Tag: land scam

land scam

  • Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল নগদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ পেয়েছে (Suvendu Adhikari) ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বুধবার পুলিশের তরফে এই টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। যে দলীয় কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে (Hidden Cash Recovery)।

    সুমিতকে জেরা করেই টাকার হদিশ (Suvendu Adhikari)

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ অক্টোবর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগে সুমিতকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় সুমিত-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

    পুলিশি হেফাজতে সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ মজুত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কালীতলা থানা এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকার যোগ থাকতে পারে। তবে এই অর্থের প্রকৃত মালিক কে, কী উদ্দেশ্যে তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং কারা এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ন’বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জমি থেকে বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। এই কারবার থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বেআইনি মাটি কাটার টাকা জমা পড়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

    এই ঘটনায় শুধু সুমিত নন, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এর আগে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলায় সুমিতের নাম জড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)।

    টাকা উদ্ধারে রাজনৈতিক তরজা, নিশানায় তৃণমূল

    সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলা দীর্ঘদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ওরা সেখানে সীমাহীন টাকা তুলেছে। কোথায় রেখেছিল, তারও ঠিক ছিল না। এটা ওদের প্রতিদিনের রোজগারের মতো বিষয় ছিল।”

    নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে।”

    শুধু নগদ উদ্ধারের ঘটনা নয়, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়সীমায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    শুভেন্দুর প্রশ্ন, নতুন করে কোনও করের বোঝা না চাপিয়েই রাজস্ব আদায় এতটা বাড়ল কীভাবে? তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। ওই অর্থের একটি বড় অংশ আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বেনামে জমি কেনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী, দুর্নীতির টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

    সরিষার দলীয় কার্যালয়ে নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেখানে টাকা রেখে যাওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলার কথা সম্ভবত তৃণমূল নেতারা ভুলে গিয়েছিলেন।

    পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূলের

    অন্যদিকে, সুমিতের হয়ে তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুমিতকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশ তাঁকে ওই দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “যা জানানোর, আদালতে গিয়ে জানান।”

    তদন্তকারীদের নজরে টাকার উৎস ও মালিকানা

    সরিষার তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এসেছিল এই অর্থ? বেআইনি মাটি কাটার কারবারের সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অর্থের সঙ্গে আরও কোনও রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Hidden Cash Recovery) সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে (Suvendu Adhikari) উদ্ধার হওয়া টাকার নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট খোলাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

LinkedIn
Share