Tag: London

London

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আইনের হাত থেকে দীর্ঘদিন রেহাই পাওয়ার দিন শেষ হতে (India) চলেছে। বিজয় মাল্যর লন্ডনে পৌঁছে যাওয়া, ব্রিটেনে নীরব মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই কিংবা আমেরিকা থেকে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া—এই ধরনের ঘটনায় বহুদিন ধরেই দেশে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া (Fugitives) অপরাধীদের কি আদৌ ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব? দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলের অভাব রয়েছে। তবে সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অপরাধী, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত, সংগঠিত অপরাধী, গ্যাং সদস্য এবং খুন, ধর্ষণ, পকসো আইন লঙ্ঘন, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

    মামলা চলত বছরের পর বছর (India)

    লন্ডন, দুবাই, কানাডা, আমেরিকা কিংবা অন্য কোনও দেশে বসে থাকা অপরাধীরা বহু বছর ধরে ভারতীয় আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন। আদালতে মামলা চলত বছরের পর বছর, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে লাগাতার চিঠিপত্র চালাচালি করতে হত। সময় যত গড়াত, মামলার নথি ততই বাড়ত, এবং অনিশ্চয়তাও গভীর হত। ফলে দেশে বারবার প্রশ্ন উঠত—বিদেশের মাটি থেকে কি আদৌ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে ভারত? এই জায়গায়ই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের দাবি ছিল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার মতো দৃঢ়তা সরকারের নেই। কিন্তু সরকারের পেশ করা তথ্য বলছে অন্য কথা। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    আগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই ছিল বড় বাধা

    সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা ছিল। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনগুলি অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সেগুলির সামঞ্জস্য ছিল না। অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দিষ্ট আইনও ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বিদেশি আদালতে জমা দেওয়া নথি অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকত। বিভিন্ন দেশের আলাদা আইনি কাঠামো ও নিয়ম মেনে নথি তৈরির জন্য কোনও অভিন্ন ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। একই সময়ে ১১০টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে “দ্বৈত অপরাধ” এবং “একই অপরাধে দু’বার বিচার না করার নীতি”-র মতো আইনি যুক্তিতে ভারতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত। ফলে বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন।

    রাজনৈতিক সদিচ্ছায় বদলেছে কৌশল

    সরকারের দাবি, ২০১৪ সালের পর পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় গড়ে তোলা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিশ্বব্যাপী অভিযান, শক্তিশালী সমন্বয় এবং কৌশলী কূটনীতি।এর ভিত্তিতে বিদেশমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এবং বিদেশি সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রত্যর্পণের আবেদনও আগের তুলনায় আরও পেশাদার পদ্ধতিতে তৈরি করা শুরু হয়। যে দেশের আদালতে আবেদন করা হচ্ছে, সেই দেশের নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি আদালতে ভারতের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বড় অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয় (Fugitives)। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, অর্থনৈতিক অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া। সরকারের মতে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে এই আইন। ২০১৯ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনেও সংশোধন করা হয়। এর ফলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পরিধি শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী, তাদের বিদেশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ জোগানের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ে (India)।সরকারের বক্তব্য, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের কারণে সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    নতুন তিন ফৌজদারি আইনে নতুন পথ

    ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারায় প্রথমবারের মতো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও পলাতক ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আদালত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের জোর

    ২০২২ সালে ভারত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার ৯০তম সাধারণ পরিষদের আয়োজন করে। সেই মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় তিনটি নীতির কথা তুলে ধরেন—যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়।সরকারের বক্তব্য, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলে একাধিক মামলায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও গতি পায়।

    তথ্য নেটওয়ার্কের নতুন মেরুদণ্ড ‘ভারতপোল’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ভারতপোল’ চালু করেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর, জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত তথ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে (India)। বর্তমানে ১,৪০০-র বেশি সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে যে তথ্য পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বহু ক্ষেত্রে এখন তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের এই গতি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে (Fugitives)।

    প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খোঁজ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা অনেক সময় পরিচয় বদলায়, নতুন নথি ব্যবহার করে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে জায়গা পরিবর্তন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত তদন্তপদ্ধতি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে ভারত। ‘অপারেশন ত্রিশূলে’র মাধ্যমে উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গতিবিধির বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র তৈরির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশে নাম বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলেও, ডিজিটাল চিহ্ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    রেড নোটিশ জারিতে গতি

    অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেড নোটিশ জারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখে নেওয়া যাক ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান:
    ২০২২ সালে — ৪০টি
    ২০২৩ সালে — ১০০টি
    ২০২৪ সালে — ১০৭টি
    ২০২৫ সালে — ১১২টি
    ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত — ১৮২টি

    গত তিন বছরে মোট ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছে। সরকারের মতে, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতাকে তদন্ত কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে ভারত (India)।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়টিকেও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে কেন্দ্র। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Fugitives)। একই সময়ে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত অর্থও রয়েছে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

    বিদেশে পলাতকদের ধরতে বিশেষ কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অভিযান কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যেও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদানের গতি আরও বেড়েছে।

    ২৭৪ পলাতক ফেরত, কোন অপরাধে কতজন?

    ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই তালিকায় রয়েছেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে, খুন, ডাকাতি ও হিংসাত্মক অপরাধের মামলায় সর্বাধিক ৬২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং পকসো-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং তোলাবাজির মামলায় ৪২ জনকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণের মামলায় ১৮ জন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, দেশবিরোধী কাজ এবং মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনও দেশে (India) ফিরেছেন। সাইবার অপরাধ, জাল নোট এবং নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের মতো অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বছরভিত্তিক প্রত্যর্পণের গতি

    বিদেশ থেকে পলাতকদের দেশে ফেরানোর পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯ জন, ২০২০ সালে ৭ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ৪০ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি প্রস্তুতির উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পলাতকদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Fugitives)।

    তাহাউর রানার মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নজির

    আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমেরিকা থেকে তাকে ভারতে ফেরাতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়েছে ভারত। সরকারের মতে, এই মামলা প্রমাণ করে যে জটিল সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায়ও বিদেশে থাকা পলাতক এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্তপারের কার্যকলাপে সহায়তার চেষ্টা সামনে এসেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    ‘সমগ্র সরকার’ মডেলে একযোগে অভিযান

    পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা ব্যুরো, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিদেশমন্ত্রক, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, জিএসটি গোয়েন্দা দফতর এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। সরকার এই ব্যবস্থাকে “সমগ্র সরকার” মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করে (India)।

    ভবিষ্যৎ কৌশলে নয়া নজর

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর বহু-সংস্থা কেন্দ্রের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পলাতকদের চিহ্নিত করা, মামলার নথির অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, তথ্যের ঘাটতি দূর করা, বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্তরে সাহায্য করা (Fugitives)।  সব মিলিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান কৌশলের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের নাগালের বাইরে থাকা যাবে না। ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৪০১টি রেড নোটিশ জারি, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার, ‘ভারতপোলে’র মতো ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভারত তার কৌশল আরও বিস্তৃত করেছে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা এখন স্পষ্ট—অপরাধ করে ঠিকানা বদলালেই অপরাধ মুছে যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের মাটি থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে (India) যাবে।

     

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের (London) পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁকে ঘিরে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হ্যামারস্মিথ এলাকার ফুলহ্যাম প্যালেস রোডে অবস্থিত ‘রঙ্গরেজ’ নামে একটি রেস্তোরাঁর সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি রেস্তোরাঁর মালিক জানান যে সেখানে শুধুমাত্র ঝটকা পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা মাংস পরিবেশন করা হবে, হালাল নয়। প্রায় ১৬ বছর ধরে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটি শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে বলে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মালিক হরমান সিং কাপুর প্রকাশ্যে জানান যে তার রেস্তোরাঁয় শুধুমাত্র ঝটকা মাংসই পরিবেশন করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকে।

    হোটেলের সামনে বিক্ষোভ

    গত ১৪ মার্চ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু মানুষ রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং কিছু সময়ের জন্য প্রবেশপথও অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এর আগে একই দিনে হরমান সিং কাপুর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে সমর্থকদের বিকেল ২টায় রেস্তোরাঁয় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তিনি এটিকে “নন-হালাল মিটআপ” বলে উল্লেখ করেন এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা রেকর্ড করার জন্য ক্যামেরা বা ফোন সঙ্গে আনতে বলেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কাপুর নিজেই ভিডিও পোস্ট করে জানান যে তিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে শিখ ধর্মে বহন করা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ‘কিরপান’ সঙ্গে নিয়েছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। গ্রেফতারের পর ঘটনাটি আরও বিতর্কের জন্ম দেয়। কাপুরের সমর্থকদের দাবি, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য দাঁড়ানো সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, তার কিছু সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিম গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন না করার কথাও বলেছিলেন।

