Tag: Mamata govt

Mamata govt

  • RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আতঙ্কের মেঘে ঢেকে গিয়েছে বীরভূমের নানুরের আকাশ। এই সেই জায়গা, যেখানে নৃশংসভাবে সিপিএমের হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কৃষক (Mamata Govt)। সেই নানুরই ফের চলে এল খবরের শিরোনামে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বীরভূম জেলার আঙ্গোরা গ্রামের বাসিন্দা, আরএসএসের স্বয়ংসেবক রিন্টু পাল (RSS Swayamsevak)। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সমালোচকেরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ (RSS Swayamsevak)

    স্থানীয় বাসিন্দা এবং আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ, রিন্টুকে তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে জোরপূর্বক একটি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভয় দেখানো হয়, করা হয় অপমান। হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিন্টুর একমাত্র ‘অপরাধ’ আরএসএসের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত সম্পর্ক। এটি ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। জানা গিয়েছে, রিন্টুকে যেসব হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট ও ভয়াবহ। অভিযোগ, রিন্টুকে জনতার হাতে মারধর খাওয়ানো এবং ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যদি তিনি আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রাণভয়ের আশঙ্কায় তাঁকে জোর করে আরএসএস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে (Mamata Govt) তা এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকে সামনে আনে—পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে এখন আদর্শগত পরিচয়ই নিপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (RSS Swayamsevak)।

    নানুর রয়েছে নানুরেই

    নানুরের বহু মানুষের কাছে এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দলের সমর্থক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন আদর্শগত সংগঠন অভিযোগ করে আসছে যে, স্থানীয় তৃণমূল ক্যাডাররা কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার সম্প্রসারিত হাত হিসেবে কাজ করছে এবং ভয়ের মাধ্যমে আনুগত্য চাপিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে শারীরিক হুমকি পর্যন্ত, ভিন্নমতকে অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালট বাক্সে পৌঁছানোর অনেক আগেই দমন করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অস্বীকার, নীরবতা বা নির্বাচনী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের মতে, এই নীরবতাই স্থানীয় দাপুটে নেতাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে রাজনৈতিক সুরক্ষা তাদের সমস্ত পরিণতি থেকে রক্ষা করবে।

    আরএসএস নেতৃত্বের বক্তব্য

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে প্রায়ই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। কিন্তু নানুরের মতো ঘটনা কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। বিশ্বাসের জন্য যদি কোনও নাগরিককে অপহরণ করা হয়, তবে স্বাধীনতার অর্থ কী? আর গণতন্ত্রই বা কী, যখন রাজনৈতিক আনুগত্য নির্ধারিত হয় ভয়ের দ্বারা, পছন্দের (RSS Swayamsevak) দ্বারা নয়? জনরোষ আরও বেড়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, শাসক দলের স্বার্থ জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (Mamata Govt) বাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চায় না। প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার এই কথিত অবক্ষয় নানুরকে শাসনব্যবস্থার এক সতর্কতামূলক উদাহরণে পরিণত করেছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে ক্ষমতার প্রাধান্যই বেশি। আরএসএস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর সহ্য করা হবে না। ন্যায়বিচার না মিললে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। গণআন্দোলনের ডাক ক্রমশ জোরালো হলেও, দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের ওপরেই বর্তায় (RSS Swayamsevak)।

  • OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিতে বলেছে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (NCBC)। এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার লোকসভায় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে। মঙ্গলবার তাঁর প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছে সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একাধিক মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকা শুনানির মধ্যেই এনসিবিসি কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায়—যাদের বেশিরভাগই মুসলিম—অপসারণের সুপারিশ করেছে।

    জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন-এর বক্তব্য

    কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান হানরাজ গঙ্গারাম আহির জানান, পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি তালিকায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি পর্যালোচনা করেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৫টি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই মুসলিম, এক-দুটি হয়তো অমুসলিম হতে পারে।” কয়েক মাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে সুপারিশটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে যে, এনসিবিসি ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায় বাদ দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে। তবে কোন কোন সম্প্রদায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি আহির। তাঁর বক্তব্য—এই সিদ্ধান্ত সরকারের ঘোষণা করার বিষয়।

