Tag: Madhya Pradesh

Madhya Pradesh

  • Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ আবারও ‘লাভ জেহাদ’ (Love Jihad) বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে এসেছে ছদ্মবেশ ধারণ, মিথ্যা পরিচয় ও বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের মতো একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে এমনই কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

    ইন্দোরে ‘ভুয়ো’ বজরং দল নেতা গ্রেফতার

    ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ফারহানকে। অভিযোগ, নিজেকে ‘বজরং দল’-এর স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে (Fake Identity) এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে ফারহান। ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ‘গোলু সোলাঙ্কি’ নাম নেয়। কিন্তু যখন ফারহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন সে মেয়েটিকে জোর করে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ফারহানের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মধ্যপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল রেলকর্মীর

    ২০২৬ সালের ৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে এক বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ওঠে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে, ওই রেলকর্মী ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত প্রথমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। মহিলার বিয়ের পরেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তেহরিতে নাবালিকাকে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার জিউদানা গ্রামে এক নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগে মহম্মদ জাসিম আনসারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তিনি সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে (Fake Identity) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের কাছে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন এক দম্পতি এবং এক স্থানীয় মৌলবী তাঁকে বাড়িতে ডেকে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করেন। অভিযোগ, তাঁকে কয়েক দিন ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয় এবং জোর করে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) সতপাল আন্তিলের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসপি মাজহোলা থানাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    সাহারানপুরে সুফিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সুফিয়ান খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মান্ডি থানার পুলিশ। এক হিন্দু নাবালিকাকে ক্রমাগত উত্যক্ত করা ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করছিল এই সুফিয়ান। অভিযোগ, সুফিয়ান সব সময় ওই নাবালিকার পিছু নিত। তার পরিবার প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তদন্তে নেমে পুলিশ মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ বেআইনি ধর্মান্তরকরণ আইনের পাশাপাশি নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

    সেনা জওয়ান সেজে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিহারের মুজফ্ফরপুরে মহম্মদ আরমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বছর একুশের এক হিন্দু তরুণী। অভিযোগ, আরমান নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, আরমান সেনাবাহিনীতে কর্মরত নন, তিনি একটি টায়ার মেরামতির দোকানে কাজ করেন এবং তিনি বিবাহিত। অভিযোগ এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আরমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে মারধর করেন, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    হারদোইতে নাবালিকাকে প্রলোভন ও অপহরণ

    ২০২৬ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠে ফিরোজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফিরোজ নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে তেনদুয়া গ্রামের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। নাবালিকা পরে পুরো ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাবালিকাদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মৌলানা হাফিজুর রহমান আনসারি এবং তাঁর ছেলে জুবায়ের আনসারির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তর পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও বিভ্রান্ত করে স্থানীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০২১-এর অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

    ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহারের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহার করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগ, সাজিদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। মহিলা থানার পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে তদন্ত চালায়। পরে গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভেদ গ্রাম থেকে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    নাবালিকা কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে ধরা পড়ার অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খানপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের ঘরে আলম নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে দেখতে পেয়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মী পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম মানেনি। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে, নাবালিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আলম ও হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

    কাতারে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মান্তরকরণের গভীর ষড়যন্ত্র

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় ১৩ বছর বয়সি এক হিন্দু নাবালিকাকে পাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকার বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, নাবালিকাটি একটি স্থানীয় নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেত। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে তাঁকে কাতারের দোহায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলায় বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন-সহ মোট ১১টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। ৩ জুলাই পরিচালিত এক অভিযানে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা গত প্রায় ছয় মাস ধরে সক্রিয় ছিল। গুজরাটে জইশ-ই-মহম্মদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল তারা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সময়মতো অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।

    এটিএস-এর হাতে ধৃতদের পরিচয়

    এটিএস সূত্রে জানা গেছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলা থেকে তিনজন, পাটন জেলা থেকে তিনজন, নওসারি জেলা থেকে একজন এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হল— আহমেদ আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু উবাইদা (১৯), ইব্রাহিম মহম্মদ হুসেন ঘাঘা ওরফে আবু হামজা (৩০), মুদাস্সির আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু আয়া (২২), জাকারিয়া দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে ইবনে আম্মার ওরফে জাকারিয়া পালানপুরি (২১), মুফতি ফওজান ইসমাইল দাউয়া ওরফে মুফতি সাহেব (৪০), মহম্মদ আমিন শেরা ওরফে আমিন পালানপুরি (২১), মহম্মদ আবদুল রহমান সাভদি ওরফে মহম্মদ পালানপুরি ওরফে আবু ইউনাইসা (২২) এবং বিলাল দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে আবু দুজানা, আবু সুফিয়ান, আবু জুন্দাল, উমর বিন খাত্তাব (১৮)।

