Tag: khabar

  • AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই (AI) সক্ষমতা গড়ে (AI Models) তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর লাগামছাড়া নির্ভরতা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি এও (India) জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে এআই ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি (AI Models)

    পুণে জেলার বারামতিতে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের পর ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “সার্বভৌমত্ব ছাড়া উন্নয়ন নির্ভরতা সৃষ্টি করে। আর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অগ্রগতি ঝুঁকি ডেকে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি হলেও, ১৪০ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশ তার কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাকে বিদেশি অ্যালগরিদম ও বিদেশি ব্যালান্স শিটের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা

    আদানি গ্রুপের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই এআই কেন্দ্রটি পাওয়ার পরিবারের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থাপিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপি-এসসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা, টেকনোলজি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আদানি গ্রুপ বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। ভাষণের শুরুতে প্রযুক্তির ইতিহাসজুড়ে তার রূপান্তরকারী চরিত্রের কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “গতকালের বীজ যেখানে মাটিতে বপন করা হয়েছিল, আগামী দিনের বীজ সেখানে অ্যালগরিদমে বপন করা হবে।” তিনি জানান, মানব অগ্রগতি কখনও সরলরৈখিক ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারা চালিত শক্তিশালী লাফের মাধ্যমেই তা এগিয়েছে।

    অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না

    আদানি (India) বলেন, “মানব অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না। তা এগোয় বড় বড় লাফে। প্রতিটি লাফই এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফল, যা প্রথমে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং তারপর অনেক বেশি সক্ষমতার এক উচ্চতর স্তরে সমাজকে পুনর্গঠন করে।” তিনি বাষ্পশক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ থেকে বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল কম্পিউটিং এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত এই যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন (AI Models)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সংজ্ঞায়ক শক্তি হিসেবে এআইয়ের উল্লেখ করে আদানি স্বীকার করেছেন, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ জড়িয়ে থাকে।

    দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে

    তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায় যে এ ধরনের প্রতিটি রূপান্তরের সঙ্গে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে—একদিকে অসাধারণ সুযোগ, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগ। কর্মচ্যুত হওয়ার ভয়, অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা, এবং এমন সব ব্যবস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার ভয়, যেগুলোকে আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।” তিনি (India) বলেন, “এই ভয়গুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এগুলো গভীরভাবে মানবিক। এই উদ্বেগগুলোর দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।” ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে আদানি যুক্তি দেন, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে বরং তা বিস্তৃত করেছে (AI Models)।
    তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কাজ ধ্বংস করে না। প্রথমে এটি ভূমিকা ও কাজের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়, তারপর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে।”

    তৃতীয় শিল্পবিপ্লব

    নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনে কর্মসংস্থান পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছিল, আর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব গণউৎপাদন ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। আদানি বলেন, “তৃতীয় শিল্পবিপ্লব- ডিজিটাল বিপ্লব – কাজ বিলুপ্ত করেনি। বরং এটি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সফটওয়্যার, পরিষেবা, প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের জন্ম দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে কয়েক শত মিলিয়ন মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে (India)।” ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোবাইল বিপ্লব তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করেছে। আদানি বলেন, “ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই এর স্পষ্ট প্রমাণ। মোবাইল বিপ্লব – যা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চাকরি ধ্বংস করেনি। বরং বিপুল পরিসরে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্মার্টফোন ও স্বল্পমূল্যের ডেটা যখন সাধারণ ভারতীয়দের হাতে পৌঁছায়, তখন তৃণমূল স্তরে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে (AI Models)।”

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ

    তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ২৩ কোটিরও বেশি অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার বড় অংশই ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো কেবল নীতি বা পুঁজি থেকে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই সম্ভাবনাগুলি তখনই বাস্তব হয়েছে, যখন সক্ষমতা সাধারণ নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে।” তিনি বলেন, “সেই কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এআই এখন পরবর্তী এবং আরও অনেক বেশি শক্তিশালী এক লাফের প্রতিনিধিত্ব করবে। মোবাইল যদি ভারতকে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে, তবে এআই ভারতকে দেবে আরও বৃহত্তর সক্ষমতা (India)।” এআই-সক্ষম ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরে আদানি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি খাতে সক্ষমতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং উৎপাদনশীলতাকে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আগামী এক দশকে যখন ১৪০ কোটি ভারতীয় তাঁদের হাতের তালুতেই এআই-চালিত বুদ্ধিমত্তা বহন করতে শুরু করবেন, তখন অগ্রগতি আর সরলরৈখিক থাকবে না। তা বহুগুণে বাড়বে, দ্রুততর হবে এবং বিস্ফোরণের মতো প্রসারিত হবে।”

    তাৎক্ষণিক ঝুঁকি

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এআই দৈনন্দিন জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারে,ফসলের সর্বোত্তম উৎপাদন ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের এআই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি টিয়ার-থ্রি শহরের গৃহিণীরা কীভাবে বৈশ্বিক মাইক্রোব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন, তার উদাহরণও দেন। আদানি সতর্ক করে বলেন, এআই একটি দুই ধারবিশিষ্ট ছুরিও বটে (AI Models)। এই প্রেক্ষাপটে আদানি বলেন, ভারতকে এআইকে একটি কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা ভারতেই নির্মিত হবে, ভারতেই শাসিত হবে এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (India)।” তিনি বলেন, “শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন এআই এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করছে, যা জাতীয় গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যখন ভারত বৈশ্বিক এআই বিপ্লবের অগ্রভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এআই-এর ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আপনাআপনি ভারতে এসে পৌঁছাবে। এটি এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আমাদের দেশকেই গড়ে তুলতে হবে।”

    এছাড়াও আদানি এআই পরিকাঠামোয় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার ও গ্রিন এনার্জি। তিনি এগুলিকে বুদ্ধিমত্তার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য (AI Models)।

  • PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক শেকড়কেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে চললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর মন কি বাত-এর ১২৯তম পর্বে (PM Modi)। তিনি এও বলেন, ভারতের তরুণরা সব সময় নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহী এবং একই সঙ্গে তারা সচেতন ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    তরুণদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে জানতে চান, কীভাবে তারা তাদের ভাবনার উপস্থাপনা আমার কাছে দিতে পারেন? আমাদের তরুণ বন্ধুদের এই কৌতূহলের সমাধান হল ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’। গত বছর এই কর্মসূচির প্রথম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর কয়েক দিনের মধ্যেই এর দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ১২ জানুয়ারি, জাতীয় যুব দিবসে। এই দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। আমিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেব।” তিনি বলেন, এই আলোচনা চলাকালীন যুবসমাজ উদ্ভাবন, ফিটনেস, স্টার্টআপ এবং কৃষি, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নিজেদের ভাবনা ও মতামত ভাগ করে নেবে। এই উদ্যোগে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশও করেন।

    পিচ প্রতিযোগিতা

    তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে এ সংক্রান্ত একটি পিচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়, যেখানে পড়ুয়ারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এই প্রতিযোগিতায় তামিলনাড়ু প্রথম স্থান এবং উত্তরপ্রদেশ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজ তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য নতুন নতুন সুযোগ পাচ্ছে। এমন বহু প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে, যেখানে তরুণরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ তুলে ধরতে পারছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি এ মাসের শুরুতে সমাপ্ত হওয়া ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২৫’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

    বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান

    তিনি বলেন, “এই হ্যাকাথনের সময় পড়ুয়ারা ৮০টিরও বেশি সরকারি দফতরের দেওয়া ২৭০টিরও বেশি সমস্যার ওপর কাজ করেছে। ছাত্ররা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, যানজট সমস্যার ক্ষেত্রে যুবসমাজ ‘স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’-সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে (PM Modi)।” তিনি জানান, আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো সমস্যার মোকাবিলায়ও যুবসমাজ

    তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বন্ধুরা, গত ৭ থেকে ৮ বছরে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ ১৩ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং ৬,০০০-এর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যুবসমাজ শত শত সমস্যার যথাযথ সমাধান দিয়েছে। এ ধরনের হ্যাকাথন নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়। আমি আমার তরুণ বন্ধুদের আহ্বান জানাই, তারা যেন অবশ্যই এই হ্যাকাথনগুলিতে অংশ নেয় (PM Modi)।”

    প্রযুক্তিনির্ভর জীবন

    জীবন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে রোবট হয়তো মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে মানব উন্নয়নের জন্য নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতির শেকড়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।” তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নতুন চিন্তাভাবনা ও নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে—বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের কথা শুনেছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও গবেষণার মধ্যেও সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।

    সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়েক বছর আগে সেখানে কিছু ছাত্রছাত্রী অনুভব করেছিলেন যে পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি সঙ্গীতেরও একটি জায়গা থাকা উচিত। সেখান থেকেই একটি ছোট সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা হয়। না ছিল বড় মঞ্চ, না ছিল বড় বাজেট। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ বড় হয়ে ওঠে, আর আজ আমরা একে ‘গীতাঞ্জলি আইআইএসসি’ নামে চিনি। এখন এটি আর শুধু একটি ক্লাস নয়, বরং ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গীতাঞ্জলি আইআইএসসিতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় ধারার চর্চা হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং তাঁদের পরিবার এক সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানান, এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ২০০-এরও বেশি, এবং যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, তাঁরাও অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতির শেকড়ে যুক্ত থাকার এই প্রচেষ্টা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রাও তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী কন্নড় পরিবারগুলির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে থাকা পরিবারগুলি নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের সন্তানরা প্রযুক্তির দুনিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা কি তাদের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না? এখান থেকেই ‘কন্নড় পাঠশালা’র জন্ম। এটি এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে শিশুদের কন্নড় ভাষায় পড়া, লেখা, শেখা ও কথা বলা শেখানো হয়। আজ এর সঙ্গে এক হাজারেরও বেশি শিশু যুক্ত রয়েছে (PM Modi)।”

  • Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে চিনে। তার সঙ্গেই লড়াই করতে হচ্ছে শি জিনপিংয়ের সরকারকে। এমতাবস্থায় ভুয়ো জিডিপি (Fake GDP) প্রবৃদ্ধির অভিযোগ দেশটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.২ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এখন চিনের এই দাবি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলছেন।

    চিনের প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচক (Fake GDP)

    বিশ্ব বিখ্যাত পরামর্শক সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপের অভিযোগ, সরকারি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করে বেইজিং সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। সংস্থাটির মতে, চিনের (China) প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচকগুলির সঙ্গে সরকারের ঘোষিত শীর্ষ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের কোনও সামঞ্জস্য নেই। চিন টানা ১০টিরও বেশি ত্রৈমাসিক ধরে তীব্র মুদ্রাস্ফীতিহীনতার শিকার। ডিফ্লেশন ঘটে যখন মুদ্রাস্ফীতি শূন্যের নীচে নেমে যায়। ফলে পণ্যের দাম কমতে থাকে, চাহিদা কমে যায় এবং কর্পোরেট লাভ হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তারা খরচ করতে দেরি করেন, সংস্থাগুলি লাভ করতে হিমশিম খায় এবং অর্থনৈতিক গতি তীব্রভাবে মন্থর হয়ে পড়ে।

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা নভেম্বর মাসে ১৩.১ শতাংশ কমেছে, যা অক্টোবরে ৫.৫ শতাংশ পতনের পর আরও গভীর মন্দার ইঙ্গিত দেয়। রোডিয়াম গ্রুপ জানিয়েছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ডিফ্লেশনের মুখে পড়েও কোনও বড় অর্থনীতি কখনও প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ, যা দীর্ঘদিন ধরে চিনের অর্থনৈতিক মডেলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেটাই জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমেছে ১১ শতাংশ (China)। একাধিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৫ সালে চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনও ৩ শতাংশের বেশি হয়নি (Fake GDP)।

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের তামকাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাই মিং-ফাং এবং চুং-হুয়া ইনস্টিটিউশন ফর ইকোনমিক রিসার্চের লিউ মেং-চুন অভিযোগ করেছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও শক্তি ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বেইজিং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ চিনের একসময়ের প্রভাবশালী রফতানি খাতকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চিনের পক্ষেই বুমেরাং হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চিন এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে (China)।