     বিতর্কের কেন্দ্রে কী

    এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে হালাল ও ঝটকা পদ্ধতির পার্থক্য। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হালাল মাংস প্রস্তুত করতে ‘জবিহা’ পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হয় এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়। মুসলিমদের জন্য এটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবিধি। অন্যদিকে ঝটকা পদ্ধতিতে এক আঘাতে পশুকে দ্রুত হত্যা করা হয়। শিখ ধর্মে অনেক অনুসারী ‘কুঠা’ বা ধর্মীয় আচার মেনে জবাই করা মাংস এড়িয়ে চলেন, যার মধ্যে হালালও অন্তর্ভুক্ত বলে অনেকে মনে করেন। ঘটনাটি ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রবাসী সম্প্রদায়ের সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত বড় বড় প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের অনেকেই উপমহাদেশের বিভাজনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

    লন্ডনে গোষ্ঠী সংঘর্ষ

    ২০২২ সালে লেস্টার শহরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময়েও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। রঙ্গরেজ রেস্তোরাঁকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাও একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষক নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করছেন। তদন্ত চলতে থাকায় পুরো ঘটনার সব দিক এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় একটি বিরোধও কীভাবে সামাজিক মাধ্যমের যুগে দ্রুত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

  • Prince Andrew: এপস্টিন কেলঙ্কারিতে জড়ানোর জের! ভাই অ্যান্ড্রুর খেতাব কাড়লেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    Prince Andrew: এপস্টিন কেলঙ্কারিতে জড়ানোর জের! ভাই অ্যান্ড্রুর খেতাব কাড়লেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যৌন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদ ছাড়তে হচ্ছে রাজকুমার অ্যান্ড্রুকে (Prince Andrew)। তাঁর সমস্ত রাজকীয় খেতাব এবং সম্মাননাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিংহাম প্রাসাদের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজা চার্লস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেস একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে উইন্ডসরের বাসভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন ছাড়তে হচ্ছে রাজপ্রাসাদ

    জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ বেড়েছে রাজপরিবারের উপর। নতুন করে সমালোচনার ঝড় ওঠার পরে এই ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘রাজা প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্টাইল, উপাধি এবং সম্মান সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।’ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাঁরা যে কোনও ধরনের নিগ্রহের শিকার, ব্রিটেনের রাজপরিবারের সমবেদনা তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। সরাসরি কোনও ঘটনার কথা উল্লেখ না-করা হলেও স্পষ্ট যে, আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ এবং তাঁর বিরুদ্ধে যৌন কেচ্ছায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠতেই এই পদক্ষেপ করলেন ব্রিটেনের রাজা।

    কোথায় থাকবেন রাজকুমার

    বিবৃতি অনুযায়ী, উইন্ডসর রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বিকল্প বাসস্থানে উঠে যেতে হবে অ্যান্ড্রুকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজকুমার অ্যান্ড্রুর নতুন নাম হবে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর। তিনি আর ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’ থাকবেন না। কিছু দিন আগে পর্যন্তও ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’ খেতাব পাওয়া রাজকুমার অ্যান্ড্রু এত দিন প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনের সঙ্গে রাজপ্রাসাদে থাকতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুসারে, দু’জনেই এবার উইন্ডসরের বাসভবন থেকে সান্ড্রিংহাম এস্টেটে উঠে যাবেন। প্রসঙ্গত, এই এস্টেট রাজা তৃতীয় চার্লসের মালিকানাধীন। ভাইয়ের থাকার খরচ বহন করবেন রাজা চার্লসই।

    চির বিতর্কিত এক চরিত্র অ্যান্ড্রু

    ৬৫ বছর বয়সি অ্যান্ড্রু অবশ্য চির বিতর্কিত এক চরিত্র। বছর ছয়েক আগে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। ভার্জিনিয়া জিওফ্রে নামের এক ভদ্রমহিলা অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন। অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নাবালিকাদের সঙ্গে জোর করে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগও ওঠে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ বার বারই অস্বীকার করেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রু। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে অর্থের বিনিময়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন অ্যান্ড্রু। যদিও, কত টাকা দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