    সক্রিয় জঙ্গি মডিউল ভেস্তে গেল

    প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, অভিযুক্তরা গুজরাট-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সময়মতো পদক্ষেপ করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর ১৩ (বেআইনি কার্যকলাপ), ১৭ (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহ), ১৮ (ষড়যন্ত্র), ৩৮ (সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৪৮ এবং ৬১ ধারায়ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ATS-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ৬১ ধারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এবং ১৪৮ ধারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুজরাটের বিখ্যাত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম জেলার হাটনারা গ্রামে মহররমের (Muharram Tazia Accident) মিছিলের সময় একটি তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বড় বিপত্তি ঘটল। সূত্রের খবর, মহরমের মিছিলটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাজিয়ার একেবারে উপরের অংশ হাই-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে আসায় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ-এর সংস্পর্শে আসতেই ইলেকট্রিক শক লাগে তাজিয়া বহনকারী মানুষদের। জ্বলে ওঠে তাজিয়াটি। প্রায় ১২ জন আগুনে ঝলসে যান। আহতদের সবাইকে দ্রুত রতলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি নয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত ৩ জনের নাম হল রশিদ খান, সাদ্দু হুসেন ও আরবাজ খান।

    দুর্ঘটনার কবলে মহরমের তাজিয়া

    শুক্রবার পালিত হয়েছে মহরম। ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসই হল মহরম। দেশ জুড়ে বহু রাজ্যে পালিত হয়েছে দিনটি। তারই মধ্যে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে হাটনারা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহররমের মিছিলটি প্রতি বছর একই পথ দিয়ে যায় এবং মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের (এমপিইবি) কর্মীরা মিছিলের সঙ্গে থাকেন। যাতে তাজিয়াটি ওভারহেড লাইনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাদের দাবি, এ বছরও লাইনম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, যার ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বিষয়টি তদন্তাধীন

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ১১ কেভি হাই-ভোল্টেজ লাইনটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিচু দিয়ে গেছে, যার ফলে এর নিচ দিয়ে বাস ও ট্রাকেরও চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তাঁরা বিদ্যুৎ লাইনটি স্থানান্তর অথবা এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার লাল বলেছেন, আহতদের রতলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিবেক কুমার আরও জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা (Bhojshala)-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরকে ‘মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর, শুক্রবার ভোজশালা চত্বরে ‘মহা আরতি’র (Maha Aarti) জন্য সমবেত হলেন শত শত হিন্দু পুণ্যার্থী। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে নিজেদের ঘরেই শুক্রবারের জুম্মার নমাজ আদায় করলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

    হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার পুজো করতো (Bhojshala)

    গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানায়, বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরটি আসলে  বাগদেবী সরস্বতীর একটি মন্দির। একই সঙ্গে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)-এর পুরনো একটি নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়, যার মাধ্যমে এতদিন মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার ওই চত্বরে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    হাইকোর্টের এই রায়ের আগে পর্যন্ত, বিগত বহু বছর ধরে হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার সেখানে পুজো (Maha Aarti) করার অনুমতি পেতেন এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার নমাজ আদায় করতেন। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাবর সম্পত্তির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিল।

    দুই দশকের মধ্যে প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ

    আদালতের রায়ের পর এটিই ছিল প্রথম শুক্রবার বা জুম্মার দিন। হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই দিনটিকে গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম বড় আকারের শুক্রবারের ধর্মাচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ‘ভোজ উৎসব সমিতি’ এবং ‘ভোজশালা (Bhojshala)  মুক্তি যজ্ঞ সমিতি’র উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চত্বরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন এবং ‘মহা আরতি’র আয়োজন করা হয়।

    ভোজশালা মুক্তি যজ্ঞ সমিতির আহ্বায়ক গোপাল শর্মা বলেন, “ধার এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদিন ধরে সমস্ত ধর্মীয় আচার ও পুজোয় (Maha Aarti) অংশ নিয়েছেন। গর্ভগৃহসহ চত্বরের বিভিন্ন অংশ ফুল ও আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল এবং দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।”

    মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ

    এদিকে, আদালতের এই ধাক্কার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন কামাল মৌলা মসজিদ অংশে যাননি। তার বদলে তাঁরা নিজেদের বাড়ির উঠোন ও ব্যক্তিগত চত্বরে কালো ব্যাজ পরে জুম্মার নমাজ পড়েন।

    স্থানীয় মুসলিম নেতা আব্দুল সামাদ বলেন, “আমরা হাইকোর্টের রায়কে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই কালো ব্যাজ পরে ঘরে নমাজ পড়ে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নথিভুক্ত করেছি।”

    তিনি আরও  জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভোজশালার (Bhojshala) আশেপাশে কিছু কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। তবে শহরের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু কর্মসূচি ও অনুমতি প্রশাসন বাতিল করায় তিনি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ধার

    পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে গোটা ধার জেলা (Bhojshala) জুড়ে প্রায় ২,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, গাড়ি তল্লাশি এবং মোবাইল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

    ধারের পুলিশ সুপার (SP) শচীন শর্মা বলেছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে এবং জেলার কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

  • Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে জোরাজুরি করছিল। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের সেন্ট অ্যালয়সিয়াস স্কুলের কয়েকজন হিন্দু মহিলা কর্মীর অভিযোগ (Conversion Row), ধর্ম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে (Madhya Pradesh)। জবলপুরের ওই ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনার। পুলিশের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে একটি হিন্দু সংগঠন। সদ্য চাকরি খোয়ানো হিন্দু মহিলারা স্থানীয় থানায় স্কুলের ফাদার সোমি জ্যাকব এবং কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, দু’দিন আগে তাঁদের একটি চার্চের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য জোরাজুরি করা হয়। রাজি না হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাঁদের।

    ধর্মান্তরিত হতে জোরাজুরি (Conversion Row)

    অভিযোগকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চাকরি রাখতে হলে তাঁদের ধর্মান্তরিত হতে হবে। নিয়মিত অংশ নিতে হবে চার্চের প্রার্থনায়। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দীপা পটেলও। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই স্কুলে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে অপমান করা হয়, মারধর করা হয়, এবং পরে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। দীপা বলেন, “আমি ঘটনাটি ফাদারকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও সাহায্য পাইনি।” তিনি জানান, তিনি বিধবা। তাঁর ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। আচমকা চাকরি চলে যাওয়ায় তিনি এখন ভয়ঙ্কর আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পথে নামেন হিন্দু ধর্ম সেনার সদস্যরা। পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা (Conversion Row)।

    টার্গেট মহিলারা 

    সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, মিশনারি স্কুলগুলি দরিদ্র ও কর্মজীবী মহিলাদের আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁদের টার্গেট করছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক ও মহিলা কর্মীকে নিজেদের ধর্ম ছেড়ে হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, নয়তো চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে। হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নীরজ রাজপুত। তিনি বলেন, “পাঁচ-ছ’জন হিন্দু মহিলা কর্মীর ওপর চার্চে যাওয়া এবং খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ বহু বছর ধরে স্কুলে কাজ করলেও, তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও ধর্ম বদলাতে না চেয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, বড় ধরনের আন্দোলন করা হবে।”

    পুলিশের বক্তব্য

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সূর্যকান্ত শর্মা জানান, দীপা পটেল, অমন আগরওয়াল এবং স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। অস্বীকার করায় চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (Madhya Pradesh)। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Conversion Row)।

