Tag: Lamine Yamal

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

LinkedIn
Share