Tag: Lionel Messi retires from international football

  • Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক যুগের অবসান! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi Retirement। ৩১ অগাস্ট, ২০২৬। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে পাকাপাকিভাবে ইতি টানলেন নব্য ফুটবলের জাদুকর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজয়ের ঠিক ছ’সপ্তাহ পর এল এই ঘোষণা। আকস্মিক ঠিকই কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়৷ শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগের অগাস্ট মাসে। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্রের। সেই অগাস্টেই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রায় ইতি টানলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মেসি। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৬ সালে সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু তা হয়নি। তবে, ২০৩০-আর নয়। থামতেও জানতে হয়। সঠিক সময়েই থামলেন রাজপুত্র।

    কবে নিয়েছিলেন অবসরের সিদ্ধান্ত

    মেসি জানিয়েছেন, স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মাত্র দু’দিন পরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সেই সময় তাঁর পরিবারও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ইন্টার মায়ামিতে ফিরে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন মেসি। সোমবার, যখন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ অবসরের বার্তাটি সামনে আসে, বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন! কিন্তু কেউ জানত না, এই চিঠি লেখা হয়েছিল পাক্কা ৪১ দিন আগে! খোলা চিঠিতে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২১ জুলাই তিনি এই বয়ান ড্রাফট করেছিলেন। দ্রুতই সেটি পোস্ট করার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা নেমে আসে এক ভয়ংকর পারিবারিক বিপর্যয়। গত ৭ অগাস্ট রাতে রোজারিওর এক ক্লিনিকে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যান বাবা জর্জ মেসি (Jorge Messi Death)। তাঁর শেষ সময়ে পাশে থাকতে মায়ামি থেকে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন লিও। জর্জ নিছক বাবা নন, ছিলেন মেসির কেরিয়ারের মূল স্থপতি। ২০০০ সালে গ্রোথ-হরমোনের সমস্যায় ভোগা ১৩ বছরের কিশোরকে রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় নিয়ে যাওয়া, ন্যাপকিনে প্রথম চুক্তির সই—সবই তাঁর হাত ধরে। শোকস্তব্ধ লিও (Argentina National Football Team) নিজেকে সব ধরনের জনসমক্ষ থেকে গুটিয়ে নেন। অবশেষে ৩১ অগাস্ট চিঠিটি প্রকাশের সময় নীচে একটি ব্যক্তিগত নোট জুড়ে দেন তিনি। জানান, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি, বরং সঠিক সময়ে ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার বিষয়ে তাঁকে ‘আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী’ করে তুলেছে। মেসির কথায়, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কষ্টের ছিল এবং এখনও সেই কষ্ট রয়েছে। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এবার সেই অধ্যায় বন্ধ করার সময় এসেছে।

    অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মেসি রেখে গেলেন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল ও ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা ছিল সাফল্য ও হতাশার এক অনন্য মিশেল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়—একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পান মেসি। এর পরের বছরই আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ফাইনালে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও মেসির নাম লেখা থাকবে বিশেষ জায়গায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেছেন। তাঁর আগে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দু’জনেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরনো গোলের রেকর্ড পেরিয়ে যান।

    তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার

    মেসির বিদায়ের খবরে চোখে জল বিশ্ব জুড়ে ফুটবল প্রেমিদের। মহাতারকার অবসরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান সতীর্থরাও। কোপা জয় হোক আর বিশ্বকাপ জয়, দেশের জার্সিতে মেসির ট্রফি জয়ের সাফল্যে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার অবদান কতটা তা সকলের জানা। সেই বয়স ভিত্তিক দল থেকে মেসির সঙ্গে জুটিতে খেলেছেন ডি মারিয়া। মেসির অবসরে আবেগাপ্লুত তিনি। মেসির অবসরের পোস্টে কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ তাঁকে বলা হয় মেসির ‘বডিগার্ড’। প্রিয় বন্ধুর অবসরে মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, ‘তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন। সর্বকালের সেরা তুমি। আমাদের এতটা খুশি করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। তুমি সর্বসেরা।’

    আমরা তোমায় ভালোবাসি

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে খেলা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অধিনায়কের অবসরের লিখেছেন, “সত্যি বলতে, খুব খারাপ লাগছে। কখনও এ রকম মুহূর্তের জন্য আমাদের তৈরি থাকতে বলোনি। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে জানাচ্ছি, ধন্যবাদ!! তুমি আমার কাছে এবং গোটা বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ। ফুটবলের বিজয়ী এবং জীবনের বিজয়ী!! ওর বাবা যে অসাধারণ একটা দলের সদস্য ছিল, এটা ভেবে আমার মেয়ে খুব গর্বিত হবে। তুমি বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ। কারণ ফুটবলের তুলনা টানতে গেলে, তোমার মতো কেউ নেই। তোমাকে খুব ভালোবাসি।” বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে ১০ ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মেসির অবসরে তিনিও চুপ থাকেননি। লিখেছেন, “সব কিছুর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!!! তুমি ছিলে এবং বরাবরের জন্য সর্বকালের সেরাই থাকবে। অধিনায়ক, আমরা তোমায় ভালোবাসি।” আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। তারা লেখে, “আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর একটা যাত্রার জন্য তোমায় ধন্যবাদ। তোমার উত্তরাধিকার এবং পেশাদারিত্ব সারাজীবন আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে। ধন্যবাদ অধিনায়ক। আমরা তোমায় ভালোবাসি।” ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রাসিয়াস’।

    ফুটবল মাঠে এখনও মেসি ম্যানিয়া

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর না খেললেও ফুটবলকে এখনই বিদায় বলছেন না আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে, আর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না এল এম টেন-কে। বিদায়-বার্তায় মেসি লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। চলো, আর্জেন্টিনা।”

LinkedIn
Share