    এপস্টিন ফাইলে নাম থাকাই কাল

    প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্তের দাবিতে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল ব্রিটেনের রাজপরিবারের উপরে। চলতি মাসেই নানা অভিযোগ-বাণে জর্জরিত অ্যান্ড্রু সমস্ত রাজখেতাব ছেড়ে দেন। ঘটনাচক্রে, একই মাসে তাঁকে ‘শাস্তি’ দিল রাজপরিবার। রাজপ্রাসাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, রাজা চার্লস এবং রানী ক্যামিলা, নির্যাতনের শিকার হওয়া সকলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তের নীতিগত প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। যৌন অপরাধ, নারী পাচারে অভিযুক্ত এপস্টিনের সঙ্গে বহু বিখ্যাত ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক বার কানাঘুষো শোনা গিয়েছে, এপস্টিন ফাইলে নাম রয়েছে বিল ক্লিন্টন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টিফেন হকিং থেকে মাইকেল জ্যাকসন-সহ বিশ্বের তাবড় ব্যক্তির। যদিও এই ফাইল এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

  • Ayodhya Ram Leela: ৫০টিরও বেশি দেশ উপভোগ করল বর্ণাঢ্য ডিজিটাল রামলীলা

    Ayodhya Ram Leela: ৫০টিরও বেশি দেশ উপভোগ করল বর্ণাঢ্য ডিজিটাল রামলীলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার বিশ্ববাসীর নজর কাড়ল উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা নগরী। বর্ণাঢ্য ডিজিটাল রামলীলা (Ayodhya Ram Leela) এ বার ছুঁল এক অনন্য উচ্চতা। ৫০টিরও বেশি দেশে মোট ৬২ কোটি বৈশ্বিক দর্শকের (Indian Culture) রেকর্ড ভিউয়ারশিপ নিয়ে এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ ডিজিটাল রামলীলা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সহায়তায় অনুষ্ঠিত এই অযোধ্যা উৎসব শুধু ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, বরং বৈশ্বিক পরিসরে শহরটির ক্রমবর্ধমান আধ্যাত্মিক গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে।

    ডিজিটাল রামলীলা (Ayodhya Ram Leela)

    এবার অযোধ্যার রামলীলা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে-মহাদেশে। এই জাঁকজমকপূর্ণ ডিজিটাল রামলীলা নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রচার পৌঁছেছে নানা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এগুলির মধ্যে রয়েছে আরাধনা টাটা প্লে, শেমারু মি, ভিআই অ্যাপ, এয়ারটেল, ইউটিউব এবং ফেসবুকও। শুধু শেমারু ভক্তি ইউটিউব চ্যানেলেই ৮ কোটিরও বেশি দর্শক এই ঐশ্বরিক মহাকাব্য প্রত্যক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশ সরকার সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহযোগিতায় অযোধ্যা রামলীলা অনুষ্ঠানের মর্যাদাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের যৌথ প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তের কোটি কোটি ভক্ত এই অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন, যা ডিজিটাল যুগে ভারতের সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। অনুষ্ঠানটির লাইভ সম্প্রচার ও ডিজিটাল প্রযোজনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল।

    অত্যাধুনিক থ্রি-ডি ভিজ্যুয়াল

    অনুষ্ঠানটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকরা অত্যাধুনিক থ্রি-ডি ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, হাই-ডেফিনেশন ডিজিটাল প্রজেকশন, আধুনিক মঞ্চ নকশা এবং পরিশীলিত আলোকসজ্জা প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এই উপাদানগুলি ঐতিহ্যবাহী রামলীলাকে এক মনোমুগ্ধকর চলচ্চিত্রের মতো অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করেছে, যেখানে ভক্তি ও আধুনিক সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ঘটেছে। তাই তামাম বিশ্বের দর্শকরা ভগবান শ্রী রামের ঐশ্বরিক কাহিনি উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন (Ayodhya Ram Leela)। মুম্বই ও দিল্লির ২৫০ জনেরও বেশি শিল্পী, যাঁদের মধ্যে ছিলেন ভাগ্যশ্রী, বিন্দু দারা সিং, শাহবাজ খান, অনিল ধাওয়ান ও সুনীল পালও, তাঁদের অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে মহাকাব্যটিকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন।

    এদিকে, ৫ অক্টোবর ক্রয়ডনের ঐতিহ্যবাহী ফেয়ারফিল্ড হলস কনসার্ট থিয়েটারে হল “লন্ডন কি রামলীলা ২০২৫”। এই মহোৎসব দর্শক ও বিশিষ্টজনেদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়োয়। সাটন ফ্রেন্ডসের ব্যানারে প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন প্রবীণ কুমার। আধুনিক মঞ্চ-প্রযুক্তি, বর্ণিল এলইডি ব্যাকড্রপ, সরাসরি বর্ণনা ও শক্তিশালী (Indian Culture) অভিনয়ের মাধ্যমে এই প্রযোজনায় চিরন্তন মহাকাব্য ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামে’র কাহিনি জীবন্ত হয়ে ওঠে (Ayodhya Ram Leela)।