    ভোগব্যয়ের সূচকগুলি

    দেশীয় ভোগব্যয়ের সূচকগুলিও সমানভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরছে (Fake GDP)। জিডিপি হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান খুচরো বিক্রির প্রবৃদ্ধি নভেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র ১.৩ শতাংশে, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ২.৮ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও কোভিড মহামারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। চিনের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সরকারি প্রবৃদ্ধির বর্ণনার ওপর আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি

    এই প্রেক্ষাপটে বহু অর্থনীতিবিদের মতে, ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাইওয়ানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বেইজিং (China)। কারণ তারা তাইওয়ানকে চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই দাবি করে (Fake GDP)। ‘এক চিন নীতি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেইজিং ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, বোয়িং, গিবস অ্যান্ড কক্স, সিয়েরা টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, টিল ড্রোনস, ভেন্টার এবং রেডক্যাট হোল্ডিংস।

    অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, আগামী মাসগুলিতে চিনের সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই অনুমান (Fake GDP)।

  • Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে উঠেছে (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তৃতি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। এসবই নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের প্রকাশ। ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫- এই সময়সীমায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধগুলির একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হন।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার তাদের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বার্তায় খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান, যাজক ও সাধারণ খ্রিস্টান সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রকাশ্য যোগাযোগ স্থাপন করেছে। অন্তত সাতটি উচ্চপর্যায়ের নথিভুক্ত অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান উৎসব, কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি এবং চার্চ সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুজরাটের নবসারি জেলার দাবেল গ্রামে এক তরুণ হিন্দু আদিবাসীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিহত যুবকের নাম দীপক কালিদাস রাঠোর। তিনি হালপতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। নবসারি পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, তাঁর এলাকার একাধিক মুসলিম যুবকের নৃশংস হামলার ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Roundup Week)।

    গায়িকা লগ্নজিতাকে হেনস্থা

    খ্যাতনামা বাঙালি গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে লাইভ(Hindus Under Attack)  পারফরম্যান্স চলাকালীন তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তিনি যখন চলচ্চিত্র দেবী চৌধুরানী থেকে ভক্তিমূলক গান “জাগো মা” পরিবেশন করেন, তখন মেহবুব মল্লিক নামে এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলে পরিচিত, মঞ্চে উঠে তাঁকে ধমক দেন এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ কিছু’ গান গাওয়ার দাবি জানান। তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুল জেলা ও আশপাশের একাধিক গ্রামে জমির ব্যবহার, ধর্মীয় অধিকার এবং কথিত দখলদারিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে পেরুমাল কোভিলপট্টি গ্রামটি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামটিতে প্রায় ১,০০০টি পরিবার বসবাস করে, যার মধ্যে আনুমানিক ৮৫০টি খ্রিস্টান এবং প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার। ফলে হিন্দুরা সেখানে সংখ্যালঘু। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হল ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বরাদ্দ সরকারি একটি জমি।

    নমাজ বিতর্ক

    বৈষ্ণব কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর আরাধনা সখী পুনের শনিবার ওয়াড়া নমাজ বিতর্কে সরব হওয়ার পর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেখানে দেখা যায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ শনিবার ওয়াড়ার প্রাঙ্গনে নমাজ আদায় করা (Roundup Week) হচ্ছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবন কুট্টি তিরুবনন্তপুরমের আট্টুকালে অবস্থিত চিন্ময় বিদ্যালয়কে(Hindus Under Attack) বড়দিন উদযাপনের নির্দেশ দেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যালয়টি বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে সংগ্রহ করেছিল। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে জানায় যে উৎসবটি বাতিল করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক অভিভাবকের অভিযোগের পর মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে স্কুলকে উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেন।

    হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার

    ডিএমকের শাসনে হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্যের সর্বোত্তম উদাহরণ হল থিরুপারঙ্কুন্দ্রাম। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার এই ঐতিহাসিক শহরটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং হিন্দু ধর্মীয় আচরণের প্রতি বৈষম্য নিয়ে বিতর্কের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথর মন্দির চত্বরে ও তার আশপাশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি হিন্দু সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, কারণ রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সীমিত করছে, অথচ মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশগুলিকে জাঁকজমকপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছে (Hindus Under Attack)।দীপাবলিতে ‘না’, কিন্তু বড়দিনে ‘হ্যাঁ’- এই হল (Roundup Week) টিভিকে বিজয়ের দ্রাবিড় মডেলের রাজনীতি। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (TVK) স্পষ্ট দ্বিচারিতার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারুর পদদলিত দুর্ঘটনার পর জনশোকের অজুহাত তুলে একটি হিন্দু উৎসব উদযাপনে নিরুৎসাহিত করা হয়, অথচ পরে কোনও সংযম না দেখিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয় এবং তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করা হয়।

    লাভ জেহাদ

    ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় এক মুসলিম মহিলার অভিযোগ একটি আলোচিত তদন্তের সূত্রপাত করেছে। অভিযোগ, তাঁর স্বামী পরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’ চক্রের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ফাঁদে ফেলত এবং প্রতিটি বিয়ের জন্য সহযোগী সংগঠনগুলির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেত (Hindus Under Attack)। পুলিশ প্রতারণা এবং সংগঠিত আর্থিক প্রণোদনার নেটওয়ার্ক – উভয় বিষয়েই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় রাজ্যে জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার, যিনি যৌন শোষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের (লাভ জেহাদ বা যৌন গ্রুমিং) অভিযোগ এনেছেন। তাঁকে এখন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। অভিযুক্ত মুসলিম রেসিডেন্ট ডাক্তার রামিজউদ্দিন, প্যাথলজি বিভাগের কর্মী, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    নৃসিংহ স্বামী মন্দির 

