Tag: Kashmir

Kashmir

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ধর্মীয় প্রচারক আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ কাশ্মীরে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগরে লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাদনি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। বক্তৃতায় মাদনি হাফিজ সইদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যে তথাকথিত ‘মাতৃভূমির’ জন্য আত্মত্যাগ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সইদ হাজার হাজার জঙ্গিকে কাশ্মীরের দিকে পাঠিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার ও নিয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। নাসির মাদনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।

    পাকিস্তানের নজরে কাশ্মীর

    কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার, নিয়োগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাস্তবে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর উপর একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বারবার পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী যে ভারতে ক্রমাগত নাশকতা চালাতে চাইছে তার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান কখনও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগের কথা স্বীকার করেনি।

    ভারতের দাবিই সত্য প্রমাণিত

    একটা দেশ যারা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, সুযোগ সুবিধা দিয়ে, সবরকমের সাহায্য করে অন্য দেশে নাশকতার জন্য পাঠাচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তারা নিজেদের ভাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। কখনও বলছে, তাদের দেশই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। কখনও আবার কোনও জঙ্গিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলছে। ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই অভিযোগ বহুবার করেছে ভারত। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা এই ধরনের ভিডিও বারবার প্রমাণ করে।

    হাসপাতালের শয্যা থেকে ফের প্রকাশ্যে

    নাসির মাদনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। গত ৩ জুলাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাহানিয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবারের ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। পরে তাঁকে মুলতানের চৌধরি পারভেজ এলাহি ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজিতে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে তাঁর এমন মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

    হাফিজ সইদকে ঘিরে বিতর্ক

    লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের যোগ ছিল। ওই হামলায় ১৬০-রও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানের আদালতও সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় হাফিজ সইদকে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে সে পাকিস্তানে কারাবন্দি রয়েছে, এমনই দাবি ইসলামাবাদের। তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তার জীবন-যাপন আর পাঁচজনের মতোই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে হাফিজের। তাদের ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে সে।

    কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি

    নাসির মাদনির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, তিনি সইদকে সন্ত্রাসবাদী নেতা হিসেবে না দেখিয়ে তথাকথিত জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে ‘১০ হাজার জঙ্গি’ পাঠানোর দাবিটি নাসির মাদনির বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

    নাসির মাদনি কে

    নাসির মাদনিকে বিভিন্ন রিপোর্ট ও অনলাইন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে মাদনির একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় বক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতির কথাও উঠে এসেছে। ২০২০ সালে তাঁকে বন্দুকের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে এই ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দারা

    স্বাধীনতা দিবসের আগে ও পরে পাকিস্তান থেকে লস্কর জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিকে উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক রয়েছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রধান শহর ও সড়কগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে শ্রীনগর, উধমপুর, পুঞ্চ, ডোডা এবং রিয়াসির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বড় ধরনের তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ রুখতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK) উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

     

     

  • ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তরফে অভিযুক্ত উমর খালিদকে (Umar Khalid) নিয়ে একটি বই আলোচনা সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ ১০ অগাস্ট বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে (ABVP) অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

    খালিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (ABVP)

    খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে নানা সময় তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। জেএনইউয়ের এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে খালিদের বইকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে একটি ইতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরেই সংগঠনটি এ ব্যাপারে সরব হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুষ্ঠানটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিও জানানো হয়।

    এবিভিপির প্রতিবাদ

    এবিভিপির পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপ তৈরির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। একইসঙ্গে, গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও নিন্দা করেছে তারা। এবিভিপি (ABVP) জেএনইউয়ের সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, “গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার মঞ্চ জেএনইউ চত্বর হতে পারে না। আমরা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবিভিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জয়।”

    দেশবিরোধী মানসিকতার প্রতিবাদ

    এবিভিপির জেএনইউয়ের সম্পাদক প্রবীণ পীযূষ বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার পক্ষে এবিভিপি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলার যে কোনও প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করব। এবিভিপি জেএনইউ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাতিল হয়েছে।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি (Umar Khalid) করা হয়, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে অনুমতি নেওয়া (ABVP) হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আদিবাসী দিবস’ পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

