Tag: khobar

  • Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোচবিহার (Coochbehar) জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বালি পাচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সানিয়াজান নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিল। বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ওই দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (Bangladeshi Sand Smugglers)। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ অক্টোবর, শনিবার, মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোতবাড়ি গ্রামের কাছে সানিয়াজান নদী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, নদী থেকে বালি ও পাথর সংগ্রহ করছিল বাংলাদেশের দিক থেকে আসা ওই দলটি। বিএসএফের জওয়ানেরা তাঁদের বাধা দিতে গেলে বাঁশের লাঠি, রড ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে তাঁরা জওয়ানদের দিকে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ।

    বিএসএফকে আক্রমণের অভিযোগ (Coochbehar)

    বালি পাচারের খবর পেয়ে কোশি সীমান্ত চৌকিতে মোতায়েন বিএসএফের ৬২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নদীতে নেমে অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। অভিযোগ, সংখ্যায় বেশি থাকায় ওই দলটি বিএসএফের জওয়ানদের উপর লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন জওয়ানেরা। এর পরেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় দলটি। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে সংঘর্ষের সময় চিৎকার-চেঁচামেচির দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার অভিযোগ

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সানিয়াজান নদী থেকে বালি ও পাথর তোলার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বিএসএফ মাঝেমধ্যে পদক্ষেপ করলেও বাংলাদেশের দিক থেকে আসা লোকজন বারবার নদীতে ঢুকে ওই সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে।মেখলিগঞ্জ এলাকায় সীমান্তের বেড়া থাকলেও, সানিয়াজান নদী ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেপরোয়াভাবে নদী থেকে বালি তোলা চলতে থাকলে নদীর গতিপথ বদলে যেতে পারে। এর ফলে নদী সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন এবং বসবাসকারী মানুষের নানা সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার রায়ের দাবি, বিএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় ৪০ থেকে ৫০ জন নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বলেন, “বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে ওই দলটি তাঁদের কথা শোনেনি। উল্টে জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনীকে গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।” প্রশান্ত আরও বলেন, নদীটি ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছে। তাই বারবার বালি ও পাথর তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে (Coochbehar)।

    সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন (Bangladeshi Sand Smugglers) স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে খবর। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Coochbehar)।

     

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাদের অনুপ্রবেশের (Islamist Entryism) অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গত ৮ অক্টোবর গৃহীত একটি প্রস্তাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগসূত্র থাকা সংগঠনগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির মোকাবিলায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Muslim Brotherhood)। এই প্রস্তাবে এমন সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মুসলিম ব্রাদারহুডের চারটি শাখাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেও ইউরোপের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কড়া রাজনৈতিক বার্তা (Islamist Entryism)

    প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য সেলিন ইমার্ট এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “এই ভোট ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।” প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইমার্ট। তবে সমাজতন্ত্রী ও চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির একাংশের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি বয়কট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্রপন্থা-বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক লরেঞ্জো ভিডিনোর মতে, এই ভোট ইউরোপের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শিবির এবং বামপন্থীদের মধ্যে মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী প্রতিনিধি প্রস্তাবটির পক্ষে থাকলেও বামপন্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর বিরোধিতা করেছে। ভিডিনো আরও জানান, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া প্রায় এক দশক ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। তাঁর মতে, বিষয়টিকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধের দৃষ্টিতে না দেখে ইউরোপীয় সমাজের সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, নারী-পুরুষের সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবে ইউরোপীয় মূল্যবোধকে ভিতর থেকে দুর্বল করার কাজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে—এমন নেটওয়ার্কগুলিকে অর্থায়ন, পরামর্শ বা বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী নীতিকে ইসলাম নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংগঠিত ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই নীতির অপব্যবহার করা উচিত নয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজের সিনিয়র ফেলো এবং ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এডমন্ড ফিটন-ব্রাউন এই প্রস্তাবকে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের সূচনা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রস্তাবের সুপারিশগুলিকে বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করা সহজ হবে না।

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন, অহিংস ইসলামপন্থাকে হিংসাত্মক উগ্রপন্থার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, পদ্ধতি আলাদা হলেও দুই ধরনের গোষ্ঠীর লক্ষ্য কখনও কখনও একই হতে পারে।

    অর্থায়ন ও বিদেশি প্রভাবের উপর বাড়তি নজরদারির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে ইউরোপীয় কাউন্সিলকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনগুলিকে ইইউয়ের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অনুসরণযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড বা রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলিকে দেওয়া অনুদান খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয় কমিশনের পর্যালোচনারও প্রস্তাব রয়েছে (Islamist Entryism)।

