Tag: keir starmer

  • Britain: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন, এবার কী হবে?

    Britain: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন, এবার কী হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন (Britain)। সে দেশের আধিকারিকরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে মাত্র দু’দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত (Energy Crisis) রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পর এবং ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ করে দেওয়ায় এই সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের গ্যাস সংরক্ষণাগারে বর্তমানে প্রায় ৬,৭০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ব্যবহারের হারে এই গ্যাস মাত্র দেড় দিন দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ব্রিটেনের কাছে প্রায় একই পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সংরক্ষিত রয়েছে। তবে দু’ধরনের মজুত গ্যাস একত্রিত করলেও, মোট সরবরাহ এখনও অত্যন্ত কম।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের অবস্থা (Britain)

    এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে তারা বড় পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত করেছে। অনেক ইউরোপীয় দেশের কাছেই কয়েক সপ্তাহ চলার মতো গ্যাস রয়েছে। ব্রিটেনের সীমিত মজুত তাকে জ্বালানি বাজারে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। ফলে অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির জন্য দেশটিকে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা ব্রিটেনে গ্যাস সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত দাম দাবি করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বর্তমানে ব্রিটেন ইউরোপে সর্বোচ্চ পাইকারি দরে গ্যাস মূল্য চোকাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহণে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ইরানের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার কিছু এলাকায় উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে (Britain)।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এর আগে এই সপ্তাহে কাতার ঘোষণা করেছিল, ইরানের হামলার কারণে তারা সাময়িকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান (Ras Laffan)-এ উৎপাদন বন্ধ করেছে। কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরী ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বাজারগুলিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Energy Crisis)। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে পারে তেল ও গ্যাসের দাম। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছবে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম ১৫০ ডলার পর্যন্তও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে সংঘাতপ্রবণ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল থেকে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ করছে ব্রিটিশ সরকার। বিদেশ দফতর একটি বিশেষ অনলাইন বুকিং পোর্টাল চালু করেছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া চার্টার্ড ফ্লাইটে আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন (Britain)।

    নাগরিকদের দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ

    সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চার্টার ফ্লাইটের আসন বুকিংয়ে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশ দফতর আরও জানিয়েছে, যাঁরা সরকারি ভ্রমণ রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান রেজিস্ট্রি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। গত সপ্তাহে জরুরি উদ্ধার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকার পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। ওমানের মাসকাট থেকে দু’টি ফ্লাইট ইতিমধ্যেই আটকে পড়া নাগরিকদের নিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছেছে। দুবাই থেকে যাত্রিবাহী আর একটি ফ্লাইট এই সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটেনে পৌঁছনোর কথা। তবে উদ্ধার অভিযান চললেও, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমির শাহিতে ইরানের হামলা অব্যাহত। শনিবার দুবাইয়ে একটি গাড়ির ওপর গুলি করে নামানো হয় একটি ইরানি ড্রোন। তার ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন একজন (Britain)।

    স্টারমারের বক্তব্য

    অন্যদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত, ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চলছে, তাতে সরাসরি অংশ না নেওয়া নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে (Energy Crisis)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার দুই দেশের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে ফোনে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য যে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতা কথা বললেন। তবে দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ব্রিটেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। স্টারমার বলেছেন, “ইরান যদি সরাসরি হামলা করে এবং প্রতিরক্ষামূলক সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখনই আমেরিকাকে সাহায্য করবে ব্রিটেন (Britain)। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের  সমালোচনা করেন এবং জানান যে তিনি মিত্রদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছেন না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে ট্রাম্প দাবি করেন, স্টারমার যুদ্ধে অংশ না নিয়েও কূটনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

    এ বিষয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার (Yvette Cooper) কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ব্রিটেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে না এবং সে তার বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত অন্য কারও হাতে ছেড়ে দেয় না (Energy Crisis)।” তবে ব্রিটেন আমেরিকাকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্টারমার ও ট্রাম্প তাঁদের আলোচনায় সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুপার ফের মনে করিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থে নয়। তারা অগ্রাধিকার দেবে সরকারের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপকেই (Britain)।

     

  • Britain: ফের রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে ব্রিটেন! নয়া প্রধানমন্ত্রী কে?