     

  • Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসকে (RSS) “সভ্যতাগত শক্তি” বলে উল্লেখ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি বলেন, “এই সংগঠনের অস্তিত্ব বা কাজের মূল্যায়নের জন্য কোনও সরকারি স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন হয় না।” নয়াদিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি ভবনে আরএসএসের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আরএসএস অ্যাট ১০০: আ সেঞ্চুরি অব সার্ভিস, ইউনিটি অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস’ বইটির আবরণ উন্মোচন করেন রাজনাথ। সেখানেই তিনি জানান, আরএসএসের প্রত্যেক সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা করেছেন এবং সংগঠনটি বরাবরই “দেশ সবার আগে” এই আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করেছে। বইটির লেখক শ্যাম জাজু ও অনুপম ত্রিবেদী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন, দিল্লি বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্ত, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের সভাপতি রামবাহাদুর রাই, আরএসএসের প্রান্ত সংঘচালক পবন জিন্দল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান (Rajnath Singh)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, আরএসএসের প্রতিটি সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটি সব সময় “দেশ সবার আগে, সর্বদা সবার আগে” এই ভাবনা অনুসরণ করেছে। সেই কারণেই আজ আরএসএস বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার আরএসএসের নিবন্ধন নিয়ে করা মন্তব্যেরও জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, “এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন গঠনের অধিকার দিয়েছে।” রাজনাথ বলেন, “একজন মায়ের ভালোবাসার জন্য কোনও লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। একজন গুরুর দেওয়া মূল্যবোধ কোনও সরকারি সিলমোহরের ওপর নির্ভর করে না। মা গঙ্গার প্রবাহিত হওয়ার জন্য কোনও অনুমতির দরকার হয় না। সূর্যের আলো ছড়াতে কোনও নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। ঠিক তেমনই আরএসএস (RSS) একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।”

    “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”

    তিনি বলেন, “বিশ্বে এমন খুব কম সংগঠনই রয়েছে, যারা এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় পরিসরে কাজ করেও কখনও ভাঙনের মুখে পড়েনি।” তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে সংগঠনের নেতৃত্বের গুণমান এবং সেই আদর্শ, যার মূল বক্তব্য হল “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”। তিনি বলেন, “আরএসএস কখনও নিজেদের কাজের প্রচার করে না। সংগঠনের অন্যতম প্রধান নীতি হল খ্যাতি বা প্রচারের প্রতি অনাসক্ত থাকা।” আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সংগঠনটি এই উপলক্ষকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে না দেখে আত্মসমালোচনা এবং আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে আরএসএস পাঁচটি অঙ্গীকার বা ‘পঞ্চ প্রাণ’ গ্রহণ করেছে।” তাঁর বক্তব্য, এই পাঁচটি অঙ্গীকারের লক্ষ্য হল মূল্যবোধসম্পন্ন, সক্ষম, স্বনির্ভর, পরিবেশ-সচেতন এবং কর্তব্যপরায়ণ সমাজ গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, এই পাঁচটি অঙ্গীকারই উন্নত ভারতের পাঁচটি ভিত্তিস্তম্ভ (Rajnath Singh)।

    শক্তিশালী প্রহরী

    রাজনাথ জানান, দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আরএসএসের ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই সংগঠন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে মহারাজা হরি সিংকে বোঝানোর জন্য এমএস গোলওয়ালকরকে পাঠানো হয়েছিল। আবার ১৯৫৪ সালে দাদরা ও নগর হাভেলি মুক্ত করার আন্দোলনেও আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গোয়া মুক্তি আন্দোলনেও স্বয়ংসেবকদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আরএসএসকে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার এক শক্তিশালী প্রহরী বলেও (RSS) অভিহিত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৯৫০ সালে সরকার যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করেছিল, তখন আরএসএস তার বিরোধিতা করেছিল।” রাজনাথ আরও বলেন, “১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আরএসএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যে কোনও ব্যক্তি যদি একবার আরএসএসের একটি শাখায় গিয়ে তাদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তাহলে তিনি সংগঠনটির অনুরাগী হয়ে উঠবেন।”

