Tag: Maha Aarti

  • Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা (Bhojshala)-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরকে ‘মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর, শুক্রবার ভোজশালা চত্বরে ‘মহা আরতি’র (Maha Aarti) জন্য সমবেত হলেন শত শত হিন্দু পুণ্যার্থী। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে নিজেদের ঘরেই শুক্রবারের জুম্মার নমাজ আদায় করলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

    হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার পুজো করতো (Bhojshala)

    গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানায়, বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরটি আসলে  বাগদেবী সরস্বতীর একটি মন্দির। একই সঙ্গে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)-এর পুরনো একটি নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়, যার মাধ্যমে এতদিন মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার ওই চত্বরে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    হাইকোর্টের এই রায়ের আগে পর্যন্ত, বিগত বহু বছর ধরে হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার সেখানে পুজো (Maha Aarti) করার অনুমতি পেতেন এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার নমাজ আদায় করতেন। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাবর সম্পত্তির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিল।

    দুই দশকের মধ্যে প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ

    আদালতের রায়ের পর এটিই ছিল প্রথম শুক্রবার বা জুম্মার দিন। হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই দিনটিকে গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম বড় আকারের শুক্রবারের ধর্মাচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ‘ভোজ উৎসব সমিতি’ এবং ‘ভোজশালা (Bhojshala)  মুক্তি যজ্ঞ সমিতি’র উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চত্বরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন এবং ‘মহা আরতি’র আয়োজন করা হয়।

    ভোজশালা মুক্তি যজ্ঞ সমিতির আহ্বায়ক গোপাল শর্মা বলেন, “ধার এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদিন ধরে সমস্ত ধর্মীয় আচার ও পুজোয় (Maha Aarti) অংশ নিয়েছেন। গর্ভগৃহসহ চত্বরের বিভিন্ন অংশ ফুল ও আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল এবং দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।”

    মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ

    এদিকে, আদালতের এই ধাক্কার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন কামাল মৌলা মসজিদ অংশে যাননি। তার বদলে তাঁরা নিজেদের বাড়ির উঠোন ও ব্যক্তিগত চত্বরে কালো ব্যাজ পরে জুম্মার নমাজ পড়েন।

    স্থানীয় মুসলিম নেতা আব্দুল সামাদ বলেন, “আমরা হাইকোর্টের রায়কে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই কালো ব্যাজ পরে ঘরে নমাজ পড়ে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নথিভুক্ত করেছি।”

    তিনি আরও  জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভোজশালার (Bhojshala) আশেপাশে কিছু কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। তবে শহরের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু কর্মসূচি ও অনুমতি প্রশাসন বাতিল করায় তিনি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ধার

    পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে গোটা ধার জেলা (Bhojshala) জুড়ে প্রায় ২,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, গাড়ি তল্লাশি এবং মোবাইল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

    ধারের পুলিশ সুপার (SP) শচীন শর্মা বলেছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে এবং জেলার কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

LinkedIn
Share