Tag: madhyom news

madhyom news

  • Ramakrishna 468: ঠাকুর আবার বলিতেছেন — “আরও কত কী বলতে দে না!

    Ramakrishna 468: ঠাকুর আবার বলিতেছেন — “আরও কত কী বলতে দে না!

    “গুরুগিরি বেশ্যাগিরির মতো। — ছাড় টাকা-কড়ি, লোকমান হওয়া, শরীরের সেবা, এই সবের জন্য আপনাকে বিক্রি করা। যে শরীর মন আমার দ্বারা ঈশ্বরের লাডু করা যায়, সেই শরীর মন আমাকেও সামান্য জিনিসের জন্য এঁটোপ করে রাখা ভাল নয়। এককালে বলেছিল, সাবির এখন যে সময়, এখন তার বেশ হয়েছে — একখানা ঘটভাড় নিয়েছে — ঘুঁটে বে গোবার বে, তক্তোপোষ, দুখানা বালিশ হয়েছে, বিছানা, মাদুর, তাকিয়া — কতলোক বসীতেছে, যাচ্ছে আসছে। অর্থাৎ সাবি এখন বেশ হয়েছে তাই সুখ ধরে না! আগে সে ভদ্রলোকের বাড়ির দাসী ছিল, এখন বেশ হয়েছে। সামান্য জিনিসের জন্য নিজের সর্বনাশ।”

    শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় প্রলোভন  — ব্রহ্মজ্ঞান ও অভেদবুদ্ধি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও মুসলমান ধর্ম

    “সাধনার সময় ধ্যান করতে করতে আমি আরো কত কী দেখিতাম। বেলতলায় ধ্যান করিতি, পাপপুরুষ এসে কত্তকালের লোভ দেখাইতে লাগিল। লড়িতে গোরার রূপ ধরে এসেছিল। টাকা, মান, রমণ, সুখ নানা রকম শক্তি, এই সব দিতে চাইল। আমি মাকে ডাকিতে লাগিলাম। বড় গুজরাথ। মা দেখা দিলেন, তখন আমি বললাম, মা ওকে কেটে ফেলো। মা সেই রূপ — সেই ভুবনমোহন রূপ — মনে পড়ছে। কৃষ্ণমূর্তির রূপ! কিন্তু চাঁদনীতেও যেন জ্যোতিষ্মতী মূর্তি।”

    ঠাকুর চাপ করিলেন। ঠাকুর আবার বলিতেছেন — “আরও কত কী বলতে দে না! — মুখ যেন কে আটকে দেয়!”

    “সজনে তুলসী এক বংশ হত। ভেদ-বুদ্ধি দূর করিয়া দিলেন। বেলতলায় ধ্যান করিতি, দেখিল এক জন দেব মুসলমান (মোহাম্মদ) সান্নিধ্য করিয়া ভাত লইয়া সামনে এল। সান্নিধ্য হইতে শ্রেষ্ঠদের খাইয়া আমাকে দুটি দিল। মা দেখাইলেন, এক বৈ দু’ই নাই। সচিদানন্দই নানা রূপ ধরিয়া রহিয়াছেন। তিনিই জীবজগৎ সমস্তই হইয়াছেন। তিনিই অম্বর হইয়াছেন।”

  • Ramakrishna 467: শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় প্রলোভন  — ব্রহ্মজ্ঞান ও অভেদবুদ্ধি

    Ramakrishna 467: শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় প্রলোভন  — ব্রহ্মজ্ঞান ও অভেদবুদ্ধি

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশ প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি) — যাহারা ঈশ্বরবুদ্ধি তাঁরা সিঁড়াই চায়। ব্যারাম ভাল করা, মোক্ষম লাভ, জিতানো, জলে হেঁটেই চলে যাওয়া — এই সব। যাহারা শুদ্ধভক্ত তাঁরা ঈশ্বরের পাদপদ্ম ছাড়া কিছুই চায় না। হৃদয়ে একদিন বললেম, ‘মা! মার কাছে কিছু শক্তি চাই, কিছু সিঁড়াই চাই।’ আমার বালকের স্বভাব। — কালীঘাটে জপ করিবার সময় মাকে বলিলাম, মা বলছে কিছু সিঁড়াই চাইতে। অমনি দেখিতে দিলেন সামনে এসে পেঁচাটে ফিকে উড়ু হয়ে বসলো—