  • Tommy Robinson: “হিন্দুরা শান্তিপূর্ণ, শান্তিপ্রিয়”, বললেন মোদির ‘ফ্যান’ ব্রিটেনের টমি রবিনসন

    Tommy Robinson: “হিন্দুরা শান্তিপূর্ণ, শান্তিপ্রিয়”, বললেন মোদির ‘ফ্যান’ ব্রিটেনের টমি রবিনসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “হিন্দুরা অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীর থেকে একেবারেই আলাদা। তারা ব্রিটিশদের সঙ্গে মেলামেশা করে এবং ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হিন্দুরা কখনওই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। তারা ব্রিটিশ পরিচয়ের ক্ষয়ক্ষতির কারণও নয়।” কথাগুলি যিনি বললেন তিনি কিন্তু ধর্মে হিন্দু নন। তাঁর নাম টমি রবিনসন (Tommy Robinson)। এই মুহূর্তে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে। কারণ লন্ডনে বৃহৎ পরিসরের অভিবাসী-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনিই।

    ব্রিটিশের মুখে হিন্দু প্রশস্তি (Tommy Robinson)

    ভারতীয়, বিশেষ করে ব্রিটেনের (UK) হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি খুবই আলাদা ও বিশেষ মনোভাব রয়েছে তাঁর। যদিও দেশে যে বেনো জলের মতো অভিবাসীদের দল ঢুকে পড়ছে, তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ তিনি। রবিনসন নিজেকে একাধিকবার হিন্দুদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা (হিন্দুরা) ব্রিটিশ জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। হিন্দুদের তিনি বর্ণনা করেছেন ‘শান্তিপূর্ণ’ ও ‘শান্তিপ্রিয়’ অভিবাসী সম্প্রদায় হিসেবে। তাই তিনি ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও পরিচয়ের জন্য হিন্দুদের হুমকিস্বরূপ বলে মনে করেন না।

    আমি হিন্দুদের পাশেই দাঁড়াব

    অবশ্য এই প্রথম নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি টমি রবিনসনের সমর্থন গত বেশ কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২ সালে এশিয়া কাপ ক্রিকেট খেলা চলাকালীন লেস্টারে ব্রিটিশ হিন্দু-মুসলিমদের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় তিনি ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি শত শত মানুষকে মোবিলাইজ করবেন ব্রিটিশ হিন্দুদের পক্ষে লড়াই করতে এবং তাদের রক্ষা করতে। ওই বছরই এক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “কখনও কখনও ব্রিটেনে হিন্দুদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তবে আমি কিন্তু তাদের পাশেই দাঁড়াব।”

    ব্রিটিশ রাজনীতিকদেরও নিশানা

    ব্রিটিশ রাজনীতিকদেরও একহাত নেন রবিনসন। তাঁর অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিকরা হিন্দুদের পাশে দাঁড়াননি, রক্ষা করেননি তাঁদের অধিকার। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে হিন্দুদের সংগ্রাম দেখেছি। এর সঙ্গে আমার ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের সঙ্গে খুবই মিল রয়েছে।” হিন্দুরা কীভাবে পক্ষপাতমূলক রাজনীতির শিকার হচ্ছেন, আপোষমূলক রাজনীতির ভুক্তভোগী হচ্ছেন এবং কয়েকটি ইসলামি গোষ্ঠীর টার্গেট হচ্ছেন, তাও তুলে ধরেন এই ব্রিটিশ নাগরিক। হিন্দুদের প্রতি তাঁর আহ্বান, ‘আপনারা নির্জীব না থেকে সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়াই করুন এবং নিজেদের রক্ষা করুন (Tommy Robinson)।’

    রবিনসনের মোদি-স্তুতি

    কেবল হিন্দু নন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ভক্ত রবিনসন। ২০২৪ সালে যখন তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন মোদি, তখন তাঁর জয় উদযাপন করেছিলেন তিনি। ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসাও করেন। একে তাঁর পপুলিস্ট মতাদর্শ ও ব্রিটেনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে রবিনসন কমপক্ষে দু’টি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর সমর্থন প্রকাশ করেন (UK)। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট জয়ী হয়। এর পরে কমিউনিজমের মোকাবিলা করে তৃতীয়বার এনডিএ ক্ষমতায় আসায় তাদের অভিনন্দনও জ্ঞাপন করেন রবিনসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রবিনসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রধান কারণগুলির একটি হল, এই সম্প্রদায় সাধারণত কোনও হিংসা বা ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয় না। এরা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

