Tag: Lord Buddha

  • Buddha Purnima 2026: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বুদ্ধ পূর্ণিমা, জানুন এই দিনের মাহাত্ম্য

    Buddha Purnima 2026: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বুদ্ধ পূর্ণিমা, জানুন এই দিনের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, শুক্রবার, ১ মে দেশজুড়ে মহাধুমধাম করে পালিত হচ্ছে বুদ্ধ পূর্ণিমা। বুদ্ধ পূর্ণিমা (Buddha Purnima 2026) বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রতম উৎসব। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই পবিত্র দিনেই গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই দিনেই বোধিবৃক্ষের নীচে তিনি জ্ঞান লাভ করেছিলেন, যাকে বলা হয় বুদ্ধত্ব প্রাপ্তি। হিন্দু ধর্মের মতে, গৌতম বুদ্ধ (Buddha Jayanti) হলেন শ্রী বিষ্ণুর নবম অবতার।

    নবম অবতার গৌতম বুদ্ধ

    এই বিশেষ তিথিতে গৌতম বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়ে। এই দিনে ভারতে সরকারিভাবে ছুটি থাকে। সারাদেশ জুড়ে উৎসব পালিত হয় বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, তাইল্যান্ড, মায়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় উৎসব পালিত হয়। এই দিন (Buddha Purnima 2026) গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা ও বাণী স্মরণ করেন বৌদ্ধরা। বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলিতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। ভগবান বুদ্ধকে পূজা করা ছাড়াও অধিকাংশ বৌদ্ধ ভিক্ষুক ধ্যানে লিপ্ত থাকেন। পঞ্চাঙ্গ (বা পাঁজি) অনুসারে, কবে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয় এবং এই দিনের শুভ সময়, তাৎপর্য ও পুজোর নিয়ম জানেন না অনেকেই। অবশ্য অনেক হিন্দু ও বাঙালির বাড়িতে লক্ষ্মী নারায়ণ পুজোর আয়োজন হয়ে থাকে।

    কীভাবে দিনটি পালন করা হয়

    বুদ্ধ পূর্ণিমার (Buddha Purnima 2026) দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সব জায়গা পরিষ্কার করে সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে হবে। এরপর স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরতে পারেন। এদিন গঙ্গা স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এরপর একটি মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির সর্বত্র ঘুরিয়ে আনতে পারেন। বাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে হলুদ, লাল সিঁদুর বা রঙ ব্যবহার করে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকতে পারেন। বোধি গাছের কাছে দুধ ঢেলে বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষাকে স্মরণ করতে পারেন। দানকর্মেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এদিন। বস্ত্র ও খাদ্য বিলি করলে পূণ্যলাভ করতে পারেন আপনি।

    বুদ্ধ পূর্ণিমার ইতিহাস

    ভগবান বুদ্ধ (Lord Buddha) বা গৌতম বুদ্ধ নেপালের লুম্বিনী-তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম রাজা শুদ্ধোধন এবং মাতা ছিলেন মায়াদেবী। জন্মের পর তাঁর নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম। তাঁর জন্মের পরে একজন সাধু তাঁকে দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, এই শিশু পরবর্তীকালে একজন রাজচক্রবর্তী অথবা একজন সিদ্ধ সাধক হবেন। রাজকুমার নিজেকে পার্থিব বাসনা এবং বস্তুবাদী বন্ধন থেকে দূরে রাখবেন।

    কথিত আছে, উনত্রিশ বছর বয়সে রাজকুমার সিদ্ধার্থ প্রাসাদ থেকে কয়েকবার ভ্রমণে বেরোলে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, একজন অসুস্থ মানুষ, একজন মৃত মানুষ ও একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। এই দৃশ্যগুলি দেখে সিদ্ধার্থ তাঁর রাজজীবন ত্যাগ করে একজন সন্ন্যাসীর জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধার্থ এক রাত্রে তাঁর পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে রাজ প্রাসাদ ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটেন এবং শীঘ্রই তিনি বিহারের বুদ্ধগয়াতে বোধি গাছের নীচে সত্য জ্ঞান অর্জন করেন।

    বুদ্ধ পূর্ণিমা কী?

    দুনিয়াজুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং হিন্দুরা গৌতম বুদ্ধের জন্ম বুদ্ধ জয়ন্তী (Buddha Purnima 2026) হিসাবে উদযাপন করে। ৫৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নেপালের লুম্বিনিতে পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধের রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতম হিসাবে জন্ম হয়েছিল। সুতরাং, তাঁর জন্মবার্ষিকীর দিনটি বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বুদ্ধ জয়ন্তী বা ভেসাক নামেও পরিচিত। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, জাভা, ইন্দোনেশিয়া, তিব্বত, মঙ্গোলিয়ায় উৎসবের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ জয়ন্তীর (Buddha Jayanti) বিশেষ দিনটিকে ‘ভেসাক’ উৎসব হিসাবে পালন করা হয়।