    সঙ্কটের সময় সবার আগে

    ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, “১৯৩২ সালে সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস অ্যান্ড বেরারের সরকার আরএসএসকে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই সময় প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্শি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছিলেন, ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনও সম্প্রদায়ের বিরোধী হতে পারে না (Rajnath Singh)।” বামপন্থী প্রচারের কারণে অনেকের মধ্যে আরএসএস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, এই বই পড়লে সেই ভুল ধারণা দূর হবে এবং মানুষ সংগঠনটিকে নতুনভাবে বুঝতে পারবেন (RSS)। তিনি বলেন, “১৯২৫ সালে ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার যে বীজ রোপণ করেছিলেন, আজ তা বিশাল বটগাছে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি কোনওটি হয়, তবে সেটি আরএসএস। গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি সংস্কৃতি, ধর্ম এবং ভারতীয় পরিচয় রক্ষায় কাজ করে চলেছে। শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বয়ংসেবকেরা দেশের যে কোনও সঙ্কটের সময় সবার আগে এগিয়ে এসেছেন।”

    উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপরাষ্ট্রপতিও। তিনি জানান, আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত বোধ করছেন। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “আরএসএসের যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে সংগঠিত স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং নিজের স্বার্থের আগে সমাজসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূল্য কতটা গভীর।” তিনি আরও বলেন, “আরএসএস ধারাবাহিকভাবে চরিত্র গঠন এবং নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে (Rajnath Singh)।” এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আরএসএসের ইতিহাস, সংগঠনের আদর্শ, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া অঙ্গীকার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবির কথা তুলে ধরা হয় (RSS)। পাশাপাশি সংগঠনটিকে দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত করে তার ভূমিকার প্রশংসাও (Rajnath Singh) করেন দুই শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী।

     

  • Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফি বছর ১৩ জুলাই দিনটি ‘ব্ল্যাক ডে’ (Black Day) হিসেবে পালন করে আসছে বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি হিন্দু সম্প্রদায়ের (Kashmiri Hindus) একটি বড় অংশ। দেশের বিভিন্ন শহর এবং বিদেশে বসবাসরত বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত এই দিনটিকে ১৯৩১ সালের ঘটনাবলির স্মরণে পালন করেন। তাঁদের দাবি, ওই দিন থেকেই কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত হিংসার সূচনা হয়েছিল, যার পরিণতি ১৯৮৯-৯০ সালের গণ-নির্বাসন। ১৯৩০ সালে লন্ডনে হওয়া গোল টেবিল বৈঠকে দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মহারাজা হরি সিং। সেখানে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। কাশ্মীরি হিন্দুদের একাংশের মতে, এর পর থেকেই ব্রিটিশ প্রশাসন মহারাজার অবস্থান দুর্বল করার লক্ষ্যে নানা রাজনৈতিক পদক্ষেপ করে এবং রাজ্যের মুসলিম অভিজাতদের একটি অংশকে সেই কৌশলের অংশ করে তোলে।

    সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে ইন্ধন (Black Day)

    এদিকে, মহারাজার বৃত্তি নিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র পরবর্তীকালে ডোগরা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মহম্মদ আবদুল্লা। তিনি প্রথমে শ্রীনগর স্টাডি সার্কেল গড়ে তোলেন, যা পরে জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্সে রূপান্তরিত হয়। অভিযোগ, এই সংগঠনই ১৯৩১ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এবং কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে উসকে দেয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশের বক্তব্য, ১৩ জুলাই ১৯৩১ ছিল কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় আকারের সংগঠিত হামলার দিন। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ প্রশাসন, মুসলিম কনফারেন্স এবং বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর ভূমিকা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল (Black Day)। ব্রিটিশদের মদতে পেশোয়ারের বাসিন্দা আবদুল কাদিরকে কাশ্মীরে এনে মহারাজার বিরুদ্ধে মুসলিম জনমত গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে মুসলিম কনফারেন্স “কাশ্মীর ছাড়ো” স্লোগান তুলে আন্দোলন শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় মহারাজার সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে টার্গেট করা হয় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের।

