Tag: Magha Purnima

  • Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রধান আকর্ষণ মাঘপূর্ণিমার (Magha Purnima) মহাপুণ্যস্নান। আজ যখন ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ মাঘী পূর্ণিমা—অর্থাৎ পবিত্র মাঘ মাসের সমাপ্তি সূচক পূর্ণিমা—উদযাপন করছেন, তখন দেশ এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সঙ্গমের সাক্ষী থাকছে। সনাতন সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা (Spiritual Winter) মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    স্নানের বিজ্ঞান (Magha Purnima)

    মাঘী পূর্ণিমার স্নান নিছক একটি স্নানই নয়, এটি শরীরের একটি ‘সিস্টেম রিবুট’। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল গঙ্গা বা যমুনার কাব্যিক গুণগান করেননি, তাঁরা ছিলেন আদি ‘হাইড্রো-জিওলজিস্ট’। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) একটি বিশাল জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিন্যাস ঘটে। এই সময়  সূর্য মকর রাশিতে এবং চাঁদ কর্কট রাশিতে অবস্থান করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট মহাকর্ষীয় এবং চন্দ্রের সংযোগ পৃথিবীর জলভাগকে একটি অনন্য তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electromagnetic) শক্তিতে পূর্ণ করে তোলে। এই স্নান বা ‘ডুব’ দেওয়া আসলে আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করে এবং শরীরের ‘বায়ো-রিদম’-কে পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। এটি আত্মার (Spiritual Winter) পক্ষে একটি হার্ডওয়্যার রিবুটের মতো।

    চৈতন্য ভূগোল

    সজীব মানচিত্র হিসেবে ভারত এই দিনটি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে ঘেরা একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি ‘চৈতন্য ভূগোল’। প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোনও ছোট মন্দিরের পুকুর—পুরো দেশ আজ জলের দিকে ধাবিত হয়। এই ‘আধ্যাত্মিক পরিযান’ (Spiritual Winter) আমাদের সভ্যতার অদৃশ্য আঠা। আমাদের কোনও কেন্দ্রীয় সদর দফতর বা নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই, আমাদের নদীগুলিই আমাদের শিরা, আর পূর্ণিমার স্পন্দনই আমাদের বলে দেয় কখন এগিয়ে যেতে হবে।

    দানের প্রোটোকল

    ‘আমি ও আমার’ অহং ত্যাগ করতে এই দিনে মানুষ তিল, কম্বল এবং খাবার অকাতরে দান করেন। এটি কোনও পশ্চিমি ‘দয়া’ বা ‘চ্যারিটি’ নয়, এটি হল ভারতের ‘নিষ্কাম কর্ম’। আমরা দান করি কারণ আমরা জানি আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বা শরীর—সবই ‘বিরাট পুরুষ’-এর কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য পাওয়া। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) দান করা হল আসক্তি ত্যাগের একটি আচার। এটি মনের ভেতর থেকে ‘অহং’-এর সফটওয়্যার মুছে ফেলার মতো।

    পূর্ণত্ব

    ‘পূর্ণ’ ‘পূর্ণিমা’ (Magha Purnima) শব্দটি এসেছে ‘পূর্ণত্ব’ থেকে। বৈদিক বিশ্বদর্শন অনুযায়ী মানুষ ‘পাপী’ বা ‘ভাঙাচোরা’ কিছু নয়; আপনি ইতিমধ্যেই পূর্ণ। শান্তি মন্ত্রে বলা হয়েছে—“ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদম্ পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে… (সেই পরমাত্মাও পূর্ণ, এই জীবাত্মাও পূর্ণ; পূর্ণ থেকেই পূর্ণের উৎপত্তি)। পূর্ণিমার চাঁদ আসলে একটি বিশাল মহাজাগতিক আয়না, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার ভেতরের আলোও পূর্ণ। নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্য কোনও বাইরের ত্রাতা (Spiritual Winter) বা বিদেশী মতাদর্শের প্রয়োজন নেই।