    কালি ঘরে কাজ করার সময় মাকে বললাম, “মা, হৃদে বলছে কিছু সিদ্ধাই চাই।” হঠাৎ সামনে একজন বুড়ো বেশ্যা এসে উবু হয়ে বসে পড়ল। তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। ধামা পোঁদ, কালো পেড়ে কাপড় পরা, এবং পড়পড় করে হাগছে। যাদের একটু সিদ্ধাই থাকে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অবাক করা। অনেকের ইচ্ছা হয় গুরুগিরি করা; পাঁচজনে একসাথে মানে শীর্ষ সেবক হিসেবে আচরণ করছে। মানুষ বলে, “গুরুচরণের ভাইয়েরা আজকাল বেশ কিছু লোক আসছে-যাচ্ছে।” শীষ্য সেবক অনেক হয়েছে, ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

    কত জিনিস কত লোক এনে দিচ্ছে — সে যদি মনে করে — তার এমন শক্তি হয়েছে যে, কত লোককে খাওয়াতে পারে।

    “গুরুগিরি বেশ্যাগিরির মতো। — ছাড় টাকা-কড়ি, লোকমান হওয়া, শরীরের সেবা, এই সবের জন্য আপনাকে বিক্রি করা। যে শরীর মন আমার দ্বারা ঈশ্বরের লাডু করা যায়, সেই শরীর মন আমাকেও সামান্য জিনিসের জন্য এঁটোপ করে রাখা ভাল নয়। এককালে বলেছিল, সাবির এখন যে সময়, এখন তার বেশ হয়েছে — একখানা ঘটভাড় নিয়েছে — ঘুঁটে বে গোবার বে, তক্তোপোষ, দুখানা বালিশ হয়েছে, বিছানা, মাদুর, তাকিয়া — কতলোক বসীতেছে, যাচ্ছে আসছে। অর্থাৎ সাবি এখন বেশ হয়েছে তাই সুখ ধরে না! আগে সে ভদ্রলোকের বাড়ির দাসী ছিল, এখন বেশ হয়েছে। সামান্য জিনিসের জন্য নিজের সর্বনাশ।”

    শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় প্রলোভন  — ব্রহ্মজ্ঞান ও অভেদবুদ্ধি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও মুসলমান ধর্ম

    “সাধনার সময় ধ্যান করতে করতে আমি আরো কত কি দেখিতাম। বেলতলায় ধ্যান করিতি, পাপপুষ্করিণী এসে কতককম লোড দেখাতে লাগিল। লড়ায়ে গোরার রক্ত ধরে এসেছিল। টাকা, মান, রমণ সুখ নানা রকম শক্তি, এই সব দিতে

  • Ramakrishna 466: কালি ঘরে কাজ করার সময় মাকে বললাম, “মা, হৃদে বলছে কিছু সিদ্ধাই চাই

    Ramakrishna 466: কালি ঘরে কাজ করার সময় মাকে বললাম, “মা, হৃদে বলছে কিছু সিদ্ধাই চাই

    গভীর ধ্যানে ইন্দ্রিয়ের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মন বহির্মুখী থাকে না—যেন বার-বাড়িতে কপাট পড়ল। ইন্দ্রিয়ের পাঁচটি বিষয়: রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ—বাহিরে পড়ে থাকে।

    “ধ্যানের সময় প্রথম প্রথম ইন্দ্রিয়ের বিষয় সকল সামনে আসে—গভীর ধ্যানে সে সকল আর আসে না—বাহিরে পড়ে থাকে। ধ্যান করতে করতে আমাদের কত কি দর্শন হয়। প্রত্যক্ষ দেখলাম—সামনে টাকায় কাঠি, শাল, একখানা সুন্দর টালি—তাদের মধ্যে কি সুন্দর জ্যোৎস্নার আভা—সব বাহিরের বস্তু।

