোনি। কসবার এই এলাকা প্রায়ই থাকে খবরের শিরোনামে। তবে সেসব খবর কোনও ইতিবাচক কারণে হয়, বরং নেতিবাচক কারণে সংবাদ মাধ্যমে জায়গা করে নেয় গুলশন কলোনি। এই কলোনির জনসংখ্যা কমবেশি ২ লাখ। শহর কলকাতার এই কলোনি অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা। কলোনি লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের একটা অংশের দাবি, “গুলশন কলোনি যেন মিনি বাংলাদেশ! শুধুই বহিরাগতের ভিড়!”

    গুলি-বোমা-বন্দুকের কান ফাটানো আওয়াজ (SIR)

    এই কলোনিতে নিত্যদিনই লেগে থাকে ক্যাচাইন। সামান্য ঝুট-ঝামেলা হলেই এলাকায় শুরু হয়ে যায় দুষ্কৃতিরাজ। গুলি-বোমা-বন্দুকের কান ফাটানো আওয়াজে এবং ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে যায় কলোনির লোকজন। এহেন একটি কলোনিতেই শনিবার শুরু হল এসআইআর। এই কলোনির প্রায় প্রতিটি বাড়িই ৫ থেকে ৬ তলা। প্রতি ফ্লোরে রয়েছে কমপক্ষে ৪টি করে ফ্ল্যাট। পাড়া রয়েছে অনেকগুলি। এক একটি পাড়া চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি অ্যালফাবেট দিয়ে। এর মধ্যে ৩০৪ নম্বর পার্টে রয়েছে এম, এন, এল এবং পি – এই চারটি পাড়া। একটি বুথে বাড়ি রয়েছে হাজার আড়াই। অথচ বুথের মোট ভোটার (SIR) মাত্র ১ হাজার ৭০০ (Bangladeshi)।

    এসআইআর শুরু গুলশন কলোনিতে

    এদিন এক একটি বহুতলে ঢুকলেন বিএলও। তখনই বের হল ঝুলি থেকে বেড়াল! অতি কষ্টে কোনও একটি ফ্লোরের কোনও একটি ফ্ল্যাটে রয়েছেন একজন ভোটার। নিজের কাছে থাকা তালিকার সঙ্গে নাম মিলিয়ে দেখে নিয়ে তাঁর হাতে তুলে দিলেন এমুনারেশন ফর্ম। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি গেলেন পাশের বহুতলে। কিন্তু সেখানেও তো খাঁ খাঁ দশা! তাহলে কি এতদিন ধরে গুলশন কলোনিতে বসত করত বহিরাগতরাই? বিএলও ওয়াসিম আক্রম বলেন, “এক তলা থেকে চার তলায় উঠলাম। শুধু একজনের নাম পেয়েছি। আর কেউ নেই। আর পুরো যা আছে, কেউ বলছে বিহার, কেউ বলছে রিপন স্ট্রিটের বাসিন্দা। অন্য জায়গা থেকে এসে এখানে থাকছে, অথচ ভোটার কার্ড নেই (Bangladeshi)।”

    ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই এই এলাকার ভোটার নয়

    লাখ দুয়েক জনসংখ্যার এই কলোনিতে ভোটার (SIR) রয়েছেন ২০ হাজারের মতো। যার অর্থ হল, কলোনির ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই এই এলাকার ভোটার নয়। প্রশ্ন হল, তারা কারা? কেনই বা ডেরা বেঁধেছে গুলশন কলোনিতে? এদিন বিএলও ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে ছিলেন কেবল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ ২ মিনাজ শেখ। দাপুটে এই তৃণমূল নেতার দাবি, “গুলশন কলোনির অনেকেই অন্য এলাকার ভোটার। কিন্তু তালিকায় ঠিকানা বদল করেননি।” তাঁর মতে, গুলশন কলোনি সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারই এলাকাটিকে সবার চোখে খাটো করেছে। গুলশন কলোনি এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত।

    কলোনিতে বহিরাগতদের ভিড়!

    এই কলোনিতে যে বহিরাগতদের ভিড়, মাস দুয়েক আগেই তা ফাঁস করেছিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। এলাকায় ব্যাপক অশান্তির (SIR) প্রসঙ্গে সজল বলেছিলেন, “ওখানে কলকাতা পুলিশ দিয়ে হবে না। বাংলাদেশ পুলিশকে ডাকতে হবে। গুলশন কলোনি মানে রোহিঙ্গাদের কলোনি। তিন হাজার ভোটার রয়েছে। অথচ এলাকার বাসিন্দা ২ লাখ। এ রকম গুলশন কলোনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দু-চারটে করে তৈরি হয়েছে। পুরো বেআইনি জগৎ (Bangladeshi)।” সজল যে ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন মন্তব্য করেছিলেন, তা হল গত ১১ সেপ্টেম্বর ভরসন্ধেয় গুলশন কলোনিতে ব্যাপক গোলা-গুলি চলে। হয় বোমাবাজিও। কলোনির অটোস্ট্যান্ডে এসে পর পর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সূর্য ডোবার পরে এলাকায় আঁধার ঘনাতেই ফের শুরু হয় বোমাবাজি। ওই দিনই মাঝরাতে দুষ্কৃতীরা গিয়ে বোমা ছোড়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের অনুগামীদের বাড়ি লক্ষ্য করে। সেই ঘটনার ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। স্থানীয়দের একাংশের মতে, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গুলশন কলোনি। বিরোধীদের অভিযোগ, ওই ঘটনার নেপথ্যে ছিল শাসক দলের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ মিনি ফিরোজ ও তাঁর দলবল।

    বিপাকে তৃণমূল!

    প্রসঙ্গত, গুলশন কলোনি এলাকাটি কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। এই এলাকার (SIR) বিধায়ক তৃণমূলের জাভেদ আহমেদ খান। তিনি তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের মন্ত্রীও। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে সাড়ে ১১ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিলেন জাভেদ। পরের বিধানসভা নির্বাচনে সেই জাভেদই জয়ী হন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৫৭ ভোট পেয়ে। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ। এসআইআর হওয়ার পর (Bangladeshi) জাভেদের গদি টিকবে কি? আপাতত কোটি টাকার প্রশ্ন সেটাই (SIR)।

LinkedIn
Share