Tag: Malda

Malda

  • SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) নাম না থাকায় বুধবার কার্যত তাণ্ডব চলল মালদার (Malda) কালিয়াচকে। সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। পরে, পুলিশ গিয়ে বিচারকদের উদ্ধার করে।

    সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ (SIR)

    বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলছিল। এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি, বিডিও অফিসের গেট আটকেও দিয়ে চলে বিক্ষোভ। জেলার একাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় বুধবার দুপুর থেকেই। এর মধ্যেই খবর আসে, সাত বিচারক দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েছেন বিডিও অফিসেই। ওই বিচারকরা ট্রাইবুনালের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় উন্মত্ত জনতা ইট-পাটকেল ছোড়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে। পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গাড়ির সিটে পড়ে রয়েছে কাচের টুকরো। জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে ছিলেন বিচারকরা।

    পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় বাঁশ ফেলে চেষ্টা করা হয় পুলিশের কনভয় আটকানোর। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছে শুধু তাই নয়, বিচারকদের যখন উদ্ধার করে আনা হচ্ছিল সেই সময় রাস্তায় বাঁশ ফেলে কনভয় আটকানোর চেষ্টা করা হয়। মহিলা বিচারকদের শারীরিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের উস্কানি (SIR)।”

     রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন

    প্রসঙ্গত, প্রায় একদিন ছাড়া সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বের করছে নির্বাচন কমিশন। এখনও অবধি প্রায় ২২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তারই প্রতিবাদে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, মূলত তাঁরাই প্রথম পথে নামেন। কালিয়াচকের ওই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন (SIR)। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের কাছে গন্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে জেলাশাসকের অফিসে সরানোর জন্য আগেই জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, জানানোর পরেও জেলা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

  • Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা আছি বলেই আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে কোনও দিন ভুল বুঝবেন না।” দিন কয়েক আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নবান্নের গদি বাঁচাতে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে দিলেন তৃণমূলেশ্বরী (Mamata Banerjee)। অবশ্য (Communal Violence) এই প্রথম নয়, ২০১১ সালে মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। জনমানসে এটি রাজ্যের প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    ম্লান পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ (Communal Violence) 

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে দেখা হত একটি সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বৌদ্ধিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক সহাবস্থানের আঙ্গিকে। কিন্তু গত এক দশকে, মমতা জমানায় ধারাবাহিক দাঙ্গা, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ বাংলার এই ভাবমূর্তিকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক বিরোধ বা স্থানীয় উত্তেজনা থেকে শুরু হওয়া ঘটনাগুলি দ্রুতই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি ঘটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, মালদার কালিয়াচকে। এক বিরাট উন্মত্ত জনতা হিংসাত্মক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় থানায়, গাড়িতে আগুন লাগায়, ধ্বংস করে সরকারি সম্পত্তি। তাণ্ডবের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়।

    হাওড়ায় হিংসা

    ওই বছরেরই শেষের দিকে হাওড়া জেলার ধুলোগড়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায়। এলাকার বহু বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগানো হয়, যার জেরে অনেক বাসিন্দাকে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে হয়। কয়েকদিন ধরে চলা এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে, ২০১৭ সালে। উত্তেজনার আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো হিংসাত্মক ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা, মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    বঙ্গে অশান্তির আগুন

    এর ঠিক পরের বছরই ২০১৮ সালে, রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয় আসানসোল ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে। নতুন করে ছড়ায় হিংসার আগুন। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের জেরে কয়েকজন নিহত হন, নষ্ট করা হয় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি (Mamata Banerjee)। ২০১৯ এবং ২০২০ সালের শুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রতিবাদ জানানোর সময়ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বহু জেলায় রেললাইন অবরোধ করে, ভাঙচুর করে রেলস্টেশনে, ট্রেনে লাগিয়ে দেয় আগুন। হিংসা এবং বিক্ষোভের জেরে বহু জায়গায় ক্ষতি করা হয় জনসাধারণের সম্পত্তির।