    পবিত্র কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতজুড়ে হিন্দু ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আটটি পুলিশ যান ও নজরদারি ড্রোনের উদ্বোধনের সময় টিডিপি বিধায়ক কন্দিকুন্তা ভেঙ্কট প্রসাদ কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের প্রবেশদ্বারে একজন পাদ্রি ও একজন মৌলানাকে প্রার্থনা করাতে আমন্ত্রণ জানান। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অধীনে কেপু মন্দিরের ‘কোরি কট্টা’ আচারকে (Roundup Week) কেন্দ্র করে পুলিশের হস্তক্ষেপ আইন, ঐতিহ্য এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতিকে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা (Hindus Under Attack)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে হামলা। পরিকল্পিতভাবে দেশটি থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতার হামলা, নারীদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত কৌশল।

    বাংলাদেশের ছবি

    ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু রিকশাচালককে জনতা মারধর করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার কবজিতে একটি পবিত্র লাল সুতো লক্ষ্য করার পর তাঁর পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝিনাইদহ পুরসভার গেটের কাছে একদল লোক ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে তাঁর রিকশা থেকে নামিয়ে এনে শুধু কবজির লাল সুতো থাকার কারণেই মারধর করে(Hindus Under Attack)। জনতার সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনায়, বাংলাদেশ পুলিশের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজবাড়ি জেলায় মুসলিম গ্রামবাসীদের হাতে ২৯ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম অমৃত মণ্ডল, যিনি সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। পাংশা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একটি বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Roundup Week)। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন অভিযোগ ওঠে যে হিন্দু বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ

    অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষায় ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে। ইসলামী দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, আর একটি আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির (যেমন ভারত) প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে (Hindus Under Attack)। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। প্রচলিত আইন ও নিদর্শনগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করলে এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। ওপর ওপর এটি দূষণ-সংক্রান্ত বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তিসঙ্গত (Roundup Week) ব্যাখ্যার অভাব লক্ষ্য করলে এই দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

  • Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)। সপ্তাহ তিনেক ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থানে সেনারা রয়েছেন, সেখানেই ফ্রন্টলাইন স্থির রাখা হবে, নতুন করে সেনা বা রসদ পাঠানো বন্ধ থাকবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ (Deadly Clash) বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাই মাস থেকে তাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)

    চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটিতে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাইন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। তাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত যুদ্ধবিরতিকে অন্য পক্ষের আন্তরিকতার একটি পরীক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় বা লঙ্ঘিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার তাইল্যান্ড বজায় রাখবে।” রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের আশা, এই যুদ্ধবিরতি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্রের বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বানও জানান।

    যুদ্ধবিরতিতে গররাজি ছিল তাইল্যান্ড

    তাইল্যান্ড প্রথমে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে গররাজি ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আগের যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া সংঘাতটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা করছে বলে তাইল্যান্ড মনে করে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট ছিল। জুলাই মাসের আগের যুদ্ধবিরতির তুলনায় এবার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যভাবে এতে যুক্ত ছিলেন না, যদিও আমেরিকার বিদেশ দফতর প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই সেই আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, যখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire) ভাঙার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। তাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গোলাবর্ষণের জবাবে তাদের সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় দুজন তাই সেনা জখম হন।

    তাইবাহিনীর হানা

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, প্রথমে আক্রমণ চালায় তাইবাহিনী, প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে। তারা আরও জানায়, কম্বোডিয়া পাল্টা আক্রমণ করেনি। ডিসেম্বরজুড়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। শুক্রবার তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে আরও বিমান হামলা চালায় (Deadly Clash)। তাই বিমান বাহিনীর দাবি, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এসব হামলাকে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর নির্বিচার আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে। এবার যুদ্ধবিরতি কতটা টিকে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। কারণ দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয় কম্বোডিয়ার

    বিশেষ করে কম্বোডিয়া বিপুল সংখ্যক সেনা এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সীমান্তে আগে দখলে থাকা অবস্থানগুলো থেকে তাদের সরে যেতে হয়েছে এবং তাই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Thailand Cambodia Ceasefire)। সীমান্ত নিয়ে এই দুই দেশের মতবিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো। তবে চলতি বছরের শুরুতে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন বিতর্কিত একটি মন্দিরে কম্বোডিয়ার কয়েকজন নারী দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন (Deadly Clash)। মে মাসে এক সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এর দুমাস পরে, জুলাইয়ে, সীমান্তজুড়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তীব্র লড়াই চলে। এতে কয়েক ডজন সেনা ও নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান,  বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার নাগরিক। মালয়েশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা অক্টোবরের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত হয়।

    কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি

    ট্রাম্প এই চুক্তির নাম দেন “কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি”। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে হবে। তবে নভেম্বর মাসে তাইল্যান্ড এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়, যখন মাইন বিস্ফোরণে তাই সেনারা জখম হন। তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সেই সময় জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাস্তবে একেবারেই কমেনি (Thailand Cambodia Ceasefire)।

  • Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউএইচইএফ) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হল  ১৯–২০ ডিসেম্বর, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারণ, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে সভ্যতাগত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ভারতের সমকালীন অর্থনৈতিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে। এটি কেবল (Hindu Economic Forum) একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, ধর্ম, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থে প্রোথিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের লক্ষ্য।

    কারা উপস্থিত ছিলেন (Bharats Rise)

    দুদিনের এই ফোরামে কেন্দ্র ও রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, এমএসএমই নেতৃত্ব, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশ-বিদেশের চিন্তাবিদরা একত্রিত হন। বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান কেবল পুঁজি ও প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং সম্পদ সৃষ্টির একটি সুসংগঠিত, মূল্যবোধভিত্তিক পন্থার মাধ্যমে এগোতে হবে (Bharats Rise)। ফোরামের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি আস্থাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নবি মুম্বইয়ে ৫৪তলা বিশিষ্ট একটি ‘আফ্রিকা সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে তিনি। বলেন, “আফ্রিকা আগামী দিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি তলায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দফতর থাকবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করবে।”

    কী বললেন ফড়নবীস

    ফড়নবীস উল্লেখ করেন, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক ভারতকে এমন একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও ধরনের জবরদস্তি বা শোষণ ছাড়াই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে ভারতের ক্রমবিকাশমান বাণিজ্য দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ভারত কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে উইন-উইন ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুসরণ করছে এবং সচেতনভাবেই এমন কোনও চুক্তি থেকে দূরে থাকছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অথবা যেসব প্রতিযোগী অর্থনীতির মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় কম, তাদের সঙ্গে করা হয় (Hindu Economic Forum)।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

