Tag: Maharashtra

Maharashtra

  • Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী! শনিবারই শপথ সুনেত্রা পাওয়ারের, অর্থ দফতর বিজেপির হাতে

    Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী! শনিবারই শপথ সুনেত্রা পাওয়ারের, অর্থ দফতর বিজেপির হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন সুনেত্রা পওয়ার (Sunetra Pawar)। রাজনীতির মঞ্চে শোক আর সিদ্ধান্ত—দুটোই পাশাপাশি। একদিকে অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর রেশ, অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত। দলীয় সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অজিতের শূন্যস্থান পূরণের প্রস্তাব পাওয়ার পরে পাওয়ার পরিবারের অন্দরে এই বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। তার পরেই এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন সুনেত্রা। শনিবার বিকেল পাঁচটায় হবে শপথ গ্রহণ। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির প্রধানের দায়িত্বও নিতে চলেছেন বলে খবর। রাজভবনে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ

    এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চে বাজেট অধিবেশন থাকায় আপাতত অর্থ দফতর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের কাছেই থাকবে। অধিবেশন মিটলেই সেই দায়িত্ব এনসিপির হাতে যেতে পারে। এখন উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের আবগারি এবং ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন সুনেত্রা। দলের অন্দরমহলের মতে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পুনে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের দিশা স্পষ্ট করতেই অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব ওঠে। প্রস্তাব ঘিরে পওয়ার পরিবারের মধ্যেও আলোচনা হয়। পরিস্থিতি ও দায়িত্বের ভার বিচার করেই শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন সুনেত্রা। শনিবার সন্ধ্যার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে চলেছে। এনসিপি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতা ছগন ভুজবল এ কথা জানান।

    অজিতকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শাহ-গড়কড়ি

    উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বরামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। অবতরণের সময় রানওয়ের কাছেই ভেঙে পড়ে চার্টার্ড বিমানটি। বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়—অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক বিমানকর্মী ও দুই পাইলটও ছিলেন তাঁদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বরামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, এনসিপি (এসসিপি) প্রধান শরদ পওয়ার, অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা দফতরগুলির বণ্টন

    শুক্রবার এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, সুনীল তাটকারে এবং ধনঞ্জয় মুন্ডে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন বর্ষা বাংলোয় বৈঠক করেন। বর্তমানে অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিব সেনার সঙ্গে জোট সরকারে রয়েছে। এনসিপি দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ছগন ভুজবল জানান, মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশ স্পষ্ট করেছেন যে শনিবারই যদি উপমুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ হয়, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই—শর্ত একটাই, দলের বিধায়ক দলের পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হতে হবে। অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা দফতরগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি অর্থ, পরিকল্পনা ও আবগারি দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অর্থ ও পরিকল্পনা দফতর বিজেপির হাতে যেতে পারে।

    এনসিপি প্রধানের পদে কে?

    এদিকে শনিবার দুপুর ২টায় এনসিপির বিধায়ক দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুনীল তাটকারে। বিধানসভা ও বিধান পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি সাংসদরাও উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকেই দলের প্রধান নির্বাচন করা হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। এর আগে ভুজবল জানিয়েছিলেন, ৩১ জানুয়ারির বিধায়ক দলের বৈঠকেই সুনেত্রা পাওয়ারের নাম দলের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে সুনেত্রা পওয়ার রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি মহারাষ্ট্র বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য নন। তবে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে পুণে জেলার বারামতী বিধানসভা কেন্দ্রটি শূন্য হয়েছে। ভুজবল আরও জানান, শোককাল কতদিন হবে—তিন দিন না দশ দিন—এই ধরনের কিছু প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখছেন প্রবীণ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তাটকারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিধায়ক দলের বৈঠকেই।