    জেলে ভেঙেছিল বন্দিরা

    এই বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৩১ সালের ২৯ জুলাই খ্রেওর মা জ্বালা দেবীর জন্মোৎসব উপলক্ষে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত শ্রীনগরের বাইরে থাকবেন, সেই সুযোগে তাঁদের বাড়িঘর লুট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও সেই পরিকল্পনার খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বানচাল হয়ে যায় (Black Day) ষড়যন্ত্র। এর কিছুদিন আগে, ১২ ও ১৩ জুলাই শ্রীনগরের হরিপর্বত সেন্ট্রাল জেলে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, আবদুল কাদিরের প্ররোচনায় বন্দিদের একাংশ জেল ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফলশ্রুতিতে শ্রীনগরের বিচারনাগ, মহারাজগঞ্জ, আমিরাকাদল, হরি সিং হাই স্ট্রিট, বোহরি কাদল-সহ একাধিক এলাকায় হিন্দুদের (Kashmiri Hindus) বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার (Black Day) অভিযোগ ওঠে।এখনকার বদগাঁও জেলার কানিকুট গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলা হয় বলেও অভিযোগ। সেখানে একটি পরিবারের সদস্যদের বহুতল বাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ একতরফা হামলা এবং নিরীহ হিন্দুদের ওপর সংঘটিত এক সংগঠিত হিংসা।

    শেখ সাহেব…

    প্রাক্তন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রামনাথ কৌল তাঁর “শেখ মহম্মদ আবদুল্লা: আ পলিটিক্যাল ফিনিক্স” গ্রন্থে ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার একটি বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে কয়েকজন জখম হন। পরে তাঁদের মুসলিম কনফারেন্সের সদর দফতর মুজাহিদ মঞ্জিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় গুরুতর জখম এক ব্যক্তি শেখ আবদুল্লাকে বলেন, “শেখ সাহেব, আপনি আমাদের যা বলেছিলেন, আমরা তাই করেছি।” এরপর তাঁর মৃত্যু হয় বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে। এই বিবরণ অনুযায়ী, পরে নিহতদের “শহিদ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা এই ঘটনাকে “বাটা লুট” নামে উল্লেখ করতে শুরু করেন এবং ১৯৩২ সাল থেকে ১৩ জুলাই দিনটিকে “ব্ল্যাক ডে” হিসেবে পালন করে আসছেন। নির্বাসিত জীবনেও এই প্রথা বজায় রয়েছে (Black Day)।

    কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ফল

    কাশ্মীরি হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, ১৩ জুলাই ১৯৩১-এর ঘটনাই পরবর্তী কয়েক দশকে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ভিত্তি তৈরি করে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই কাশ্মীর থেকে হিন্দুদের উৎখাতের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা শুরু (Kashmiri Hindus) হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের দাবি, ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হিংসার স্মৃতিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের উচিত দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “ব্ল্যাক ডে” ঘোষণা করা। প্রসঙ্গত, ১৩ জুলাই ১৯৩১ সালের এই সব ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক, গবেষক এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যাখ্যাও আলাদা। তবে একথা ঠিক যে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আক্ষরিক অর্থেই ভিটেছাড়া হওয়ার (Black Day) নেপথ্যে ছিল ইংরেজদের রোপণ করা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের বীজ।

     

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Pakistan: একটা রুটির জন্য জেহাদিদের যৌন লালসার শিকার হয় গরিব কাশ্মিরী মেয়েরা! বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু

    Pakistan: একটা রুটির জন্য জেহাদিদের যৌন লালসার শিকার হয় গরিব কাশ্মিরী মেয়েরা! বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু মুফতি সঈদ খান! তাঁর অভিযোগ, কাশ্মীরে (Kashmir) সক্রিয় জেহাদিরা অসহায় (Pakistan) মহিলাদের খাদ্যের মতো মৌলিক প্রয়োজনের বিনিময়ে যৌন শোষণে বাধ্য করছে।

    “কাশ্মীর এবং আমাদের ভণ্ডামি” (Pakistan)

    সঈদ পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। “কাশ্মীর এবং আমাদের ভণ্ডামি” শিরোনামের এক আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে, বিদ্রোহের এক অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, শরণার্থী শিবিরে থাকা নারী ও কিশোরীদের একটি রুটির বিনিময়ে যৌন সুবিধা দিতে বাধ্য করা হত। ওই ধর্মগুরুর মতে, যেসব গোষ্ঠী নিজেদের “মুজাহিদিন” বা ধর্মীয় যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা বাস্তবে বাস্তুচ্যুত ও আর্থিকভাবে অসহায় নারীদের লক্ষ্য করে তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, এমন এক জোরপূর্বক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যেখানে বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে (Kashmir)।

    গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি

    ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এই বক্তব্যকে “গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিসরের ভেতর থেকে এই ধরনের স্বীকারোক্তি খুবই বিরল (Pakistan)। কর্তাদের ধারণা, এই মন্তব্যগুলি দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ‘জেহাদে’র আড়ালে স্থানীয় জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলি আরও জানিয়েছে, এই তথ্যগুলি পূর্বে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে শেয়ার করা ভারতের গোপন নথিপত্রের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব নথিতে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অঞ্চলে হিংসা ও শোষণে জড়িত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেয়।

    ধর্মগুরুর বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব

    প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, এই ধর্মগুরুর বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন হিংসা ও জোরপূর্বক শোষণের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যদি এই সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের “নৈতিক ও আদর্শিক সংগ্রাম” সম্পর্কিত বিষয় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এই বিতর্ক আবারও অঞ্চলটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মানবিক মূল্য, বিশেষ করে নারী ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাবকে নিয়ে এসেছে সামনের সারিতে। পাশাপাশি এটি জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির ভূমিকা এবং ভূরাজনৈতিক বয়ানের আড়ালে থাকা বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি নিয়ে (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

  • Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করতে চেয়েছিল আসিয়া আন্দ্রাবি। (Asiya Andrabi) সঙ্গে ছিল তার দুই সহকারী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরিন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিল এরা তিনজন। দীর্ঘ ৭ বছর মামলা চলার পর কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবিকে (Asiya Andrabi) সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের মামলায় আজীবন কারাদণ্ড দিল দিল্লির বিশেষ আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী সোফি ফাহমিদা (Sofi Fehmeeda) এবং নাহিদা নাসরিনকে (Nahida Nasreen) ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি, তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিল। এই সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে পৃথক করার পক্ষে কাজ করত।

    কোন কোন ধারায় দোষী

    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত (Dukhtaran-e-Millat)-এর মাধ্যমে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়াত। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিয়ো ও প্রচারের মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রচার চালাত এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে পরোক্ষে সমর্থন করত। ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আসিয়া-সহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ, উস্কানিমূলক ভাষণ এবং কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরে গত ১৪ জানুয়ারি আদালত ইউএপিএ (UAPA)-র একাধিক ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। দেশের মধ্যে অশান্তি তৈরি, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো অভিযোগের কারণে এনআইএ আন্দ্রাবির যাবজ্জীবনের আবেদন জানিয়েছিল, তা মেনেই এ দিন সাজা ঘোষণা করে আদালত। আন্দ্রাবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র মতাদর্শগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে।