    সমস্ত জিনিস বার থেকে দেখা যায়! তাদের ভিতরে দেখলাম— নাড়ীভূড়ি, রক্ত, মল, কফ, নাল, প্রস্রাব এই সব।

    [ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ — গুরুগিরি ও বেশ্যাবৃত্তি]

    শ্রীযুক্ত গিরিশ ঠাকুরের নাম করিয়া ব্যারাম ভাল করিব — এই কথা মাঝে মাঝে বলিতেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশ প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি) — যাহারা ঈশ্বরবুদ্ধি তাঁরা সিঁড়াই চায়। ব্যারাম ভাল করা, মোক্ষম লাভ, জিতানো, জলে হেঁটেই চলে যাওয়া — এই সব। যাহারা শুদ্ধভক্ত তাঁরা ঈশ্বরের পাদপদ্ম ছাড়া কিছুই চায় না। হৃদয়ে একদিন বললেম, ‘মা! মার কাছে কিছু শক্তি চাই, কিছু সিঁড়াই চাই।’ আমার বালকের স্বভাব। — কালীঘাটে জপ করিবার সময় মাকে বলিলাম, মা বলছে কিছু সিঁড়াই চাইতে। অমনি দেখিতে দিলেন সামনে এসে পেঁচাটে ফিকে উড়ু হয়ে বসলো—

    কালি ঘরে কাজ করার সময় মাকে বললাম, “মা, হৃদে বলছে কিছু সিদ্ধাই চাই।” হঠাৎ সামনে একজন বুড়ো বেশ্যা এসে উবু হয়ে বসে পড়ল। তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। ধামা পোঁদ, কালো পেড়ে কাপড় পরা, এবং পড়পড় করে হাগছে। যাদের একটু সিদ্ধাই থাকে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অবাক করা। অনেকের ইচ্ছা হয় গুরুগিরি করা; পাঁচজনে একসাথে মানে শীর্ষ সেবক হিসেবে আচরণ করছে। মানুষ বলে, “গুরুচরণের ভাইয়েরা আজকাল বেশ কিছু লোক আসছে-যাচ্ছে।” শীষ্য সেবক অনেক হয়েছে, ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

  • Ramakrishna 465: গভীর ধ্যানে ইন্দ্রিয়ের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়

    Ramakrishna 465: গভীর ধ্যানে ইন্দ্রিয়ের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়

    “গভীর ধ্যানে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়। একজন ব্যাধ পাখি মারবার জন্য তাগ করছে। কাছ দিয়ে বর চলে যাচ্ছে, সমস্ত ব্যবসায়ীরা, কত কোলাহল, বাজার, গাড়ি, ঘোষা — কতক্ষণ ধরে কাছ নিয়ে চলে গেল। ব্যাধের কিন্তু লেশ নাই। সে জানিতে পারলো না যে কাছ দিয়ে বর চলে গেল।

    “একজন একলা একটি পুকুরের ধারে মাছ ধরছে। অনেকক্ষণ পরে ফাঁসাটা নড়তে লাগল, মাঝে মাঝে কাট হতে লাগল। সে তখন ছিপ হাতে করে টান মারবার উদ্যোগ করিতেছে। এমন সময় একজন পথিক কাছে এসে জিজ্ঞাসা করিতেছে, মহাশয়, অমুক বাঁড়ুজ্জেদের বাড়ি কোথায় বলতে পারেন? সে ব্যক্তি শ্ল্ধ নাই। তার হাত কাঁপিতেছে, কেবল ফাঁসার দিকে দৃষ্টি। তখন পথিক বিরক্ত হয়ে চলেগেল। সে অনেক দূরে চলে গিয়েছে, এমন সময় ফাঁসাটা ডুবে গেল, আর…

