Tag: kolkata police

kolkata police

  • Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police Recruitment) একসঙ্গে প্রায় ৫,৯০০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা মোট ৫,৮৯৩টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (WBPRB) মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একাধিক পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর অর্থ দফতর এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা রইল না।

    কোন কোন পদে নিয়োগ

    অনুমোদিত শূন্যপদগুলির মধ্যে রয়েছে ৬৪৮টি সার্জেন্ট এবং ৪২৫টি সাব-ইনস্পেক্টর পদ। সাব-ইনস্পেক্টর পদগুলির মধ্যে ৭০টি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি ৪,৩১৯টি কনস্টেবল পদেও নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৪৩০টি পদ। তবে কবে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। নির্দেশিকায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান ও সরকারি নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন সরকার। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালু করা—একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে প্রশাসন। এর আগে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ১৪ হাজার ৪৫৪টি পদে নিয়োগের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের এই নিয়োগকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এক লক্ষ সরকারি চাকরি

    কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি নিয়ে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগে অনিয়ম এবং ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা কাটিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পরীক্ষাগুলিও ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই ধাপে ধাপে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে রাজ্যের পুলিশকে। বর্তমানে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে পুলিশের গড়ে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে জরুরি সাড়া প্রদান সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থার অধীনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৯০০টি যানবাহন (Police Reform)। তার মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি চারচাকার গাড়ি এবং সমসংখ্যক মোটরবাইক।

    পুলিশের কর্মদক্ষতা (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কর্মদক্ষতার তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, কলকাতা পুলিশের হাতে বেশি সংখ্যক কর্মী ও যানবাহন থাকায় তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রেও একই রকম দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি।

    পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট ছয় থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়। বাংলা কেন তা করতে পারবে না?” দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুলিশকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯০০টি যানবাহন দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হল মাত্র। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি থানায় চারটি করে মোটরবাইক এবং চারটি করে গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই যানবাহন চালানোর জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের প্রস্তাবেও রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    থানার পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    রাজ্যের একাধিক থানার বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক থানায় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। কলকাতার ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ওই থানাগুলির ভবন প্রায় একশো বছরের পুরনো বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেরও অভাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন করতে হবে।”

    উপনির্বাচনে শান্তি বজায় রাখায় পুলিশের প্রশংসা

    সম্প্রতি রাজ্যের দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশকর্তাদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তপাত ছাড়া ভোটপর্ব শেষ করার জন্য পুলিশকর্তাদের কৃতিত্ব দেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক জাভেদ শামিম-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিকের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সঙ্গে অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের আরও ভালো সমন্বয়ের উপরেও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

    ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগ

    পুলিশে নিয়োগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে ১১ হাজারেরও বেশি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে।

    মাদকাসক্তি এবং মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে জানান (Police Reform) তিনি।

    আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার চিকিৎসকের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Mamata Banerjee: হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

    Mamata Banerjee: হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ও শর্তাবলী লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে আদালতের অবমাননার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    বিঘ্নহীন সভার অনুমতি (Mamata Banerjee)

    শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি দিক সম্পূর্ণ সচল রাখার কথা ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।

    শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ

    অভিযোগ, সভার দিন সেই নির্দেশই কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় মঞ্চ থেকে ইশারা করেন। এরপর রাস্তার অন্য পাশে গাছের তলায় জড়ো হয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও দলীয় কর্মী ব্যারিকেড সরিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের দুই দিকই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যস্ত ওই এলাকায় বাস, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল থমকে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি দিক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু গাছের নীচে থাকা লোকজনদের ডেকে এনে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন? আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রুজু করতে। পাশাপাশি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই বেআইনি কাজ (Mamata Banerjee) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

    শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গাছের তলায় থাকা কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলের সামনে নিয়ে এসে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “দেখুন কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। গাছের নীচে থাকা লোকদের ডেকে এনে রাস্তা বন্ধ করে দিলেন। এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছি, তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও বলেছি।”