    Britain: ফের রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে ব্রিটেন! নয়া প্রধানমন্ত্রী কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে এগোতে পারে ব্রিটেন। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মন্ত্রিসভা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যার ফলে তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

    স্টারমারকে পদত্যাগ করতে বলা হয় (Britain)

    স্টারমারকে প্রথম পদত্যাগ করতে বলেন স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার। ম্যান্ডারসন বিতর্ককে কেন্দ্র করে তিনি এই মন্তব্য করেন। একসময় স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত সারওয়ার বলেন, “দেশের স্বার্থে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে ভালো হবে।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একের পর এক গুরুতর ভুল করেছে এবং বিভিন্ন বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। সারওয়ার জানান, যেখানে তিনি ভুল দেখবেন, সেখানেই তিনি মুখ খুলবেন। জানা গিয়েছে, প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আগেই জানিয়েছিলেন। এরপরই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটকে কার্যত ‘সংকটকালীন অবস্থায়’ রাখা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির মন্ত্রীদের প্রকাশ্যে স্টারমারের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়, অন্যথায় তাঁদের মন্ত্রিসভার পদ হারানোর ঝুঁকির কথা জানানো হয়। এসব ঘটনা এমন এক সময় ঘটছে, যখন চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনির পদত্যাগের পর তার রাজনৈতিক অভিঘাত এখনও ওয়েস্টমিনস্টারে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর দাবি

    শুরুর দিকে কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে সমর্থন করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায়, ভিন্নমতাবলম্বী মন্ত্রীরা শেষ পর্যন্ত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরপরই সব মন্ত্রিসভার সদস্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানান। পরে সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি যেসব রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন, তার প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই আপাত ঐক্যের মধ্যেও সরকারের ভেতরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যা স্টারমারের সঙ্কট আরও বাড়িয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের অভিযোগ, স্ট্রিটিং আনাস সারওয়ারের সঙ্গে মিলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। স্ট্রিটিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং স্টারমারের পক্ষে দেওয়া নিজের প্রকাশ্য বক্তব্যের কথা তুলে ধরেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেও, রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দৌড়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিটার ম্যান্ডারসনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তালাপ প্রকাশ করা ছিল একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। উল্লেখ্য যে, স্টারমারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আলোচনা শুরু হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় স্ট্রিটিংয়ের নাম উঠে আসে।

     

  • AADHAAR: পথ দেখিয়েছে ভারত, নয়াদিল্লি ঘুরে গিয়ে আধারকার্ডের ধাঁচে পরিচয়পত্র চালু করতে চলেছেন স্টার্মার?

    AADHAAR: পথ দেখিয়েছে ভারত, নয়াদিল্লি ঘুরে গিয়ে আধারকার্ডের ধাঁচে পরিচয়পত্র চালু করতে চলেছেন স্টার্মার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে এসে ব্রিটেনে নিয়ে গিয়েছেন আধারকার্ডের (AADHAAR) কনসেপ্ট। সেই ধাঁচেই নয়া পরিচয়পত্র ব্রিটেনে চালু করতে চাইছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। নাম হবে ‘ব্রিট কার্ড’। তবে আধারের মতো বায়েমেট্রিক তথ্য ব্যবহৃত হবে না এই কার্ডে। ব্রিটেনে অনুপ্রবেশকারীদের রুখতেই এই কার্ড চালু করতে চাইছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

    স্টার্মারের মুখে আধার-স্তুতি (AADHAAR)

    সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন স্টার্মার। তখনই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল আধার-স্তুতি। পরে তিনি সাক্ষাৎ করেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানির সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকে জেনে নিয়েছিলেন আধার কার্ড এবং সেই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যও। ব্রিটেনের সরকারি মুখপাত্র জানান, এই কার্ড চালুর ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতার সাহায্য নেবে ব্রিটেন। যদিও তা আদতে আধার কার্ডের মতো হবে না। এর নকশা হবে আলাদা। এই কার্ডে ব্যবহার করা হবে না বায়োমেট্রিক তথ্যও। আধারের ভূয়শী প্রশাংসা করেছে ব্রিটেনের বিভিন্ন গণমাধ্যম। তাদের মতে, প্রশাসনিক ব্যয় এবং দুর্নীতি কমাতে সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে আধার।

    অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের দাবি

    প্রসঙ্গত, অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের দাবিতে সম্প্রতি ব্রিটেনে বেশ কয়েকটি মিছিল এবং জমায়েত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে ব্রিটেনে থাকা শ্রমিকদের চিহ্নিত করতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নয়া সচিত্র পরিচয়পত্র তৈরি করতে চলেছে ব্রিটেনের স্টার্মার সরকার।মনমোহন সিংয়ের জমানায় ১৫ বছর আগে ভারতে চালু হয়েছিল আধার কার্ড (AADHAAR)। ব্যাংক, পোস্ট অফিসের বিভিন্ন জরুরি কাজে আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেও কাজে লাগে এই কার্ড। বর্তমানে ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের কাছেই রয়েছে এই কার্ড।

    ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের এক মুখপাত্র জানান, ভারতের আধার কার্ড সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা শিক্ষা নিচ্ছেন ঠিকই, তবে ব্রিট কার্ডের ধরন একটু আলাদা হবে। জানা গিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে কেবল (Keir Starmer) ব্রিটেনের চাকরিজীবীদের জন্যই বাধ্যতামূলক করা হবে এই কার্ড (AADHAAR)।

  • India-Britain Relation: ‘উগ্রপন্থার কোনও স্থান নেই’, খালিস্তানি ইস্যুতে স্টার্মারকে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    India-Britain Relation: ‘উগ্রপন্থার কোনও স্থান নেই’, খালিস্তানি ইস্যুতে স্টার্মারকে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খালিস্তানি চরমপন্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের (Keir Starmer) সঙ্গে বৈঠকে মোদি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে উগ্রপন্থা ও সহিংসতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে একসঙ্গে লড়াই করা জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

    খালিস্তান প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা

    ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের জানান, “খালিস্তানি চরমপন্থা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে বলেন, সমাজে যে স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে, তা কোনওভাবেই সহিংস উগ্রপন্থার হাতিয়ার হতে পারে না। এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দুই দেশকেই তাদের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি ম্যানচেস্টারে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। ওই ঘটনায় একটি গাড়ি নিয়ে পথচারীদের উপর হামলা করা হয়, যাতে দুই জন প্রাণ হারান।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাশাপাশি

    বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তথ্য আদান-প্রদান, আইনি সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসী অর্থায়ন, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ও নতুন নিয়োগে রাশ টানতে একসঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

    ভারতীয় অর্থনীতির ভূয়সী প্রশংসা

    ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। জানান ভারতে ক্যাম্পাস খুলবে ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)সঙ্গে মুম্বইয়ে দেখা করেন স্টার্মার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এটি স্টার্মারের প্রথম ভারত সফর। দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রনেতাই। বৈঠকে মূলত প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়েই জোর দেওয়া হয়। বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ভারত এবং ব্রিটেন দীর্ঘ দিনের বন্ধু। দু’দেশেই গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন রয়েছে। ভারত এবং ব্রিটেন একে অপরের উন্নতি এবং বিভিন্ন স্তরে অগ্রগ্রতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    আরও মজবুত ভারত (India)-ব্রিটেন সম্পর্ক

    সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোদি ও স্টার্মারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের রোডম্যাপকে সামনে রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা হয়। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই বৈঠকের ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। পাশাপাশি, সবুজ শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও স্টার্ট-আপ খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

    স্টার্মারের সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টার্মারের সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে ভারত (India) এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় অংশীদার। অন্যদিকে, মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে ব্রিটিশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা আগামী দশকে দুই দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় গভীর প্রভাব ফেলবে।

    শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ

    বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে স্টার্মার জানান, ভারতে ক্যাম্পাস খুলবে ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সেই তালিকায় কোন কোন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে, তা এখনও জানা যায়নি। শিক্ষা খাতে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার কথাও বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারতের তরুণ প্রজন্মই ২০৪৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নেতৃত্ব দেবে।” গত জুলাইয়ে ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়। সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই প্রথম বৈঠক করলেন দুই রাষ্ট্রনেতা মোদি ও স্টার্মার। প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও ব্রিটেনকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বর্ণনা করে স্টারমার বলেন, “আমরা প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর করছি—এআই, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বলিউডকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে চলচ্চিত্র নির্মাণের এক নতুন চুক্তির ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, স্টার্মার বৃহস্পতিবার ইয়াশরাজ ফিল্ম স্টুডিও পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে স্টার্মার বলেন, ‘‘ভারতের উন্নতির রেখাচিত্র অসাধারণ।’’ ভারত-ব্রিটেন ফ্রি-ট্রেড ডিল, সামরিক প্রশিক্ষণেও একে অপরকে সাহায্য করবে দু’দেশ বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে আধুনিক উন্নত অংশিদারিত্ব করতে চলেছে দুই দেশ।’’ দু’দিনের সফরে মুম্বইয়ে এসেছেন স্টার্মার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সেখানকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নেতা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদদের ১২৫ জনের একটি দল।

  • Keir Starmer: বাণিজ্যের লক্ষ্যে দু’দিনের সফরে ভারতে কিয়ের স্টার্মার, বৈঠক হবে মোদির সঙ্গেও

    Keir Starmer: বাণিজ্যের লক্ষ্যে দু’দিনের সফরে ভারতে কিয়ের স্টার্মার, বৈঠক হবে মোদির সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের ভারত (India) সফরে এলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। তাঁর সঙ্গে ব্রিটেন থেকে এ দেশে এসেছেন ১০০ জনেরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধির একটি দল। এটি ব্রিটেন থেকে ভারতে এ পর্যন্ত পাঠানো সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল বলেই সূত্রের খবর। এই প্রতিনিধিদলের ঘোষিত লক্ষ্য হল ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে ২০২৫ সালের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে (Free Trade Deal) আরও এগিয়ে নেওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা।

    ভারতে এলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী (Keir Starmer)

    বুধবার নির্ধারিত বৈঠকের আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মুম্বইয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। স্টার্মার ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও অজিত পওয়ার এবং রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত। চলতি ভারত সফরে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তার ইঙ্গিতও দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যবসা ও বাণিজ্যচুক্তি এবং বিনিয়োগই গুরুত্ব পাবে।” ভিসা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা পরিকল্পনার অংশ নয়। ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির কোনও পরিবর্তন হবে না।” ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বজুড়ে শীর্ষ প্রতিভাদের সন্ধান করে ব্রিটেন। কিন্তু ট্রাম্পের অধীনে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের জন্য এখনই কোনও নতুন পথ খোলার কোনও পরিকল্পনাই নেই আমাদের।”

    মোদির সঙ্গে বৈঠক

    ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার ভারতে (India) এলেন স্টার্মার। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি এখনও ঝুলেই রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে নয়াদিল্লির। এই দড়ি টানাটানির মধ্যেই সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি। এহেন আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আগমন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একটি আলোচনাচক্রেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে স্টার্মারের। সেখানে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোগপতিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় যোগ দিতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী (Keir Starmer)।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই লন্ডন থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন মোদি (India) ও স্টার্মার। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ব্রিটেনে তৈরি বা ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিমান সরঞ্জাম ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য আগের চেয়ে সস্তা হয়ে যাবে। ভারতীয়দের জন্য সহজলভ্য হবে ব্রিটেনে তৈরি সফট ড্রিঙ্কস, চকোলেট, প্রসাধনী সামগ্রী, বিস্কুট এবং স্যামন মাছ। এই সব পণ্যে এত দিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক কার্যকর ছিল। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে তা কমে দাঁড়াবে তিন শতাংশে। বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ১০ শতাংশে।

    সিইও ফোরামে অংশ নেবেন দুই রাষ্ট্রনেতা

    জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer) শহরে সিইও ফোরাম এবং গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের ষষ্ঠ সংস্করণে অংশ নেবেন। তাঁদের বৈঠকের সময় মোদি এবং স্টার্মার ইন্ডিয়া-ইউকে যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির মূল্যায়ন করবেন। এই মূল্যায়ন হবে ভিশন ২০৩৫ রোডম্যাপের ভিত্তিতে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জলবায়ু ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের মতো ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা

    দুই রাষ্ট্রনেতা প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্টার্মার ভারত-ব্রিটেন (India) যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পখাতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতে ভারত-ব্রিটেন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করবেন। এছাড়াও, উভয় নেতা শিল্প বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং উদ্ভাবকদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন (Keir Starmer)। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন স্টার্মার। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু, জ্বালানি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে তাঁদের। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বৈঠকে।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর জুলাই মাসেই ব্রিটেন সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। আগামী বছর থেকেই কার্যকর হবে এই চুক্তি (Keir Starmer)।

