Tag: LPG Cylinder Delivery

  • LPG Crisis: অযথা আতঙ্ক নয়! গ্যাস বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যে সিলিন্ডার মিলবে, আশ্বাস কেন্দ্রের

    LPG Crisis: অযথা আতঙ্ক নয়! গ্যাস বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যে সিলিন্ডার মিলবে, আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে,  গ্যাস সিলিন্ডার (LPG Crisis) নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজন ছাড়া শুধুমাত্র ভয়ে-ভয়ে আগেভাগে বুকিং করারও দরকার নেই। সরকারের মতে, বর্তমানে দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং করার প্রায় ২.৫ অর্থাৎ আড়াই দিনের মধ্যেই ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

    কোনও আতঙ্কের কারণ নেই

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গৃহস্থালির জন্য ১০০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে, রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের দু’-আড়াই দিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, সঙ্কট আঁচ করে বাড়তি গ্যাস যাতে কেউ বুক করে না-রাখেন, তা নিশ্চিত করতে দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যেকার ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। খনিজ তেলের সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে। ভারতে ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ঘরোয়া নয়, এমন এলপিজি (নন-ডোমেস্টিক)-র ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং অন্য জরুরি পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    কেন ২৫ দিনের আগে গ্যাস বুক নয়

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ভয় পেয়ে অনেকে আগেভাগে গ্যাস বুক করে রাখছেন। এই ‘প্যানিক বুকিং’ মূলত ভুল তথ্যের কারণে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুজাতা। এই অহেতুক বুকিং যাতে বন্ধ করা যায় তাই দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যেকার ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বুকিং করলে সাপ্লাই সিস্টেমের উপর চাপ বাড়তে পারে এবং কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত। তবে, গ্যাসের অপচয় বন্ধ করার আর্জিও জানিয়ে সুজাতা বলেছেন, ‘‘সম্ভব হলে গ্যাস সংরক্ষণ করুন।’’ ৭ মার্চ থেকে কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা। হোটেল-রেস্তরাঁয় রান্নার ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১১৪.৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯৯০ টাকা।

    অন্য পথে আসছে খনিজ তেল

    খনিজ তেল, স্বাভাবিক গ্যাসের জোগানের উপর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কী প্রভাব পড়েছে, দেশের জোগান কতটা, তার হিসেব দিয়েছে কেন্দ্র। সুজাতা বলেছেন, ‘‘খনিজ তেলের জোগান আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশে তেলের দৈনন্দিন খরচ প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল। অন্তত ৪০টি দেশ থেকে খনিজ তেল আমদানি করি আমরা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে তেল আসে, তা ব্যাহত হয়েছে। তবে ৭০ শতাংশ জোগানই আসছে অন্য রাস্তা দিয়ে। আর কিছু দিনের মধ্যে তেলবোঝাই আরও দু’টি জাহাজ আসছে। ফলে জোগান বাড়বে।’’ স্বাভাবিক গ্যাসের ক্ষেত্রে ভারতের মোট খরচ দৈনন্দিন ১৮.৯ কোটি মেট্রিক আদর্শ ঘনমিটার (এমএসসিএমডি)। তার মধ্যে ৯.৭৫ কোটি এমএসসিএমডি গ্যাস ঘরোয়া ভাবে উৎপাদন করা হয়। বাকিটা আমদানি করা হয়। সরকার জানিয়েছে, ৪.৭৪ কোটি এমএসসিএমডি-র জোগান পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিকল্প রুটে জোগান বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।

    দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা

    বর্তমানে ভারতের এলপিজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আসে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সঙ্কট মোকাবিলায় দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গৃহস্থালি গ্রাহকের মতো অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে রেস্তোরাঁ ও হোটেল শিল্পের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দেবে। বর্তমানে দিল্লিতে একটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯১৩ টাকা, যা সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে আরও বেশি হতে পারত বলে জানানো হয়েছে।

    গ্যাসের জোগান চক্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি

    সুজাতা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, সেই অনুপাতে দেশে বাড়েনি। তা ছাড়া অনেক পড়শি দেশের চেয়েও ভারতে এলপিজি-র দাম কম। সুজাতা বলেন, ‘‘গ্যাসের জোগানের চক্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বুকিং করলে আড়াই দিনের মধ্যেই গ্যাস পাওয়া যাবে। আগে থেকে সিলিন্ডার বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই। এটা একটা সঙ্কটময় পরিস্থিতি। কিন্তু ভারতে জোগান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। নাগরিকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভয় পেয়ে বুকিং করবেন না। যেখানে সম্ভব গ্যাস সংরক্ষণ করুন।’’

    আসছে আরও দু’টি এলপিজি পরিপূর্ণ কারগো

    চিন্তার কোনও কারণ নেই, স্বাভাবিক থাকবে এলপিজি সরবরাহ। দেশের দিকে আসছে আরও দু’টি এলপিজি পরিপূর্ণ কারগো। এক কথায় তৃণমূল স্তরে তৈরি হওয়া জ্বালানি-উদ্বেগকে কাটাতে তৎপর হয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, ইতিমধ্য়ে প্রতিটি রাজ্যকে সেই গ্যাস ও জ্বালানির কালোবাজারি রুখতে পদক্ষেপ করতে বলেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। গোটা বিশ্বের ৫৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নির্ভর করে থাকে হরমুজ প্রণালির উপর। ভারতে আসা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে এই পথেই। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব জানিয়েছেন, “এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে বিরাট বিপদ এগিয়ে এসেছে এমনটা নয়। ভারতের দৈনিক ৫৫ লক্ষ ব্যারল অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন। আমরা হরমুজের পরিবর্তে থাকা বিকল্প পথগুলি ব্যবহার করে যথেষ্ট তেল মজুত করেছি।”

LinkedIn
Share