Tag: labour mobility

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

LinkedIn
Share