    বিদেশি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের উপর আরও কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে কাতার বা তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারকারী ধর্মীয় বক্তাদের তালিকা তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রস্তাবটি। একই ধরনের তালিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্তরেও তৈরির পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শেনজেন ব্যবস্থার পাশাপাশি ইইউয়ের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিনোর মতে, এই প্রস্তাব ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা এবং সরকারগুলিকে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আরও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে পারে। তবে এর ফলে অবিলম্বে বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি নিজেদের কার্যকলাপ আড়াল করতে সহযোগী সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করতে পারে।

    বামপন্থী সংগঠনের বিরোধিতা, উঠল ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক এগেনস্ট রেসিজম (ইএনএআর)। ইউরোপজুড়ে বর্ণবৈষম্যবিরোধী কাজ করা এই সংগঠনটি প্রস্তাবটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছে।

    ইএনএআরের অভিযোগ, ইউরোপীয় পিপলস পার্টি এমন কিছু অভিযোগকে সামনে এনেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় মুসলিম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির ফোরাম (ফেমিসো)-সহ বিভিন্ন সংগঠনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই অভিযোগগুলি খারিজ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অন্যায্যভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন, ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করা গোষ্ঠী এবং মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা ব্যক্তিদের নিশানা করেছে।

    ইএনএআরের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে পারে। সংগঠনটির মতে, গণতন্ত্র, সমতা এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ঘোষিত অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও এই ভোট নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

    এই বিতর্কে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এক পক্ষের মতে, ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির কার্যকলাপ এবং বিদেশি অর্থায়নের উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত

    ইউরোপে অভিবাসন, সামাজিক সংহতি, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের সঙ্গেও এই সংঘাত যুক্ত। জাতীয়তাবাদী দলগুলির একাংশ বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামপন্থী উদ্দেশ্য প্রচারের সন্দেহে থাকা সংগঠনগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, বামপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে (Muslim Brotherhood)।

    এখন নজর থাকবে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাস্তবে কী পদক্ষেপ করে। অর্থায়ন, বিদেশি অংশীদারিত্ব, সন্দেহভাজন ইসলামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউরোপীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তের (Islamist Entryism) উপর।

    প্রস্তাবের সমর্থকদের কাছে এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভিতরে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সূচনা। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে তখনই, যখন প্রস্তাবের সুপারিশগুলি বাস্তব নীতি ও আইনে রূপান্তরিত হবে।

     

  • Brazil Election: ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট লুলা, চমকপ্রদ জয়ে ধরাশায়ী বলসোনারোর ছেলে

    Brazil Election: ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট লুলা, চমকপ্রদ জয়ে ধরাশায়ী বলসোনারোর ছেলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নজিরবিহীন চতুর্থবারের মতো জয় পেলেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (Brazil Election)। রবিবারের নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে তথা সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে ফের ক্ষমতা দখল করলেন বছর আশির লুলা। জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাসকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে দিল তাঁর এই জয়। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থানের ধারার মধ্যেও ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন তিনি (Lula Wins)।

    এই জয় লুলার রাজনৈতিক জীবনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তন। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২২ সালে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছিলেন লুলা। এ বারও মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সরকারের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তা সত্ত্বেও নতুন করে জনসমর্থন আদায় করে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হলেন তিনি।

    প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো (Brazil Election)

    নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। বাবার উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনকে ফের শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে নেমেছিলেন তিনি। তবে জনমত সমীক্ষকদের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভোটদানের হার শেষ পর্যন্ত প্রশস্ত করেছে লুলার জয়ের পথ।

    পরামর্শদাতা সংস্থা থিঙ্ক পলিসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতো বলেন, “মানুষ এখন পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে এক দিকে, অন্য দিকে পরিচিত পথের মধ্যে একটি বেছে নিচ্ছেন। পরিচিত পথ অন্তত কিছু অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।”

    প্রচারের একাধিক পর্যায়ে লুলার জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তাঁর ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ বাড়ছিল। পাশাপাশি, সমাজের পরিবর্তন এবং অ্যাপ-নির্ভর কাজের প্রসার তরুণ ভোটার ও ব্রাজিলের ক্রমবর্ধমান অসংগঠিত শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে লুলার রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।

    ব্রাজিলে বামপন্থীদের প্রত্যাবর্তন

    নির্বাচনী প্রচারে দারিদ্র্য, আর্থিক বৈষম্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন উজাড়ের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেন লুলা। পাশাপাশি, বলসোনারো ক্ষমতায় ফিরলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় কমানো, গত কয়েক দশকে অর্জিত সামাজিক অগ্রগতির কিছু পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার উপর নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    লুলার জয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ব্রাজিলের ক্ষমতায় বলসোনারো পরিবারকে ফেরানোর পক্ষে ছিল ওয়াশিংটনের প্রশাসন। এই ফলের জেরে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে চলা দক্ষিণপন্থী সরকারগুলির জোটেও আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল না।