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ও আসিয়া আন্দ্রাবি

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কাশ্মীরভিত্তিক মহিলা সংগঠন, যার নেতৃত্বে ছিল আসিয়া আন্দ্রাবি (Asiya Andrabi)। ৬২ বছর বয়সি আসিয়া আন্দ্রাবি ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’ (DeM)-এর প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি প্রথমে একটি সামাজিক সংস্কারমূলক গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়। ১৯৯১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্দা প্রথা বাধ্যতামূলক করার প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ তকমা দেয়। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আন্দ্রাবিকে গ্রেফতার করে।

    জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে যোগ

    ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা আন্দ্রাবি শ্রীনগরে হোম সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে এবং সেখান থেকেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। পরবর্তীতে দার্জিলিংয়ে স্নাতকোত্তর করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এর পরে সে ইসলামিক সাহিত্যচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা তার মতাদর্শে বড় প্রভাব ফেলে। পরে জামাত-এ-ইসলামির মহিলা শাখায় যোগ দেয় আসিয়া। ১৯৯০ সালে আশিক হুসেন ফাকতুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় আন্দ্রাবি। আশিক বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। দুই সন্তানের মা আন্দ্রাবিকে প্রথম ১৯৯৩ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে একাধিকবার পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (PSA)-এর আওতায় তাকে আটক করা হয়েছে।

    জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান

    কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা বহুচর্চিত ও আলোচিত। পাকিস্তান, বিশেষ করে তার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে এই জঙ্গি সংগঠনগুলি মারফত কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তা-ও সর্বজনবিদিত। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বিরামহীন সংঘর্ষে হাজার-হাজার প্রাণ যাচ্ছে উভয় পক্ষেই। এই আবহে কেন্দ্রের মোদি সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে। এই সিদ্ধান্তের পরে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্র সরকার যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছে, এই রায় সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আন্দ্রাবি-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই সাজা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের নীতি ও অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই মামলাটি কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই রায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

  • Posters Threaten Terror Attacks: ভূস্বর্গে ফের হুমকি-পোস্টার, নিরাপত্তার দাবি তুললেন উদ্বিগ্ন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Posters Threaten Terror Attacks: ভূস্বর্গে ফের হুমকি-পোস্টার, নিরাপত্তার দাবি তুললেন উদ্বিগ্ন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূস্বর্গে ফের সন্ত্রাসের আতঙ্ক (Posters Threaten Terror Attacks)! কাশ্মীরে জঙ্গিদের দেওয়া হুমকি-পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর পাক-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলির হুমকি নিয়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা (Kashmiri Pandits) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাশ্মীরি পণ্ডিত সংঘর্ষ সমিতি (KPSS) পণ্ডিত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং কাশ্মীর উপত্যকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পোস্টারগুলির সত্যতা যাচাই করছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

    কেপিএসএসের বিবৃতি (Posters Threaten Terror Attacks)

    এক বিবৃতিতে কেপিএসএস বলেছে, সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই হুমকি কাশ্মীরে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এই ধরনের গোষ্ঠীগুলি ভয় ও অস্থিরতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে এবং বারবার শান্তিপ্রিয় ও আদি কাশ্মীরি পণ্ডিত সংখ্যালঘুদের প্রতীকী টার্গেট করে নিজেদের হিংসাত্মক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করে (Posters Threaten Terror Attacks)।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট

    ১৯৯০ সালে গণ-নির্বাসনের সময় উপত্যকা ছেড়ে না যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্ব করে কেপিএসএস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর তথাকথিত ‘ফ্যালকন গ্রুপ’-এর নামে সম্প্রতি উপত্যকায় জঙ্গিদের পোস্টার দেখা গিয়েছে, যেখানে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে (Kashmiri Pandits)।

    ২০২১ ও ২০২২ সালে জঙ্গিরা উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর একাধিক টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড চালায়। পাল্টা অভিযানে পুলিশ ওই হামলায় জড়িত প্রায় সব অভিযুক্তকে হত্যা করে। এরপর এই প্রথম উপত্যকায় এই ধরনের জঙ্গি হুমকি সামনে এল (Posters Threaten Terror Attacks)।

     

LinkedIn
Share