    ও ব্যক্তি টান মেরে মাছটাকে আড়ায় তুলল। তখন গাছটা দিয়ে মুখ পুঁতে, চিৎকার করে পাখিটাকে ডাকছে—ওহে—শোনা—শোনা! পাখি ফিরিতে চায় না, অনেক ডাকাডাকি পর ফিরিল। এসে বলছে, কেন মুখ্যধম, আবার ডাকছ কে? তখন সে বলল, তুমি আমায় কি বলছিলে? পাখি বললে, তখন অত্যন্ত করে জিজ্ঞাসা করলুম—আর এখন বলছ কি বললে! সে বলল, তখন যে ফানায় ডুবছিল, তাই আমি কিছুই শুনিতে পাই নাই।

    “ধ্যানে এইরূপ একাগ্রতা হয়, অন্য কিছু দেখা যায় না শোনাও যায় না। স্পর্শবোধ পর্যন্ত হয় না। সাপ গায়ের উপর দিয়ে চলে যায়, জানিতে পারে না। যে ধ্যান করে সেও বুঝিতে পারে না—সাপটাও জানিতে পারে না।

    “গভীর ধ্যানে ইন্দ্রিয়ের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মন বহির্মুখী থাকে না—যেন বার-বাড়িতে কপাট পড়ল। ইন্দ্রিয়ের পাঁচটি বিষয়: রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ—বাহিরে পড়ে থাকে।

    “ধ্যানের সময় প্রথম প্রথম ইন্দ্রিয়ের বিষয় সকল সামনে আসে—গভীর ধ্যানে সে সকল আর আসে না—বাহিরে পড়ে থাকে। ধ্যান করতে করতে আমাদের কত কি দর্শন হয়। প্রত্যক্ষ দেখলাম—সামনে টাকায় কাঠি, শাল, একখানা সুন্দর টালি—তাদের মধ্যে কি সুন্দর জ্যোৎস্নার আভা—সব বাহিরের বস্তু।

  • Ramakrishna 464: গভীর ধ্যানে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়

    Ramakrishna 464: গভীর ধ্যানে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়

    “আমি সর্বপ্রকার সাধন করেছিলাম। সাধনা তিন প্রকার—সাত্ত্বিক, রাজসিক, তামসিক। সাত্ত্বিক সাধনায় তাঁকে ব্যাকুল হয়ে ডাকে বা তাঁর নামটি শুনে নিয়ে থাকে। আর কোনো ফললাভ নেই। রাজসিক সাধনে নানারকম প্রক্রিয়া—এতবার পুষ্পচর্চন করতে হবে, এত তীর্থ করতে হবে, পঞ্চগব্য করতে হবে; যজ্ঞোপবীতধার পুজা করতে হবে ইত্যাদি। তামসিক সাধন—তোমাকে আঘাত করে সাধনা। জয় কালী! কি, তুই খাস নির্নিমেষ। এই গলায় ছুরি দে। যদি দিয়া না দিস্ এ সাধনায় ফললাভ নাই। —যেমন তন্ত্রের সাধনা।

    “সে অবস্থায় (সাধনার অবস্থায়) অদ্ভুত সব দর্শন হত, আমার রমন প্রত্যক্ষ দেখলাম। আমার মতো রূপ একরকম আমার শরীরের ভিতর প্রবেশ করল। আর মড়কসম প্রতাপে পদ্মের মতো রমন করতে লাগল। ঘটল হৃদয়ে হয়েছিল—ঠাকুর বলতেন রমন কথার আর একটি পদ প্রবর্তিত হয়—আর উদ্বোধিত হয় রমন। এইরূপ মূর্তিমান, স্থাণু, অচঞ্চল, অনাহত, বিভক্ত, অখণ্ড, সহজাত সকল প্রত্যক্ষ ফুটে উঠত। আর নিচে মূর্ছা ছিল উদ্বোধক হল, প্রত্যক্ষ দেখলাম।”

    [ধ্যানযোগ সাধনা — ‘নিবৃত নিস্পন্দমিরপ্রদীপস্ফূর’]