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত, দেখে নেওয়া যাক এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত, দেখে নেওয়া যাক এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্ধ হয়নি হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। দেশ তো বটেই, বিদেশেও ঘনঘন ঘটছে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে একপ্রকার গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্বের একটা বড় অংশ এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তার উপেক্ষা করেছে, যা উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতের ফল বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। হত্যা, ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসব-অনুষ্ঠানে বাধা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—এসবের মাধ্যমে হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে বলেই অভিযোগ। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ১৯ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত এমন কিছু ঘটনার ছবি। বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হোন, তা-ই এই সাপ্তাহিক প্রতিবেদন।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। “হাউ আয়াপ্পান ওয়েন্ট ফ্রম এ লোকাল ফরেস্ট ডেইটি টু কেরালাজ মোস্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল গড” শীর্ষক লেখাটি লিখেছেন অনিরুদ্ধ কানিসেট্টি (Hindus Under Attack)। লেখাটির শিরোনামটি ভগবান আয়াপ্পাকে নিয়ে, যিনি লাখ লাখ ভক্তের কাছে ব্রহ্মচারী যোদ্ধা দেবতা ধর্মশাস্তা, হরিহরসূত (বিষ্ণু ও শিবের পুত্র), এবং ধর্ম ও তপস্যার প্রতীক, তাঁকেই ‘বিতর্কিত’ রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে সমালোচনা করা হয়েছে (Roundup Week)। মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে “চেঙ্গাই- ফেথ হিলিং” সমাবেশের পর গ্রেফতার করা হয়েছে দুই পাদ্রীকে। তারা ‘লাইট অফ জেসাস চার্চে’র সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। পুলিশ বৃহত্তর ধর্মান্তর এই নেটওয়ার্কের তদন্ত করছে। হুব্বলির এক তরুণীর অভিযোগ, মুফিস মিয়ানাভার নামে এক ব্যক্তি সম্পর্ক গড়ার অছিলায় তাঁকে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল ও দীর্ঘদিন ধরে শোষণ করে আসছে। কেশ্বাপুর থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের টন টন সোনা

    এদিকে, ক্যাথলিক পুরোহিত ফাদার পল থেলাক্কাট প্রশ্ন তোলেন, কেন মন্দিরের টন টন সোনা জনসেবায় ব্যবহার করা হয় না। বিদেশি অনুদানের ওপর নজরদারি নিয়ে খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফের খবরের শিরোনামে নাসিকের টিসিএস। এক মহিলা কর্মীর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে তাঁকে আলাদা করা, চাপ দেওয়া এবং মানসিকভাবে বারংবার হয়রান করা হয়েছে।ভোপালের এক মামলায় অভিযোগ উঠেছে, তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিন্দু কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন, ধর্মান্তর ও বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল (Hindus Under Attack)।

    লাভ জেহাদ!

    ইন্দোরে বছর উনিশের এক কলেজছাত্রীর অভিযোগ, এক মুসলিম ব্যক্তি হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁকে প্রতারণা করে, মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করে। শুধু তা-ই নয়, ওই ব্যক্তি আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিয়ের জন্য চাপ দেয় (Roundup Week)। নাগপুর পুলিশ একটি এনজিও পরিচালনাকারী রিয়াজ কাজিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সমাজসেবার আড়ালে সে হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তরের জন্য চাপ দিত এবং হয়রান করত। গুরুগ্রামে আসিফ মোহাম্মদ নামে এক কোচিং সেন্টার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভাষা প্রশিক্ষণের অছিলায় বছর ছাব্বিশের এক হিন্দু ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। শুধু তা-ই নয়, জোর করে দু’বার গর্ভপাতও করায় (Roundup Week)।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার লক্ষ্যেই এই নির্যাতন চালানো হয়। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও একটি মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। ১৫০–২০০ জনের একটি দল কালীমন্দিরে হামলা করে মূর্তি ভেঙে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর এক হিন্দু সন্ন্যাসীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম নয়ন দাস (৩৫)। তিনি স্থানীয় এক মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন।

    ঘৃণাজনিত অপরাধ

    অন্যদিকে, ইউএসসিআইআরএফ, সাভেরা, সিএসওএইচ, এইচএফএইচআর, ইক্যুয়ালিটি ল্যাবসের মতো (Roundup Week) কিছু সংগঠনের তথাকথিত গবেষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হিন্দু সমাজ ও ভারতকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। প্রসঙ্গত, অনেক ঘৃণাজনিত অপরাধ নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উৎসাহিত হয় বলে দাবি করা হয়। ইসলামি রাষ্ট্রগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা প্রকাশ্যে হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও সূক্ষ্মভাবে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব দেখা যায়। দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞাকে এর উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে—বাহ্যিকভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তি দেওয়া হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি দ্বৈত মানদণ্ড বলেও সমালোচনা করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Naxal Free India: ‘নকশালমুক্ত ভারত’ এখন সময়ের অপেক্ষা! চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াইয়ে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্যের পথে কেন্দ্র

    Naxal Free India: ‘নকশালমুক্ত ভারত’ এখন সময়ের অপেক্ষা! চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াইয়ে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্যের পথে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ক্ষত ‘বামপন্থী উগ্রবাদ’ বা নকশালবাদ নির্মূল করার পথে চূড়ান্ত সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রণকৌশল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ভারতের রেড করিডর বা নকশাল (Naxal Free India) অধ্যুষিত এলাকাগুলো এখন দ্রুত দুর্বল হয়ে আসছে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতকে সম্পূর্ণ ‘নকশালমুক্ত’ ঘোষণা করার জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের (The Final Phase) অভিযান শুরু হয়েছে।