    সুপ্রিয়া সুলের পরিবর্তে কেন সুনেত্রা পাওয়ার

    সুপ্রিয়া সুলের পরিবর্তে কেন সুনেত্রা পাওয়ার—এই প্রশ্নে দলীয় সূত্রের বক্তব্য, অজিত পাওয়ার শিবিরের অধিকাংশ নেতা সুনেত্রাকেই উপমুখ্যমন্ত্রী ও দলের মুখ হিসেবে চান।কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এনসিপি মূলত পরিবারকেন্দ্রিক দল এবং নেতৃত্ব পরিবারেই থাকা উচিত। পাশাপাশি দলটি মারাঠা ভিত্তিক হওয়ায় অ-মারাঠা নেতাদের নেতৃত্বে মানতে রাজি নন কর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ। সুনেত্রা পওয়ার মারাঠা মুখ এবং অজিত পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ পরিবারভুক্ত হওয়ায় এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন বলে মত নেতৃত্বের। গত কয়েক বছর ধরে তিনি দলের দৈনন্দিন কাজকর্মেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং এনসিপির দুই শিবিরেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি।

    এনসিপি’র দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ

    এনসিপি’র দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ প্রসঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশই চান শরদ ও অজিত পাওয়ার শিবির এক হোক। প্রাক্তন মন্ত্রী অনিল দেশমুখের দাবি, দুই গোষ্ঠীর মিলনই ছিল অজিত পাওয়ারের আন্তরিক ইচ্ছা। তাঁর কথায়, অজিত পওয়ার জীবিত থাকতেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এখন তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই উচিত। অজিত পওয়ারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কিরণ গুজরও জানান, তিনি দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণ নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। ১৫ জানুয়ারির পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচন দুই শিবির যৌথভাবে লড়েছিল। এরপর আগামী মাসের জেলা পরিষদ নির্বাচনেও জোট বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

  • Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

    এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

    অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

    শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

    অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

    বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

  • Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash)। মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে থাকা আরও পাঁচ যাত্রীর। বুধবার সাতসকালে এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই বিমানেই ছিলেন শরদ পাওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত। এই দুর্ঘটনার পর যে সমস্ত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে দমকল। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশও। বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    এনসিপি সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের ‘মহাজুটি’ সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। এদিন বারামতিতে তিনটি জনসভা ছিল ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ারের। একটি ব্যক্তিগত বিমানে সফর করছিলেন তিনি। বারামতী বিমানবন্দরের (Baramati Airport) ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একদম ধারে চলে যায়। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। টুকরো টুকরো হওয়ার পরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিজিসিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি পাহাড় এবং জঙ্গলে ঘেরা। প্রাকৃতিক, যান্ত্রিক না অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পাইলট ‘মে ডে’ ঘোষণা করেছিলেন। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাক বক্সের খোঁজে চলছে তল্লাশি। ফ্লাইট রেডারের তথ্য বলছে, ভেঙে পড়ার আগে ২৬০০ ফুট উঁচুতে ছিল বিমানটি। হঠাৎই উচ্চতা কমে আসে বিমানের। সে সময়ে বিমানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫৩ কিমি।

    বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন

    রাজনৈতিক জীবনেও অজিত পাওয়ারের উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শরদ পওয়ারের দাদা অনন্তরাও পাওয়ারের ছেলে। নিজের কাকার পথ অনুসরণ করেই তিনি রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। মহারাষ্ট্রের সমবায় ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলে ধীরে ধীরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন অজিত পওয়ার। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন অজিত পাওয়ার। ১৯৯১ সালে তিনি বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, পরে সেই আসনটি তাঁর কাকা ও এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের জন্য ছেড়ে দেন। তিনি মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা উপ-মুখ্যমন্ত্রী—মোট ছয়বার, যদিও তা ছিল অসতত। পৃথ্বীরাজ চহ্বন, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি এই পদে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ জুলাই অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় আসে। তিনি শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি থেকে পৃথক হয়ে বিজেপি–শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) জোটে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই ‘আসল’ এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলীয় নাম ও ‘ঘড়ি’ প্রতীক বরাদ্দ করে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কৃষি, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

  • BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি (BJP)-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুরসভা নির্বাচনে। শুক্রবার প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে ২৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে এই জোট। বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত মহাযুতি রাজ্যজুড়ে ১,৪০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)-কে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (BJP) 