    নির্বাচনোত্তর হিংসা

    আর একটি বড় হিংসার ঘটনা ঘটে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় ভোট-পরবর্তী হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘরে হামলা হয়, নষ্ট করা হয় সম্পত্তি, বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ (Communal Violence)। বাংলার এই হিংসাই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলির তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে হয় আদালত ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর অনেক এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়, ঘরছাড়াও হতে হয়েছিল বহু মানুষকে।

    রামনবমীতেও হিংসার ছবি

    ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও রামনবমী উদযাপনের সময় হাওড়া, রিষড়া ও মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পাথর ছোড়া, তাজা বোমা নিয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে (Mamata Banerjee)। কোনও কোনও এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রশাসন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা গাড়ি, পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া দোকান এবং শুনসান রাস্তাঘাটের ছবি। বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার জের পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নানা সময় উঠে এসেছে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। রাজ্য সরকারের সমালোচকরা দাবি করেন, স্থানীয় বিরোধকে সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নেওয়া থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেও পারেনি তারা।

    রাজনৈতিক উত্তেজনা

    রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অনেক সময় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিতে ইন্ধন জুগিয়ে পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তোলে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঐতিহাসিক তুলনাও টানা হয়েছে হুসেন শহিদ সুরাবর্দির সময়ের সঙ্গে। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনকাল ১৯৪৬ সালের ‘ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সেই ঘটনা বাংলার ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় (Mamata Banerjee) আজও। এই ঘটনার গভীর ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে বাংলার সামাজিক কাঠামোয় (Communal Violence)।

     

  • PM Modi: ১৭ জানুয়ারি আসছেন প্রধানমন্ত্রী, সাজো সাজো রব মালদায়, সেজে উঠছে স্টেশন

    PM Modi: ১৭ জানুয়ারি আসছেন প্রধানমন্ত্রী, সাজো সাজো রব মালদায়, সেজে উঠছে স্টেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ জানুয়ারি ফের পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ওইদিনই মালদায় যাবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকেই দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই নতুন ট্রেন সরাসরি যুক্ত করবে গুয়াহাটি-উত্তরবঙ্গ-কলকাতাকে। তাঁর সফরের আগে নয়া রূপে সেজে উঠেছে মালদা টাউন স্টেশন চত্বর। দিনরাত ধরে চলছে কাজ। মালদা টাউন স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজও (Vande Bharat Sleeper) চলছে জোরকদমে। স্টেশনে ঢোকার মুখে রয়েছে একটি বিশাল পার্ক। এই পার্কেই বসানো হয়েছে ফাইবারের তৈরি শ্রীচৈতন্য দেবের মূর্তি।

    সাজানো হয়েছে পার্ক (PM Modi)

    বাঁকুড়ার বিখ্যাত পোড়ামাটির ঘোড়া আর নানা ধরনের মূর্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে পার্কটি। এলাকার সমস্ত রাস্তায় নতুন করে পিচের প্রলেপ পড়েছে। পুরো এলাকা সাজানো হচ্ছে আলো দিয়ে। পার্কের কাজ শেষ করতেও ঘাম ঝরাচ্ছেন শ্রমিকরা। মালদা টাউন স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দেখা গেল, সেখানেও কাজ চলছে। দুটি প্লাটফর্মের মেঝের বেশ কিছু জায়গায় টাইলস পাল্টানো হচ্ছে। কোথাও আবার পড়েছে রংয়ের প্রলেপ। সামনে দাঁড়িয়ে কাজকর্ম তদারকি করছেন রেলকর্তারা। রেল সূত্রে খবর, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মালদায় পৌঁছে যাবে বন্দে ভারত স্লিপারের দুটি রেক। সেগুলি দাঁড়াবে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে (PM Modi)। সেই কারণে ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই দুই প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনও ট্রেন চলাচল করবে না। পূ্র্ব রেলের মালদা ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক রসরাজ মাজি বলেন, “ইতিমধ্যেই কাটিহার থেকে বন্দে ভারত স্লিপার মালদার দিকে আসতে শুরু করেছে। এলেই জানিয়ে দেব।” ১৭ জানুয়ারি বন্দে ভারত স্লিপারের (Vande Bharat Sleeper) উদ্বোধন। তার ঠিক আগের দিনই মালদায় এসে পৌঁছবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