  • PM Modi: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করতে দু’দিনের জন্য ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের লক্ষ্যই হল ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা। ব্রিটেন থেকে তিনি যাবেন ভারত মহাসাগরের বুকের দ্বীপরাষ্ট্র মলদ্বীপে। মহম্মদ মুইজ্জু জমানায় ভারত-মলদ্বীপ তলানিতে ঠেকে যাওয়া সম্পর্ক মজবুত করতেই ব্রিটেন থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন মলদ্বীপে। ২৬ জুলাই তিনি যোগ দেবেন দ্বীপরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে।

    ব্রিটেন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    জানা গিয়েছে, ’২৩-’২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ব্রিটেনে। স্বাক্ষর করবেন এফটিএ-তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা হবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ব্রিটেনে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমে যাবে। ভারতে বিক্রি করা সহজ হবে হুইস্কি ও গাড়ির মতো ব্রিটিশ পণ্যও। প্রসঙ্গত, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে গত তিন বছর ধরে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মূল লক্ষ্য হল, দেশীয় বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জনের পথ মসৃণ করা এবং উভয় দেশের জন্য বাণিজ্য সহজ ও উন্নত করা।

    এফটিএ-র লক্ষ্য

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশেরই লক্ষ্য হল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং বাণিজ্যে বিধিনিষেধ কমিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ভারত (PM Modi) ও ব্রিটেনের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানি করা পণ্যের ওপরই ট্যাক্স কমে যাবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি সহজতর হবে হুইস্কি ও গাড়ির মতো পণ্যের (FTA)।এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর ধরে আলাপ-আলোচনা চলেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাজারেই সুগম হবে পণ্য প্রবেশাধিকারের পথ। কেন্দ্রের দাবি, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে একটি উন্নততর বাণিজ্য পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দুই দেশের এই চুক্তি কেবল যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উন্নত করবে তাই নয়, ভারত ও ব্রিটেন এই দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাও আরও দৃঢ় হবে।

    মোদিকে আমন্ত্রণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সেই কারণেই দু’দিনের ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে থাকাকালীন অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা। খতিয়ে দেখবেন কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অগ্রগতি। একটি সূত্রের (PM Modi) খবর, ভারত ও ব্রিটেন এই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন বাকিংহামশায়ারের চেকার্সে। ষোড়শ শতকের এই প্রাসাদোপম বাড়িটি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কান্ট্রি রেসিডেন্স। স্টার্মারের পাশাপাশি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পরে চলতি বছরের দীপাবলির আগে ভারত সফরে আসবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “সফরের সময় মোদি-স্টার্মারের সঙ্গে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের সমগ্র পরিসর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তাঁরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও মত বিনিময়ও করবেন (PM Modi)।”

    চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছিল আগেই

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সরকারি বিবৃতিতে (FTA) বলা হয়েছিল, “টেলিফোনে মোদি-স্টার্মার আলোচনার পরে চূড়ান্ত হয়েছে চুক্তির রূপরেখা।” তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, “বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই চুক্তি নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।” এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার লিখেছিলেন, “একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা কমানোই আমাদের পরিবর্তিত পরিকল্পনার অংশ।”

    কে কী রফতানি করে

    মনে রাখতে হবে, ভারত ব্রিটেনে রফতানি করে চর্মজাত জিনিস, কাপড়, জুতো, খেলনা, সামুদ্রিক পণ্য, দামি জহরত এবং গয়না। আর ভারত ব্রিটেন থেকে আমদানি করে স্কচ হুইস্কি, জিন, জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, প্রসাধনী, চকোলেট এবং নরম পানীয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। আর তাই এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে মিলবে না কর ছাড় (PM Modi)।

    প্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তাতে অনুমোদন দিতে হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে। ছাড়পত্র লাগবে ব্রিটেনের পার্লামেন্টেরও। তবেই কার্যকর হবে চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা কার্যকর হতে বছরখানেক সময় লাগবে (FTA)।

LinkedIn
Share