    ভারত ইতিমধ্যেই ছটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইএফটিএ জোটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে (Bharats Rise)। গয়াল জানান, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই অগ্রগতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির ফল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং বিশ্বজনীন দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

    নিতিন গডকরি

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক আমেরিকার মানের সমতুল্য হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও যাবে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমানো, যাতে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি (Hindu Economic Forum)। এদিকে, মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানান, আগামী ছমাসের মধ্যে রাজ্যে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে একটি যৌথ এআই শহর (Bharats Rise)।

    সজ্জন জিন্দাল

    জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি হলেও টেকসই বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন খাতের অংশ বর্তমান ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকার উদ্যোগ থেকে ভারতের বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিন্দাল বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে এবং দেশীয় অনুসন্ধানে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত কোনও বিকল্প নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে জেএসডব্লিউ গ্রুপ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্র্যান্ড উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তোলা হচ্ছে (Hindu Economic Forum)।

    নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণা

    এই সময় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণাও করা হয়। শ্রী সিমেন্টসের চেয়ারম্যান শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি লেটার অব ইনটেন্ট  তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বছর ঘোষণা করে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার পাশাপাশি, এই ফোরামে এমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ এবং প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় খেমানি বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে যাঁরা ব্যবসা গড়ে তুলছেন, সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনি ক্রমশ রূপ পাচ্ছে (Bharats Rise)।

    ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদকের বক্তব্য

    হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদক টিআর শিব প্রসাদ বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শহর বা কর্পোরেট পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টরশিপ, পুঁজি প্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য (Hindu Economic Forum)। দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন অব রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, আহার অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্টস (হারহার) উপস্থাপন করেন। এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প সংগঠন, যার ধারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম। হারহার হিন্দু খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা, মিষ্টি ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক, ক্যাটারার, শেফ, খাদ্য উদ্ভাবক, মসলা ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করে। দেশীয় বাজারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪–১৮ শতাংশ হলেও, এতদিন এই খাতে ধর্মভিত্তিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের অভাব ছিল। হারহার সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে এবং নিজেকে হিন্দু নেতৃত্বাধীন আতিথেয়তা উদ্যোগগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন

     ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন ছিল মূল আকর্ষণ। সেখানে ছ’জন স্টার্ট-আপ উদ্ভাবক অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর ও মেন্টরদের সামনে তাঁদের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে চারটি উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়, যা স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তোলায় এই প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা জানান, ধারণার বিস্তারযোগ্যতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতি উদ্যোগে ৫০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তাঁরা আগ্রহী (Hindu Economic Forum)।

    প্ল্যাটফর্মের পেছনের ভাবনা

    ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দার্শনিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসী। আচার্য চাণক্যের উক্তি—“ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ” থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জোর দেন যে নৈতিক আচরণ, সামাজিক সামঞ্জস্য এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভগবদ গীতার “ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের জন্য কাজ করো” এই আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি হিন্দু সমাজকে তার ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন দেখেন। দুটি লাড্ডুর একটি সহজ উপমার মাধ্যমে—একটি আলগাভাবে বাঁধা ও অন্যটি দৃঢ়ভাবে একত্রে ধরা—তিনি দেখান, কীভাবে ঐক্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ফোরাম শেষ হওয়ার আগে ঘোষণা করা হয় যে হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় অধ্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের হুব্বল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের নিবন্ধনও শুরু হয়, যা ১৮–২০ ডিসেম্বর ২০২৬ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে (Bharats Rise)। সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়ে যায়: ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান তার সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ধর্মকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদকে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একীভূত করে ফোরামটি কেবল একটি অর্থনৈতিক রূপরেখাই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অভিযানের দিকনির্দেশও তুলে ধরে (Hindu Economic Forum)।

  • Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীন পরিবেশ (Jammu Kashmir) মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদন দিল জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় ২৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,২৭৭.৪৫ কোটি টাকা (Indus Treaty Freeze)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে বর্তমানে চালু থাকা ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপ ২০০৭ সালে চালু হয় এবং তারপর থেকে সফলভাবে কাজ হয়ে আসছে।

    মউ স্বাক্ষর (Jammu Kashmir)

    রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন প্রায় চার বছর আগে, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিল্ড–ওন–অপারেট–ট্রান্সফার মডেলে ৪০ বছরের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–টু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে চেনাব নদীর জল ব্যবহার করা হবে। নদীটি সিন্ধু নদের অববাহিকার অন্তর্গত। পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সমস্ত নকশা ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির নিয়ম মেনে পরিকল্পিত। যদিও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র

    নতুন প্রকল্পের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮.৫ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট ৩,৬৮৫ মিটার দীর্ঘ একটি পৃথক সুড়ঙ্গ দিয়ে জল আনা হবে। এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে স্টেজ–টু প্রকল্পের জন্য একটি হর্সশু আকৃতির পন্ডেজ নির্মাণ করা হবে। পন্ডেজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় একটি সার্জ শ্যাফ্ট, প্রেশার শ্যাফ্ট এবং একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট বসানো হবে। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ক্ষমতা হবে ২৬০ মেগাওয়াট, এবং বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে (Indus Treaty Freeze)।

    ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ

    প্রকল্পটির জন্য মোট ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ আনুমানিক ৬০.৩ হেক্টর। এই প্রকল্পের জন্য কিশ্তওয়ার জেলার বেঞ্জওয়ার ও পালমার—এই দুই গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য পূর্বে অধিগৃহীত জমিও দ্বিতীয় পর্যায় তৈরিতে ব্যবহার করা হবে (Jammu Kashmir)। পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি নির্দেশ দেয় যে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি সমীক্ষা করা হবে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সরকারি বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, “প্রকল্প চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষা হবে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা দ্বারা সম্পন্ন।”

    চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস

    এছাড়াও মন্ত্রক এনএইচপিসি (NHPC) এবং চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড (CVPPL)-কে একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে চেনাব নদী অববাহিকার টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করা যায়। এই সমীক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে সুদৃঢ় পরিবেশগত প্রবাহ ব্যবস্থা, নদীখাতের গঠন ও পলিসঞ্চালন প্রক্রিয়ার পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জলজ ও নদীতীরবর্তী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ মোকাবিলা এবং চেনাব অববাহিকার ক্যাসকেড কাঠামোর মধ্যে মারুসুদার উপনদীকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

    দুল হস্তি জলাধার

    দুল হস্তি জলাধারে প্রতিবছর গড়ে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন পলি জমা হয়, যার বেশিরভাগই মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে, যখন নদীর জলপ্রবাহ বেশি থাকে। জলাধারের ধারণক্ষমতা বজায় রাখতে পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লাশিং ও স্লুইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (Indus Treaty Freeze)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার পর প্রকল্পটি ৪৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের কারণে প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্প রূপায়ণ করতে গেলে কোনও বনভূমি পড়বে না। তাই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বন দফতরের কোনও ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন নেই। এনএইচপিসি প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই নির্মিত বাঁধ ও ইনটেক কাঠামো ব্যবহার করবে। তাই নতুন করে কোনও জলাধার নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না (Jammu Kashmir)।

  • Sam Pitroda: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, কবুল করলেন স্যাম পিত্রোদা

    Sam Pitroda: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, কবুল করলেন স্যাম পিত্রোদা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, যা বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অর্থায়ন করতে পারেন আমেরিকান ব্যবসায়ী জর্জ সোরোস ও তাঁর ওপেন সোস্যাইটি ফাউন্ডেশন। জাতীয় জাতীয় টেলিভিশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই কবুল করলেন ওভারসিজ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান স্যাম পিত্রোদা (Sam Pitroda)। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিদেশি যোগাযোগের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি সোরোস ও তাঁর সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বৈশ্বিক বামপন্থী নেটওয়ার্কের কথাও তুলে ধরেন। রাহুলের কথিত ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত পিত্রোদার এই বক্তব্য রাহুল ও তাঁর কংগ্রেস পার্টির বিদেশি যোগসূত্রের বিষয়টি ফের নিশ্চিত করল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশ সফরে যান, তার পরপরই ভারতে যে অস্থিরতা ও আকস্মিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা যায়, তার নেপথ্যে কোনও গোপন অ্যাজেন্ডা থাকলেও থাকতে পারে।

    কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ (Sam Pitroda)

    ওই টেলিভিশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিত্রোদা জানান, কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, যা বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অর্থায়ন করে থাকতে পারেন আমেরিকান ব্যবসায়ী জর্জ সোরোস। এই ব্যবসায়ী ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থ জোগান দেওয়ার জন্য কুখ্যাত। তাই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করার অভিযোগে অভিযুক্ত এমন একটি জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী কেন অংশ নেন?

    ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’

    জর্জ সোরোস তাঁর ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, উদারনৈতিক অ্যাজেন্ডা ও মানবাধিকারের প্রচারের আড়ালে বাস্তবে বামপন্থী মতাদর্শ, সরকারবিরোধী বয়ান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গৃহঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার কাজ করেন। এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত সরকারগুলিকে দুর্বল করা ও ভেঙে দেওয়ার আদর্শিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যান। দাতব্য কার্যকলাপ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে (Rahul Gandhi) অর্থ জোগান দিয়ে সোরোস ও তাঁর ফাউন্ডেশন ভারতের মতো দেশগুলিতে পরিকল্পিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি বাড়াতে চায়, যাতে জাতীয়তাবাদী শেকড় থেকে রাজনৈতিক জোটগুলিকে সরিয়ে আদর্শগত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো যায় (Sam Pitroda)।

    সোরোসের কর্মকাণ্ড

    সোরোসের কর্মকাণ্ড একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ। দাতব্য কাজ, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রচারের আড়ালে এটি মূলত কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রতিফলন। সোরোসের কার্যকলাপ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা সংহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এখানেই ওঠে মোক্ষম সেই প্রশ্নটি। কেন রাহুল গান্ধী এমন একটি জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যার লক্ষ্য ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় অস্থিরতা সৃষ্টি করা? প্রগতিশীল জোটের সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক নিয়ে সাম পিত্রোদার সাম্প্রতিক প্রকাশ এই আশঙ্কাগুলিকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে যখনই কোনও নাগরিক অস্থিরতা বা প্রতিবাদ দেখা যায় এবং তা রাহুলের বিদেশ সফরের সময়সূচির সঙ্গে মিলে যায়, তখন তার পেছনে একটি গভীর যোগসূত্র, গোপন উদ্দেশ্য ও সুস্পষ্ট তাৎপর্য রয়েছে (Sam Pitroda)।

    ১৪০টি রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল জোটের অংশ

    মনে রাখতে হবে, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রায় ১৪০টি রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল জোটের অংশ। এই জোটের লক্ষ্য হল দাতব্য ও গণতন্ত্রের আড়ালে সরকার-বিরোধী (অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট) অ্যাজেন্ডা-সংবলিত রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলা। বিভিন্ন গবেষণাপত্রেও প্রগতিশীল জোটের (Rahul Gandhi) প্রকৃত উদ্দেশ্য হিসেবে ‘ভাবাদর্শগত বিশ্বায়নে’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রগতিশীল জোটে সোরোসের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে পিত্রোদা বলেন, “ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনও সেমিনার, সম্মেলন, রাজনৈতিক প্রচারাভিযান বা অন্যান্য জনআলোচনার অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস বা তার শেকড় নিয়ে কংগ্রেস পার্টি মাথা ঘামায় না।” রাহুল গান্ধী–প্রগতিশীল জোট–জর্জ সোরোসের এই সম্পর্ক নিয়ে এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি রাহুলের বিদেশ সফরের আড়ালে থাকা প্রকৃত অ্যাজেন্ডা সম্পর্কে গভীর ইঙ্গিত দেয় (Sam Pitroda)।

  • Guru Gobind Singh: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী, জানুন দিনটির তাৎপর্য  