    লুলার আমলের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সেলসো আমোরিম মনে করেন, লাতিন আমেরিকায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন লুলা।

    আমোরিম বলেন, “লাতিন আমেরিকায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। লুলা নিজেই সেই ভারসাম্যের প্রতীক (Brazil Election)।”

    লুলার রাজনৈতিক জীবন বারবার প্রত্যাবর্তনের নজিরে ভরা। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাঁকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল। পরে সেই মামলার রায় বাতিল হওয়ায় ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান তিনি। সেই নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট হন।

    এ বার আরও একটি নজির গড়েছেন লুলা। ১৯৮০-র দশকে ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনিই প্রথম প্রার্থী, যিনি নির্বাচনের প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলেন।

    রক্ষণশীল কংগ্রেসে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন লুলা। কারণ, ব্রাজিলের নতুন কংগ্রেসে গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে সবচেয়ে রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

    বলসোনারোর লিবারেল পার্টি এবং তাদের সহযোগী দলগুলি নিম্নকক্ষে ২৮০টিরও বেশি আসন এবং সেনেটে সর্বোচ্চ ৫০টি আসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে সংসদের দুই কক্ষেই দক্ষিণপন্থী শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

    সাও পাওলোর গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক অলিভার স্টুয়েনকেল মনে করেন, সংসদে এই সমীকরণের কারণে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে লুলাকে (Brazil Election)।

    তাঁর কথায়, “শুরু থেকেই তাঁর কার্যকর রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

    রক্ষণশীল কংগ্রেস লুলার নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা খর্ব করতে পারে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরির প্রক্রিয়া জটিল করে তুলতে পারে এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব কমাতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে অভিশংসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ফলে চতুর্থ মেয়াদে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা লুলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    নির্বাচনী প্রচারে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের ব্রাজিলীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লুলা। তাঁর ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল সপ্তাহান্তে সারা দেশে বিনামূল্যে গণপরিবহণ চালু করা, যদিও এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি, তাঁর সরকারের প্রধান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

    এ ছাড়া, শ্রম আইন সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর পক্ষেও সওয়াল করেছেন লুলা। কয়েক দশকের মধ্যে ব্রাজিলের অন্যতম বৃহৎ শ্রম সংস্কার হিসেবে বিবেচিত এই পদক্ষেপ কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পাস হয়েছে (Lula Wins)।

    অর্থনীতির চাপ সামলানোই বড় পরীক্ষা

    লুলার চতুর্থ মেয়াদ শুরু হতে চলেছে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে। চড়া সুদের হার, সরকারি ঋণের বৃদ্ধি এবং পরিবারগুলির ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ ইতিমধ্যেই বাড়ছে।

    ব্রাজিল সরকারের পূর্বাভাস, আগামী বছর দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৩ শতাংশ হতে পারে। অন্য দিকে, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত ৮২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারির পর থেকে যা সর্বোচ্চ স্তর। সরকারি ব্যয়ের কারণে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশের জন্য সুদ মেটানোর খরচকেই দায়ী করা হচ্ছে।

    বিনিয়োগ সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস, রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মডেলের প্রতি লুলার অঙ্গীকার বজায় থাকায় আগামী মেয়াদে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি অগ্রগতি নাও হতে পারে (Brazil Election)।

    পরিবারগুলির ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাওয়াও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় অনলাইন বেটিংয়ের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন লুলা। পাশাপাশি, ঋণের বোঝা কমাতে নতুন একটি কর্মসূচির কথা ঘোষণাও করেন তিনি।

    অন্য দিকে, নতুন কংগ্রেসে দক্ষিণপন্থী দলগুলির প্রভাব বাড়ায় ব্যবসাবান্ধব কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জোরদার হতে পারে। এর ফলে সরকারি ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির উপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, নির্বাচনে জয় এলেও লুলার (Lula Wins) সামনের পথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এক দিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, অন্য দিকে সরকারি ঋণ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি রক্ষণশীল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে তাঁর চতুর্থ মেয়াদের প্রধান পরীক্ষা (Brazil Election)।

     

  • Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। ২৬ অক্টোবর পাটনায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়্গে। সেই সময় শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পদ ছাড়বেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, ‘‘মোদির বাবাও চলে যাবেন।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রোতাদের কোনও মন্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সভাপতির আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত ছিল। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে থাকা নেতার বক্তব্যে এমন ভাষার ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অতীত মন্তব্যও বিতর্কে (Mallikarjun Kharge)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের অতীতের একাধিক মন্তব্যও নতুন করে চর্চায় এসেছে। ২০০৭ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধীর “মওত কা সওদাগর” (মৃত্যুর সওদাগর) মন্তব্য, ২০১৭ সালে মণিশঙ্কর আইয়ারের “নীচ আদমি” মন্তব্য এবং ২০২২ সালে খাড়্গের মোদিকে “রাবণ”-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পাটনায় খাড়্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের খতিয়ান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসএসের আদর্শ নিয়ে খাড়্গের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