    মুসলিমদের প্রতি তাঁর মনোভাব

    যদিও রবিনসনের বিরোধীদের বক্তব্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর এই সমর্থন একটি পরিকল্পিত কৌশল। এটি তাঁকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে যে তিনি সম্পূর্ণভাবে অভিবাসনের বিরুদ্ধে নন, যেমনটি বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে তুলে ধরা হয়। বরং তাঁর প্রতিবাদ শুধুমাত্র সেই সব অভিবাসীদের বিরুদ্ধে, যাঁরা ব্রিটিশ পরিচয় ও সংস্কৃতির পক্ষে হুমকি স্বরূপ এবং যাঁরা দেশের সামাজিক বন্ধনকে নষ্ট করে হিংসায় উসকানি দেয় (Tommy Robinson)। রবিনসন তাঁর অ্যাক্টিভিজমকে মুক্ত বাকস্বাধীনতা এবং জাতীয় পরিচয়ের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও তাঁর মতাদর্শের মধ্যে স্পষ্ট, তিনি মুসলিমদের ‘আক্রমণকারী’ এবং ‘অপরাধী’ হিসেবেই চিহ্নিত করেন (UK)।

    ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’

    প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ দক্ষিণপন্থী কর্মী রবিনসন সম্প্রতি খোদ লন্ডনে (ব্রিটেনের রাজধানী) এক বিশাল মিছিলেন নেতৃত্ব দেন। ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’, যা মূলত অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন হিসেবেই পরিচিত। মনে রাখা প্রয়োজন, রবিনসনের হিন্দুদের প্রতি মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ভারতীয় সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয় পরিচয় প্রত্যাখ্যান করেছে (UK)। কারণ এর মধ্যে পাকিস্তানিরাও রয়েছে। এই পাকিস্তানিরাই ব্রিটেনে গ্রুমিং গ্যাং পরিচালনা করেছিল বলে অভিযোগ (Tommy Robinson)।

  • Swaraj Paul Demise: প্রয়াত অনাবাসী ভারতীয় শিল্পপতি লর্ড স্বরাজ পল, শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Swaraj Paul Demise: প্রয়াত অনাবাসী ভারতীয় শিল্পপতি লর্ড স্বরাজ পল, শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি লর্ড স্বরাজ পল (Lord Swaraj Paul) ৷ পরিবার সূত্রে খবর,স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লন্ডনে এই অনাবসী ভারতীয় শিল্পপতির জীবনাবসান হয়েছে ৷ দিন কয়েক আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সেখানেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ শোকবার্তা দিয়েছেন ব্রিটেনের সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর সতীর্থ লর্ড ব়্যামি রেঞ্জারও ৷ স্বরাজ পল ব্রিটিশ শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্যাপারো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

    স্বরাজ পালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখছেন, ‘শ্রী স্বরাজ পলজির মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প এবং জনসেবায় তাঁর অবদান এবং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতি তাঁর অটল সমর্থন সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের বহু আলাপচারিতার কথা আমি আন্তরিকভাবে স্মরণ করি। তাঁর পরিবার এবং ভক্তদের প্রতি সমবেদনা। ওম শান্তি।’ এই অনাবাসী শিল্পপতির মৃত্যুতে শোকের ছায়া শিল্পমহলে।

    স্বরাজ পলের জীবনধারা

    ব্রিটেনে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের বিস্তার হলেও স্বরাজ আদতে পাঞ্জাবের জালন্ধরের বাসিন্দা। ১৯৩১ সালে সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবা পেয়ারে লাল ছিলেন ব্যবসায়ী৷ স্টিলের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির কারখানা ছিল তাঁর৷ জলন্ধরে প্রাথমিক পঠনপাঠনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন লাহোরে৷ সেখানকার ফরমান খ্রিস্টান কলেজে পড়া শেষ করে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে যান আমেরিকা৷ ম্য়াসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ডিগ্রিও পান৷ পড়া শেষে দেশে ফিরে এসে বাবার তৈরি এপিজে গ্রুপে দুই ভাই সত্য পল এবং জিৎ পলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন ৷