    “সাধনার সময় আমি ধ্যান করতে করতে আবেশ করতাম প্রভূপদের শিখা—
    যখন হওয়া নাই, একটুও নড়ে না — তার আবেশ করতাম।

    “গভীর ধ্যানে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়। একজন ব্যাধ পাখি মারবার জন্য তাগ করছে। কাছ দিয়ে বর চলে যাচ্ছে, সমস্ত ব্যবসায়ীরা, কত কোলাহল, বাজার, গাড়ি, ঘোষা — কতক্ষণ ধরে কাছ নিয়ে চলে গেল। ব্যাধের কিন্তু লেশ নাই। সে জানিতে পারলো না যে কাছ দিয়ে বর চলে গেল।

    “একজন একলা একটি পুকুরের ধারে মাছ ধরছে। অনেকক্ষণ পরে ফাঁসাটা নড়তে লাগল, মাঝে মাঝে কাট হতে লাগল। সে তখন ছিপ হাতে করে টান মারবার উদ্যোগ করিতেছে। এমন সময় একজন পথিক কাছে এসে জিজ্ঞাসা করিতেছে, মহাশয়, অমুক বাঁড়ুজ্জেদের বাড়ি কোথায় বলতে পারেন? সে ব্যক্তি শ্ল্ধ নাই। তার হাত কাঁপিতেছে, কেবল ফাঁসার দিকে দৃষ্টি। তখন পথিক বিরক্ত হয়ে চলেগেল। সে অনেক দূরে চলে গিয়েছে, এমন সময় ফাঁসাটা ডুবে গেল, আর…

  • Ramakrishna 463: সাধনা তিন প্রকার—সাত্ত্বিক, রাজসিক, তামসিক

    Ramakrishna 463: সাধনা তিন প্রকার—সাত্ত্বিক, রাজসিক, তামসিক

    রামলালকে নিয়ে সর্বদা বেড়াতাম, কখনো খাওয়াইতাম, আবার কখনো রাধা-কৃষ্ণের ভাবনায় থাকতাম। ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো। আবার কখনো গৌরাঙ্গের ভাবনায় থাকতাম। দুই ভাবের মিলন এবং প্রকৃতিভাবের মিলন—ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো।

    কখনো অবস্থা বদলে গিয়েছিল। সবকিছু একে একে অনুভব করতে লাগলাম। ঈশ্বরদী ও রূপ ভালো লাগল না, বললাম, “কিন্তু তোমাদের বিচার আছে।” তখন তাদের তলায় রাখলাম। ঘরে যত ঈশ্বরী বা পট বা ছবি ছিল, সব খুলে ফেললাম। কেউ বলছিল, “অখণ্ড সত্যিটা আনন্দ” আমি সেই আদি পুরুষকে চিন্তা করতে লাগলাম।

    “আমি সর্বপ্রকার সাধন করেছিলাম। সাধনা তিন প্রকার—সাত্ত্বিক, রাজসিক, তামসিক। সাত্ত্বিক সাধনায় তাঁকে ব্যাকুল হয়ে ডাকে বা তাঁর নামটি শুনে নিয়ে থাকে। আর কোনো ফললাভ নেই। রাজসিক সাধনে নানারকম প্রক্রিয়া—এতবার পুষ্পচর্চন করতে হবে, এত তীর্থ করতে হবে, পঞ্চগব্য করতে হবে; যজ্ঞোপবীতধার পুজা করতে হবে ইত্যাদি। তামসিক সাধন—তোমাকে আঘাত করে সাধনা। জয় কালী! কি, তুই খাস নির্নিমেষ। এই গলায় ছুরি দে। যদি দিয়া না দিস্ এ সাধনায় ফললাভ নাই। —যেমন তন্ত্রের সাধনা।