    মালদায় প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ তারিখেই মালদায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফর ঘিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। পুরাতন মালদা বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় নানা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মালদা টাউন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের নিজস্ব ফাঁকা লক্ষ্মণ সেন স্টেডিয়ামে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড। জানা গিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি দুপুর ২টো নাগাদ প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে সেখানে পৌঁছবেন। সেখান থেকে সড়কপথে আসবেন মালদা টাউন স্টেশনে। সড়ক পথের পুরো রাস্তাটিতে পিচের প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। দফায় দফায় এলাকা পরিদর্শন করছেন মালদা ডিভিশনের রেল কর্তারা।

    রেলের বক্তব্য

    পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার মণীশকুমার গুপ্তা বলেন, “১৭ জানুয়ারি মালদায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনও নির্দেশিকা আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি।” জানা গিয়েছে, ওই দিন সবুজ পতাকা নেড়ে মালদা টাউন স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী সূচনা করবেন বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের। শুধু তাই নয়, সেখান থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত তিনি ওই ট্রেনে সফরও করবেন। ট্রেনে প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হবে এক ঝাঁক খুদে পড়ুয়া (Vande Bharat Sleeper)। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফর করার সুযোগ কারা পাবে, তাদের বেছে নিতে শুক্রবার থেকে মালদার বেশ কয়েকটি স্কুলে ছবি আঁকা, লেখার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়া পড়ুয়াদের নিয়ে আবার প্রতিযোগিতা হবে জেলাস্তরে। সেখানেই সফল হওয়া ৩০ পড়ুয়াকে বেছে নেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে (PM Modi)।

    একগুচ্ছ ট্রেনের উদ্বোধন

    বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি সরাসরি যুক্ত করবে গুয়াহাটি-উত্তরবঙ্গ-কলকাতাকে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্রথম ভাণ্ডে ভারত স্লিপার চলবে হাওড়া-মালদা টাউন-নিউ জলপাইগুড়ি-নিউ কোচবিহার-নিউ বঙ্গাইগাঁও-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে এবার আরও দ্রুত সংযোগ তৈরি হবে। এতেই শেষ নয়, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট ছ’টি নতুন ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে নিউ জলপাইগুড়ি-নাগেরকোইল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, নিউ জলপাইগুড়ি-তিরুচিরাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-বেঙ্গালুরু (SMVT) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-মুম্বই (পানভেল) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী বাছাই শুরু

    রেলের তরফে জেলার ১৮টি স্কুলে প্রতিযোগিতার নির্দেশাবলি পৌঁছে গিয়েছিল আগেই। তার পরেই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। মালদার ঐতিহ্যবাহী বার্লো বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপশ্রী মজুমদার বলেন, “রেলের তরফে আমাদের চিঠি দিয়ে প্রতিযোগিতাগুলি আয়োজন করার জন্য বলা হয়েছে।” শুক্রবার জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সব স্কুল পড়ুয়ারা বন্দে ভারতে সফর করবেন, তাদের বেছে নেওয়া হবে তিন ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। ছবি আঁকা, সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছিল। আমরা স্কুলের জুনিয়র ও সিনিয়র ছাত্রীদের মধ্যে পৃথক দুটি ভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম।” প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে বিকশিত ভারত, বিকশিত বাংলা, নেক্সট জেনারেশন ট্রেন এবং আত্মনির্ভর ভারত ইত্যাদি বিষয় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মালদা অক্রুরমণি করোনেশন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অজয়কৃষ্ণ রায় বলেন, “রেলের তরফে পড়ুয়াদের ছবিগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে (Vande Bharat Sleeper)। স্কুলের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়দের বক্তৃতার ভিডিও-ও করা হয়েছে (PM Modi)।”