    মুম্বইয়ের মর্যাদাপূর্ণ বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে (বিএমসি)—যা ভারতের সবচেয়ে ধনী পুরসভা এবং যার বার্ষিক বাজেট ৭৪,৪০০ কোটি টাকারও বেশি—মহাযুতি জোট ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৪টি আসন অতিক্রম করেছে। বিজেপি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় দুই দশক পর একজোট হওয়া ঠাকরে ভাইরা উদ্ধব ও রাজের জোট উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রায় তিন দশক ধরে শিবসেনার আধিপত্যের অবসান ঘটল। রাজ্যের অন্যান্য বড় শহরেও মহাযুতির জয়যাত্রা অব্যাহত। নাগপুর পুরনিগমের ১৫১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৫টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং পুণেতে তারা ৫২টি আসন পেয়েছে। নভি মুম্বইয়ে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে—১১১টি আসনের মধ্যে ৬৭টি দখল করে (BJP)।

    এগিয়ে বিজেপি

    নাসিকেও জোট বড় সাফল্য পেয়েছে। সেখানে বিজেপি ও শিন্ডে শিবসেনা মিলিয়ে ১২২টি আসনের মধ্যে ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। থানে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমেও মহাযুতি তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে (Maharashtra)। ১৫ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে ৮৯৩টি ওয়ার্ডের ২,৮৬৯টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ১৫,৯৩১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ভোটদানের হার ছিল ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে কোলহাপুরে সর্বোচ্চ ৫০.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এটি মহাযুতির জন্য এক বড় প্রত্যাবর্তন। সেই সময় অবিভক্ত শিবসেনা একাই মুম্বই বিএমসিতে ৮৪টি আসন জিতেছিল এবং বিজেপি-শিবসেনা মিলিয়ে বহু পুরসভা নিয়ন্ত্রণ করত।

    বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে

    শহরাঞ্চলজুড়ে বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। কংগ্রেস মাত্র ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে রয়েছে—এর মধ্যে সাংলি, কোলহাপুর ও লাতুরের কিছু অংশ রয়েছে (BJP)। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে), এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) ও কংগ্রেসকে নিয়ে গঠিত মহা বিকাশ আঘাড়ি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ঠাকরে ভাইদের পুনর্মিলনও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।এই নিরঙ্কুশ জয় দেবেন্দ্র ফড়নবিস-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মহারাষ্ট্রের শহর প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করল, যা আগামী দিনের (Maharashtra) নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (BJP)।

    জানা গিয়েছে, মুম্বই, পুনে, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড, কল্যাণ-ডোম্বিভলি, নাসিক, থানে ও নবি মুম্বই-সহ রাজ্যের ২৯টি পুরসভা কর্পোরেশনের অধিকাংশেই জোটটি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে রাজ্যের শাসক জোটটি মোট ২,৮৬৯টি আসনের মধ্যে ১,৬০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল।

  • Maharashtra: আস-সালাম ইউনানি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সোমাইয়ার

    Maharashtra: আস-সালাম ইউনানি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সোমাইয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) আদিবাসী-অধ্যুষিত আক্কালকুয়া অঞ্চলে অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া ইশাআতুল উলুম প্রতিষ্ঠান এবং এর অধীনে থাকা আস-সালাম ইউনানি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা কিরীত সোমাইয়া (Kirit Somaiya)। তিনি এফসিআরএ লঙ্ঘন, সন্দেহজনক ভূমি দখল, হাসপাতালের নথি জালিয়াতি এবং উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত অনিয়মিত ছাত্রভর্তির অভিযোগ করেছেন।

    দিল্লির আল-ফালাহ হাসপাতাল (Maharashtra)

    সোমাইয়া জানান, তদন্তের জন্য তিনি সাক্ষাৎ করেছেন জেলা কালেক্টর, পুলিশ সুপার এবং জেলা স্বাস্থ্য কর্তার সঙ্গে। তাঁর এই সফর দিল্লির আল-ফালাহ হাসপাতাল বিস্ফোরণ তদন্তের প্রেক্ষাপটে বেড়ে ওঠা নজরদারির মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মনোযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমাইয়ার মতে, কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে জামিয়া ইসলামিয়া ইশাআতুল উলুমের এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা ছাত্র রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছে।

    ভর্তির হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে

    অভ্যন্তরীণ নথি উদ্ধৃত করে তিনি দেখিয়েছেন, ভর্তির হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষে  ভর্তি হয়েছিল ৫ হাজার ৭০৮ জন ছাত্র, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার বেড়ে হয় ১১ হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে আবার শুধু বিহার থেকেই এসেছেন ৬ হাজার ৫৫৩ পড়ুয়া। এই ভর্তির উদ্দেশ্য এবং ব্যাপ্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করেন, এগুলি নিয়ন্ত্রণহীন ধর্মীয় শিক্ষা চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত (Maharashtra)।