    আরএসএসের আদর্শ নিয়েও খাড়্গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শের অবসান না ঘটলে ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান একটি সংগঠনের আদর্শকে সামগ্রিকভাবে বিপদের উৎস হিসেবে তুলে ধরে। তাঁদের মতে, এই ধরনের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

    ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবা, ত্রাণকাজ এবং নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগঠনটির কার্যকলাপে উল্লেখ করা হয়।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও সংগঠনের মতাদর্শের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার আহ্বান গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মতাদর্শগত বিরোধিতার জবাব যুক্তি, তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া উচিত (Mallikarjun Kharge)।

    খাড়্গের সমালোচনা

    বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমারের যোগদান নিয়েও খাড়্গের সমালোচনা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলগুলির জোট এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেই তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

    সব মিলিয়ে, খাড়্গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধিতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং মতাদর্শগত সংঘাতের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই (PM Modi) প্রশ্নও সামনে এসেছে। আরএসএস-সহ যে কোনও সংগঠনের কাজকর্ম ও মতাদর্শের সমালোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন—এমনটাই মত সমালোচকদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও মতাদর্শকে নির্মূল করার আহ্বান বিতর্কের নিষ্পত্তি না করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Mallikarjun Kharge)।

     

  • Kolkata Food Raids: খাবারে দেদার ভেজাল! পাওভাজিতে কৃত্রিম কেশর, লস্যিতে কারখানার বরফ, মিষ্টিতে নিষিদ্ধ রং

    Kolkata Food Raids: খাবারে দেদার ভেজাল! পাওভাজিতে কৃত্রিম কেশর, লস্যিতে কারখানার বরফ, মিষ্টিতে নিষিদ্ধ রং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য (Kolkata Food Raids)। শনিবার উত্তর কলকাতার একাধিক পাওভাজির স্টল, লস্যির দোকান ও মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে কৃত্রিম কেশর, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বরফ এবং সোনপাপড়িতে কৃত্রিম রঙের ব্যবহারের সন্ধান পেলেন পুরসভার আধিকারিকেরা। কয়েকটি দোকানে বাসি পাউরুটি ও মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের প্যাকেট (Industrial Ice) ব্যবহার করার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শনিবার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট এবং বিবেকানন্দ রোডের ৩০টিরও বেশি খাবারের স্টল ও দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, “অভিযানের সময় ৩০টিরও বেশি স্টল ও দোকানের খাবার পরীক্ষা করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বাসি পাউরুটি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের প্যাকেট ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।”

    কৃত্রিম রং বাজেয়াপ্ত (Kolkata Food Raids)

    অভিযান চলাকালীন পাওভাজির স্টলগুলি থেকে এক কিলোগ্রামেরও বেশি কৃত্রিম রং বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের প্যাকেটও ফেলে দেওয়া হয়। উৎসবের মরশুমে খাবারে ভেজাল রুখতে এবং খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম কার্যকর করতে পুরসভার বিশেষ নজরদারি অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    পুরসভার ওই আধিকারিক আরও জানান, খাবারে ভেজাল উপাদান ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রেতা, স্টল পরিচালনাকারী এবং দোকান মালিকদের সচেতন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

    তবে এই অভিযানই প্রথম নয়। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এক সপ্তাহব্যাপী খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে কলকাতা পুরসভার দল মোট ৫৯২টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। ১৬১টি জায়গা থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই অভিযানে খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন করায় ১,২২৪ কেজি খাবার বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল (Kolkata Food Raids)।

    কেএমসি কমিশনারের বক্তব্য

    সেই সময় কেএমসি কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছিলেন, কলকাতার মানুষের কাছে খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তোলাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “কলকাতার মানুষের কাছে খাবার পরিবেশন করে, এমন গোটা খাদ্যশিল্পকে আরও কিছুটা দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। হোটেল, ক্লাব, রেস্তরাঁ, বাজার এবং অন্যান্য খাদ্য বিক্রির জায়গা-সহ প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এই অভিযানের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল (Industrial Ice)।”

    উৎসবের মরশুমে শহরের বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে নজরদারি আরও জোরদার করেছে পুরসভা। খাবারে ভেজাল রোধ, খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলা এবং বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য, নিরাপদ নয় এমন খাবার চিহ্নিত করা এবং খাদ্য বিক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে (Kolkata Food Raids)।

     

  • Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীরের (Kashmir) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা সংবাদ প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে (Sharjeel Imam) তাঁর মতাদর্শ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে পোস্টগুলির ব্যাখ্যা, সেগুলির প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    কে এই শরজিল ইমাম? (Kashmir)

    শরজিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র, গবেষক এবং রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর কয়েকটি বক্তব্য, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ অবরোধের প্রসঙ্গে করা মন্তব্য, বিতর্কের জন্ম দেয়।

    ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। ওই হিংসাত্মক ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

    ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে শরজিল দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের প্রসঙ্গে ‘আমরা ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, ‘হামনে হিন্দোস্তান কো চুনা থা’ বা ‘আমরা হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যকে মুসলিমদের অপমান করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    ইমামের যুক্তি ছিল, দেশভাগের সময় বহু পরিবার হিংসা, অনিশ্চয়তা এবং বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাধীনভাবে একটি দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ সবার ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের মতো বিষয়গুলিও সহজে সীমান্তের অন্য পারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

    পোস্টে তিনি লেখেন, “ইসকো ‘দেশ’ কি মোহব্বত কহনা ঝুঠ হ্যায়, অউর উন মুসলমানোঁ কি তৌহিন হ্যায়।” অর্থাৎ, একে দেশের প্রতি ভালোবাসা বলা মিথ্যা এবং ওই মুসলিমদের অপমান করার শামিল।

    এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশভাগ-পরবর্তী মুসলিমদের জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।

    কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা

    ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম লেখেন, “কাশ্মীর বন্ধের এক মাস এবং কাশ্মীরে এক মাসের ভারতীয় অবরোধ।”

    ২০১৯ সালের অগাস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠিত করে। ওই সময় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল মানুষের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে।

    ইমামের পোস্টে ‘অবরোধ’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও বলপ্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, এমন ভাষ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো অন্যান্য বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব না-ও দিতে পারে।

    ‘জিন্নাহর প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক’

    ২০১৮ সালের ১৩ মে একটি পোস্টে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন ইমাম। সেখানে তিনি লেখেন, “জিন্নাহর উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আজও প্রাসঙ্গিক।”

    তিনি আরও লেখেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সংগ্রামই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অর্থ নির্ধারণ করবে।”

    একই পোস্টে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোর বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি আমাদের প্রয়োজন (Sharjeel Imam)। ”

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্বে সাংবিধানিক রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। দেশভাগের পরিণতিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, হিংসা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর কোন রাজনৈতিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন ইমাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Kashmir)।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ’

    ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারির একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তিনি জানান, জিন্নাহ পেপার্স পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এক সংখ্যালঘু নেতার লড়াই। ইমাম লেখেন, “৭০ বছর পর ভারতের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা জিন্নাহ কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।”

    তিনি আরও লেখেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ বুঝতে হলে জিন্নাহকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।”

    এই বক্তব্যে শুধু জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি নেই, বরং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মুসলিমদের জন্য বাস্তব রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে পেরেছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

    ‘ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত’, বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইমাম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন। তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।” সেটি পড়ে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

    ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমতা এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা নিজেদের ধর্ম পালন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন।

    সংবিধান বা সরকারি নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধানকেই সামগ্রিকভাবে মুসলিমবিরোধী বলে চিহ্নিত করা একটি বিস্তৃত অভিযোগ। এই ধরনের দাবি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, তার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, দহর-পরস্তি’

    ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

    তাঁর তালিকায় ছিল জাতীয়তাবাদ: ওয়াতান-পরস্তি, মূর্তিপূজা: বুত-পরস্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা: দহর-পরস্তি বা জামানা-পরস্তি, বর্ণবাদ ও জাতপাতবাদ: নসল-পরস্তি, উদারবাদ: নফস-পরস্তি, মানবতাবাদ: ইনসান-পরস্তি

    এখানে ‘পরস্তি’ শব্দটি কোনও কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ এবং মানবতাবাদের মতো ধারণাগুলিকে ধর্মীয় পরিভাষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদারবাদের মতো রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের একাধিক পদ্ধতিকে বোঝাতে পারে। একইভাবে উদারবাদ ব্যক্তিস্বাধীনতা, অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভিন্ন মতের সমষ্টি।

    এই পোস্ট থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সম্পর্ক নিয়ে ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের নাগরিকদের সমান অধিকার বজায় রেখে ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব কি না, তা-ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইসলামের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

    ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বরের একটি স্ক্রিনশটে পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বক্তব্য দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছে, “পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে ভবিষ্যৎ শুরু হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত বা তৈরি করা নয়; বরং তা গড়ে তুলতে হবে।”

    এর পরেই বলা হয়েছে, “সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের উপযুক্ত ভূমিকা থাকবে।”