    বুদ্ধ পূর্ণিমার গুরুত্ব

    বৈশাখী পূর্ণিমার (Buddha Purnima 2026) তিথিতে সূর্যোদয়ের পর স্নান করে শ্রী শ্রী বিষ্ণুর পুজো করা হয়। এদিন ধর্মরাজের পুজো করারও রীতি বেশ প্রচলিত আছে। সত্যবিনায়ক ব্রত করলে ধর্মরাজ প্রসন্ন হন। ধর্মরাজ যম হল মৃত্যুর দেবতা। তাই যমকে প্রসন্ন করলে অকাল মৃত্যুর যে ভয়, তার থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। সাধারণত পূর্ণিমার দিনে তিল ও চিনির দান শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে অজান্তে হওয়া পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

  • India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক আন্তর্জাতিক নিলাম, ২,৫০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক-আইনি নাটক—সব মিলিয়ে বাস্তবের এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। শেষ পর্যন্ত হংকং থেকে উদ্ধার হলো বুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অমূল্য ধাতুরত্ন (India Back Buddha’s Jewel)। ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সাফল্য।

    শুরুটা যেভাবে

    ঘটনার সূত্রপাত একটি ‘রুটিন অ্যালার্ট’ দিয়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা বদলে যায় আন্তর্জাতিক স্তরের এক টানটান অভিযানে। জানা যায়, লন্ডনে থাকা পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন নিলামে (India Back Buddha’s Jewel) তুলতে চলেছে আন্তর্জাতিক নিলাম সংস্থা সোদেবি’স (Sotheby’s), হংকংয়ে (Hong Kong)। বেস প্রাইস— প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তুর স্তূপে এই রত্নগুলি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে। ১২৭ বছর পরে তাঁরই বংশধর সেই রত্ন নিলামে তোলার উদ্যোগ নেন।

    যেভাবে গয়না ফেরাল ভারত

    পিপরাওয়া উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাছে অবস্থিত। বৌদ্ধ ইতিহাসে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রত্নগুলি শুধু গয়না নয়, বুদ্ধের অস্থিধাতু, রেলিক, রিলিকোয়ারি ও খোদাই করা পাথরের সঙ্গে যুক্ত এক অনন্য ঐতিহ্য। প্রথমবার ১২৭ বছর পরে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া এই রত্নগুলির একাংশ ভারতে থাকা বুদ্ধ-রেলিকের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। কিন্তু নিলামের ঘণ্টা বাজলে এই সভ্যতার স্মারক চিরতরে ছড়িয়ে পড়ত ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে। আরও ভয় ছিল— চিনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। সেখানেই হস্তক্ষেপ করে ভারত। শেষ ৭২ ঘণ্টায় ভারত সরকার কূটনৈতিক চাপ, আইনি নোটিস ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আইন ব্যবহার করে নিলাম স্থগিত করতে সক্ষম হয়।

    আইনের চেয়েও দর্শন বড় অস্ত্র

    এই অভিযানের বিশেষত্ব এখানেই—ভারত কেবল মালিকানার আইনি দাবি করেনি। বরং যুক্তি দিয়েছে, এই রত্নগুলি নিছক বস্তু নয়, বরং বৌদ্ধ দর্শন, করুণা, অহিংসা ও জ্ঞানচর্চার জীবন্ত প্রতীক। ভারতের এই নৈতিক ও দার্শনিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘বাণিজ্য নয়, বিবেক’—এই যুক্তিতেই কার্যত নিলাম স্থগিত হয়।

    ঐতিহাসিক প্রথম: সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রত্যাবর্তন

    সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল, যিনি এই অভিযানের অন্যতম কারিগর, স্পষ্ট বলেন, “এই প্রথমবার ভারতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনও রত্ন প্রত্যাবর্তন হল।” তাঁর অভিজ্ঞতা, বিশেষত অর্থ মন্ত্রকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে কাজ করার সুবাদে নিলাম জগতের ফাঁকফোকর বুঝতে বড় ভূমিকা নেয়। শেষ ৭২ ঘণ্টায় আইনি নোটিস, কূটনৈতিক চাপ ও তথ্যপ্রমাণের দৌড়ে থামে নিলাম।

    দানশীলতার দৃষ্টান্ত: পিরোজশা গোদরেজ

    এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এগিয়ে আসেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তি পিরোজশা গোদরেজ। তিনি অঘোষিত মূল্যে রত্নগুলি কিনে নেন এবং ভারত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে প্রদান করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই রত্নগুলি চিরকাল ভারতেই থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে কেন এই রত্ন অমূল্য

    ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ডেপুটি কিউরেটর অবিরা ভট্টাচার্য বলেন, “এই রত্নগুলি ভারতের সভ্যতার স্মৃতি বহন করে—যা সীমান্ত বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।” ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেরিটেজের অধ্যাপক সবিতা কুমারী জানান, “২৫০০ বছরের প্রাচীন এই রত্নগুলি বৌদ্ধ জগতের প্রাচীনতম ধর্মীয় নিদর্শনের অন্যতম।”

    ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত

    এই ঘটনা প্রমাণ করল— সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, দ্রুত গোয়েন্দা ও আইনি পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক যুক্তির ব্যবহার এই তিনের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব।সংস্কৃতি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু ধাতুরত্ন ফেরত আনার ঘটনা নয়—এটি ভারতের স্মৃতি, দর্শন, আত্মমর্যাদা ও সভ্যতাগত দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মুহূর্ত।

LinkedIn
Share