    Guru Gobind Singh: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী, জানুন দিনটির তাৎপর্য  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরু গোবিন্দ সিং (Guru Gobind Singh) জয়ন্তী পরিচিত প্রকাশ পর্ব নামেও। প্রার্থনা ও স্মরণে দিনটি পালিত হলেও, এতে এক ধরনের গাম্ভীর্য রয়েছে। আর সেটাই একে একটি সাধারণ উৎসবের আনন্দ থেকে আলাদা করে তোলে (Prakash Purab)। অনেক শিখের কাছে এই দিনটি আচার পালনের চেয়েও ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেন এক মুহূর্তের বিরতি। এমন একটা সময়, যখন সেই ভাবনাগুলির কাছে ফিরে যাওয়া হয়, যেগুলি কখনও শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি থাকার জন্য ছিল না। সাহস, সমতা, ন্যায়বিচার—এই মূল্যবোধগুলি আবার সামনে আসে, প্রতীকের কারণে নয়, বরং আজও এগুলি যে কতটা প্রয়োজনীয়, সেই কারণেই।

    গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী (Guru Gobind Singh)

    ২০২৫ সালে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী পালিত হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর। চন্দ্র তিথির ভিন্নতার কারণে কিছু পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি উদযাপন হবে ২৮ ডিসেম্বর। এই দিনটি দশম শিখ গুরু, গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী স্মরণে পালিত হয়। শিখ চিন্তাধারা, পরিচয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে এই দিনটি পালিত হয় মর্যাদা সহকারে।

    কে গুরু গোবিন্দ সিং?

    গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্ম ১৬৬৬ সালে, বর্তমান বিহারের পাটনা সাহিবে। মাত্র ন’বছর বয়সে তিনি গুরু হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি ছিল এমন একটি সময়, যা রাজনৈতিক চাপ ও ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য চিহ্নিত ছিল (Guru Gobind Singh)। ১৬৯৯ সালে তিনি খালসা পন্থ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সমতা, সাহস ও সমষ্টিগত দায়িত্ববোধের নীতি স্থাপন করা হয়। মৃত্যুর পূর্বে তিনি গুরু গ্রন্থ সাহিবকে চিরন্তন গুরু হিসেবে ঘোষণা করেন, এর মধ্য দিয়ে মানব গুরুর ধারার সমাপ্তি ঘটে।

    প্রশ্ন হল, কেন গুরু গোবিন্দ সিং প্রকাশ পর্ব আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    প্রকাশ পর্ব সাধারণ অর্থে জন্মদিন হিসেবে পালিত হয় না। আধ্যাত্মিকভাবে এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বাসের সঙ্গে কর্মের সহাবস্থান জরুরি। গুরু গোবিন্দ সিংয়ের শিক্ষা ছিল সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং উচ্চ মূল্য দিতে হলেও মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করা (Guru Gobind Singh)। ভারতজুড়ে গুরুদ্বারগুলিতে এই দিনটি গুরবাণী কীর্তন, প্রার্থনা ও শিখ ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে পালিত হয়। রাস্তায় বের হয় নগর কীর্তন, লঙ্গর পরিবেশন করা হয়, এবং সমাজসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঘরবাড়ি ও গুরুদ্বারে আলো জ্বালানো হয়, প্রদর্শনের জন্য নয়, শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে (Prakash Purab)। গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী জাঁকজমকের ওপর নির্ভর করে স্মরণীয় হয়ে ওঠে না। এটি আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এর অন্তর্নিহিত মূল্যবোধগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হয় না (Guru Gobind Singh)।

  • Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালে তুলনামূলকভাবে কম নির্বাচন হলেও ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনর্বিন্যাস দেখা (Electoral Report Card) গিয়েছে। এ বছর মাত্র দুটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে-দিল্লি এবং বিহার। এছাড়াও কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, বছরটি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে – বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’। ২০২৬ সালে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির একটি দ্রুত পর্যালোচনা তুলে ধরছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের এই রিপোর্ট কার্ড (Winners Losers)।

    এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য (Electoral Report Card)

    ২০২৫ সালে বিজেপি এবং তাদের বৃহত্তর জোট এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য বজায় রেখে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের শুরুতেই বিজেপি বড় সাফল্য পেয়েছে। ২৭ বছর পরে দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে দলটি। আম আদমি পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি অবসান ঘটায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এক দশকের জমানার। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বিহারে বিজেপি এবং তাদের শরিক জনতা দল (ইউনাইটেড) অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় এনডিএ ২০০-র বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা জয়ী হয় ৮৯টি আসনে। শতাংশের বিচারে এর পরিমাণ ৯০ এর কাছাকাছি। বিহারে কোনও শক্তিশালী আঞ্চলিক মুখ না থাকায় বিজেপি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে প্রচার চালায়। সেই কৌশলেই হয় বাজিমাত। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয় বিজেপি।

    সুদূরপ্রসারী প্রভাব

    ২০২৫ সালে শান্তিতে নির্বাচনী পর্ব মিটলেও, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিজেপি এবং এনডিএ এ বছর নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৬ সালের আগে এই নির্বাচনী ফল ভারতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ (Electoral Report Card) স্পষ্ট করে দিয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। দলটি চলতি বছরে একাধিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনেও ভালো ফল করেছে। ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ মিলকিপুর উপনির্বাচনে জয়লাভ করে। এটি মর্যাদাপূর্ণ অযোধ্যা এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই জয়ের মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনে ওই অঞ্চলে যে ধাক্কা খেয়েছিল দলটি, তার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নভেম্বরের উপনির্বাচনে ওডিশার নুয়াপাড়া আসনটি বিজেডির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি (Winners Losers)।

    স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি

    ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে—যেখানে তাদের প্রাপ্ত সভাপতি পদ ছিল ১১৭ থেকে ১২৯টি। এর পরেই ছিল একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। তারা পেয়েছিল ৫৩–৫৪টি আসন। অজিত পাওয়ারের এনসিপি পেয়েছিল ৩৭টি। কেরালার তিরুবনন্তপুরমে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিজেপি। নাগরিক সংস্থার নির্বাচনে রেকর্ড জয়ের পর ভিভি রাজেশ বিজেপির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব (Electoral Report Card) গ্রহণ করেন। এবার দেখা যাক, জয়ের হাসি হাসলেন কারা, মুখ থুবড়েই বা পড়লেন কে কে?