    হাইকোর্টের শর্ত

    উল্লেখ্য, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভার ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক শর্ত দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভায় দেড় হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সভাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ ছিল।

    এছাড়াও (Mamata Banerjee) যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ক্যাথিড্রাল রোড এবং রানি রাসমনি রোডের অন্তত একটি করে দিক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশই সভার দিন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে (Suvendu Adhikari) এবং আদালতে বিষয়টি কীভাবে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে কালীঘাট তৃণমূলের সেনাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বেআইনি বিলবোর্ড খোলা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং এক মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বিতর্কিত বিলবোর্ডটি খুলে ফেলেন।

    বেআইনি হোর্ডিং সরাতে পুলিশের সাহায্য চেয়েছিল পুরসভা

    পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে থাকা একটি বেআইনি হোর্ডিং সরানোর জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পুর আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, পুরকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর সেখানে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু সমর্থক জমায়েত করেন। অভিযোগ, ওই জমায়েতের জেরে পুরকর্মী ও পুলিশ আধিকারিকদের নির্ধারিত কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়।

    পুরকর্মীদের সঙ্গে ‘ধস্তাধস্তি’, মহিলা পুলিশকর্মীকে ‘শ্লীলতাহানি’

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সরকারি কর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ এবং হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে পুরসভা ও পুলিশের কর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং হাতাহাতির অভিযোগ সামনে আসে।  পুলিশের বিবৃতিতে আরও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। ডিউটিতে থাকা এক মহিলা পুলিশ কর্মীকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ জমা পড়েছে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা দায়ের এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত মজুমদারের

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিলবোর্ডটি বেআইনি ছিল এবং সেটি নিয়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণ নিয়ম মেনে অপসারণ করার অধিকার পুরসভার রয়েছে এবং সেই কাজ করতেই পুরকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ তুলে সুকান্ত বলেন, “ইনি সাংসদ না গুন্ডা, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না!”

    ‘অক্ষয় কুমার’ ও ‘সুনীল শেট্টি’ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ

    অভিষেককে আক্রমণ করতে গিয়ে আরও কটাক্ষের সুর শোনা যায় সুকান্তের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে অক্ষয় কুমার মনে করছেন নাকি?” পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুকান্ত। বলেন, ‘‘আর পাশে থাকা ষণ্ডামার্কা লোকটা নিজেকে কি সুনীল শেট্টি ভাবছে?’’ সুকান্তের দাবি, বেআইনি কাজের অভিযোগ ওঠার পরেও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গেই হিন্দি প্রবাদ ‘চোরি, চোরি কে উপর সিনা জোড়ি’ উল্লেখ করে অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা।

    বিলবোর্ড-কাণ্ডে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে

    একদিকে বেআইনি হোর্ডিং অপসারণকে কেন্দ্র করে পুরসভা-পুলিশের সঙ্গে অভিষেকের অফিসের কর্মীদের সংঘাত, অন্যদিকে পুলিশের একের পর এক মামলা ও গ্রেফতার— সব মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। পুলিশের বিবৃতিতে ওঠা হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ এখন তদন্তের আওতায়। অন্যদিকে, ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। ফলে বিলবোর্ড সরানোর ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

  • Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম কোন ধর্মীয় স্থানের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। বদলের বাংলায় কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) সুরক্ষায় বেনজির পদক্ষেপ। কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত লালবাজারের (Lalbazar)। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দ। শুধু মন্দির চত্বর এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি

    কথায় বলে , ‘কালী কলকাত্তাওয়ালি’। আর কলকাতাকে মা কালীর শহর করে তুলেছে কালীঘাট মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কালীঘাট। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কালীঘাট মন্দিরের অসামান্য মাহাত্ম্য রয়েছে। এই মন্দিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাইরে থেকে কলকাতায় এলে একবার অন্তত কালীঘাট মন্দির দর্শন প্রায় সবাই করেন। পীঠ মাহাত্ম্য অনুসারে কালীক্ষেত্র কলকাতার বারাণসীর সমতুল। ভক্তদের বিশ্বাস কলকাতার অভিভাবক রূপে কালীঘাটে বিরাজ করছেন মা কালী। সোম থেকে রবি, প্রতিদিনই এই মন্দিরে থাকে উপচে পড়া ভিড়। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতীতে কালীঘাট মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিরাপত্তাগত ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। সেকারণেই ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত। পুলিশকর্মীরা মন্দিরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছ্যন্দের দিকটাও দেখবেন।

    জঙ্গিদের নিশানায় কালীঘাট মন্দির!