    ক্যাপারো গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর শুরু

    ১৯৬৬ সালে তাঁর কন্যা অম্বিকার চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনে যান স্বরাজ। তবে অম্বিকাকে বাঁচানো যায়নি। কন্যার মৃত্যুর পর স্বরাজও আর ভারতে ফেরেননি। সেখানেই শুরু করেন নিজের ব্যবসা। প্রতিষ্ঠা করেন ‘ক্যাপারো গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ’। পরে তৈরি করেন অম্বিকা পল ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা৷ শিশুদের চিকিৎসা-সহ নানা ব্যাপারে সাহায্য করে এই সংস্থা৷ দেশ থেকে এত দূরে থাকলেও ভারতের সঙ্গে কোনওদিন মানসিক দূরত্ব বাড়তে দেননি৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সুস্পর্কের কথা সর্বজবিদিত৷ ইংল্যান্ড গেলে ভারতের বহু বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন ৷

    সমাজসেবায় যুক্ত

    পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সংস্থা ক্যাপারোর ৪০টি দফতর আছে ৷ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের দফতর তৈরি করেছিলেন এই প্রয়াত শিল্পপতি ৷ এখন ক্যাপরো ইন্ডিয়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁর ছেলে আকাশ পল ৷ শুধু শিল্পপতি হিসেবে নয়, ‘হাউস অফ লর্ডস’-এর সক্রিয় সদস্য হিসাবেও পরিচিত ছিলেন স্বরাজ। বাণিজ্য, শিক্ষা বা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে তাঁর কাজ সমাদৃত। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে তাঁর জনহিতকর কাজ বহুল আলোচিত। এক সময় লন্ডন চিড়িয়াখানা বন্ধের কথা ওঠে, সেই সময় অনেকের মতো তা বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বরাজ। লন্ডনে ব্যবসা করলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি কখনই। ভারত এবং ব্রিটেন মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির জন্য স্বরাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

  • PM Modi: ব্রিটেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর মোদি সরকারের, ভারতের কী সুবিধা?

    PM Modi: ব্রিটেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর মোদি সরকারের, ভারতের কী সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাক্ষরিত হল ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি। চুক্তি স্বাক্ষরের ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল এ বার তা বাস্তবায়িত হল লন্ডনে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন চুক্তি স্বাক্ষরের কথা। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ৬ মে দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যচুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক হয়েছিল। এবার মোদির সফরের সময়েই তা বাস্তব রূপ পেল। চুক্তি স্বাক্ষরের পর, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ‘ইউকে-ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩৫’ নামে একটি নতুন কৌশলগত রূপরেখা প্রকাশ করেন, যা আগামী দিনে ভারত-ব্রিটেন অংশীদারিত্বের দিকনির্দেশ ও লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ভারত এবং ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন

    ভারতের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ব্রিটেনের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ভারত ও ব্রিটেনের ‘যৌথ উন্নয়নের নীলনকশা’ হিসেবে অভিহিত করেন। চুক্তির আওতায়, প্রায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    চুক্তির ফলে কী লাভ হবে

    এই চুক্তির ফলে কী লাভ হবে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) জানিয়েছেন, ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, মূল্যবান রত্ন, গহনা, সামুদ্রিক খাবার এবং প্রযুক্তিগত পণ্য আরও বেশি করে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ভারতের কৃষিজাত পণ্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য ব্রিটেনের বাজার আরও প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন তিনি। এই চুক্তির ফলে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র-কুটির ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িতেরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন বলেও মত প্রধানমন্ত্রীর।

    ব্রিটেনে কাজের সুযোগ বাড়বে

    চুক্তি অনুযায়ী, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো মসলা জাতীয় কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডাল ইত্যাদি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে উপকৃত হবেন ভারতের মৎস্যজীবীরাও—চিংড়ি, টুনা-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য এখন ব্রিটেনে শুল্কছাড়াই রফতানি করা যাবে। চুক্তির আওতায় শুধু ভারত নয়, ব্রিটেনেরও কিছু পণ্য ভারতীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য ও পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। আইটি, আইন, শিক্ষা, ব্যাংকিং ইত্যাদি পেশাজীবীরা সহজেই ব্রিটেনে কাজের সুযোগ পাবেন এই চুক্তির মাধ্যমে।

    কী বললেন মোদি (PM Modi)?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর, আজ আমাদের দুই দেশ একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’’

    কী বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    এই ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ভারতের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ব্রিটেনে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।”

    ভারতীয় পণ্যের উপর গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নামবে

    ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নামবে। এর ফলে ব্রিটিশ সংস্থাগুলির জন্য সফট ড্রিংকস, প্রসাধনী, গাড়ি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো পণ্য ভারতে রফতানি করা আরও সহজ হয়ে উঠবে। বিশেষভাবে লাভবান হবেন হুইস্কি নির্মাতারা। আগে যে হুইস্কির ওপর ভারতীয় শুল্ক ছিল ১৫০ শতাংশ, তা প্রথম ধাপে কমে ৭৫ শতাংশে নামবে, এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে আরও হ্রাস পেয়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে। এর ফলে ব্রিটেনের জন্য ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আর কী কী সুবিধা?