    নিতীশ কুমার

    বন্ধু ও শত্রু দুপক্ষের কাছেই বারবার রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছেন বলে বিবেচিত হলেও, নিতীশ কুমার আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ‘সারভাইভার’। ২০২৫ সালে রেকর্ড দশমবারের মতো বিহারের ক্ষমতা ধরে রেখে তিনি সেই নজির গড়েন। জেডি(ইউ) প্রধান হিসেবে তিনি এনডিএকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জোরালো জয় এনে দেন এবং নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবির অন্তর্নিহিত চাপ ও তরুণ তেজস্বী যাদবের কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাজ্যে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে উঠে আসেন। ২০২৫ সালে জেডি(ইউ)-র আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮৫-তে পৌঁছয়, যা নিতীশকে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জল্পনা এবং ভোটার ক্লান্তি নিয়ে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।

    দেবেন্দ্র ফড়নবিশ

    বিজেপির প্রভাবশালী ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট দেবেন্দ্র ফডনবিশ ২০২৫ সালে নীরবে মহারাষ্ট্রে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন, যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্ডের অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যে দলের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ডিসেম্বরের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রূপরেখা তৈরি করেন। এতে বিজেপি ৬,৯৫২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৩,৩২৫টি আসন জিতে নেয় এবং ২৮৮টি সংস্থার মধ্যে ১২৯টি সভাপতি পদ দখল করে। সব মিলিয়ে মহাজোট ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। শিন্ডে শিবির (Winners Losers) থেকে ভাঙনের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ফডনবিশ নাগরিক নির্বাচনের আগে মহাজোটকে ঐক্যবদ্ধ (Electoral Report Card) ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন।

    চিরাগ পাসওয়ান

    এলজেপি (আরভি)-র নেতা চিরাগ পাসওয়ান আবারও বিহারে এনডিএর অন্যতম সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মুখ হিসেবে উঠে আসেন এবং জোটের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পমন্ত্রী পাসওয়ানের দল ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯টিতে জয়ী হয়।

    কেরালায় ইউডিএফ

    কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ কেরালার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে। ইউডিএফ মোট ভোটের ৩৮.৮ শতাংশ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য ক্ষমতার বাইরে থাকা ইউডিএফের জন্য বড়সড় প্রেরণা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পিনরাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির ইঙ্গিত দেয় (Winners Losers)।

    ইন্ডি জোট

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২০২৫ সালে কার্যত ভেঙে যায়। জাতীয় রাজনীতির বদলে রাজ্যভিত্তিক অগ্রাধিকার সামনে আসতেই জোটের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। জোট হিসেবে এবং পৃথকভাবেও বিরোধী দলগুলির জন্য ২০২৫ সালটি ছিল হতাশাজনক, কেরল ছাড়া কোথাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।
    চলতি বছরের শুরুতেই আম আদমি পার্টি জানিয়ে দেয়, ইন্ডি জোট শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনের জন্যই ছিল এবং তারা জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পরে বিহার নির্বাচনের আগেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সম্প্রতি বিরোধীদের অবস্থান সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্ডি জোট এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’। বিহারে ভরাডুবির পর আবারও কংগ্রেসের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা (Electoral Report Card) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের দিকে কঠিন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    অরবিন্দ কেজরিওয়াল

    আম আদমি পার্টির আহ্বায়কের জন্য ২০২৫ সাল একাধিক দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। দীর্ঘ সময় জেলে থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে ঘনঘন সংঘাতের জেরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। এর ফলে রাজধানীতে অস্থিরতার একটি ধারণা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ‘রিসেট বাটন’ চাপতে প্ররোচিত করে।
    দিল্লিতে টানা দু’টি ভোটে বিপুল জয়ের পর ২০২৫ সালে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারায় আপ। ২০২০ সালের তুলনায় দলটি প্রায় ৪০টি আসন হারিয়ে ব্যাপক ধাক্কা খায়। রাজধানী হাতছাড়া হওয়ার পর, বছর শেষে পাঞ্জাবই আপের একমাত্র রাজ্য যেখানে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে দলের জাতীয় প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে (Winners Losers)।

    তেজস্বী যাদব

    ২০২০ সালের বিহার নির্বাচনে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পর আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব নিজের ‘বড় মুহূর্তে’র অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের নির্বাচনে এনডিএর জোরালো জয়ে তেজস্বী ও তাঁর দল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। টানা দু’টি নির্বাচনী পরাজয় এখন তাঁর ঝুলিতে, যার ফলে আরজেডির ভিতরে বড় ধরনের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ এই দলটি এখনও লালু-রাবড়ি যুগের অন্ধকার অতীতের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে (Electoral Report Card)।

    রাহুল গান্ধী

    যদিও চলতি বছরে কংগ্রেস কোনও বড় নির্বাচনে হারেনি, তবুও এককভাবে বা জোটে রাজ্য নির্বাচন জিততে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতাই রাহুল গান্ধীর অধীনে কংগ্রেসের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে চলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৯৯-এ পৌঁছে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি দলের জন্য ছিল এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস। ইন্ডি জোট ভেঙে পড়ে, আর বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেননি রাহুল।
    রাহুলের ‘ভোট চুরি’ তত্ত্বও জনমানসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। সেই কারণেই বিহারের ভোটাররা রাজ্য নির্বাচনে কংগ্রেসকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বছরটির শুরু ও শেষ- উভয় ক্ষেত্রেই তারা ছিল সাফল্যের শীর্ষে। দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফেরা থেকে শুরু করে বিহারে নিরঙ্কুশ জয় এবং মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনে শক্তিশালী ফল, সব মিলিয়ে এনডিএর দাপট স্পষ্ট। এর উল্টো দিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট রাজনৈতিক পুঁজি ও জোটগত সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের পরেও সেই গতি ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে (Winners Losers)। ২০২৬ সালে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে স্পষ্টতই রাজনৈতিক গতি এনডিএর দিকেই রয়েছে (Electoral Report Card)।

LinkedIn
Share