    সোমাইয়ার দাবি, আস-সালাম ইউনানি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন ও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়ো বা বাড়িয়ে রোগীর সংখ্যা দেখাচ্ছে। কলেজ সম্প্রসারণের অছিলায় দখল করা হয়েছে আক্কালকুয়া এলাকার আদিবাসীদের জমি। সভাইয়া বলেন, “এই অনিয়মগুলি আল-ফালাহ প্যাটার্নের প্রতিচ্ছবি।” মহারাষ্ট্রের এই বিজেপি নেতা উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে অনুরোধ করেন আক্কালকুয়া থানার এফআইআর নম্বর ৩০-এর প্রেক্ষিতে দ্রুত (Kirit Somaiya) ব্যবস্থা নিতে। সোমাইয়া অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক তদন্ত এবং দ্রুত বিচার দাবি করে। নন্দুরবার জেলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সোমাইয়ার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র (Maharashtra)।

  • Malloujula Venugopal Rao: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজির ভাই বেণুগোপালও

    Malloujula Venugopal Rao: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজির ভাই বেণুগোপালও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) কিষেনজির ভাই মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে সোনু (Malloujula Venugopal Rao)। তিনি একা নন, এদিন তাঁর সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন আরও ৬০ মাওবাদী। বেণুগোপাল আত্মসমর্পণ করায় মাওবাদীরা হারাল দলের পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে।

    আত্মসমর্পণ করলেন বেণুগোপালও (Malloujula Venugopal Rao)

    বেণুগোপাল ওরফে সোনু পরিচিত ছিলেন ভূপতি ওরফে রাজন ওরফে বিবেক ওরফে অভয় নামেও। দলের আদর্শিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও দেখতেন বছর সত্তরের এই মাওবাদী নেতা। আটের দশকে তিনি যোগ দেন পিপলস ওয়ার গ্রুপে। ২০১০ সালে নিযুক্ত হন সিপিআই (মাওবাদী)-র মুখপাত্র। পশ্চিমবঙ্গের লালগড় অভিযান চলাকালীন কিষেনজির মৃত্যুর পর অভিযানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনিই। মাস কয়েক আগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বেণুগোপালের স্ত্রী বিমলা চন্দ সিদাম ওরফে তারাক্কা। তিনি ছিলেন পিএলজিএর কমান্ডার এবং দণ্ডকারণ্য জোনাল কমিটির নেত্রী। তাঁর আত্মসমর্পণের ১০ মাসের মধ্যেই সমাজের মূলধারায় ফিরতে চেয়ে আত্মসমর্পণ করলেন বেণুগোপালও।

    আত্মসমর্পণ করলেন আরও ৬০

    সোমবার গভীর রাতে গড়ছিরৌলিতে ৬০ জন মাওবাদী সদস্যকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বেণুগোপাল। গত সেপ্টেম্বরেই অস্ত্র সমর্পণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর তরফে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেণুগোপাল লিখেছিলেন, দল বাঁচাতে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ করার সময় এসেছে। গত এপ্রিল মাসেও তাঁর নাম করে একটি শান্তিবার্তা এসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে। তাতে বলা হয়েছিল, হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত মাওবাদী পলিটব্যুরো বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রকে শান্তি আলোচনা ও সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সেই থেকেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল, শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করতে পারেন তিনি। শেষমেশ তা-ই হল (Malloujula Venugopal Rao)।

    প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই লক্ষ্য পূরণে কোমর কষে মাঠে নামে ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গনার সরকার। এই তিন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদীদের নির্মূল করতে চালানো হয় একের পর এক অভিযান। যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযানে খতম হন মাওবাদীদের একাধিক শীর্ষ নেতা। তার পর থেকেই আত্মসমর্পণ করতে থাকেন একের পর (Maoist Leader) এক নেতা। সেই তালিকায় জুড়ে গেল বেণুগোপাল ও তাঁর ৬০ সহযোদ্ধার নাম (Malloujula Venugopal Rao)।

  • Mumbai Train Blasts Case: ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় বেকসুর খালাস ১২ জনই, সুপ্রিম কোর্টে গেল মহারাষ্ট্র সরকার