  • Suvendu Adhikari: ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি, চাঁচলের সভা থেকে সরকার গড়ার ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি, চাঁচলের সভা থেকে সরকার গড়ার ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তিনি বঙ্গ বিজেপির নেতাদের টার্গেট আসন সংখ্যা দিয়ে গিয়েছেন ২০০। তবে শুক্রবার মালদার (Malda) চাঁচলে বিজেপির এক জনসভা থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনে নারী ধর্ষণ, চাকরি চুরি, কয়লা-বালি-মাটি-পাথর পাচার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। ২৬০০০ স্কুল শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে মমতার শাসনে। ফলে সবটা মিলিয়ে আপামর জনসাধারণের তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী বলে মনে করছেন বঙ্গবিজেপির নেতারা।

    মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ (Suvendu Adhikari)

    শুক্রবার চাঁচলের (Malda) জনসভা করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার ইস্যুতে স্বমহিমায় মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আগত বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বলেন, “ঠিক সময়ে দলটা ছেড়েছিলাম। দেশের হাল নরেন্দ্র মোদি ছাড়া গতি নেই। আগামী বিধানসভায় বিজেপি ২২০টি আসন পাবে। সরকার বিজেপিই গড়বে। রাজ্যের সমস্ত সনাতনীরা এগিয়ে আসলে ২২০ আসন হবেই।”

    ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মে ভোট

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূলকে সমালচনা করে বলেন, “চোরের দলে গেলে সবাই বদলে যাবে। আগে বুঝেছিলাম বলে ৬ বছর আগেই পালিয়ে এসেছি। একে একে সবাই এসেছে গেরুয়ার নিচে, কারণ মোদিজি ছাড়া দুর্বৃত্তদের আর কেউ আটকাতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের দুটি লোকসভায় হিন্দুদের জোট চোখে পড়ার মতো ছিল। উত্তর মালদায় (Malda) হিন্দুরা অনেক বেশি সংঘবদ্ধ। ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মে ভোট দিয়েছেন। সকল সনাতনীদের এগিয়ে আসতে হবে।”

    প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করে

    রাজ্যে বাকি সমস্ত রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মসূচিতে অনুমতি দিলেও বিজেপির ক্ষেত্রে মমতা প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করে বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মালদার (Malda) চাঁচলের সভা থেকে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেন, “এই নিয়ে ১০৪ বার সরকারের বিরোধিতার জন্য আদালত থেকে সভা করার অনুমতি করতে হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই অসহযোগীতাও বেশিদিন থাকবে না। আগামী এপ্রিল মাসের পর রাজ্যের বিরোধী দল হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে হিসেব হবে। রাজ্যের চটিচাটা পুলিশের নাম লিস্ট করে রেখেছি। সবাইকার নাম লেখা রয়েছে, সবার হিসেব তোলা থাকবে।”

    ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মফুলে ভোট দেবে

    হিন্দু ভোটের ঐক্যের কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হিন্দুভোট একত্রিত হয়েছিল। সেই সময় ৬৫ শতাংশ ভোট একত্রিত হয়েছিল। মমতাকে প্রায় ২০০০ ভোটে হারিয়েছিলাম। ২০২৪ সালে নন্দীগ্রামে হিন্দুভোট হয়েছিল ৭২ শতাংশ। আবার লোকসভার ভোটে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ১২০০০ ভোটে লিড পেয়েছিলেন। হাতে মাত্র ৩ মাস। এখানেও উত্তর মালদার মতো ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মফুলে ভোট দেবে। বিজেপি প্রার্থী ২০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন। ২৪ সালে জয় জগন্নাথ বলে ওড়িশায় বিজেপি সরকার গড়েছে। এবার বাংলার পরিবর্তন হবে। নাগরাকাটায় খগেন মুর্মুর আক্রান্ত হওয়া নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তিনি ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন, ভোট চাইতে যাননি, খগেন মুর্মুর রক্ত হবে না ব্যর্থ। পাশের জেলা হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। হিন্দু অস্তিত্ব অত্যন্ত সঙ্কটের। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের জয় হবেই।”