    “সে অবস্থায় (সাধনার অবস্থায়) অদ্ভুত সব দর্শন হত, আমার রমন প্রত্যক্ষ দেখলাম। আমার মতো রূপ একরকম আমার শরীরের ভিতর প্রবেশ করল। আর মড়কসম প্রতাপে পদ্মের মতো রমন করতে লাগল। ঘটল হৃদয়ে হয়েছিল—ঠাকুর বলতেন রমন কথার আর একটি পদ প্রবর্তিত হয়—আর উদ্বোধিত হয় রমন। এইরূপ মূর্তিমান, স্থাণু, অচঞ্চল, অনাহত, বিভক্ত, অখণ্ড, সহজাত সকল প্রত্যক্ষ ফুটে উঠত। আর নিচে মূর্ছা ছিল উদ্বোধক হল, প্রত্যক্ষ দেখলাম।”

    [ধ্যানযোগ সাধনা — নির্বাণ নিল্লিপ্তসিদ্ধিপ্রদীপ]

    “সাধনার সময় আমি রামণ করতে করতে আবার কৃতজ্ঞ হৃদয়ে পিয়া—”

  • Ramakrishna 462: কেউ বলছিল, “অখণ্ড সত্যিটা আনন্দ” আমি সেই আদি পুরুষকে চিন্তা করতে লাগলাম

    Ramakrishna 462: কেউ বলছিল, “অখণ্ড সত্যিটা আনন্দ” আমি সেই আদি পুরুষকে চিন্তা করতে লাগলাম

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ভক্তদের প্রতি) সে সময়ে ধ্যানে দেখতে পেতাম সত্যি সত্যি—একজনের কাছে ফুল হাতে বসে আছি, ভয় দেখাচ্ছে, যদি ঈশ্বরের পাদপথে মন না রাখি, চুল পর্যন্ত আমার বাড়ি মারবে। ঠিক মন না হলে বুকেও আঘাত হবে।

    নিত্য, লীলা, যোগ, পুরুষ, প্রকৃতি, বিবেক—এই সব ভাবনা চলত।

    কখনো মা এমন অবস্থা দেখাতেন যে নিত্য থেকে মন নেমে নেমে নীলায় চলে যেত, আবার কখনো লীলার মাধ্যমে নিত্যর মন উঠত। যখন লীলায় মন নেমে আসত, তখন কখনো সীতারামকে রাতদিন চিন্তা করতাম, আর সীতারামের রূপ দর্শন হতো। রামলালকে নিয়ে সর্বদা বেড়াতাম, কখনো খাওয়াইতাম, আবার কখনো রাধা-কৃষ্ণের ভাবনায় থাকতাম। ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো। আবার কখনো গৌরাঙ্গের ভাবনায় থাকতাম। দুই ভাবের মিলন এবং প্রকৃতিভাবের মিলন—ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো।

    কখনো অবস্থা বদলে গিয়েছিল। সবকিছু একে একে অনুভব করতে লাগলাম। ঈশ্বরদী ও রূপ ভালো লাগল না, বললাম, “কিন্তু তোমাদের বিচার আছে।” তখন তাদের তলায় রাখলাম। ঘরে যত ঈশ্বরী বা পট বা ছবি ছিল, সব খুলে ফেললাম।

    কেউ বলছিল, “অখণ্ড সত্যিটা আনন্দ” আমি সেই আদি পুরুষকে চিন্তা করতে লাগলাম।

     

  • Vice President Election: উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনকে বয়কট করল বিজেডি-বিআরএস

    Vice President Election: উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনকে বয়কট করল বিজেডি-বিআরএস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্কঃ আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (Vice President Election) উপস্থিত না থাকার কথা জানিয়েছে ওড়িশা এবং তেলেঙ্গানার দুই রাজনৈতিক দল। ভোটের ঠিক একদিন আগে সোমবারেই এই বয়কটের কথা ঘোষণা করেছে ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক দল বিজেডি এবং তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্র শেখর রাও-এর দল বিআরএস। শারীরিক অসুস্থার কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা করেছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। এরপর নতুন উপরাষ্ট্রপতি (C. P. Radhakrishnan) নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

    কেন নির্বাচনে (Vice President Election) নেই বিজেডি?