    Mumbai Train Blasts Case: ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় বেকসুর খালাস ১২ জনই, সুপ্রিম কোর্টে গেল মহারাষ্ট্র সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৬ সালের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় (Mumbai Train Blasts Case) অভিযুক্ত ১২ জনকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট। ২১ জুলাই ওই রায় দেয় বোম্বে হাইকোর্ট। উচ্চতর আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টে গেল মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত পশ্চিম রেলওয়ের উপনগর ট্রেনে সাতটি আরডিএক্স বোঝাই বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ১৮৯ জন। জখম হয়েছিলেন ৮০০-র বেশি মানুষ। ওই মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট।

    মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ৫জনকে (Mumbai Train Blasts Case)

    অথচ, ২০১৫ সালে বিশেষ মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ৫জনকে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ৭জনকে। প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর পরিকল্পিত ওই জঙ্গি হামলায় অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে ওই রায় দেয় নিম্ন আদালত। সেই মামলাই যখন বোম্বে হাইকোর্টে উঠল, তখন বেকসুর খালাস পেয়ে গেল অভিযুক্ত ১২ জনই। ২১ জুলাই হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তিযুক্ত সন্দেহের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে প্রসিকিউশন। তারা জানিয়েছে, মামলায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাব ছিল এবং এটিএসের তদন্তে ছিল পদ্ধতিগত ত্রুটি।

    সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য

    ২২ জুলাই, মঙ্গলবার (Mumbai Train Blasts Case) সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ভারতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে তুলে ধরেন। জরুরি শুনানির আবেদন জানান স্পেশাল লিভ পিটিশনের। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। স্পেশাল লিভ পিটিশন প্রস্তুত রয়েছে। দয়া করে আগামিকালই তালিকাভুক্ত করুন। এটি জরুরি।” সলিসিটর জেনারেলের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই আবদেনের শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।

    প্রসঙ্গত, এর আগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেছিলেন, “বোম্বে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাব (Maharashtra)। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হবে সুপ্রিম কোর্টে।” তার পরেই দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় মহারাষ্ট্র সরকার (Mumbai Train Blasts Case)।

  • Devendra Fadnavis: “প্রতারণার মাধ্যমে তফশিলি জাতির শংসাপত্র পেলে তা বাতিল করা হবে,” সাফ জানালেন ফড়নবীশ

    Devendra Fadnavis: “প্রতারণার মাধ্যমে তফশিলি জাতির শংসাপত্র পেলে তা বাতিল করা হবে,” সাফ জানালেন ফড়নবীশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “হিন্দু, বৌদ্ধ অথবা শিখ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তফশিলি জাতির শংসাপত্র পেয়ে থাকেন, তবে তা বাতিল করে দেওয়া হবে।” আইন পরিষদে এমনই মন্তব্য করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (Devendra Fadnavis)। তিনি বলেন, “এমনকি কেউ যদি এই জাল শংসাপত্রের ভিত্তিতে সরকারি চাকরির মতো ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি এই ধরনের ভুয়ো তফশিলি জাতির শংসাপত্র ব্যবহার করে কোনও নির্বাচনে জিতে থাকেন, তাহলে তাঁর সেই জয়ও বাতিল বলে গণ্য করা হবে।” মনোযোগ আকর্ষণের মোশনের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকার জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনাগুলির মোকাবিলায় কঠোর আইন আনার পরিকল্পনা করছে (Supreme Court)।”

    ধর্মীয় স্বাধীনতার অপব্যবহার (Devendra Fadnavis)

    প্রসঙ্গত, বিজেপির অমিত গোরখে দাবি করেছিলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হচ্ছে “ক্রিপ্টো খ্রিস্টান”দের দিয়ে। তাঁর কথায়, “কিছু মানুষ তফশিলি জাতি শ্রেণির অধীনে সংরক্ষণের সুবিধা নিচ্ছেন, অথচ তাঁরা অন্য ধর্মের অনুসারী।” প্রসঙ্গত, “ক্রিপ্টো খ্রিস্টান” বলতে বোঝানো হয় এমন লোকদের, যাঁরা বাইরে থেকে অন্য কোনও ধর্মের অনুসারী বলে পরিচিত, কিন্তু গোপনে খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন। তিনি বলেন, “বাইরে থেকে দেখতে গেলে তাঁরা এসসি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং সেই হিসেবে তাঁরা সরকারি চাকরির মতো ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করেন।”