    কলকাতা পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা মাথায় রেখে পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মন্দির চত্বরে নাশকতা এবং জঙ্গি হামলার আশঙ্কার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক বিদেশি জঙ্গির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কোনও জঙ্গি মডিউল কি তাহলে বাংলার ধর্মস্থানগুলিকে টার্গেট করছে? কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপে সেই প্রশ্নও জোরাল হচ্ছে।

    কতজন পুলিশকর্মী থাকবেন ফাঁড়িতে

    কলকাতা পুলিশের তরফে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে, একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে ২০ জন পুলিশকর্মী থাকবেন কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে। তার মধ্যে দু’জন সাব ইনস্পেক্টর (এসআই) বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার। তা ছাড়াও আট জন কনস্টেবল এবং পাঁচ জন মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। কালীঘাট থানার আওতায় থাকবে কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসিপি) পুলিশ ফাঁড়ির প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) বা ডিসি সাউথ সমস্ত দিকটা দেখভাল করবেন।

  • Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় ছাত্র সমাবেশ চলাকালীন হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার (Journalists Attack) ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত ২৪ জুলাই হামলা হয় সাংবাদিকদের ওপর (Rally Violence)। শনিবার গ্রেফতারির খবর জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা কেউই ছাত্র নন।

    সাংবাদিক পিটিয়ে গ্রেফতার ১১ (Journalists Attack)

    তিনি বলেন, “হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা কেউই ছাত্র নয়। তারা সকলেই গোলমাল সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে উপস্থিত থেকে তারা ভাঙচুর ও হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।” গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইরফান খুরশেদ (৩০), আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), জামির আহমেদ ওরফে মিনকু (৪২), মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮)। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে জনৈক মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে। পুলিশের দাবি, “মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে অন্ডালের কাছে তাদের আটক করা হয়।”

    কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এর আগে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় নিট আন্দোলনের সময় পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর “নৃশংস হামলা”র তীব্র নিন্দা করেন। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে জখম হওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি জানান, আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন (Journalists Attack)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ কলকাতায় দুষ্কৃতীদের হাতে পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একাধিক আহত সাংবাদিক বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছি। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ব্যানারে আয়োজিত এক (Rally Violence) বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে বোতল ছুড়তেও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ (Journalists Attack)।

     

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিল লালবাজার। এমনকী, ধর্মতলা চত্বরে আগামী ৬০ দিনের জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা (Ban At Dharmatala) জারি করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সম্ভাব্য বিক্ষোভ, অশান্তি এবং জনশৃঙ্খলা ভাঙনের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় এই নির্দেশ জারি করেছেন।

    পুলিশের নির্দেশে কী বলা হল

    পুলিশের (Kolkata Police) নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলার একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে মিছিল, সভা, ধর্না, বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে যে, ওই এলাকায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তার জেরে জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং সদর ট্র্যাফিক গার্ডের অন্তর্গত নির্দিষ্ট অংশ। কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস তথা সিইএসসি দফতর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে শান্তিভঙ্গ, জনদুর্ভোগ বা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    প্রশাসনের বক্তব্য, ধর্মতলা (Gathering in Dharmatala) কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই পথ ব্যবহার করেন। সেখানে রাজনৈতিক জমায়েত বা বিক্ষোভ থেকে বড়সড় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এত সংখ্যক মানুষের কাছে আলাদা করে নোটিস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার উপধারা অনুযায়ী একতরফা ভাবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, কলকাতা পুলিশ গেজেট এবং বিভিন্ন থানার নোটিস বোর্ডের মাধ্যমে এই নির্দেশ প্রকাশ করা হবে।

LinkedIn
Share