    কোণঠাসা মাওবাদী নেতৃত্ব (Naxal Free India)

    এক সময়ের শক্তিশালী নকশাল (Naxal Free India) ঘাঁটিগুলো এখন খণ্ডবিখণ্ড। ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলে মাওবাদীরা এখন কার্যত অবরুদ্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্রমাগত চাপে পড়ে শীর্ষস্থানীয় নকশাল নেতারা হয় আত্মসমর্পণ করছেন, না হলে লড়াইয়ে মারা পড়ছেন। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক শক্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    উন্নয়নের মাধ্যমে মোকাবিলা

    শুধু বন্ধুক বা গুলিতে নয়, কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের মাধ্যমেও নকশালবাদের (Naxal Free India) শিকড় উপড়ে ফেলতে চাইছে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দ্রুত রাস্তাঘাট নির্মাণ, মোবাইল টাওয়ার স্থাপন এবং স্কুল-হাসপাতাল তৈরির কাজ চলছে। ‘একলব্য মডেল স্কুল’ এবং জনজাতীয় অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    ‘সুরক্ষা ও সুবিধা’ নীতি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Naxal Free India) নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। একদিকে যেমন আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ছত্তিশগড়ের বস্তারের মতো এলাকাতেও এখন পুলিশের কাছে অস্ত্র জমা (The Final Phase) দেওয়ার হার বেড়েছে।

    চূড়ান্ত আঘাতের প্রস্তুতি

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান অভিযানটি এখন ‘ফাইনাল অফেনসিভ’ মোডে রয়েছে। ঝাড়খণ্ডের বুড়া পাহাড় এলাকাকে ইতিমধ্যেই নকশালমুক্ত (Naxal Free India) ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ছত্তিশগড়ের অবুঝমাড় জঙ্গলের মতো কিছু পকেটে শেষ পর্যায়ের তল্লাশি চলছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের মানচিত্র থেকে নকশালবাদের নাম পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত (The Final Phase) করতে এটি স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় জয় হিসেবে গণ্য হতে চলেছে।

  • Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ধীরে ধীরে কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং একটি উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সেই দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুদয় মধ্যপ্রদেশ গ্রোথ সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানালেন, সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত দ্রুত এডেস্কঃ এবং অদূর ভবিষ্যতেই এই খাতে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে ভারত।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কেবল স্লোগান নয় (Amit Shah)

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রবেশ করতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রবেশটা হয়েছে খুব শক্ত ভিতের উপর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত শুধু এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরই হবে না, বরং বিশ্বের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) রপ্তানি শুরু করবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।

    মধ্যপ্রদেশের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থান ও উর্বর জমির বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগেও বড় মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে রূপান্তর এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকেও তিনি ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন।

    এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগমূল্যের একাধিক শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে। বাজপেয়ীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “অটলজি ছিলেন এক অসাধারণ বক্তা, সংবেদনশীল কবি, জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং রাজনীতিতে ‘অজাতশত্রু’ – যাঁর কোনও শত্রু ছিল না।”

    এদিন অমিত শাহ শ্রদ্ধা জানান সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের জন্মবার্ষিকীতে এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারীর মৃত্যুবার্ষিকীতেও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আধুনিক ভারতের নির্মাণে এই মনীষীদের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

    অটল মিউজিয়াম

    সামিট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) গোয়ালিয়র মেলার উদ্বোধন করেন এবং অটল মিউজিয়ামের সংস্কার কাজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। জানা গেছে, এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২৫ হাজার উপভোক্তা, পাশাপাশি হাজার হাজার উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী (Semiconductors) অংশগ্রহণ করছেন। সামিটে ঘোষিত ও উদ্বোধন হওয়া শিল্প প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এই সামিট কেবল একটি বিনিয়োগ সম্মেলন নয়-বরং তা ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরতার দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Top Maoist Surrender: মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা! ছত্তিশগড়ে ১১ মাওবাদী সহ আত্মসমর্পণ সেন্ট্রাল কমিটির নেতা রামধের মাজ্জির

