Tag: loitering munition

  • Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় বড়সড় সংযোজন ঘটল। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি-এর তৈরি ১০৬টি ‘পিসকিপার’ (ভারতে নাম ‘অগ্নিবেগ’) জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে মোট ১০৬টি সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইউনিট। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

    নকশা বেলারুশের, উৎপাদন ভারতে

    ২০২৫ সালে বেলারুশ এবং ভারতের মধ্যে প্রায় ১০০টি ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ক্রেতা ছিল এসএমপিপি এবং বিক্রেতা ছিল বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বেলস্পেৎসনেশটেকনিকা। প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) চুক্তির আওতায় এসএমপিপি ইতিমধ্যেই কামিকাজে ড্রোনের মিউনিশন (অস্ত্র) অংশের উৎপাদন দেশীয়ভাবে শুরু করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান, এমনকি জেট ইঞ্জিন মোটর উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভারতে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, এসএমপিপি ইতিমধ্যেই এই কামিকাজে ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণও প্রস্তাব করেছে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম।

    কী এই ‘পিসকিপার’?

    ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। প্রচলিত নজরদারি ড্রোনের মতো এটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসে না। বরং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই নিজেকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই একে ‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ বলা হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক কাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, গোলাবারুদ ডিপো কিংবা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ১৮০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত

    অগ্নিবেগ ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি তার দীর্ঘ পাল্লা। এটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে। অর্থাৎ সীমান্তের অনেক ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত্রু লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। শুধু পাল্লাই নয়, গতি এবং নির্ভুলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাব্যল’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। সহজ ভাষায়, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে এর বিচ্যুতি অত্যন্ত কম, ফলে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা সম্ভব হয়।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর

    বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রশক্তিই নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষ প্রায়ই জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করেও মিশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ড্রোনটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশেও সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    অগ্নিবেগ ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● আঘাত হানার পাল্লা: সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার
    • ● নির্ভুলতা: সিইপি- ৫ মিটারের কম
    • ● ইঞ্জিন: দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টার্বোজেট ইঞ্জিন
    • ● অপারেশন: স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা
    • ● সক্ষমতা: জ্যামিং ও স্পুফিং প্রতিরোধী

    সেনাবাহিনীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমান বা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে অগ্নিবেগ ড্রোন ভারতীয় সেনাকে কম খরচে, দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানার নতুন ক্ষমতা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংঘাত বা উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোন শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় সাফল্য

    দেশীয় সংস্থা এসএমপিপি-র তৈরি এই ড্রোনের সফল সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, ‘অগ্নিবেগ’ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি এই অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তি শুধু সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতাই বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহলের বিশেষজ্ঞরা।

  • Operation Sindoor: বোঝার আগেই শেষ! পাক-ভূমে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে তিন ‘স্মার্ট’ অস্ত্র ব্যবহার ভারতের

    Operation Sindoor: বোঝার আগেই শেষ! পাক-ভূমে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে তিন ‘স্মার্ট’ অস্ত্র ব্যবহার ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার জবাবে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) চালিয়েছে ভারত। প্রায় ২৫ মিনিটের এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’-এ ৯টি জঙ্গি ঘাঁটির ২১টি টার্গেটকে ধ্বংস করেছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোটা অপারেশন শেষ। আর জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দিতে রাফালে চাপিয়ে পাঠানো হয় বিশেষ কয়েকটি মিসাইল ও বম্ব (Special Weapons)। গোটা অভিযানের পরিচালন তিন বাহিনীর সমন্বয়ে সংগঠিত হয়। তবে, বম্ব নিক্ষেপ করার কাজ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যবহার করা হয়েছে হ্যামার বোমা, স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল এবং লয়টারিং মিউনিশন। মূলত নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, দূরপাল্লার এই বিশেষ অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক এই অস্ত্রগুলির বিশেষত্ব—

    স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল (Scalp Cruise Missile)—

    এটি স্টর্ম শ্যাডো নামেও পরিচিত। এটি একটি দীর্ঘ পাল্লার আকাশ থেকে ভূমি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয় এই ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে (Operation Sindoor) আঘাত হানতে সক্ষম। দিনে হোক বা রাতে, যে কোনও মরসুমে এটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। যে কারণে, বিশ্বের সব সামরিক বাহিনীর কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয়।

    হ্যামার স্মার্ট বম্ব (Hammer Smart Bomb)—

    পুরো নাম হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিটন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ। শক্তিশালী পরিকাঠামো যেমন রিইনফোর্সড বাঙ্কার বা বহুতল বিল্ডিং অথবা অস্ত্রভাণ্ডার গুঁড়িয়ে দিতে ওস্তাদ হ্যামার স্মার্ট বোমা। ৫০-৭০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম হ্যামার। কত উঁচু থেকে ছোড়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে আঘাতের তীব্রতা। এই অভিযানে (Operation Sindoor) হ্যামার দিয়ে লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    লয়টারিং মিউনিশন (Loitering Munition)—

    এগুলি কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন হিসেবেও পরিচিত। মূলত লুকিয়ে এলাকার পর নজরদারি চালানোর জন্য, কোথায় জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে, তাতে কী কী রয়েছে বা কারা-কতজন রয়েছে, তা জানতে এই যন্ত্র ব্যবহার করে সেনাবাহিনী (Operation Sindoor)। যত ক্ষণ পর্যন্ত না লক্ষ্য নির্ধারণ হচ্ছে, তত ক্ষণ উড়ে বেড়ায় এই ড্রোন। স্বয়ংক্রিয় ভাবেও উড়তে পারে এই ড্রোন, আবার রিমোটের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় (Special Weapons)। লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, এই ড্রোনে বিস্ফোরক বা পেলোডও বসানো যায়। ড্রোনের মাধ্যমেই আঘাত হানা যায় লক্ষ্যে।

LinkedIn
Share