    বক্তব্যটিতে অন্যান্য মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও বিরোধিতার পরিসর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এই অংশ থেকে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইমাম একটি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামের অবদান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি নির্ধারণের জন্য মূল লেখার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও তাঁর অন্যান্য বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    গর্বাচেভকে খোমেইনির চিঠি শেয়ার

    ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইমাম সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির ১৯৮৯ সালের চিঠির অংশবিশেষ শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছিল, “আজকের বিশ্বে কমিউনিজম বলে আর কিছুই নেই।” একই সঙ্গে, গর্বাচেভকে ‘পশ্চিমের কারাগার এবং মহাশয়তানে’র ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে উদ্ধৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

    ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে খোমেইনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চিঠিটিতে কমিউনিজমের সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণের বিরুদ্ধেও সতর্কতা ছিল (Sharjeel Imam)।

    ইমামের এই পোস্টকে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তাঁর শেয়ার করা পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। তবে একটি ঐতিহাসিক চিঠি শেয়ার করাই তার সমস্ত বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

    ‘সিয়াচেন সমাধানের পথে ভারতীয় সেনা বাধা’

    ২০১১ সালের ২ জুন ইমাম পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি শিরোনাম শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। শিরোনামটি ছিল, “সিয়াচেন সমস্যার সমাধানের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাধা।”

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত এলাকা। এই শিরোনামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিরোধ নিষ্পত্তির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পোস্টের পূর্ণ বক্তব্য এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। শুধু একটি শিরোনাম শেয়ার করার ভিত্তিতে তাঁর জাতীয় আনুগত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কাশ্মীরের খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ

    ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম একটি প্রবন্ধ শেয়ার করে লেখেন, “কাশ্মীর সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অসততা নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ পড়া, মন্তব্য করা এবং শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি”।

    সংবাদমাধ্যমের খবর পরিবেশনে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন, সরকারি সূত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ভুল তথ্য বা বাদ পড়া তথ্যের প্রমাণ প্রয়োজন (Kashmir)।

    এই পোস্টের মাধ্যমে ইমাম কাশ্মীর নিয়ে মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়’

    ২০১২ সালের ২৯ জুন ইমাম “হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়” শিরোনামের একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    শিরোনামটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা প্রকাশ করে। তাঁর অন্যান্য পোস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হিন্দুত্বের রাজনীতি, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    তবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং বিকল্প হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে থাকা এক বিষয় নয়। তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ‘ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে’

    ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট ইমাম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত “ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক হিসেবে কপিল কোমিরেড্ডির নাম দেওয়া হয়েছে।

    ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বিতর্কিত। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা জরুরি। ইসলামি চরমপন্থা-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদ যেমন নথিভুক্ত বাস্তবতা, তেমনই অন্য মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পৃথকভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু যাচাই করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন শেয়ার

    ২০১১ সালের ১১ অগাস্ট ইমাম আল জাজিরা ইংলিশের “কাশ্মীরে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধ — কাশ্মীর: বিস্মৃত সংঘাত” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রতিবেদনটির শিরোনামে কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা তাঁর পোস্টের সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা করা হয়েছে।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার—সব ক’টি বিষয়ই জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনও নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার মাধ্যমে ইমাম ঠিক কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তি ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

    ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি পোস্টে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার প্রশংসা করে করা একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ইমাম।

    তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কাজ করেছে’ বলতে যদি কিছু বোঝানো হয়, তবে তার অর্থ এই-ও যে রাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে হায়দরাবাদের নিরস্ত্র কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সামরিক অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। ইমামের মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসে।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তিকে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতিও বিবেচনা করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন। তবে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে ঐতিহাসিক নথি, অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

    ‘মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে’

    ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি স্ক্রিনশটে ইমামের শেয়ার করা এশিয়ান এজ-এর একটি শিরোনাম দেখা যায়: “মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।”

    এই পোস্টটি নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেকার। পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্বের রাজনীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার সঙ্গে এই পোস্টকে মিলিয়ে ইমামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা

    ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ইমাম পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর এবং ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দাবি-সংবলিত পরিসংখ্যান শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ‘২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলাগুলির তালিকা’ শিরোনামের একটি উইকিপিডিয়া পাতার লিঙ্কও দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা এবং হিসাবের পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

    এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরলেও ইমাম একইভাবে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন কি না।

    ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা—ভারতেও সন্ত্রাসবাদী হিংসার কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

    তাই মূল প্রশ্নটি হল, ইমামের পোস্টে সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য নিয়ে আলোচনা কতটা সামগ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর বক্তব্যে কোনও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কি না (Sharjeel Imam)।

    ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি রোমান উর্দু পোস্টে ইমাম লেখেন যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং উৎসবের পরে ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ আবার শুরু হবে।

    তিনি লেখেন, “পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ, পুজোর পরে আবার শুরু করা হবে।”