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

    ফড়নবীস বলেন, “২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় দিয়েছিল। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে তফশিলি জাতিভুক্ত (SC) সংরক্ষণের সুবিধা পেতে পারেন কেবলমাত্র হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মাবলম্বীরাই। অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।” তিনি বলেন, “যদি হিন্দু, বৌদ্ধ বা শিখ ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের কেউ তফশিলিভুক্ত জাতির শংসাপত্র বা সংরক্ষণ সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বৈধ শংসাপত্র ও জাতি শংসাপত্র বাতিল করা হবে। কেউ যদি এই মিথ্যা শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি চাকরির সুবিধাও পেয়ে থাকেন, তাহলেও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Devendra Fadnavis)।”

    ভুয়ো জাতি শংসাপত্র

    তিনি বলেন, “যাঁরা ভুয়ো জাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকেও সেই অর্থ ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।” বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘ বলেন, “এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে স্বামীর ধর্ম গোপন করে নারীদের প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা হয়েছে।” সাঙ্গলির একটি ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি বলেন, “সেখানে এক নারী এমন একটি পরিবারে বিয়ে করেছেন যাঁরা গোপনে খ্রিস্টধর্ম পালন করত। ওই নারীকে নির্যাতন করা হয় এবং ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়। যার ফলে সাত মাসের গর্ভাবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর (Supreme Court)।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন ব্যক্তি যে কোনও ধর্ম অনুসরণ করতে পারেন। তিনি অন্য কাউকে সম্মতির ভিত্তিতে ধর্মান্তরিতও করতে পারেন, তবে বলপ্রয়োগ, প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর করার অনুমতি আইন আমাদের দেয়নি।” তিনি বলেন, “ধর্মান্তরের জন্য জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনার মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকার পুলিশের ডিজিপি-র নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সরকার সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে এবং এমন নতুন আইন আনবে, যাতে জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তর করা না হয় (Devendra Fadnavis)।

    ফড়নবীশের বক্তব্য

    ফড়নবীশ বলেন, “এই ধরনের ঘটনায় ‘ভারতীয় বিচার সংহিতা’-র আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে কঠোর আইন প্রস্তাবের জন্যই একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। রাজ্য সরকার এরকম ঘটনাগুলির মোকাবিলায় কঠোর আইন আনতে চায় এবং আমরা এই বিষয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেব।” প্রসঙ্গত, সোমবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ ভোয়ার বলেছিলেন, “আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্য সরকার একটি ধর্মান্তর-বিরোধী আইন আনবে, যা অন্যান্য রাজ্যের অনুরূপ আইনগুলির চেয়ে কঠোর হবে।” বিজেপি বিধায়ক প্রবীণ দারেকারের দাবি, দরিদ্র বস্তি ও অনুন্নত এলাকায় মানুষকে গোপনে ধর্মান্তরিত করার প্রচার চালানো হচ্ছে (Supreme Court)। মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, এই ধরনের ঘটনা বস্তিতে ঘটে থাকে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সম্মতির ভিত্তিতে ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কোনও ইচ্ছেই নেই (Devendra Fadnavis)।

  • Indian Skilled Manpower: সারা বিশ্বে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা রয়েছে, প্রস্তুত কী এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা?

    Indian Skilled Manpower: সারা বিশ্বে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা রয়েছে, প্রস্তুত কী এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্বে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের (Indian Skilled Manpower) চাহিদা প্রচুর। শুক্রবার পুনেতে এক অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি.পি. রাধাকৃষ্ণন (Maharashtra Governor CP Radhakrishnan)। এদিন এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অবিচল প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণই পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্রম ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সন্দেহ নেই; কিন্তু দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি পেতে পারে না। মানবসম্পদ আমাদের উন্নতি ও অগ্রগতির অন্যতম চাবিকাঠি।” এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২২টি দেশের ৮২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