    রানাঘাটের সাংসদের প্রশ্ন

    সংসদে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানতে চান, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল কি না। তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি শংসাপত্র মামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জানতে চান, হাইকোর্টের নির্দেশের পরে কতগুলি জনগোষ্ঠী ওই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এনসিবিসি কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, কোনও জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে কি না, সেই তথ্যও জানতে চান সাংসদ।

    কী বলল সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক

    জগন্নাথের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ২০১১ সালে এনসিবিসি থেকে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল। সেই মতো ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিবিসি পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যোগ হওয়া ৩৭টি সম্প্রদায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে এনসিবিসি। এর মধ্যে ৩৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়।

    ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত

    সংবিধানের ১০২তম সংশোধনী অনুসারে, এনসিবিসি-র মতামত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিবর্তিত ওবিসি তালিকা সংসদে পেশ করতে হয়, এরপর রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করলে নতুন তালিকা গেজেট করে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে নয়টি রাজ্যের ওবিসি তালিকা সংশোধনের সুপারিশ তাদের কাছে রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর আহির পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ওবিসি তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে পরিদর্শনের পরই তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মে ওবিসি নিয়ে প্রথম রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বলা হয়েছিল, ২০১০ সালের পর রাজ্যের তালিকায় যত ওবিসি সম্প্রদায় যুক্ত হয়েছে, তা বাতিল। ২০১০ সালের পর থেকে জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রও বাতিল করে দেওয়া হয়। তার আগে রাজ্যে ওবিসি হিসাবে ৬৬টি সম্প্রদায় স্বীকৃত ছিল। বলা হয়, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। সেই অনুযায়ী রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে মামলা হয়। গত ১৭ জুন এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। রাজ্য উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

    তোষণের রাজনীতি তৃণমূলের

    এই তদন্ত ও সুপারিশকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে—বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে বেপরোয়া ভাবে ওবিসি তালিকায় যুক্ত করেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা সবক’টি সম্প্রদায়ই মুসলিম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “দশক ধরে চলা তোষণ-নীতির বিকৃতি সংশোধন করছে মোদি সরকার।” তাঁর অভিযোগ—রাজ্য সরকারের ‘প্রগতিহীন ও তোষণ-চালিত’ নীতি সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী, এবং কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য প্রকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  • Fake Birth Certificate Factory: পঞ্চায়েতের অন্দরে জাল শংসাপত্রের রমরমা কারবার, কড়ি ফেললেই মিলছে ‘কাগজ’!

    Fake Birth Certificate Factory: পঞ্চায়েতের অন্দরে জাল শংসাপত্রের রমরমা কারবার, কড়ি ফেললেই মিলছে ‘কাগজ’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা জমানায় প্রকাশ্যে এল বিরাট আন্তঃসীমান্ত পরিচয় জালিয়াতি চক্রের (Fake Birth Certificate Factory) হদিশ। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভিতকেই নাড়িয়ে দিয়েছে এই জালিয়াতি চক্র। ‘বাংলাদেশি বার্থ সার্টিফিকেট কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত এই ঘটনায় জড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম (Bangladeshis)। অভিযোগ, কেবল ২০২৪ সালেই এখান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৩,৫০০-এরও বেশি জাল বার্থ সার্টিফিকেট।

    প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি (Fake Birth Certificate Factory)

    বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ার এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এই কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা, তাদের নজরদারির শিথিলতা এবং অনুপ্রবেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নিয়েও। একসময় সুন্দরবনের একটি দ্বীপে অবস্থিত এই নিরিবিলি পঞ্চায়েতটি এখন কুখ্যাত হয়ে উঠেছে ‘ভারতের জাল বার্থ সার্টিফিকেটের রাজধানী’ হিসেবে।পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসটি রয়েছে স্থানীয় জেটি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বে। এই পঞ্চায়েত ভবনেরই বেগুনি-সবুজ দেওয়ালের আড়ালে তদন্তকারীরা সন্ধান পেয়েছেন একটি সুচারুভাবে পরিচালিত জালিয়াতি চক্রের। প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশ্রয়ের জেরে বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছে এই চক্র (Fake Birth Certificate Factory)।