    পোস্টের পরবর্তী অংশে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর কয়েকজন সহকর্মী পুজোর সময়ে হিন্দু ধর্মীয় আচারে অংশ নেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘বুত-পরস্তি’ বা মূর্তিপূজার মতো ধর্মীয় শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে (Kashmir)।

    এই ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান দাবি করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাচারকে ব্যঙ্গ করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ প্রকাশ এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    হিন্দুদের পুজো করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই মুসলিমদের ইসলাম পালন করার অধিকারও রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

    জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক

    ২০১৮ সালের ১৩ মে জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে করা পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, “

    এএমইউ থেকে জিন্নাহর ছবি সরানো উচিত নয়; বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি প্রয়োজন।”

    ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের দাবি এবং তার পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও দেশভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়; তাঁর প্রতিকৃতি স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের দাবি অন্য বিষয়। ইমামের বক্তব্যে জিন্নাহকে সমসাময়িক মুসলিম রাজনীতির জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর ছবি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেই কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বর্তমান মুসলিম রাজনীতি

    জিন্নাহকে নিয়ে ইমামের ২০১৮ সালের মে মাসের পোস্টের পাশাপাশি ওই বছরের জানুয়ারির বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারির পোস্টে তিনি জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিকে সমসাময়িক সংখ্যালঘু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মে মাসে তিনি এএমইউতে জিন্নাহর প্রতিকৃতি রাখার পক্ষে আরও জোরালো অবস্থান নেন।

    দেশভাগের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা, পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইমামের বক্তব্য নিয়ে মূল প্রশ্ন হল, তিনি জিন্নাহকে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান ভারতের মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে হলে শুধু প্রতিকৃতি নিয়ে মন্তব্য নয়, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে ইমামের সামগ্রিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘কংগ্রেস পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী’

    ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম কংগ্রেসকে “একটি পশ্চাৎপদ হিন্দু গোষ্ঠী” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস একটি পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করতে পারে।

    তিনি আরও লেখেন, “১৯৪৭ সালের পর মৌলানা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।”

    পোস্টে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের সঙ্গে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাস্তবে সম্প্রদায়ের স্বার্থ কতটা পূরণ করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

    কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে। আবার বিরোধী দলগুলি প্রায়ই দলটির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলে। ইমামের মন্তব্য এই প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একটি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে।

    তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে মুসলিম নেতাদের উপস্থিতি থাকলেই মুসলিমদের রাজনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    এই মন্তব্য দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও কাশ্মীর নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

    শরজিল ইমামের নামে প্রচারিত এই পোস্টগুলিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, জিন্নাহর উত্তরাধিকার, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামের ভূমিকা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

    সমালোচনামূলক বিশ্লেষণটির দাবি, পোস্টগুলির মধ্যে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। বিশেষত কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম শেয়ার এবং জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Kashmir)।

    তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য, সংবাদ শিরোনাম বা ঐতিহাসিক দলিল শেয়ার করার অর্থ সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রতিটি অংশকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক মতের সমালোচনা করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও পৃথক বিষয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ এবং চূড়ান্ত রায়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শিলিগুড়ি করিডর অবরোধের প্রসঙ্গে ইমামের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পথ অবরোধের আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইমামের রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, সেই বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির অবস্থান। জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই জরুরি।

     

  • LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের সমাবেশের আগে এলপিজি সরবরাহ ও ডেলিভারি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ এবং অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাকের বিরোধিতা করল ফেডারেশন অফ এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অফ ইন্ডিয়া (FLDI)। গ্রাহকদের অসুবিধা এড়াতে সমস্ত এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরকে নিয়মিত সরবরাহ ও ডেলিভারি পরিষেবা চালু রাখার আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি (LPG Distributors)।

    এফএলডিআইয়ের বক্তব্য (LPG Distributors)

    জারি করা বিবৃতিতে এফএলডিআই জানিয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও মিলেছে বলে দাবি সংগঠনের। তাই আলোচনার সমস্ত পথ ব্যবহার করার আগেই প্রতিবাদ বা ধর্মঘটের পথে হাঁটাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে (Rahul Gandhi) না তারা। এফএলডিআইয়ের বক্তব্য, ডিস্ট্রিবিউটরদের ন্যায্য দাবিগুলি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ গ্রাহকদের এলপিজি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, ধর্মঘট বা কর্মসূচির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমস্ত ডিস্ট্রিবিউটর যেন সরবরাহ ও ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখেন। কোনও পরিবার যাতে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যায় না পড়ে, সেই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

    ইন্ডি জোটের সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা

    এদিকে, উৎসবের মরশুমে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ১ নভেম্বরের সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। সিটিআইয়ের দাবি, দীপাবলির আগে কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে এই সমাবেশের কারণে দিল্লিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসেই কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, মিছিল ও রাস্তা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে যান চলাচলে বাধা এবং বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে (LPG Distributors)।

    ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে ইন্ডি জোটের সমাবেশ

    উল্লেখ্য, নির্বাচনে তথাকথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করতেই রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করছে ইন্ডি জোট। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে বিরোধী জোট। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি নিয়ে (Rahul Gandhi) আলোচনা, অন্যদিকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সচল রাখা—দিল্লিতে দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এফএলডিআইয়ের সাফ কথা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের এলপিজি পরিষেবা কোনওভাবেই ব্যাহত করা যাবে না (LPG Distributors)।

     

  • Baranaga Death Case: উইপ্রো কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সম্পর্কের পরিচয় গোপনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

    Baranaga Death Case: উইপ্রো কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সম্পর্কের পরিচয় গোপনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে বছর চব্বিশের এক (Baranaga Death Case) তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম ঈশা সাউ। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রোয় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এক মুসলিম যুবক নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ওই যুবকের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই (Wipro Employee Murder Probe) অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    কীভাবে শুরু হয়েছিল সম্পর্ক? (Baranaga Death Case)

    পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেওয়ায় ঈশা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে যুবকের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দু’জনের মধ্যে অশান্তি ও বিবাদের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে সম্পর্কের বিষয়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও জানা যায়নি।

    মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

    পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ভোরে বরানগরের নবীনচন্দ্র দাস রোডে তাঁদের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে অভিযুক্ত যুবক আরও তিন-চার জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই আবাসনে আসেন। তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দিলে ঈশার মাকে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

    পরিবারের আরও দাবি, এরপর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা ঈশার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে পাঁচতলা ভবনের ছাদের দিকে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবন থেকে পড়ে যান তরুণী।

    তবে কীভাবে তিনি নীচে পড়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন আবাসিকরা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকট শব্দ শুনে আবাসনের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে এসে ভবনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় ঈশাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোটরবাইক ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে (Baranaga Death Case)।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বরানগর থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

    তরুণীর মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৃত্যুর আগে ঈশাকে কোনও ধরনের ভয় দেখানো বা জোরজবরদস্তি করা হয়েছিল কি না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজের পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। ছাদে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আবাসনের নজরদারি ক্যামেরার ছবি থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় কি না।

    ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফোনের তথ্য, নজরদারি ক্যামেরার ছবি এবং ফরেনসিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হতে পারে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

    ঈশার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় গোপনের অভিযোগ এবং তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবিও উঠেছে (Wipro Employee Murder Probe)।

    তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ্যে আসেনি। মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও অপরাধমূলক দায় সম্পর্কে পুলিশ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগ ও প্রকৃত ঘটনা—দু’টি বিষয়ই তদন্তের ফলের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি (Baranaga Death Case)।

     

  • Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে (এসআরএফটিআই) আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক ঘটনার জেরে পড়ুয়াদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার উপর শারীরিক হামলার কয়েক দিন পর অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের (Naseeruddin Shah) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দাবি, ৫০০-র বেশি পড়ুয়ার নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে (Srfti Controversy)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, এই বিরোধিতার জেরে গোটা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

    আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন (Naseeruddin Shah)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি যেন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে একমত নন, এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।” পড়ুয়াদের তিনি ওই দলের প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় মগজধোলাই করার, নয়তো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।” তবে অভিনেতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, এমনটা হতে দেব না।”

    শাহের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র রাহুল সিনহা তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিনহার দাবি, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শাহ বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের সূত্রের অভিযোগ, অভিনেতা মিথ্যা কথা বলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন, যার ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনায় শাহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ নন এবং ক্ষতির দায়ও তাঁকে বহন করতে হবে না।

    প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। ওই দিন যথাযথ অনুমতি নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েন। এর জেরে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরেই উপাচার্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

    ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার খরচও প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মূল ফটকের উচ্চতা বাড়ানো, বেড়ার তার বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

    তবে ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৫০ জন পড়ুয়া রাত ১১টা পর্যন্ত মূল ফটকে উপাচার্য আজমেরাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। ৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন পড়ুয়া প্রায় দু’দিন তাঁর দফতর দখল করে রাখেন। সেই সময় তাঁর চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভিতরেও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবর শুভম নামে এক পড়ুয়া আজমেরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরের দিন তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

    প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই মিছিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সেই মিছিলে ক্যাম্পাসের বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সংযত থাকার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসদাচরণের অভিযোগে ছ’জন পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।

    এদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক পায়েল কাপাডিয়াও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন (Srfti Controversy)। বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির কথিত হামলার অভিযোগের জেরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় চলচ্চিত্র মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

     

LinkedIn
Share