    Top Maoist Surrender: মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা! ছত্তিশগড়ে ১১ মাওবাদী সহ আত্মসমর্পণ সেন্ট্রাল কমিটির নেতা রামধের মাজ্জির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র নেতা-কর্মীদের বার বার মূলস্রোতে ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছেন, দেশকে ২০২৬ সালেই মাওবাদী মুক্ত করবেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় সাফল্য এনে দিল ছত্তিশগড়ের খৈরাগড়–ছুইখাদান–গণ্ডাই জেলা। আত্মসমর্পণ করল মোট ১২ জন মাওবাদী। এদের মধ্যে রয়েছে অন্যতম কুখ্যাত রামধের মাজ্জি, যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। রামধের সেন্ট্রাল কমিটি সদস্য (CCM)। মাও-বিরোধী অভিযানে বিরাট সাফল্য পেয়েছে মধ্যপ্রদেশও। অস্ত্র থেকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরেছেন মোস্ট ওয়ান্টেড ১০ জন মাওবাদী। যৌথভাবে যাদের মাথার দাম ছিল ২.৩৬ কোটি টাকা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় আত্মসমর্পণ কর্মসূচি।

    ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ মাওবাদী নেতাদের

    বকরকাটা থানায় আত্মসমর্পণের এই ঘটনাকে এমএমসি (মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড়) জোনে মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকা রামধের মাজ্জি তার সহযোগী ডিভিশনাল কমিটি সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সমর্পণ করেন। তার সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছে এসিএম রামসিং দাদা এবংএসিএম সুকেশ পোত্তমও। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছয়জন মহিলা মাওবাদীও রয়েছেন—লক্ষ্মী, শীলা, যোগিতা, কবিতা এবং সাগর। এছাড়া ডিভিশনাল কমিটি সদস্য ললিতা ও জানকিও আত্মসমর্পণ করেছে। উল্লেখযোগ্যদের তালিকায় আরও রয়েছেন ডিভিসিএম চান্দু উসেন্দি এবং প্রেম।

    মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো ভাঙার ইঙ্গিত 

    পুলিশ সূত্রে খবর, এই মাওবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড় বিশেষ জোনাল কমিটির এলাকায় সক্রিয় থাকলেও টানা নিরাপত্তা অভিযান ও সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির চাপে তারা দুর্বল হতে শুরু করে। রামধের মাজ্জির আত্মসমর্পণকে তাই একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, তার সিদ্ধান্তের পর এমএমসি জোন কার্যত ভেঙে পড়েছে। বছরের পর বছর ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করে থাকা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান জোরদার হওয়ার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। উচ্চপদস্থ মাও নেতাদের এমন বড়মাপের আত্মসমর্পণ মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের

    মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলাকেও মাওবাদীমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘পুনর্বাসন পুনর্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় চার মহিলা-সহ মোট ১০ জন মাওবাদী রবিবার বালাঘাটে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরেছেন। এই সাফল্য সুশাসনের শক্তি, পোক্ত আইনি ব্যবস্থা ও উন্নয়নের উপর বিশ্বাসের সুফল।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মাওবাদীদের স্বাভাবিক জীবনে গত জানুয়ারি মাস থেকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছিল। অবশেষে তাঁরই সুফল মিলেছে। বর্তমানে দিনদোরি এবং মান্ডলা পুরোপুরি মাওবাদীমুক্ত। পাশাপাশি আরও জানান, “সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে হিংসার রাস্তা থেকে যারা ফিরে আসবে, সরকার তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেবে। আর যারা ফিরবে না, তাঁদের জন্য ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।”

    মাওবাদীদের থেকে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র

    জানা যাচ্ছে, যে ১০ জন মাওবাদী এদিন আত্মসমর্পণ করেন তারা মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড় জোনের শীর্ষ মাও-কমান্ডার। এদের যৌথ মাথার দাম ছিল ২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড কবীর ওরফে সোম। ওই ডিভিশনের সাব-জোনাল কমিটির সেক্রেটারি কবিরের মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন মাও নেতা রাকেশ ওরফে মণীশ। এই নেতারও মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ। আত্মসমর্পণের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রও পুলিশের কাছে জমা দেন মাওবাদীরা। যে তালিকায় ছিল, একটি একে-৪৭, দুটি ইনসাস রাইফেল, দুটি সিঙ্গেল শট রাইফেল, একটি সেলফ লোডিং রাইফেল, ৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার সেলস, ৫টি ডিটোনেটর, ৪টি ওয়াকিটকি ও ১০০-র বেশি কার্তুজ।

LinkedIn
Share