    ১০ শতাংশের তফাত

    উল্লেখ্য বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটের পার্থক্য রিয়েছে। এদিকে ২০২১ সালে বিজেপি আসন পেয়েছিল ৭৭টি, তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩টি। তৃণমূলের ভোট শতাংশ ছিল ৪৭.৯৪ এবং বিজেপির ছিল ৩৮.১৩ শতাংশ। সংযুক্ত মোর্চার দিকে ছিল ৮.৬ শতাংশ। যদিও এসআইআর-এর কাজে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। ফলে শতাংশের বিচারে বিজেপির সম্ভাবনাও ব্যাপক রয়েছে। ২০০ বা ২২০ আসন বিজেপি পাওয়ার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন ওয়াকিবহাল মহল।

  • Adina Masjid: আদিনা মসজিদ কি মন্দির? নাকি এর পেছনেও রয়েছে অন্য গল্প?

    Adina Masjid: আদিনা মসজিদ কি মন্দির? নাকি এর পেছনেও রয়েছে অন্য গল্প?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ফের খবরের শিরোনামে পশ্চিমবঙ্গের মালদহের শতাব্দীপ্রাচীন আদিনা মসজিদ (Adina Masjid)। সম্প্রতি এই মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান। তার পরেই বয়ে যায় বিতর্কের ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়া (Malda Mosque) ইউজারদের একাংশের দাবি, মসজিদটি আদতে একটি হিন্দু মন্দির। এক ইউজার লেখেন, “প্রিয় ইউসুফ পাঠান, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন ভারতের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু মন্দির – আদিনাথ মন্দিরের প্রাঙ্গনে, যা আক্রমণকারীরা ধ্বংস ও দখল করেছিল।” তিনি এর সঙ্গে এমন কিছু ছবিও যুক্ত করেন, যেখানে মন্দিরের ভেতরে হিন্দু মন্দিরের মতো বিভিন্ন নকশা ও খোদাই করা প্রতীক দেখা যায়।

    তীব্র বিতর্ক (Adina Masjid)

    এই কাঠামো নিয়ে প্রথম বিতর্ক তীব্র আকার ধারন করেছিল ২০২২ সালের মে মাসে। ওই সময় বিজেপি নেতা রথীন্দ্র বোস সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন “আদিনাথ মন্দিরটি এই আদিনা মসজিদের নীচে ঘুমিয়ে রয়েছে। জিতু সর্দার এই মন্দির রক্ষায় নিজের জীবন দিয়েছিলেন। এই ইতিহাস অনেকেই জানেন না।” ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তুঙ্গে পৌঁছয় বিতর্ক। ওই সময় হিন্দু পুরোহিত হিরন্ময় গোস্বামী একদল ভক্তকে নিয়ে পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ দফতরের (ASI) তালিকাভুক্ত আদিনা মসজিদ কমপ্লেক্সে পুজো করতে গিয়েছিলেন। পুরোহিতের দাবি, তিনি সেখানে একটি শিবলিঙ্গ ও অন্যান্য পবিত্র প্রতীকের সন্ধান পেয়েছিলেন। শেষমেশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। ওই পুরোহিতের বিরুদ্ধে দায়ের হয় এফআইআর।

    ইতিহাসবিদদের দাবি

    একাধিক ইতিহাসবিদ এবং পুরোহিতের দাবি (Malda Mosque), ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান সিকন্দার শাহ ১৩৭৩–৭৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি বিশাল হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেন। তার ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মাণ করেন আদিনা মসজিদ। এটি সেই সময় ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, সুলতান সিকন্দার শাহ ১৩৬৩ থেকে ১৩৭৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। মৃত্যুর অল্প আগে তিনি আদিনা মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন, যা পরবর্তীকালে বঙ্গ সুলতানাতের শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে (Adina Masjid)।