    মূল কথা

    মাঘী পূর্ণিমা (Magha Purnima) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এই মাটি এবং জলের অংশ। ২০২৬ সালের পূর্ণিমা ব্যস্ততাময় আধ্যাত্মিক প্রবাহে নিজেকে যুক্ত করার দিন। যদি আপনি কোনও পবিত্র নদীতে যেতে না পারেন, তবে বাড়িতেই বালতির জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন: “গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেস্মিন সন্নিধিং কুরু।” ব্যস্ততা চলুক, কিন্তু আপনার হৃদয় (Spiritual Winter) যেন পূর্ণ থাকে।

  • Maha Kumbh 2025: মাঘী পূর্ণিমার আগেই মহাকুম্ভে ভক্ত সংখ্যা ছাড়াবে ৪০ কোটি!

    Maha Kumbh 2025: মাঘী পূর্ণিমার আগেই মহাকুম্ভে ভক্ত সংখ্যা ছাড়াবে ৪০ কোটি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মহাকুম্ভের (Maha Kumbh 2025) ভক্ত সংখ্য ৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি রয়েছে মাঘী পূর্ণিমার অমৃত স্নান। মনে করা হচ্ছে তার আগেই চল্লিশ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করে যাবে মহাকুম্ভ। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার পরে বিগত ২৪ দিনে পবিত্র স্নান সেরেছেন ৩৮.২৯ কোটি ভক্ত। হিসেব বলছে, ৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুর দুটো নাগাদ পবিত্র সঙ্গমে ভক্ত সংখ্যা ছুঁয়ে যায় ৫৯.২৪ লক্ষে। হিসেব বলছে, প্রতি দুই ঘণ্টায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ ভক্ত স্নান করছেন। এভাবেই মহাকুম্ভ একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে কুম্ভমেলার যে অভূতপূর্ব্যবস্থা সেটারও প্রশংসা ঝরে পড়ছে ভক্তদের মুখে, তীর্থযাত্রীদের মুখে (Magha Purnima)। তাঁরা যোগী ও মোদি- এই দুই সরকারেরই প্রশংসা করছেন।

    লখনউ থেকে এসেছিলেন প্রমেশ্বর ত্রিপাঠী

    লখনউ থেকে এসেছিলেন প্রমেশ্বর ত্রিপাঠী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্নানের কারণে কোনওরকমের বিঘ্ন ঘটেনি। সবকিছুই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদেরকে প্রটোকলের নামে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। অন্যদিকে, মুম্বই থেকে আগত ভক্ত অদিতি শ্রীবাস্তব এবং তাঁর পরিবার প্রশংসায় ভরিয়ে তোলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। এর পাশাপাশি, প্রশাসনেরও ব্যাপক প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, কোনও ভিভিআইপি আসছেন বলে তাঁদেরকে কোথাও থামানো হয়নি। কোনও সমস্যার সম্মুখীন তাঁরা হননি (Maha Kumbh 2025)। অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সবকিছু সম্পন্ন হচ্ছে।

    মাদুরাই থেকে এসেছিলেন ভক্ত রঙ্গনাথন

    মাদুরাই থেকে এসেছিলেন ভক্ত রঙ্গনাথন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, ভুটানের রাজা এসেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, কূটনীতিক আধ্যাত্মিক সন্ন্যাসী- সকলেই এই মহাকুম্ভে স্নান করেছেন। এটা কেবলমাত্র ভারতেই ঘটছে। মোদি-যোগীর কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি পুলিশকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তার কারণ তিনি সঙ্গে এনেছিলেন ৭২ বছর বয়সি মাকে। তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। তাই পুলিশ ট্রাই সাইকেলের মাধ্যমে তাঁকে পবিত্র স্নান করিয়েছেন। প্রসঙ্গত, মহাকুম্ভ (Maha Kumbh 2025) শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি, ২৬ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির পর্যন্ত তা চলবে।

LinkedIn
Share