    হাজার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট

    চলতি বছর একটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট চক্রের সূত্র প্রথমে পুলিশকে পাঠানখালিতে নিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় মাত্র ৪ হাজার পরিবারের এই ছোট্ট গ্রামপঞ্চায়েত ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হাজার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। এখন এই চক্র আরও আধুনিক রূপে ফিরে এসেছে। সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে বিদেশিদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করছে। এই তদন্তের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হলেন গৌতম সর্দার। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এই কর্মী পাঠানখালি পঞ্চায়েত অফিসের অস্থায়ী কর্মী। ২০১৯ সালে বছরে মাত্র ৩,৫০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। অভিযোগ, তিনি ‘জন্ম-মৃত্যু তথ্য’ (রাজ্যের সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) পোর্টালে অ্যাক্সেসের অপব্যবহার করেন। তিনি নাকি গ্রাম প্রধানের লগইন তথ্য হ্যাক করে ওটিপি নিজের মোবাইল নম্বরে ঘুরিয়ে নিতেন (Bangladeshis)। ৭ জুন গ্রেফতার করা হয় সর্দারকে। অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হাজার হাজার জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি করেছেন। এই সার্টিফিকেটগুলির অনেকগুলিই পরে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও ভোটার আইডি পেতে। কলকাতা পুলিশ ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সর্দারের অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছে (Fake Birth Certificate Factory)। এ থেকে স্পষ্ট, পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের সঙ্গে এই চক্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের গভীর যোগসাজশ রয়েছে।

    বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সাহায্য

    অবশ্য এর আগেও খবরের শিরোনামে এসেছে পাঠানখালি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছিল, এই একই পঞ্চায়েত শত শত ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করে বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সাহায্য করেছিল। সেই সময় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল। এত সবের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কাঠামোগত সংস্কার বা ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। যে ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে জালিয়াতির আঁতুড়ঘরে, বিশেষত সীমান্ত-লাগোয়া জেলাগুলিতে। এই জেলাগুলিই তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যেই পঞ্চায়েতের মধ্যেই চলছে জালিয়াতির রমরমা কারবার!

    #বাংলাদেশিবার্থসার্টিফিকেটস্ক্যাম

    এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক্স হ্যান্ডেলে কিরীট লিখেছেন, “#বাংলাদেশিবার্থসার্টিফিকেটস্ক্যাম – শুধু ২০২৪ সালেই পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছে বাংলাদেশিদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন কি বেআইনি অভিবাসীদের জন্য বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে পাসপোর্ট কারখানায় (Bangladeshis) পরিণত করছে?” কিরীট-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা এই চক্রের শেকড় খুঁজতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের এই সংস্থাগুলি তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ মূল অপারেটিভদের রক্ষা করছে (Fake Birth Certificate Factory)।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, “এটি কোনও দফতরের কর্মী কিংবা আধিকারিকের ভুল নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোকে ইচ্ছাকৃত ও পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা। ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট থেকে জাল পাসপোর্ট – এই পথ দিয়ে বৈধতা পাওয়া প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী শেষমেশ পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক হাতিয়ারে।” বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ ও ফাঁক-ফোকরযুক্ত সীমান্ত থাকায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি ইস্যু। এনআরসি–সিএএ বিতর্কও সবচেয়ে তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছে এই বাংলায়। এটি এমন একটি রাজ্য, যেখানে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়েই তৈরি করে নেওয়া যায় দলিলভিত্তিক নাগরিকত্ব। আর তার পৃষ্ঠপোষকরা এসআইআর-এনআরসি কিংবা সিএএর বিরুদ্ধে চিৎকার করেন গলার রগ ফুলিয়ে (Fake Birth Certificate Factory)।

    কথায় বলে না, চোরের মায়ের বড় গলা!

LinkedIn
Share