    মন্দির না মসজিদ

    বহু প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতেও, এই মসজিদটি গড়ে উঠেছে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ব্যবহার করেই। এই দাবির সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ মেলে মসজিদ কমপ্লেক্সের স্থাপত্য নিদর্শন থেকেই। এর ভিত্তি গঠিত হয়েছে ভারী ব্যাসাল্ট পাথরের গাঁথনিতে, যা প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আর ওপরের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে ইসলামিক ইটের কাজ। অনেক পাথরের ফলকে ফুলের নকশা, পদ্মের অলঙ্করণ এবং খোদাই করা দেবদেবীর প্রতিরূপ দেখা যায়। বস্তুত এগুলি স্পষ্টতই ইসলামিক নকশা নয়। স্থানীয়রা এই জায়গাটিকে ‘আদিনাথ ধাম’ বলেও উল্লেখ করেন। ‘আদিনা’ শব্দটি সম্ভবত ‘আদিনাথ’ (ভগবান শিবের এক নাম) থেকেই বিবর্তিত হয়েছে।

    কী বলছেন গবেষকরা

    গবেষকদের মতে, এই মসজিদের ভেতরে এমন বেশ কিছু নকশাগত অসংগতি রয়েছে, যা শুধুমাত্র ইসলামি স্থাপত্যের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রথমত, মিহরাব (নামাজের দিক নির্দেশক খাঁজ) ও খিলান কাঠামোয় এমন নকশার ছাপ পাওয়া গিয়েছে, যা মসজিদের খোদাইয়ের চেয়ে হিন্দু মন্দিরের দরজার নকশার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্তম্ভ ও প্রাচীরের অলংকরণে পদ্মফুল, কেন্দ্রাভিমুখী মণ্ডল (মণ্ডলা), ও নৃত্যরত মানবমূর্তির মতো আইকনোগ্রাফিও দেখা যায়। কাঠামোর কিছু কোণে আংশিক দেবমূর্তির চিত্রও মিলেছে। এর মধ্যে গণেশ ও শিবের নটরাজ রূপের সদৃশ খোদাই উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যগতভাবে মসজিদ পশ্চিমমুখী (মক্কার দিকে) হয়। কিন্তু আদিনা কাঠামোর কেন্দ্রাংশ একটি প্রাচীন পূর্বমুখী গর্ভগৃহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি হিন্দু মন্দির স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য। তৃতীয়ত, স্থানীয় মৌখিক ঐতিহ্য ও সামাজিক নথিপত্র আদিনা মন্দির হওয়ার দাবিকে আরও শক্তিশালী করে। বহু প্রজন্ম ধরে মালদার গ্রামবাসীরা এই জায়গাকে ‘আদিনাথ ধাম’ বলে অভিহিত করে আসছেন এবং এএসআই রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করার বহু আগেই এর আশপাশে মাঝে মাঝে ধর্মীয় আচার পালন করতেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ঐতিহ্য ব্রিটিশ আমলের মসজিদ সংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডেরও পূর্ববর্তী (Adina Masjid)।

    রহস্যের পরত

    রহস্য আরও গভীর হয় আঞ্চলিক ইতিহাসের দৌলতে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলার সুলতানরা প্রায়ই প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পুনঃব্যবহার করে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতেন। পাণ্ডুয়া, গৌড় ও গৌড়ের মতো জায়গায় এই ধারা স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত। এই সব জায়গায় মন্দিরের পাথর ও মূর্তি মসজিদ ও প্রাসাদের ভিত্তিতে ফের ব্যবহার করা হয়েছিল (Malda Mosque)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইউসুফ পাঠানের পোস্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে এই আন্দোলনে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে। এটি শুরু হয়েছিল নিছকই একটি সাধারণ পর্যটন পোস্ট হিসেবে, পরে অবশ্য সেটি এখন বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও সংবেদনশীল বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছে (Adina Masjid)।

LinkedIn
Share