    দলের পক্ষ থেকে বিজেডির অবস্থান স্পষ্ট করে দলীয় মুখপাত্র বলেন, “রাজনৈতিক কারণে বিজেডি বিজেপির এনডিএ এবং ইন্ডিজোট উভয়ের কাছ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখছে। আমাদের সম্পূর্ণ লক্ষ্য ওড়িশার উন্নয়নের দিকেই। রাজ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সুবিধা অসুবিধার কথাই আমাদের কাছে প্রধান।”

    অপর দিকে বিআরএস নেতা চন্দ্র শেখর রাও-এর পুত্র রামা রাও এদিন সাংবাদিক সম্মলেন করে বলেন, “আমাদের রাজ্যে কৃষকদের পরিস্থিতি ভীষণ খারাপ। কংগ্রেস সরকার ইউরিয়ার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। তাই একমাত্র কৃষকদের কথা ভেবেই আমরা ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন (Vice President Election) থেকে বিরত থাকছি।”

    এনডিএ জোট জয় নিয়ে আশাবাদী

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী (Vice President Election) হলেন সিপি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan)। তিনি সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অপর দিকে ইন্ডিজোটের প্রার্থী হলেন বি সুদর্শন রেড্ডি। তিনি প্রাক্তন বিচারপতি। এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন রাজ্যসভা এবং লোকসভার সদস্যরাই। প্রত্যেক সদস্যকে প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রার্থীদের ভোট দিতে হয়। প্রথম পছন্দের বেশি ভোটেই নির্বাচিত হন উপরাষ্ট্রপতি। তবে রাজনীতির একাংশ মনে করছেন, সিপি রাধাকৃষ্ণনের পাল্লাই বেশি ভারি। তাই নির্বাচনে এনডিএ জোট জয় নিয়ে তাঁরা দারুণ আশাবাদী।

  • PM Narendra Modi: ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যে ফের মোদি, যোগ দেবেন সেনার অনুষ্ঠানে

    PM Narendra Modi: ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যে ফের মোদি, যোগ দেবেন সেনার অনুষ্ঠানে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্কঃ অপারেশন সিঁদুরের পর এই নিয়ে রাজ্যে চতুর্থবার আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। তবে হ্যাঁ, এইবার কোনও রাজনৈতিক সভা বা কর্মসূচিতে নয়। ইস্টার্ন কমান্ডের সেনাবাহিনীর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রধান অজিত ডোভাল এবং দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রধানমন্ত্রী আসবেন ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে এবং ওই দিন রাজভবনে রাত্রিবাস করবেন। পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর ফোর্ট উইলিয়মে সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের (Eastern Command) অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন এবং এরপর আবার ওই দিনই দুপুরে দিল্লি ফিরে যাবেন।

    থাকবেন তিন বাহিনীর প্রধান (PM Narendra Modi)

    অপারেশন সিঁদুরের পর পূর্ব ভারতে সেনার এবং কমান্ডারদের (Eastern Command) নিয়ে কলকাতায় বিরাট বৈঠক হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। ইস্টার্ন কমান্ডের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিমাংশু তিওয়ারি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফোর্ট উইলিয়মে সম্মিলিত কমান্ড কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর ওই কনফারেন্সের উদ্বোধন করবেন নরেন্দ্র মোদি। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন তিন বাহিনীর প্রধান ও ভারতীয় সেনার চিফ অফ ডিফেন্স অনিল চৌহান। সেইসঙ্গে থাকবেন আরও প্রমুখ সেনা আধিকারিকরা। আরও জানা গিয়েছে, আগামীদিনে দেশের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ব্যবস্থা, সীমান্ত সমস্যা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত রক্ষার কৌশল কেমন হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে অনুষ্ঠানে।