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় যোগ প্রশিক্ষক, রাঁধুনি, সঙ্গীতজ্ঞসহ অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক পরিষেবা প্রদানকারীরা ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংস্থাগুলিকে ভারতে ২০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অসংবেদনশীল ফেডারেল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডারে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে। ব্রিটেনের হিসেব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৪.০৯ লক্ষ কোটি টাকার ৪০ হাজারেরও বেশি সরকারি দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য।

  • PM Modi: বহু প্রতীক্ষিত এফটিএ সই হবে আজ, লন্ডনে প্রবাসীদের অভ্যর্থনায় মুগ্ধ মোদি

    PM Modi: বহু প্রতীক্ষিত এফটিএ সই হবে আজ, লন্ডনে প্রবাসীদের অভ্যর্থনায় মুগ্ধ মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের ব্রিটেন সফরে গিয়েছেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার তাঁর সফর শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের লক্ষ্য হল প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা (India UK Trade Deal)। তাঁর এই সফরের একটি বড় ফল হতে পারে ঐতিহাসিক ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর।

    কিয়ার স্টার্মারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়া। স্টার্মার ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চেকার্স-এ। এটি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারিভাবে নির্ধারিত গ্রামীণ বাসভবন। এর অবস্থান লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে ৫০ কিলোমিটার দূরে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের সঙ্গে সম্ভবত বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

    এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে কার লাভ, ক্ষতিই বা কার

    গত মে মাসে ভারত ও ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন করে। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে ভারতীয় রফতানির ৯৯ শতাংশই শুল্কমুক্ত হবে। স্বাভাবিকভাবেই লাভবান হবেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এই চুক্তির ফলে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলির জন্য হুইস্কি, গাড়ি এবং অন্যান্য পণ্য ভারতে রফতানি করাও আরও সহজ হবে। ফলে উপকৃত হবে দুই দেশই। এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে বাড়বে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণও। প্রসঙ্গত, এফটিএ নিয়ে গত তিন বছর ধরে আলোচনা চলছে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে। শেষমেশ (PM Modi) চূড়ান্ত হয় চুক্তিটি। সেই চুক্তিটিতেই এবার শিলমোহর পড়তে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ব্রিটেন সফরে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রায় ১০০ শতাংশ বাণিজ্য মূল্যের আওতায় পড়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে (India UK Trade Deal)।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।” তিনি বলেন, “আমাদের সহযোগিতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, গবেষণা, স্থায়িত্ব, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক-সহ নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত।” প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ সালে ভারত-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছাড়িয়ে গিয়েছে ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডী। ব্রিটেন ভারতে ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ, যার মোট লগ্নির পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি অভিভূত

    এদিকে, ব্রিটেনে ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্রিটেনে প্রায় ১,০০০ ভারতীয় কোম্পানি ১ লাখের কাছাকাছি মানুষের কর্মসংস্থান করেছে (PM Modi)। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের তরফে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। ভারতের উন্নয়নের প্রতি তাঁদের উৎসাহ ও নিষ্ঠাকে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী বলেও বর্ণনা করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ব্রিটেনের ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি অভিভূত। ভারতের অগ্রগতির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও নিষ্ঠা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায় (India UK Trade Deal)।”

    চার দিনে দুই দেশ সফরে মোদি

    প্রসঙ্গত, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। এই সময় চার দিনের বিদেশ সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্যে তিনি দু’দিন থাকবেন ব্রিটেনে, আর বাকি দু’দিন থাকবেন দ্বীপরাষ্ট্র মলদ্বীপে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই তিনি গিয়েছেন রাজার দেশে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন সাক্ষাৎ করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও। লন্ডন সফর শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যাবেন মলদ্বীপে। সেখানেও তিনি যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর আমন্ত্রণে। ২৬ জুলাই মলদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মলদ্বীপে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে, বিশেষ করে মুইজ্জুর জমানায় ভারত-মলদ্বীপ সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে (PM Modi)।

    জানা গিয়েছে, এদিন (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ভারতীয় (India UK Trade Deal) সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ। বৈঠক চলবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। সন্ধে সাড়ে ৬টায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। রাত্রি ৯টায় প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে (PM Modi)।

LinkedIn
Share