    কাজ উপভোগ করার অভ্যাস

    পৃথিবী বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে সমাজ ও মানুষ, তাদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা, বদলে যাচ্ছে মানবসম্পদের (Indian Skilled Manpower) চাহিদা ও জোগান। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, “যখন কেউ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে, তখন সেই লক্ষ্যের প্রতি একাগ্র থাকতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে এবং চ্যালেঞ্জের মুখে ধৈর্য হারানো যাবে না। যারা এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, তাদের সাফল্য নিশ্চিত। জীবনে হতাশা বা ক্লান্তি আসতেই পারে, কিন্তু সেখানে থেমে গেলে চলবে না। প্রতিটি প্রচেষ্টাই জীবনের জন্য উপকারী। সুখী মন কর্মে উৎসাহ ও শক্তি যোগায়। কাজ উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

    ভারতের দক্ষ জনশক্তিকে আহ্বান

    রাজ্যপাল আরও বলেন, “আজ বিশ্বের বহু দেশ তাদের শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা মেটাতে ভারতীয় দক্ষ জনশক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছে। এই সুযোগ গ্রহণের জন্য ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বল্পমেয়াদি ভাষা কোর্স—জার্মান, ফরাসি, জাপানি, ম্যান্ডারিন, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান ইত্যাদিতে শুরু করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এটি আমাদের ছাত্রছাত্রীদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।” পুনে শহর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “এই শহর একটি বড় অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, মিডিয়া ও ক্ষুদ্র শিল্পের কেন্দ্র। এখানকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে।”

     

     

     

     

  • Fadnavis: “যে জনতার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়, সেই জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে,” রাহুলের খোঁচার জবাবে বললেন ফড়নবীশ

    Fadnavis: “যে জনতার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়, সেই জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে,” রাহুলের খোঁচার জবাবে বললেন ফড়নবীশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যে জনতার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়, সেই জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে।” কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে এ কথাই বললেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (Fadnavis)। গত বছর হয়েছিল মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন। সম্প্রতি এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল। এই নির্বাচনে বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি নিয়ে গঠিত জোট ২৮৮টির মধ্যে ২৩৫টি আসনে জয়ী হয়। মুখ থুবড়ে পড়ে কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা গোষ্ঠী এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি নিয়ে গঠিত মহা বিকাশ আগাড়ি জোট। ওই নির্বাচনে বিজেপি একাই ১৩২টি আসনে জয়ী হয়।

    রাহুলের অভিযোগ (Fadnavis)

    রাহুল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “নির্বাচনে কারচুপি করার প্রথম ধাপ হল নির্বাচন কমিশন নিয়োগের প্যানেলে জালিয়াতি করা। দ্বিতীয়ত, ভোটার লিস্টে ভুয়ো ভোটার প্রবেশ করানো। তৃতীয়ত, ভোটের হার বেশি করে দেখানো। চতুর্থত, বিজেপি যেখানে জিততে চায়, সেখানে বেশি করে জালিয়াতির জাল বিস্তার করা। পঞ্চমত, প্রমাণ গোপন করা।” কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “রিগিং একটি ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের মতো — যারা ফিক্স করে তারা হয়তো একটি খেলা জিততে পারে, কিন্তু এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ও জনগণের ফলাফলের প্রতি আস্থা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।” তিনি বলেন, “ম্যাচ-ফিক্সড নির্বাচন যে কোনও গণতন্ত্রের পক্ষে বিষের মতো।” রাহুল গান্ধীর পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর, নির্বাচন কমিশন এ বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি নথি পুনরায় প্রকাশ করে জানিয়ে দেয়, তাঁর অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অবাস্তব (Fadnavis)।

    ইভিএমের দোষ!

    ফড়নবীশ রাহুলের মন্তব্যের জবাবে বলেন, “যদি আপনি মানুষকে বোঝাতে না পারেন, তাহলে তাঁদের বিভ্রান্ত করুন—এই নীতিই রাহুল গান্ধী গ্রহণ করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ইভিএমের দোষ দিয়ে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “এখন মহারাষ্ট্রে প্রতিটি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলা। ইভিএম নিয়ে সব মামলাই সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।” তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী এমন একজন নেতা যিনি পরাজয় মেনে নিতে পারেন না।” তাঁর প্রশ্ন, “যেসব নির্বাচনে কংগ্রেস সরকার জেতে, সেই সব ইভিএম কি ঠিক (Rahul Gandhi)?” তিনি বলেন, “জনগণের রায়কে সম্মান করুন (Fadnavis)।”

LinkedIn
Share