    অস্থির পূর্ব-উত্তরপূর্ব প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি

    গত একবছরের বেশি সময় ধরে পূর্ব-উত্তরপূর্ব প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বাংলাদেশ ভীষণ ভাবে অস্থির। ওই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কট্টর মোল্লা-মৌলবিদের ভারত বিরোধী কার্যকলাপ এবং পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত সমস্যা, অনুপ্রবেশ ভারতের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলছে। আবার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের গোপন সামরিক চুক্তিও উদ্বেগের কারণ। এবার আরেক পরিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে। আর তার উপর রয়েছে চিনের আগ্রাসন নীতি। সব মিলিয়ে ভারতকে পূর্ব এবং উত্তর ভারতের সমীকরণ নিয়ে ভাবতেই হবে। সেই সঙ্গে ভারতের দেশীয় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে অনুষ্ঠানে। তাই ভারতীয় সেনাকে মোদি (PM Narendra Modi) কী বিশেষ বার্তা দেন তাও দেখার বিষয়।

  • Ramakrishna 461: ঠাকুর আনন্দে গাড়িতে যাচ্ছেন

    Ramakrishna 461: ঠাকুর আনন্দে গাড়িতে যাচ্ছেন

    মেয়েভক্তগণ অনেকেই আসিয়াছেন। তাহারা চিত্রের আড়ালে বসিয়া ঠাকুরের দর্শন করিতেছেন।
    মোহিনীর পরিবারও আসিয়াছেন — পূর্বশ্রেষ্ঠ উৎপাদনে ব্যয় — তিনি ও তাহার নাম্য সঙ্গিনী অনেকেই আসিয়াছেন, এই বিশ্বাস যে ঠাকুরের কাছে নিঃসন্দেহে শান্তিলাভ হইবে।

    আজ ১লা বৈশাখ, চৈত্র কৃষ্ণ একাদশী, ১২ই এপ্রিল, ১৮৮৫, শুক্রবার, বেলা ৩টা হইবে।

    মাস্টার আসিয়া দেখিলেন, ঠাকুর ভক্তের মজলিস করিয়া বসিয়া আছেন ও নিজের সাম্প্রতিক বিবরণ ও নানাবিধ আধ্যাত্মিক অবস্থার বর্ণনা করিতেছেন।
    মাস্টার আসিয়া ঠাকুরকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিলেন ও তাহার কাছে আসিয়া বসিলেন।

    ঠাকুর আনন্দে গাড়িতে যাচ্ছেন।

    ১। শ্রীউপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ঠাকুরের ভক্ত ও “বসুমতী’র” সম্পাদক।

    ২। শ্রীঅমরকুমার সেন, ঠাকুরের ভক্ত ও কবি। ইনি “শ্রীরামকৃষ্ণ পদ্য” লিখিয়া চিরস্মরণীয় হইয়াছেন। বাঁকুড়া জেলার অন্তঃপাড়া ময়নাপুর গ্রাম ইহার জন্মভূমি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ভক্তদের প্রতি) সে সময়ে ধ্যানে দেখতে পেতাম সত্যি সত্যি—একজনের কাছে ফুল হাতে বসে আছি, ভয় দেখাচ্ছে, যদি ঈশ্বরের পাদপথে মন না রাখি, চুল পর্যন্ত আমার বাড়ি মারবে। ঠিক মন না হলে বুকেও আঘাত হবে।

    নিত্য, লীলা, যোগ, পুরুষ, প্রকৃতি, বিবেক—এই সব ভাবনা চলত।

    কখনো মা এমন অবস্থা দেখাতেন যে নিত্য থেকে মন নেমে নেমে নীলায় চলে যেত, আবার কখনো লীলার মাধ্যমে নিত্যর মন উঠত। যখন লীলায় মন নেমে আসত, তখন কখনো সীতারামকে রাতদিন চিন্তা করতাম, আর সীতারামের রূপ দর্শন হতো। রামলালকে নিয়ে সর্বদা বেড়াতাম, কখনো খাওয়াইতাম, আবার কখনো রাধা-কৃষ্ণের ভাবনায় থাকতাম। ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো। আবার কখনো গৌরাঙ্গের ভাবনায় থাকতাম। দুই ভাবের মিলন এবং প্রকৃতিভাবের মিলন—ঐরূপে সর্বদা দর্শন হতো।

     

     

LinkedIn
Share